গ্রন্থালোচনা
✍️ডা: অরুণিমা দাস
আজ গ্রন্থালোচনার বিষয় হিসেবে তুলে ধরা যাক অন্যরকম স্বাদের একটি বইকে। ইতিহাস পড়তে বেশ ভালই লাগে আমার আর যখন কোনো উপেক্ষিত চরিত্রকে নিয়ে লেখা হয় সেটা তখন আকর্ষনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সেরকম একজনের আত্মজীবনী আর সাথে লেখকের কল্পনা এই দুইয়ের মিশেলে সৃষ্ট চরিত্র আর তার ওপর লেখা বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার চেষ্টা করলাম।
বইয়ের নাম - লাডলী বেগম
লেখক - নারায়ণ সান্যাল
লাডলী বেগম এই নামটি বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের বিবেচনায় খুবই অপরিচিত একটা নাম৷ আসলে তিনি মোগল ইতিহাসের অংশও হতেননা যদি না তিনি স্বয়ং নূরজাহানের কন্যা হতেন৷ নূরজাহানের প্রথম ঘরের কন্যা তিনি,অর্থাৎ যখন কিনা নূরজাহান ছিলেন মেহেরুন্নিসা নামে, ছিলেন শের ই আফগান আলি কুলি ইস্তাজুল এর স্ত্রী। মোগল রক্ত ছিলো না তার শরীরে, তাই মোগল হারেমের অংশ কিংবা মোগল আমলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সম্রাজ্ঞীর কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তার নাম মোটামুটি অন্ধকারেই থেকে গেছে। স্বার্থান্বেষী মায়ের ক্ষমতার বলি হয়েছিলেন লাডলী। বিয়ে হয়েছিলো মোগল ইতিহাসের সবচেয়ে অথর্ব শাহজাদা - মির্জা শাহরিয়ারের সাথে। তা সত্ত্বেও খুব একটা আলোয় আসতে পারেননি।নারায়ণ সান্যাল বেশ গবেষণা করেই লিখেছেন বইটা। ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস হলেও, যেখানে ইতিহাসের ওপর সংশয় জেগেছে সেখানে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করতে ভুলেননি। বেশ সুপাঠ্য একটা বই।
বইয়ের একটা লাইন অসম্ভব ভালো লেগেছে। 'রূপ কী থাকে রূপসীর দেহে? যুগে যুগে তার আধখানা গচ্ছিত থাকে রূপদর্শীর চোখের তারায়।'
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন