বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২

শিরোনাম - লড়াকু ✍️ ডা: অরুণিমা দাস


শিরোনাম - লড়াকু
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রাশিয়ার ভেলাচিনকোভা শহর, একটি প্রাইমারী স্কুলে পেরেন্ট টিচার মিটিং চলছে। মিটিংয়ের মধ্যমণি এলেনা মাথা নিচু করে চুপ হয়ে বসে আছে। স্কুলে আর আসতে চায় না ও, বাড়িতে জানিয়েছে সেটা। মিডটার্ম পরীক্ষায় রেজাল্ট খুবই বাজে হয়েছে ওর। ফ্রেন্ডস কেউ ভালো করে কথা বলে না। আরও বেশি যেনো কুকড়ে গেছে মেয়েটা। ওর বাবা মাকে হেড মিস্ট্রেস বলছেন 'ভেরি পুওর পারফরম্যান্স,সি হ্যাস ডাল ব্রেন টোটালি'! নো নীড টু সেন্ড হার স্কুল এনিমোর। এলেনার মা মারিয়া আর থাকতে না পেরে বলে ওঠে ইউ ক্যান্ট ডু লাইক দিস ম্যাম, হার ব্রেন ইস নট ডাল। আই চ্যালেঞ্জ ইউ সি ক্যান ডু বেটার রেজাল্ট ইন দ্য ফাইনাল এক্সাম। এটা বলে এলেনা কে নিয়ে বেরিয়ে যায় মারিয়া,পিছন পিছন আসতে থাকে জেমস,এলেনার বাবা। মারিয়া কে বলে ইউ হ্যাভ ডান রং। এভাবে ওকে নিয়ে চলে এলে, এটা ঠিক নয়। মারিয়া বলে যা করেছি ঠিক করেছি। বাড়ি গিয়ে এলেনা কে ভালো করে জিজ্ঞেস করতেই কেঁদে ফেলে এলিনা, জানায় নিজের সমস্যার কথা। ওয়ার্ড চিনতে ওর প্রবলেম হয়, মনে হয় যেনো ওয়ার্ড গুলো ড্যান্স করছে। আর ম্যাথস ক্যালকুলেশন করতেও প্রবলেম হয়। মারিয়া জেমস কে বললো এই যে প্রবলেম গুলো হচ্ছে ওর টিচাররা বুঝতে পারছে না নয়তো বুঝতে চাইছে না। 
জেমস বললো আমাদের কী করা উচিত? মারিয়া বললো চলো ডক্টর দেখাই ওকে। ইচ্ছে করে তো ও আর এরকম করছে না। প্রথমে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান কে দেখানো হলো এলেনা কে। উনি সব শুনে বললেন নিউরো মেডিসিন কাউকে দেখানো হোক। জেমস হাল ছেড়ে দিচ্ছিল, বললো ব্যর্থ হবো মারিয়া, এলেনা কে সুস্থ কী করা যাবে? মারিয়া বললো চেষ্টা তো করে দেখি। নিউরো ডক্টর এলেনার সিম্পটম দেখে কতো গুলো টেস্ট করতে দিলেন। ফাইনালি ডায়াগনসিস হলো ডিসলেক্সিয়া উইথ ডিসগ্রফিয়া অ্যান্ড ডিসক্যালকুলিয়া। বয়স যত বাড়ে তত এই প্রবলেম গুলো বাড়ে। ছোটবেলায় বোঝা যায় না যে প্রবলেম গুলো কতটা সিভিয়ার! নিউরো ডক্টর এলেনাকে 'সেন্টার ফর অ্যাসিসট্যান্স ফর চিলড্রেন উইথ লার্নিং ডিফিকাল্টিসের' বৈজ্ঞানিক পরিচালক ও রাশিয়ান ডিসলেক্সিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ডরোথির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। মেডিসিনের থেকেও বেশি ওর স্পীচ থেরাপি আর রাইটিং  ইমপ্রুভমেন্ট এর দরকার ওর। ডরোথির সাথে এলেনা কন্ট্যাক্ট করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয় রেগুলার থেরাপি চলতে থাকে এলেনার। মাস তিনেক পর বেশ ভালো উন্নতি হয় ওর অবস্থার। স্কুল টিচাররা ওর অবস্থা বুঝতে পারার পর এখন আর তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে না। ফ্রেন্ডস দের মত এলেনাও সব ওয়ার্ড চিনতে পারে,তবে ধীরে ধীরে। শুধু মাত্র মারিয়া হাল ছেড়ে দেয়নি বলেই এলেনার জীবন ব্যর্থতার আঁধারে পর্যুবসিত হয়ে যায়নি। নতুন করে জীবনে চলার শক্তি পেয়েছে এলেনা। এভাবেই  এগিয়ে যাক ও নিজের উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে আরও একধাপ। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - শুভযাত্রা। ✍️ডা: অরুণিমা দাস


 শিরোনাম - শুভযাত্রা
✍️ডা: অরুণিমা দাস

হোক মায়াবী চাঁদের রাত বা আনন্দের বরসাত
বাঁচবো মোরা আনন্দেতে রেখে হাতে হাত।

কলাপাতাই হবে যে আমাদের আমরেলা
খুশির স্রোতে মোরা ভাসাবো মোদের ভেলা। 

দুঃখ যে নেই বিন্দুমাত্র,ডুব দিয়েছি সুখ সাগরে
ভরসার হাত পেয়ে ধন্য জীবন,পৌঁছে ঠিকই যাবো পারে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

