শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২

গ্রন্থালোচনা✍️ডা: অরুণিমা দাস

গ্রন্থালোচনা
✍️ডা: অরুণিমা দাস

আজ গ্রন্থালোচনার বিষয় হিসেবে তুলে ধরা যাক অন্যরকম স্বাদের একটি বইকে। ইতিহাস পড়তে বেশ ভালই লাগে আমার আর যখন কোনো উপেক্ষিত চরিত্রকে নিয়ে লেখা হয় সেটা তখন  আকর্ষনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সেরকম একজনের আত্মজীবনী আর সাথে লেখকের কল্পনা এই দুইয়ের মিশেলে সৃষ্ট চরিত্র আর তার ওপর লেখা বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

বইয়ের নাম - লাডলী বেগম
লেখক - নারায়ণ সান্যাল

লাডলী বেগম এই নামটি বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের বিবেচনায় খুবই অপরিচিত একটা নাম৷ আসলে তিনি মোগল ইতিহাসের অংশও হতেননা যদি না তিনি স্বয়ং নূরজাহানের কন্যা হতেন৷ নূরজাহানের প্রথম ঘরের কন্যা তিনি,অর্থাৎ যখন কিনা নূরজাহান ছিলেন মেহেরুন্নিসা নামে, ছিলেন শের ই আফগান আলি কুলি ইস্তাজুল এর স্ত্রী। মোগল রক্ত ছিলো না তার শরীরে, তাই মোগল হারেমের অংশ কিংবা মোগল আমলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সম্রাজ্ঞীর কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তার নাম মোটামুটি অন্ধকারেই থেকে গেছে। স্বার্থান্বেষী মায়ের ক্ষমতার বলি হয়েছিলেন লাডলী। বিয়ে হয়েছিলো মোগল ইতিহাসের সবচেয়ে অথর্ব শাহজাদা - মির্জা শাহরিয়ারের সাথে। তা সত্ত্বেও খুব একটা আলোয় আসতে পারেননি।নারায়ণ সান্যাল বেশ গবেষণা করেই লিখেছেন বইটা। ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস হলেও, যেখানে ইতিহাসের ওপর সংশয় জেগেছে সেখানে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করতে ভুলেননি। বেশ সুপাঠ্য একটা বই।

বইয়ের একটা লাইন অসম্ভব ভালো লেগেছে। 'রূপ কী থাকে রূপসীর দেহে? যুগে যুগে তার আধখানা গচ্ছিত থাকে রূপদর্শীর চোখের তারায়।'

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - গানোলজি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - গানোলজি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সেদিন নিজের রুম গোছাতে গোছাতে হাতে পেলাম কিছু সার্টিফিকেট, বেশ অনেকদিন আগেকার। খুলে দেখতে দেখতে পুরনো দিনে ফিরে গেলাম, বেশ কিছু বছর আগের ঘটনায়। তখন সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি সবে, একদিন ফোন এলো বায়োকেমিস্ট্রি ম্যাডামের। বললেন শোন না কলেজে নতুন ব্যাচ আসছে এমবিবিএস এর ফাস্ট ইয়ারে। ওদের জন্য একটা নবীন বরণ উৎসব আয়োজন করবো ভাবছি। তুই একটু গান চয়েস করে রাখ আর গেয়ে দিস একটু অনুষ্ঠানে। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতন অবস্থা আমার। কোনরকমে সামলে নিয়ে বললাম কবে অনুষ্ঠান ম্যাম? উনি বললেন আগামী বুধবার। মোবাইলে দেখলাম সেদিন শুক্রবার, মানে হাতে চারদিন মাত্র সময়। বললাম এত কম দিন ম্যাম! ম্যাম বললেন এটা অনেক সময়, তুই রেডী কর গান। কোরাস হলে ভালো হয়। আমি আর কি করি! বললাম ওকে ম্যাম। হোস্টেল ফিরে বন্ধুদের বললাম সব ব্যাপার। কোনরকমে আর তিনজন জোগাড় করা গেলো। তারপর গান চয়েস করলাম "আমরা মেডিক্যাল কলেজে পড়ি" এই গানটা। ঠিক হলো ভোরবেলায় পাঁচটা থেকে রেওয়াজ হবে, হোস্টেলের ছাদে। সেই কথা মত রাতে একবার সঙ্গত করে পরের দিন ভোরে ছাদে গেলাম রেওয়াজ করার জন্য। সকালের ঠান্ডা হাওয়ায়, ঘুমের আবেশে গান শুরু করলাম, সাথে মোবাইলে ক্যারাওকে চলছে। হঠাৎ একটা শব্দ এলো কিচ কিচ! পাত্তা না দিয়ে সবাই চোখ বন্ধ করে গাইছি। হঠাৎ এক বন্ধু চিৎকার করে উঠে বললো রিমো তোর পেছনে দেখ ওটা কে! ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি একটা হনুমান বসে আছে দাঁত বের করে। গানের দফারফা শেষ তখন, ঊর্ধ্বশ্বাসে সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলাম সবাই। আর সাথে হনুমান টাও নামছিল। দিগবিদিক শূন্য হয়ে ছুটতে ছুটতে দুজন গেলাম বাথরুমে লুকোতে। আর দুজন অন্য এখন বন্ধুর রুমে ঢুকলাম। বন্ধুটি সব শুনে নীচে সিকিউরিটি কে ফোন করলো। সিকিউরিটি এসে হনুমানটাকে কমন রুম থেকে বের করে তাড়িয়ে দিলো। তারপর একে একে সবাই জড়ো হলাম যে যেখানে লুকিয়ে ছিলাম সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। ম্যাম কে সব বলার পর কি হাসি ওনার! পরে অবশ্য অডিটোরিয়ামে আমাদের প্রাকটিস করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বাকি তিনদিন রিহার্সাল করে মোটামোটি গান গেয়ে উতরে দিয়েছিলাম সবাই। সেই ঘটনা আজও মনে পড়লে বন্ধু মহলে হাসির ফোয়ারা ছোটে। গানটার কয়েকটা লাইন দিলাম। মনে রাখার মত গান সত্যি। 

আমরা মেডিকেল কলেজে পড়ি
এনাটমি,প্যাথলজি,সার্জারি, মেডিসিন 
আরও কত নাম ঝুরি ঝুরি।।
কার্ডিওলজি, হেমাটোলজি আরও কত লজি, কিছু তার বুঝি আর কিছু নাহি বুঝি ... 
আমরা মেডিকেল কলেজে পড়ি।। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২

মনের খবর ✍️ডা: অরুণিমা দাস

  মনের খবর
 ✍️ডা: অরুণিমা দাস

কালো মেঘ জমেছে মনের কোণে 
তাকে আগলে যে রাখি সঙ্গোপনে।

মনের খবর রাখার সময় কোথায়?
ব্যস্ত সবাই,নিজের কাজে ধায়।

যখন কেউ পারেনা করতে নালিশ
অশ্রুভেজা বালিশ রাখে মনের হদিশ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - প্রয়াস✍️ডা: অরুণিমা দাস

  শিরোনাম - প্রয়াস
✍️ডা: অরুণিমা দাস

এলোমেলো ভাবনা সকল খাচ্ছে মাথায় ঘুরপাক
চলছে কলম,খাতা সব আজ লেখায় পূর্ণ হোক।

সেরিব্রাম থেকে সেরেবেলাম,হচ্ছে বিকাশ উদ্ভাবনী শক্তির 
ছন্দ মেলানোর চেষ্টা,অক্ষর সব অপেক্ষা করছে মুক্তির।

ব্যর্থ না হোক এই লেখা খানি,চিন্তার সাগরে দিয়েছি ঝাঁপ
উঠছে ভরে সাদা পাতা,মস্তিষ্কের ভাবনা সকল যাচ্ছে রেখে ছাপ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২

মনের অন্দরে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 মনের অন্দরে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নরম কাদা যখন পুড়ে গিয়ে ইট হয়ে যায়, সেটা কিন্তু অপরিবর্তনীয় ঘটনা। কারণ কোনো ভাবেই ইট  কাদা তে রুপান্তর হয়না। কাদা যেমন তাপে চাপে ইটে পরিণত হয় তেমন মানুষের মনও ক্রমাগত কষ্ট আঘাত পেতে পেতে একসময় দৃঢ়তা আর কাঠিন্যে ভরপুর হয়ে ওঠে। কোনোভাবেই তখন টলানো যায় না সেই মানসিক কাঠিন্যকে। কোনো আবেগ, অনুভূতি আর মনকে নাড়া দেয় না সেই সময়। স্বার্থপর দুনিয়াতে কেউ কারো নয় তাই কারোর মনের ওপর একমাত্র নিজের ছাড়া অন্য কোনো কিছুই প্রভাব ফেলে না। দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া অপমান যন্ত্রণা সবকিছু মানুষের মনকে  শক্ত ইটের মত একটা খোলস দান করে যা পরে কোনোভাবেই ভেঙে পুরনো মন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। আর এভাবে ক্রমাগত নিষ্পেষিত হতে হতে যে মানসিক পরিপক্কতা তৈরি হয় সেই মনের মানুষকে টলানো অসাধ্য হয়ে পড়ে। কারণ সে বুঝে যায় এই পরিবর্তনশীল দুনিয়াতে শুধু মন টাই অপরিবর্তিত রাখলে তবেই দুনিয়া কাঁপানো যাবে। কোনো রকম আবেগ, রিপুর বশবর্তী হয়ে পড়লে মন আগের মত কষ্ট পাবে। তাই কোনো কিছু যাতে মনকে স্পর্শ করতে না পারে সেইজন্যই শক্ত খোলক থেকে মনকে বের করতে চায় না মানুষ। তখন তাই তার মধ্যে সমস্ত ঝড়ঝাপটা সামলে বিজয়ী হয়ে ওঠার সমস্ত সম্ভাবনা গড়ে ওঠে। 

