সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - ঘুঙুর✍️ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ঘুঙুর
✍️ডা: অরুণিমা দাস

বেশ কিছুদিন হলো বিয়ে হয়েছে তনুজা আর সৌরভের। দেখাশোনা করেই বিয়ে,তাই সম্পর্কটা মজবুত করার চেষ্টা দুজনের মধ্যে সমান ভাবে আছে। তনুজা মনে মনে স্বামীর যে ছবি এঁকে রেখেছিল তার সাথে সৌরভকে মেলানোর চেষ্টা করে। আগের সম্পর্কটা ভেঙ্গে যাওয়ার পর খুব ভেঙে পড়েছিল তনুজা। ওর ঠাকুমা বলেছিলেন মনের মানুষ যে হয় সে কখনোই ছেড়ে যাবে না তোকে,সে তোকে বুঝবে,তোর পাশে থাকবে। আর এই ছেলে বোধহয় তোর মনের মানুষ ছিলোনা। মনের মানুষের সাথে সম্পর্ক এতো ঠুনকো হবে না সে সেটা ভেঙে দেওয়া খুব সহজ হবে। সেদিন চুপ করে শুনেছিল তনুজা। তারপর থেকে মা বাবার ওপর বিয়ের ভার ছেড়ে দিয়েছিলো। 
এই কদিনে সৌরভের সঙ্গে বেশ একটা মনের মিল গড়ে উঠেছে ওর। সৌরভ পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, আর সাথে একটা ক্লাউড কিচেন চালায়, দুঃস্থ বাচ্চাদের খাবার সার্ভ করে। বিয়ের পর তনুজা এর মধ্যে ইনভলভড হতে চেয়েছিল কিন্তু সৌরভ বলেছিলো কটাদিন একটু রিল্যাক্স করে নাও তারপর এসব করো। সৌরভ যখন অফিসে থাকতো,তনুজা লাঞ্চের পর বিশ্রাম নিয়ে ডান্স প্রাকটিস করতো টেপ চালিয়ে। একসময়  ওর খুব ইচ্ছে ছিলো ভালো ড্যান্সার হবে। কিন্তু বাড়ীর কারোর সায় না থাকায় ওর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সৌরভকে এসবের বিন্দুমাত্র বলেনি কোনোদিন। ভাবতো ও এসব মেনে নেবে কিনা! বিয়ের পর তনুজার প্রথম জন্মদিনে খুব বড়ো আয়োজন করেছে সৌরভ। তনুজার বাপের বাড়ীর সবাই আমন্ত্রিত। একফাঁকে সৌরভ তনুজাকে ডেকে বললো রুমে যাও, একটা দারুণ সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য। তনুজা বেডরুমে এলো,লাইট জ্বালতেই দেখলো,একি! বিছানায় সুন্দর করে সাজানো রয়েছে নাচের পোশাক আর এক জোড়া ঘুঙুর। আনন্দে তনুজার চোখে জল চলে এলো। দেখি পা দুটো দেখি! ঘুঙুরটা পরিয়ে দিই। তনুজার পা টা নিয়ে ঘুঙুর পরিয়ে দিলো সৌরভ। এসব তুমি কি করে জানলে? তনুজা জিজ্ঞেস করে। সৌরভ বলে জানিনা আমি তোমার মনের মানুষ হয়ে উঠতে পারবো কিনা! তবে তোমার ইচ্ছে অনিচ্ছের কথা এটুকু তো জানতেই পারি বলো। একদিন দুপুরে অফিস থেকে ফিরে দেখি তুমি ডান্স প্রাকটিস করছো, বাড়ীতে আর ঢুকিনি, মুগ্ধ হয়ে নাচ দেখছিলাম। তারপর তোমার মায়ের সাথে কথা বলে জানতে পারি যে তুমি ডান্স খুব ভালবাসতে। আজ তাই তোমার জন্মদিনে উপহার দিলাম যাতে তোমার স্বপ্নপূরণ হয়। আর এই নাও ক্লাসিক্যাল ডান্স স্কুলে ভর্তির ফর্ম, ফিল আপ করে নিও। আমি জমা দিয়ে আসবো। এখন চলো কেকটা কাটবে, সবাই অপেক্ষা করছে। আজ ঠাকুমার কথাগুলো খুব মনে পড়ছে তনুজার, মনের মানুষ সেই হয় যে না বলা সত্ত্বেও মনের সব কিছু বোঝে। সৌরভ বললো কি ভাবছেন ম্যাডাম? চলুন। হ্যা আসছি, বলে সৌরভের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে তনুজা বললো "আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে, তাই হেরি তায় সকল খানে।" সৌরভ বললো বাকিটা শোনার অপেক্ষায় রইলাম। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...