টেলোমিয়ার উইল টেল দ্য স্টোরি ✍️ডা: অরুণিমা দাস

টেলোমিয়ার উইল টেল দ্য স্টোরি
✍️ডা: অরুণিমা দাস

বুড়ো হতে আমরা কেউ চাই না কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মে বার্ধক্য আসে। বার্ধক্যের কারণ কী,এই সত্য জানতে উঁকি দিতে হবে আমাদের শরীরের ভেতরে। 
একটা বছর কাটিয়ে আমরা নতুন বছরে পা দিয়েছি। বাড়ছে বছরের সংখ্যা,সঙ্গে বয়স বাড়ছে। একটু একটু করে বড় হচ্ছি আমরা বা বলা ভাল বুড়ো হচ্ছি আমরা। মানুষের জীবনে বৃদ্ধি ও বিকাশের পাঁচটি দশার মধ্যে সর্বশেষ দশা হল বার্ধক্য। কিন্তু মজার কথা হল এই দশায় কেউই আমরা পৌঁছতে চাই না। এই বার্ধক্যে না যেতে চাওয়ার কারণই হল আমরা বার্ধক্যজনিত রোগকে ভয় পাই এবং শুধু তাই নয়, বার্ধক্য আমাদের কাছ থেকে আমাদের কাজের শক্তি কেড়ে নেয় আর একাকীত্বও বাড়িয়ে দেয়।
এককথায় বার্ধক্য হল এমন এক দশা যেখানে শারীরিক ক্ষমতা হারাতে থাকে,বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে,মানুষ পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সমগ্র পৃথিবীতে ৬০ বছর বয়সি বৃদ্ধের সংখ্যা ছিল ১২ শতাংশ, যা বেড়ে ২০৫০ সালে প্রায় ২২ শতাংশ হবে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। কিন্তু শুধুই কি কালের নিয়মে বয়সবৃদ্ধির সঙ্গে আমাদের ত্বক কুঁচকে যায়, দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, কর্মক্ষমতা হারায় আর বিভিন্ন রোগ দেখা যায় নাকি তার পেছনে রয়েছে কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা? এরই হদিশ পেতে চেষ্টা করা যাক।

আমরা কেন বুড়ো হই,এই সহজ সত্যিটাকে বুঝতে গেলে সবার প্রথমে আমাদের দেহের কোষের দিকে একবার উঁকি দিতে হবে। কারণ সব রহস্য যে ওখানেই লুকিয়ে রয়েছে। আমাদের দেহের গঠনগত ও কার্যগত একক কোষের মধ্যে থাকা দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোষ অঙ্গাণু নিউক্লিয়াস ও মাইটোকনড্রিয়া বা আরও নিখুঁতভাবে বলতে গেলে এই দুই কোষ অঙ্গাণুর মধ্যে থাকা ডি এন এ এই কাজের মূল হোতা। ডি এন এ এর ক্ষতি ও তার মেরামতির ভুল,আমরা প্রায় সকলেই এই সত্যিটার সঙ্গে পরিচিত যে আমাদের দেহের গঠন থেকে শুরু করে সমস্ত কার্যকারিতার পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট ডি এন এ। তাই ডি এন এ এর এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই আমাদের কোষের মধ্যেই থাকে ডি এন এ এর ত্রুটি মেরামতির যন্ত্রপাতি। কোষীয় কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে বা ইউভি রশ্মির কারণে যদি ডি এন এ এর কোনও ক্ষতি হয় তাহলে কোষের মধ্যে থাকা সেসব যন্ত্রপাতি দ্রুত  ডি এন এ এর সেই অংশটি মেরামত করে দেয় এবং এই ঘটনা কোষে প্রায় অবিরাম চলতেই থাকে। কারণ ডি এন এ এর প্রতিলিপিকরণের (রেপ্লিকেশন) সময় অনিচ্ছাকৃত হওয়া ক্ষতি,কোষের মধ্যে তৈরি হওয়া ROS (Reactive Oxygen Species) অর্থাৎ সুপার অক্সাইড, পারক্সাইড ইত্যাদি খুব দ্রুত ডি এন এ এর ক্রোমোজোম বিন্যাসে পরিবর্তন ঘটায় ফলে ডি এন এ তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে আর এই অস্বাভাবিকতাকে রুখতেই ডি এন এ এর ত্রুটি মেরামতির যন্ত্রপাতি কাজ করে এর স্বাভাবিক ক্রিয়াশীলতা বজার রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু মুশকিল হল এইসব তীব্র অক্সিডেজের বিরুদ্ধে কাজ করতে করতে অনেক সময় ডি এন এ এর ত্রুটি মেরামতির যন্ত্রপাতিও নিজের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন কোষে এই ত্রুটিপূর্ণ ডি এন এ এর আধিক্য বাড়তে থাকে। ফলস্বরূপ কোষও তার কার্যকারিতা হারায় ও ধীরে ধীরে কোষ বার্ধক্য দশায় প্রবেশ করে। এভাবেই ডি এন এ এর ত্রুটি মেরামতির যন্ত্রপাতির ত্রুটিজনিত কারণে এক এক করে দেহের বিভিন্ন কোষগুলি বার্ধক্যের দশায় উপনীত হয়। এখানে একটি কথা না বললেই নয়, সেটি হল কৃত্রিম ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, যথেচ্ছ ধূমপান ইত্যাদি দেহকোষে এই ROS (রিয়াকটিভ অক্সিজেন স্পিসিস) এর পরিমাণ বৃদ্ধি করার পেছনে বহুলাংশে দায়ী। এ ছাড়া UV রশ্মি, দূষণ ইত্যাদি তো রয়েছেই।

টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্যের সংক্ষিপ্তকরণ - বার্ধক্যের এটা হলো মূল কারণ। 
যে-কোনও ক্রোমোজোমের শেষ প্রান্তে থাকা অংশটিকে টেলোমিয়ার বলা হয়। এই টেলোমিয়ার অংশটি কিন্তু রিপিটেটিভ কিছু ডি এন এ সিকোয়েন্স দ্বারাই তৈরি অর্থাৎ এই অংশে একই ডি এন এ সিকোয়েন্সের বারংবার পুনরাবৃত্তি ঘটে। তবে এই টেলোমিয়ার ক্রোমোজোমের শেষপ্রান্তকে যেকোনও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। সাধারণত ডি এন এ প্রতিলিপিকরণের (রেপ্লিকেশন) সময় প্রত্যেকবার প্রতিলিপিজনিত ত্রুটির কারণে একটু একটু করে এই টেলোমিয়ার অংশটি বাদ পড়তে থাকে। এভাবে টেলোমিয়ার অংশটি বাদ পড়তে থাকার ফলে ওই নির্দিষ্ট কোষটির ডি এন এ তার প্রতিলিপিকরণের ক্ষমতা হারায় ফলে ওই কোষও তার বিভাজন ক্ষমতা হারিয়ে ধীরে ধীরে অ্যাপোপটোসিস (প্রোগ্রামড সেল ডেথ) পদ্ধতির মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যায় এবং এভাবে কোষের মৃত্যু ঘটার ফলে বার্ধক্যের সূচনা হয়। সাধারণত যেকোনও সুস্থ স্বাভাবিক কোষ তার জীবনকালে চল্লিশ থেকে ষাট বার বিভাজিত হতে পারে তারপর সে তার বিভাজন ক্ষমতা হারায়। কোষের বিভাজনের এই সীমাবদ্ধতাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে হেফ্লিক লিমিট। পেনসিলভেনিয়ার উইস্টার ইন্সটিটিউটের লিওনার্ড হেফ্লিকের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। কোষের এই বার্ধক্যই কিন্তু গোটা একটি জীবকে বার্ধক্য দশার দিকে ধীরে ধীরে ঠেলে দেয়। বার্ধক্যদশায় দেখা-যাওয়া সমস্ত ধরনের অক্ষমতার পেছনে আসল কারণ কিন্তু এগুলোই।

মাইটোকনড্রিয়ায় থাকা ডি এন এ এর ত্রুটিআমরা হয়তো অনেকেই জানি না যে নিউক্লিয়াস ছাড়াও আমাদের মাইটোকনড্রিয়ার মধ্যেও থাকে DNA। সাধারণত ৩৭ টির মতো জিন সমন্বিত এই অঙ্গাণুটি আমাদের কোষের শক্তিঘর (পাওয়ার হাউস) হিসেবেই পরিচিতি পেয়ে এসেছে। আমাদের ক্ষেত্রে যদিও এই DNA কোনও প্রকার বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী নয়,কিন্তু সমস্যা হল আমাদের ক্ষেত্রে এর কোনও উপকারিতা না থাকলেও এর যে-কোনও ত্রুটি আমাদের সমগ্র কোষের কার্যকারিতাকে ব্যর্থ করতে যথেষ্ট। আগেই বলা হয়েছে যে এই মাইটোকনড্রিয়া আমাদের কোষের শক্তিঘর হিসেবে কাজ করে আর এই কার্য সম্পাদনের জন্য যে প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন বা ETC যার মাধ্যমেই আমাদের তথাকথিত শক্তি ATP বা অ্যাডিনোসিন ট্রাই ফসফেট উৎপন্ন হয় ও কোষের বিভিন্নপ্রকারের ক্রিয়া সম্পাদন করে। এই ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেনের মধ্যে দিয়ে তীব্র অক্সিডাইসড ইলেকট্রন যাতায়াত করার সময় ভুলবশত যদি তারা সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয় তা হলেই সেখানে মুক্ত মূলক তৈরি হয় যা তাদের তীব্র অক্সিডেজ ক্রিয়ার দ্বারা অঙ্গাণুটির ক্ষতি করে আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে তার ডি এন এ এর। যেহেতু ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেনের মাধ্যমে ATP তৈরি হওয়ার সময় উপজাত হিসেবে অক্সিজেনও তৈরি হয় তাই এই মুক্ত মূলকগুলি সাধারণত সুপার অক্সাইড,পারক্সাইড ইত্যাদি হয়ে থাকে আর এগুলিই হল ROS (Reactive Oxygen Species) যা শুধু মাইটোকনড্রিয়ার নয়, সমগ্র কোষের তথা নিউক্লিয়াসে থাকা ডি এন এ এরও ক্ষতি করে। মাইটোকনড্রিয়াকে শক্তিঘর-এর পাশাপাশি ROS উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবেও দেখা হয়ে থাকে। সাধারণত একটি কোষে একশোটিরও বেশি মাইটোকনড্রিয়া থাকে। তাই এখানে সৃষ্ট ROS সমগ্র কোষের ক্ষতি করতে সমর্থ। এই ROS এর ফলে মাইটোকনড্রিয়ার ডি এন এ এর সজ্জাক্রমের পরিবর্তন ঘটে সেখানে মিউটেশন দেখা যায়, ফলে ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংশ্লেষণে সে ব্যর্থ হয়,ফলস্বরূপ এ টি পি উৎপাদন ব্যাহত হয় আর তার পাশাপাশি সমগ্র কোষের ক্রিয়াও শক্তির অভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়,বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ যেমন, অ্যালজাইমার,পারকিনসন প্রভৃতি রোগের কারণও এই মুক্ত মূলক। ১৯৫৬ সালে হারম্যান,বার্ধক্যের অন্যতম কারণ হিসেবে মুক্ত মূলকের এই তত্ত্বটি সবার সামনে তুলে ধরেন।