"পরিবর্তনশীল দুনিয়াতে মনটাই হোক শুধু অবিচল
  আবেগ, অনুভূতি যেনো না করে তাকে শিথিল।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - আত্মহননের নেপথ্যে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - আত্মহননের নেপথ্যে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আত্মহনন কি তা হয়তো সহজ বাংলায় প্রায় সবাই বলতে পারবো। আত্মহনন হল স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণ বিসর্জন দেওয়া। 
অনেক আগে থেকেই আত্মহননকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে সকলে। কিন্তু নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পরও আত্মহনন এখনো মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এমন কি আমাদের দেশেও আশঙ্কা জনক হারে আত্মহত্যার হার বাড়ছে।
আজকের শব্দ দিনের বিষয় যখন আত্মহনন তখন বিষয়টিকে অন্য নিরিখে মানে মেডিক্যাল সায়েন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরার একটা প্রচেষ্টা করছি মাত্র।
এক গবেষণার রিপোর্ট অনুসারে, আত্মহনন করা মানুষের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে থাকে। এদিক থেকে বলতে গেলে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসাবে এটাকে দেখা যায়। আর এ ব্যপারে আমাদের সচেতনতা প্রায় নেই বলতে গেলেই চলে।
শরীর খারাপ হলে যেমন নানা রকম লক্ষণ প্রকাশ পায় তেমনি মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়লে বা মনের অসুখ হলে তারও নানা লক্ষণ দেখা যায় কিন্তু অজ্ঞানতার অভাবে আমরা সেদিকে দৃষ্টিপাত করি না। এটাই হচ্ছে সমস্যা। যদি সবাই নিজের নিজের মানসিক কাঠিন্য বজায় রেখে সব রকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করে তাহলে ডিপ্রেশনের মত পরিস্থিতি এড়ানো যায়। কিন্তু মুখে বলা যতটা সহজ ততটা সহজ নয় কাজে করে দেখানো। এটাও মানতে হবে। 
 
মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের রুগীদের মাঝে সুইসাইডের প্রবণতা অনেকটা বেশী। এমনকি বাইপোলার ডিসঅর্ডার থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সুইসাইডের প্রবণতা বাড়ে প্রায় ২০ শতাংশ। এছাড়া স্ক্রিজোফ্রেনিয়া,পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার(ওসিডি), পোষ্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) সহ বেশ কিছু মানুষিক রোগে আত্মহত্যার প্রবনতা বাড়ে।
এছাড়া যাদের ফ্যামিলিতে আগে কেউ আত্মহত্যা করেছে,ড্রাগসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্যে আসক্ত, যদি কেও কোন ধরনের ড্রাগ অ্যাবইউজের শিকার হয়ে থাকে তাদের আত্মহত্যার ঝুঁকি বেশী থাকে। আত্মহননের প্রবণতা ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি বিপর্যস্ত ব্যক্তিকে মানসিক সহায়তা ও চিকিৎসা জরুরী। এজন্য প্রয়োজনে মানুষিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।আমাদের সবারই চোখ-কান খোলা রাখা জরুরী। হয়তো খুব নিকটজনের মনের ভেতর ভাঙনের ঢেউ ঢুকতে শুরু হয়েছে খালি একটু সচেতনতার অভাবে তা চোখে পড়ছেনা। 