এতো গেলো বয়স বাড়ার কারণ, এরপর দেখা যাক বয়স বাড়ার সাথে সাথে কি কি মানসিক পরিবর্তন ঘটে। এমনিতেই বয়স বাড়লে স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়, কাছের মানুষরা অনেকটা দূরে ঠেলে দেওয়ায় একাকীত্ব বোধ হয়,নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে মানুষ। এসব দুর করার জন্য নিজেকে সবসময় কিছু না কিছু কাজে এনগেজ রাখা উচিত। এতে অ্যালজাইমার ও অন্যান্য স্নায়ুরোগ প্রতিহত হয়।

আবার প্রোজেরিয়া নামক রোগে আক্রান্ত হলে কমবয়সীদের বয়স্কদের মতন দেখতে হয়। 

আচ্ছা আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি যে কিছু মানুষ অল্প বয়সেই প্রায় বার্ধক্যদশা যাপন করে আর কিছু মানুষ আশি বছর বয়সেও একদম সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত জীবন কাটায়। এর পেছনে কারণ জানতে গেলে সবার আগে আঙুল উঠবে আমাদের জীবনযাত্রার মানের দিকে। নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব, প্রসেসড খাবার খাওয়া, অসময়ে ঘুম,খাওয়া ও সর্বোপরি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আমাদের অল্প বয়সেই কর্মক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ। এবার আসা যাক বিখ্যাত বডিবিল্ডার মনোহর আইচের কথায় যিনি ছোটবেলায় একবার কালাজ্বরে আক্রান্ত হন এবং ফলস্বরূপ তাঁর শরীর-স্বাস্থ্য ভেঙে যায়। পরে কঠিন পরিশ্রম ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে তিনি সম্পূর্ণরূপে সুস্থ জীবনযাপন করেন,তাঁর শারীরিক গঠন ছিল দেখার মতো। এমনকী তিনি ১০৪ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ মৃত্যুর আগে পর্যন্তও কোনও রোগে ভুগেছিলেন বলেও জানা যায় না। তাই কমবয়সী থাকতে গেলে কোনও বাহ্যিক ক্রিম,বোটক্স ইত্যাদির দরকার পড়ে না। শুধু প্রয়োজন পড়ে সঠিক জীবনযাত্রার মানের, যার দ্বারা আমরা একশো বছর না হোক অন্তত ৬০ বা ৮০ পর্যন্ত সুস্থ স্বাভাবিক রোগমুক্ত জীবন কাটাতে পারি বা তথাকথিত যুবক যুবতী থাকতে পারি।

পরিসংখ্যান সূত্র : গুগল

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২

ন্যানোমেডিসিন-চিকিৎসা বিজ্ঞানে আলোর দিশা ✍️ডা: অরুণিমা দাস

বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা
 বিষয় - উন্মুক্ত 

ন্যানোমেডিসিন-চিকিৎসা বিজ্ঞানে আলোর দিশা
✍️ডা: অরুণিমা দাস

ন্যানোপ্রযুক্তি দিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে কিভাবে উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন অনেক বছর ধরে। বিশেষ করে ডিএনএ নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ অনেক বেশী। বিজ্ঞানের নতুন এই ক্ষেত্রটিকে বলা হল ন্যানো-মেডিসিন। 
মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে মানুষের তৈরি রোবট। চাঁদ কিংবা মঙ্গল গ্রহে রোবট পাঠাচ্ছে মানুষ। এবার বিজ্ঞানীরা রোবট পাঠাবে আপনার শরীরের ভেতর! নিশ্চয় বিশ্বাস হচ্ছে না! অবিশ্বাস্য এ ঘটনাই হয়তো কিছুদিন পর হবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এখন যেভাবে ট্যাবলেট গিলে খাচ্ছি, ভবিষ্যতে হয়তো কোনো ক্যামেরা গিলে খেতে হবে। এন্ডোস্কোপি আর কোলোনস্কপিতে ক্যামেরার সাহায্যেই আভ্যন্তরীন জিনিস দেখা হয়। কোনোদিন হয়তো শরীরে ইনজেকশন দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে রোবট!
এসব রোবট হবে আকারে খুবই ছোট। ১০০ ন্যানোমিটারের মতো। ১ ন্যানোমিটার হলো ১ মিটারের ১০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ! এদের ন্যানোরোবট না বলে ন্যানোমেডিসিন বলাই ভালো। এরা সহজেই রক্তের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এরা সাধারণত গোলাকার হবে। গোলাকার পার্টিকেলের মধ্যে মেডিসিন ভরে দেওয়া থাকবে। এই ন্যানোমেডিসিন মানুষের দেহকোষ বা ব্যাকটেরিয়ার কোষের থেকে ছোট, কিন্তু এক অণু ওষুধ থেকে আকারে বড়। যেহেতু সাধারণ ওষুধ অণু থেকে বড়, তাই রক্তে এরা দীর্ঘক্ষণ কার্যকর থাকবে। আকার অণু থেকে বড় হলেও এরা রক্তনালিকায় জমাট বাঁধবে না। ন্যানোমেডিসিনের বাইরের অংশে অনেক সময় বিজ্ঞানীরা জৈব অণু যুক্ত করে দেন। এই অণুগুলোর কাজ হলো সঠিক জায়গায় মেডিসিনকে কাজ করতে সাহায্য করা। যেমন বাইরে যুক্ত এসব অণু টিউমার কোষকে চিনতে পারে। তাই ন্যানোমেডিসিন কোনো সুস্থ কোষকে আক্রান্ত না করে শুধু টিউমার কোষের বিরুদ্ধেই কাজ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ক্যান্সার টিউমার গুলোর চিকিৎসা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ন্যানোমেডিসিন আবার মেশিনের মতো কাজ করতে পারে। তারা কোষপ্রাচীরে গর্তও তৈরি করতে পারে। 

ন্যানোর আলোকে ইনসুলিন:
হাতের ওপর টর্চের আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ঢুকে গেল মেডিসিন। পুরো কাজটা হলো চোখের পলকে আর কোনো সুচের খোঁচা ছাড়াই! ইনজেকশন যাঁরা ভয় পান নিঃসন্দেহে এ রকম টর্চ তাঁদের খুবই প্রয়োজন। এমন জাদুকরী টর্চ কিন্তু আর কল্পবিজ্ঞানে সীমাবদ্ধ নেই। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ইনসুলিন গ্রহণের ক্ষেত্রে একে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তাঁরা গোলাকৃতি ন্যানোপার্টিকেল তৈরি করেছেন, সেগুলো ত্বকের ওপর রেখে অতিবেগুনি রশ্মি ফেললেই ইনসুলিন শরীরে প্রবেশ করবে। ডায়াবেটিস ছাড়াও ক্যানসার চিকিৎসায় 'ন্যানোজেনারেটর' নামে আরেক ধরনের অতি ক্ষুদ্র ওষুধ সরবরাহকারী পার্টিকেল গবেষকেরা তৈরি করেছেন। ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, বিশেষভাবে তৈরি এই ন্যানোজেনারেটর শুধু ক্যানসার কোষগুলোতেই উচ্চমাত্রায় ওষুধ সরবরাহ করে। তাই ক্যানসার কোষের আশপাশের সুস্থ কোষগুলোর কোনো ক্ষতি হয় না। ন্যানোমেডিসিনের কাজ শুধু ওষুধ সরবরাহতেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের প্রফেসর কস্টাস কস্টারেলস ন্যানো–আকৃতির সুই তৈরি করেছেন। সার্জারিতে এর বিশেষ ভূমিকা আছে। ছোট আকৃতির কোষে সিরিঞ্জ বা স্কালপেল দিয়ে কাজ করা যায় না। ন্যানোসুই সেসব জায়গায় সহজেই ঢুকে পড়ে আর কোষে প্রয়োজনমতো পরিবর্তন আনে। যে কোষে সার্জারি করতে হবে তাকে চেনার জন্য সুচের আগায় নির্দিষ্ট কোনো পদার্থ যুক্ত থাকে। তাই আশপাশের কোষের ক্ষতি না করে শুধু টার্গেট কোষেই ন্যানোসুই সার্জারি করতে পারে।
'কোয়ান্টাম ডটস' নামের আরেক ধরনের ন্যানোপার্টিকেল রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে। এর ভেতরের দিকটা ধাতব আর বাইরের দিকটা বিশেষ খোলসে আবৃত। এই বিশেষ ধরনের গঠনের জন্য শরীরে কোনো নির্দিষ্ট রোগ দেখলেই কোয়ান্টাম ডটস ফ্লুরোসেন্ট আলো নিঃসরণ করে। স্ক্যানারের সাহায্যে সেই আলোর উপস্থিতি দেখে কোনো রোগ আছে কি না,সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