এবার দেখা যাক কিভাবে নিউরোট্রান্সমিটার আর হরমোনের তারতম্য মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে! কিছু কিছু হরমোন আছে যা মানসিক স্বাস্থ্য কে নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলো হলো সেরেটোনিন, ডোপামিন আর নর এপিনেফ্রিন। এসব নিউরো ট্রান্সমিটার খুব সুক্ষ্য ভাবে কাজ করে মস্তিষ্কের ওপরে কিন্তু প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। তাই এগুলো সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া দরকার। ডোপামিন কে পজিটিভ আর সেরোটোনিনকে নেগেটিভ হরমোন বলা হয়ে থাকে। সেই হিসেবে যখন অবসাদ গ্রাস করে,কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করে না তখন বলা হয় ডোপামিনের মাত্রা কম হয়েছে  আর সেরোটোনিনের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। শুধু অবসাদই নয় স্লিপ সাইকেল ডিস্টার্ব হয় ইমোশনাল স্ট্যাবিলিটিও বিঘ্নিত হয়। নরএপিনেফ্রিন এর প্রভাব আবার মনের থেকে শরীরে বেশি পড়ে। শারীরিক দুর্বলতা, শরীরে জ্বালা ভাব এসব দেখা যায়। 
এই অবসাদ গ্রস্ততা বা কাজে অনীহা এগুলো যদি সপ্তাহ দুয়েকের বেশি স্থায়ী হয় তাহলে ধরে নেওয়া হয় সেই ব্যক্তি মানসিক অসুখে আক্রান্ত।
টিনএজার দের মধ্যে আবেগ প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ভূত ভবিষ্যত না ভেবে সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ডোপামিন এই জন্যও দায়ী। আবার বয়:সন্ধি অতিক্রম করে নিলে তখন চিন্তা শক্তির বিকাশ ঘটে কিন্তু রিস্ক নেওয়ার প্রবণতা কমে। অনেকে আবার নিকোটিন, কেউ আবার নার্ভ স্টিমুলেটিং ড্রাগ ব্যবহার করে মস্তিষ্ক কে চাঙ্গা রাখতে। ইউফোরিক স্টেটে আসতে অনেকে এসব ব্যবহার করতে করতে এসবের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। আর ড্রাগ ডিপেন্ডেন্সি আত্মহননের অন্যতম একটি কারণ।
বয়স কালে আবার একাকীত্ব গ্রাস করে অনেকক্ষেত্রে। তখন নিঃসঙ্গ জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নেন। কিন্তু এটাও সঠিক পথ নয়। 

এগুলোকে চেপে রাখার কোনো দরকার দেখি না। শরীর খারাপ হলে যেমন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া হয় সেরকম মনের হাল খারাপ হলেও অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। 
 'এক হাত বাড়িয়ে সাহায্য চাও, দশ পা এগিয়ে আসবো সাহায্য করার জন্য।'
সাইকিয়াট্রিস্টরা বলছেন কোনো রকম উদ্বেগ, অ্যাংজাইটি,অবসাদ দেখা গেলে আর সেটা ক্ষণস্থায়ী না হলে আসুন আমাদের কাছে। আমরা খেয়াল রাখবো আপনার। 

রোগ যখন আছে,দাওয়াইও আছে তার। প্রাথমিক ভাবে লাইফ স্টাইল চেঞ্জ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এগুলো অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডোপামিন লেভেল বাড়ানোর জন্য কাজুবাদাম, আমন্ড খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া প্রাণিজ প্রোটিন, সবুজ শাকসবজি,ফল,ডার্ক চকোলেট, কফি এগুলোতে টাইরোসিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা ডোপামিন প্রোডাকশনে সাহায্য করে। 
এটা গেলো প্রাথমিক চিকিৎসা। এতে যদি কাজ না হয় তাহলে এবার মেডিসিনের সাহায্য নেওয়ার দরকার পড়ে। মেডিসিন দেওয়ার আগে কিছু পরীক্ষার দরকার হয়ে থাকে। 
এখন অনেক উন্নত মানের ইমেজিং টেকনিক এসে গেছে। ব্রেন ম্যাপিং করে ব্রেনের মধ্যে কি চলছে জানা যায়। নিউরো ইমেজিং টেকনিক এর সাহায্যে মস্তিষ্কের বিভিন্ন লোবের অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া যায়। আর রক্তে ডোপামিন সেরেটোনিন নর এপিনেফ্রাইন এর লেভেল ও চেক করা যায়। 
রোগের লক্ষণ দেখে প্রথম সারির মেডিসিন হিসেবে
সিলেকটিভ সেরোটোনিন রিসেপটর ইনহিবিটর চালু করা যেতে পারে যা অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়া অ্যান্টি অ্যাংজাইটি ড্রাগ ও লাইট সিডেটিভ ড্রাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। 
ওষুধ খেয়ে কোনো সাইড এফেক্ট হলেও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 
মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) ১০ ই সেপ্টেম্বর দিনটিকে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস হিসেবে অভিহিত করেছে। 
সবাই যখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি আছেন তখন মনখারাপ হলে তাদের সাহায্য নিন। মনের জটিলতা বাড়তে দেবেন না। আত্মহনন করে ঈশ্বর প্রদত্ত জীবনকে স্বেচ্ছায় নষ্ট করবেন  না এটুকুই অনুরোধ সর্বসাধারণের কাছে।

   "সুস্থ মনের চাবিকাঠি রয়েছে যে হরমোনে
   প্রকাশ করো মনের কথা,রেখোনা কিছু মনের কোণে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


 

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...