কম্পোনেন্ট অফ ন্যানোমেডিসিন:
ন্যানোমেডিসিনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। হার্ড ন্যানোমেডিসিন ও সফট ন্যানোমেডিসিন। হার্ড ন্যানোমেডিসিন সাধারণত গ্রাফিন দিয়ে তৈরি করা হয়। গ্রাফিনকে খুব পাতলা শিটে পরিণত করা যায়। এই শিট দিয়ে ফাঁপা নল বা গোলকের মতো গঠন তৈরি করা যায়। হার্ড ন্যানোমেডিসিনে ধাতব পদার্থও থাকতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের ঝোঁক সফট ন্যানোমেডিসিনের দিকেই বেশি। দেহের ভেতর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন জটিল জৈব পদার্থ তৈরি হয়, সফট ন্যানোমেডিসিন শারীরিক এই প্রক্রিয়ার দ্বারাই অণুপ্রাণিত হয়ে তৈরি। প্রোটিন, ফ্যাট বা ডিএনএর মতো জৈব অণু দিয়ে সফট ন্যানোমেডিসিনগুলো তৈরি। এদের প্রাকৃতিক ন্যানোমেশিনও বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ডিএনএ অণুর বিশেষ কদর আছে বিজ্ঞানীদের কাছে। পছন্দমতো ক্ষারকের অণুক্রম সাজিয়ে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের 
ডি এন এ তৈরি করা যায়। ডিএনএ অণুগুলো নিজেরা বিভিন্নভাবে ভাঁজ হয়ে ক্ষুদ্র ত্রিমাত্রিক আকার ধারণ করে। এভাবে বিজ্ঞানীরা পছন্দমতো আকার দিতে পারেন ডিএনএকে।
অরিগ্যামি শিল্পীরা যেমন কাগজকে ভাঁজে ভাঁজে সাজিয়ে ফুল-পাখির মতো জটিল সব আকৃতি দিতে পারেন তেমন বিজ্ঞানীরাও ল্যাবে ডি এন এ কে এমনভাবে আকার দিতে পারেন। বিভিন্ন আকারের 
ডি এন এ দেহের বিভিন্ন জায়গায় ওষুধ পরিবহনের কাজ করে। কাজ শেষে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যায়। ডি এন এ অণুর মতো আর কোনো পদার্থ এত নির্ভুল আর স্বকীয়ভাবে কাজ করতে পারে না। ল্যাবে বেস অণুগুলো যেভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়, ডিএনএ শরীরের ভেতর ঠিক তেমনভাবেই ভাঁজ হয়ে যায়। বলা যেতে পারে, বিজ্ঞানীদের কাছে ডি এন এ ই হলো সবচেয়ে বিশ্বস্ত অণু, এটা দেহের ভেতরেও বিজ্ঞানীদের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে ঠিকমতো নিজের কাজ করতে পারে।
অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সাইন্সেসের গবেষকেরা ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার জন্য ডিএনএ ন্যানোরোবট তৈরি করেছেন। মাত্র ৬০-৯০ ন্যানোমিটার আকারের ন্যানোবট গুলো তৈরি করা হয় চ্যাপ্টা আয়তাকার ডিএনএ শিট দিয়ে। ন্যানোবটের গায়ে থ্রোম্বিন নামের এনজাইম যুক্ত থাকে। ন্যানোবট টিউমার বা ক্যানসার কোষের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে থ্রোম্বিন কাজ করা শুরু করে। যে রক্তনালিকা ক্যানসার কোষকে রক্ত সরবরাহ করত থ্রোম্বিন তার রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দেয়, যাতে কোষে আর রক্ত যেতে না পারে। এতে কোষগুলো মারা যায়। কিন্তু ন্যানোবট সুস্থ কোষের মধ্যে কীভাবে চিনতে পারে ক্যানসার কোষকে? এখানে ন্যানোবটকে সাহায্য করে ডিএনএ অ্যাপ্টামার। ন্যানোবট যদি কোনো ক্যানসার কোষের কাছাকাছি চলে আসে তখন ডিএনএ অ্যাপ্টামারগুলো ক্যানসার কোষের নিউক্লিওলিনের সঙ্গে যুক্ত হয়। নিউক্লিওলিন একধরনের বিশেষ প্রোটিন যা কেবল ক্যানসার কোষেই প্রকাশ পায়। সুস্থ কোষে এদের দেখা যায় না। ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে এ ধরনের ন্যানোবট ক্যানসার কোষের ওপর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শুরু করে দিতে পারে।
ভাইরাসকে প্রাকৃতিক ন্যানোমেশিন বলে মনে করা হয়। ভাইরাস শরীরের ভেতর ঢুকে মানুষের দেহকোষে গর্ত তৈরি করে নিজেদের ডিএনএ কোষের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। এভাবেই ভাইরাস দেহে রোগ তৈরি করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন অক্ষতিকর ভাইরাসকে ন্যানোমেশিন হিসেবে ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে ভাইরাসের বাইরে এমন একটা কৃত্রিম আবরণ তৈরি করে দেওয়া হয় যাতে এদের দেখতে শরীরের নিজস্ব কোষের মতো দেখায়। তাই আমাদের ইমিউন সিস্টেম তাকে আর চিনতে পারে না।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীদের একটি দল ন্যানোব্যান্ডেজ নামের বিশেষ একধরনের ব্যান্ডেজ তৈরি করেছে, যা রোগীর মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণ বা ত্বকের অস্বাভাবিক অবস্থা বুঝতে পেরে ডাক্তারকে রোগীর জন্য সঠিক মেডিসিন বাছাইয়ে সাহায্য করে।

ন্যানোমেডিসিনের ভবিষ্যৎ:
ডিএনএ ন্যানোমেডিসিন যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক নতুন চমক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন এই চমককে চমকপ্রদভাবে হাতে–কলমে কাজে লাগানোর চেষ্টায় ব্যস্ত গবেষকেরা। ন্যানোমেডিসিনকে নির্ভরযোগ্য ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। ধাতব পদার্থ ব্যবহার করতে হয় বলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো এটি সামান্য ক্ষতি করতে পারে। তবে সব প্রতিকূলতা পার করতে পারলে ন্যানোমেডিসিন আমাদের দিতে পারে স্মার্ট চিকিৎসাসেবা। রে ক্রুজওয়েলের মতো ভবিষ্যতবাণী দেওয়া আশাবাদীরা অবশ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে ভবিষ্যতবাণী করেছেন। আগামী শতাব্দীতে এই ন্যানোবট নাকি মরণশীল মানুষকে দিতে পারবে অমরত্বের স্বাদ,এইরকম টাই আশা করা যাচ্ছে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২

শিরোনাম - ইচ্ছেপূরণ ✍️ ডা: অরুণিমা দাস


শিরোনাম - ইচ্ছেপূরণ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আকাশের বুকে জমেছে কালোমেঘ নিয়ে কতো অভিমান
ব্রিজ চায় তাকে ছুঁতে,অন্তর করে আনচান।

ব্যস্ত মহানগরের রাস্তায় ছুটে চলে গাড়ীর দল
গগনচুম্বী ইচ্ছে তাদের মনে জাগায় কোলাহল।

সময় নেই কারোর হাতে ছুটছে সকলে গন্তব্যস্থলে
আকাশ আছে সাক্ষী যে তার, মেঘপিওন যে তাই বলে।

সফল হোক এই ছুটে চলা ইচ্ছেপূরণ হোক সবার
অভিমানী মেঘ সরে রোদ উঠুক,জয় আসুক অনিবার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২

অন্তর্দৃষ্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অন্তর্দৃষ্টি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বছর তিনেক আগের ঘটনা এটা, চণ্ডীগড় গিয়েছি  পোস্ট গ্রাজুয়েট এন্ট্রান্স এক্সাম দেওয়ার জন্য। ইচ্ছে ছিল এক্সাম দিয়ে দু একটা দেখার মত জায়গায় ঘুরে নেবো। পরীক্ষা দিয়ে এসে প্ল্যান মত পরের দিন বেরোলাম ঘুরতে। রক গার্ডেন, রোজ গার্ডেন এগুলোর খুব নাম শুনেছিলাম হোটেল মালিকের কাছে। প্রথমে গেলাম রোজ গার্ডেন এর দিকে। নানা রঙের গোলাপের সমারোহ, দিল তো পুরো গার্ডেন গার্ডেন হয়ে গেছিলো। বেশ খানিকটা সময় রোজ গার্ডেনে কাটিয়ে রওয়ানা হলাম রক গার্ডেনের দিকে। রক গার্ডেনে পাথরের তৈরি নানা জিনিস দেখতে লাগলাম, অপূর্ব কারুকার্য করা সব। ঘুরতে ঘুরতে একটা জলাশয়ের কাছে এসে পৌঁছলাম। পাথরের ধাপ বেয়ে জল গড়িয়ে এসে পড়ছে সেই জলাশয়ে, নয়নাভিরাম দৃশ্য সব। জলাশয় টা পেছনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি একটা জায়গায় দেখি বেশ কিছু লোকের জটলা, কাছে গিয়ে দেখলাম একজন ভদ্রলোক বসে পোট্রেট আঁকছেন আর পাশে রাখা রয়েছে ওনার কর্মকাণ্ডের সব নজির। কেউ কেউ কিনেও নিচ্ছে এক দুটো পোট্রেট। এক সময় ভিড় কমতে দেখলাম যিনি পোট্রেট গুলো আঁকছেন তার চোখে একটা কালো চশমা। ওনার পাশে থাকা ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম, চশমা পরে উনি ছবি আঁকেন? তিনি বললেন হ্যাঁ, আসলে ওর দৃষ্টি শক্তি খুব ক্ষীণ। অপটিক নিউরাইটিস রোগে আক্রান্ত ও, রড কোষ শুকিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। ও ওই ক্ষীণ দৃষ্টি দিয়েই প্রকৃতির চিত্র রূপ মানসপটে কল্পনা করে রং তুলি দিয়ে পোট্রেট এঁকে ফেলে। শুনে খুব অবাক হলাম আর মনে মনে শিল্পীকে কুর্নিশ জানালাম। এরা সব জন্মগত প্রতিভা,ঈশ্বরের আশীর্বাদ ধন্য। মাঝে মাঝেই ছেলেটি হিন্দিতে বলছিল "মেরা আঁখো কি রশনি চলা যা রহে হ্যায় তো কেয়া হুয়া,মন মে উজালা লেকে  বৈঠা হু! কিসিকা তাকত নেহি হ্যায় উস রশনি কো মুঝসে ছিন সাকতে হ্যায়!" এরকম মন ভালো করা কথা শুনে ভীষন ভালো লাগছিলো। মনের জোর থাকলে কোনোকিছুই অসম্ভব নয় এই দুনিয়ায়। দুটো পোট্রেট কিনেছিলাম ওই ছেলেটির কাছ থেকে। হাসি মাখা মুখটা আজও মনে পড়ে আর বাকী দিন গুলো ভালোই ঘুরেছিলাম চণ্ডীগড়। এসব মানুষ গুলোর না হেরে যাওয়ার কাহিনী গুলোই কারোর কারোর জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হয়ে যায় একটা সময়। ভালো থাকুক জীবনযুদ্ধে পরাজিত না হওয়া এসব মানুষেরা। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

রবিবার, ৫ জুন, ২০২২

শিরোনাম - আধুনিকতা বর্জিত ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শব্দ-দিন
শিরোনাম - আধুনিকতা বর্জিত
✍️ডা: অরুণিমা দাস

বর্তমান যুগে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সবকিছুতেই। কিন্তু এখনো কিছু মানুষ আছেন যাদের স্পর্শ করতে পারেনি আধুনিকতা, কোনো না কোনো ভাবে তারা অনাড়ম্বর জীবন যাপনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আজ জেনে নেওয়া যাক সেরকম কিছু মানুষের কথা। আজ চোখ রাখা যাক ইন্দোনেশিয়ার এক অনামী গ্রাম যেখানে বাস করে তাংতু রা।
বেশ কিছু বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার সরকার তাংতুদের গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাংতুরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে। এর ফলে আজও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত থাকলেও তাংতুরা আলোকমেলা থেকে স্বেচ্ছায় নিজেদের বঞ্চিত করে রেখেছে।
সভ্যতার ধর্ম সময় যত এগোবে ততই নিত্য নতুন প্রযুক্তি এসে হাজির হবে। অবশ্যই তা গ্রহণ করার বাছবিচার থাকবে মানুষের কাছে। বিজ্ঞানের কাজ ই হলো কেবলমাত্র সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এই সময়ে দাঁড়িয়ে তথাকথিত সভ্য হয়েও এশিয়া মহাদেশে এমন একটি জনগোষ্ঠী আছে যারা যাবতীয় আধুনিক প্রযুক্তি বর্জন করে চলে। এমনকি আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এড়িয়ে চলবে বলে এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা আজ পর্যন্ত কোন‌ও গাড়িতে ওঠেনি! এই বিশেষ জনগোষ্ঠী বাদুই নামে পরিচিত। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ আছে আর তারা সকলেই যে আধুনিক প্রযুক্তি এড়িয়ে চলে তা নয়। কেবলমাত্র অতি রক্ষণশীল তাংতু বাদুইরা এই কঠোর সংযমের সঙ্গে আজও জীবন যাপন করে চলেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বানতেন প্রদেশের লিবাক রিজেন্সিতে বাদুই আদিবাসী গোষ্ঠী বাস করে। বাইরের দুনিয়ায় এদের বাদুই নামে ডেকে থাকলেও এরা নিজেদের কেনিকিস নামে পরিচয় দেয়। এদের মূল তিনটি ভাগ হলো তাংতু,পানামপিং এবং ডাংকা। এরমধ্যে তাংতু গোষ্ঠীটি লিবাক রিজেন্সির জঙ্গলের একেবারে মধ্যস্থলে বসবাস করে। এরা কাঠের তৈরি বাড়িতে থাকে এবং মূলত সাদা ও নীল রঙের পোশাক পড়ে এবং মাথায় সাদা রঙের পাগড়ি বাঁধে।
পানামপিং বাদুইরা তুলনায় অনেকটা কম রক্ষণশীল। তারা তাংতুদের আশেপাশের গ্রামগুলিতে থাকে। এদেরকে অতি রক্ষণশীল তাংতুরা অনেক সময় বাদুই বলে মনে করতে চায় না। তবে অতীতে নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তাংতু ও পানামপিংদের মধ্যে বিবাহের প্রচলন ঘটেছে। ডাংকা বাদুইরা আসলে বাদুই নয়। তারা অন্য আদিবাসী গোষ্ঠী। কিন্তু এই অঞ্চলে এসে দীর্ঘদিন যাবৎ তাংতু ও পানামপিংদের সংস্পর্শে থাকার ফলে বাদুই সংস্কৃতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ডাংকারা নিজেদের বাদুই বলে পরিচয় দিলেও তাংতু ও পানামপিংরা তাদেরকে বাদুই বলে মনে করে না।
স্বেচ্ছায় অন্ধকারে থাকতে ভালবাসেন বাদুই জনগোষ্ঠীর মানুষ। এই আদিবাসী গোষ্ঠীর সর্বোচ্চ নেতাকে 'পুন' বলে সম্বোধন করা হয়। তাকে তিন গোষ্ঠীর বাদুইরাই মান্য করে চলে। মূলত তাংতু বাদুইদের থেকেই 'পুন' নির্বাচিত হন। বাদুইদের ধর্মের নাম 'সুন্দা উইউইটান'। তাদের মতে, প্রাচীনকালে এক দেবতা তাঁর নিজের জীবন দিয়ে তাদেরকে রক্ষা করেছিল। তাই সমস্তরকম ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আগে তারা ওই দেবতাকে স্মরণ করে থাকেন। তাংতু বাদুইরা মনে করেন, সেই দেবতা নিজের হাতে তাদের এই বাসস্থান গড়ে তুলেছিলেন, তাই তারা জঙ্গলের মধ্যবর্তী অঞ্চল ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায় না। এই আদিবাসী গোষ্ঠীটি মনে করে জীবিতকালে যা কিছু ঘটছে সব‌ই পূর্বনির্ধারিত। তাদের ধারণা প্রকৃতির কোন‌ও কিছুই পরিবর্তন করা হল অনৈতিক কাজ। সেই জন্যই তারা বিদ্যুৎ,আধুনিক ইন্টারনেট, যানবাহন এগুলির কিছুই ব্যবহার করে না।
কিন্তু পানামপিংরা বিদ্যুৎ এর পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, টেলিভিশন সব‌ই ব্যবহার করে। এমনকি অনেক পানামপিং বর্তমানে পুরানো লোকায়ত ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে।

এরকম ভাবেই সহজ সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত থাকুক এসব গোষ্ঠীর মানুষেরা। থাক সরলতার ছোঁয়া, আধুনিকতার মোড়ক দিয়ে নিজেদের আচ্ছাদিত না করে যদি এনারা ভালো থাকতে পারেন থাকুন। সত্যিই শিক্ষণীয় এনাদের জীবন যাত্রা। 
বিলাসবহুল জীবনের প্রতি নেই তাদের কোনো লোভ
আধুনিকতায় অভ্যস্ত মানুষেরা বিলাসিতা না পেলে দেখায় শুধু ক্ষোভ।

চেষ্টা করে দেখাই যাক না সরল অনাড়ম্বর জীবনে সাধারণ মানুষ ফিরতে পারে কিনা! ক্ষতি তো কিছুই নেই, আখেরে লাভই আছে এতে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
ছবি সৌজন্যে : গুগল

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না কর...