মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

চা ফোন আর পেপার ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 চিত্রালোচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ধোঁয়া ওঠা গরম চা,সাথে যতই থাক ফুল চার্জড অ্যান্ড্রয়েড ফোন
নেশা জমাতে চায়ের সাথে নিউজ পেপার ই জয় করেছে সবার মন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বোধবুদ্ধি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বোধবুদ্ধি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নেশায় বুদ হয়ে নন্দী ভৃঙ্গী দের নিয়ে মহাদেব ব্যস্ত কৈলাসে। মর্ত্যে শিব রাত্রি, সেই উপলক্ষ্যে কৈলাস সেজে উঠেছে। দুর্গা গোছাতে বসেছেন লাভ ম্যারেজের অ্যানিভার্সারী গুলোতে কি কি জিনিস পত্র পেয়েছিলেন সেইগুলো। কিন্তু এতো কোলাহল চলছে যে নিজের কাজ করতে পারছেন না মন দিয়ে। ওদিকে বৃষ আবার সকাল থেকে মুখ গোমড়া করে আছে, কিছুতেই স্নান করবেনা ঠান্ডায়। মহাদেব তাই তার জন্য গিজার লাগানোর কাজে বিশ্বকর্মাকে তলব করেছেন। নারদ আবার কৈলাস ফার্মেসি থেকে সর্দি কাশির ওষুধ এনে দুর্গাকে দিলেন। স্বামীর ঠান্ডা লাগবে জল গায়ে লেগে,তাই এই তৎপরতা। নন্দী মনের সুখে গাঁজা টানছে আর সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে মহাদেবকে। হঠাৎ করে মাথায় জল পড়ায় নেশা কেটে গেলো। বেশ কিছুক্ষন জল পড়ার পর কেমন যেনো একটা অস্বস্তি বোধ হলো মহাদেবের,চামড়ায় কি সব বেরোচ্ছে যেনো! নন্দী ছুট্টে গিয়ে দুর্গাকে ডেকে আনলো। উনি হায় হায় করে এসে বললেন কি হলো এসব? নেশার ঘোর কেটেছে কিছুটা তখন মহাদেবের, বললেন আর কি গিন্নী? তোমার ভক্তরা মর্ত্যের জল দূষিত করেছে, তাই এসব হয়েছে। সব তো বড়ো বড়ো বাড়ী, কারখানা গড়তে ব্যস্ত। তা নালা নর্দমা সব বুজিয়ে ফেলে আবর্জনা সব যাবে কোথায়? চলো তোমায় ভালো করে সাবান দিয়ে স্নান করিয়ে দিই, দুর্গা বললেন। এই বছর যখন অক্টোবরে মর্ত্যে যাবো সবাইকে বলে আসবো পরিবেশ দূষণ যেনো রোধ করে। কারণ তোমার কিছু হলে আমি আর তো মর্ত্যেও পা রাখবো না। এই জন্যই তো তুমি আমার সেরা গিন্নী। এতো লোক আছে,এসব কি বলছো? লজ্জা বলে কিছু নেই তোমার! আরে ওসব নারী দের ভূষণ, আমার নেই ওসব। তুমি যে ভক্ত দের থেকে চোখ সরিয়ে স্বামীর সেবা করছো এটা কি কম বড়ো কথা! দুর্গা লজ্জা পেলেন। মহাদেব বললেন যারা এত কষ্ট করছে আমার মত স্বামী পাওয়ার জন্য তাদের জন্য একটাই আশীর্বাদ করি, সবাই যেনো মনের মানুষ পায় আর সুখী হয়। মুখে হাসি ফুটলো দুর্গার আর সমস্ত কৈলাস মহাদেবের জয়গানে মুখর হয়ে উঠলো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম - ম্যাজিক অফ মেলোডি✍️ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ম্যাজিক অফ মেলোডি
✍️ডা:অরুণিমা দাস

গান আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। গানের লিরিক্স গুলো শুনতে শুনতে তার সাথে একাত্ম হয়ে গেলে জীবনের মানে অন্য রকম হয়ে যায়। বুদ্ধিভিত্তিক অংশ সেরিব্রাম গানের কথার সাথে আগেকার স্মৃতি, জ্ঞান,চরিত্র ও ঘটনাকে তুলনা করে, শরীরের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের অংশ সেরেবেলাম শরীরকে স্থির করে অথবা গানের বাজনার সাথে চালনা করে এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতি মুহূর্তে গান আমাদের বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়। কাজে এনার্জি পেতে গান দরকার। মানুষের মনে সুখানুভূতি সৃষ্টির অন্যতম কৌশল হলো সঙ্গীত। সুর আমাদের হৃদয়কে উদ্বেলিত করে তোলে,মনোযোগ দিতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোধ করে।


নিউরোলজিস্টদের মতে, মস্তিষ্ক কাজ করে ছন্দের মাধ্যমে। গান শোনার ফলে মস্তিষ্কে আলফা ও থিটা তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। আলফা ও থিটা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং থিটা তরঙ্গ প্রবাহের ফলে কর্টিসল হরমোনের প্রবাহ হ্রাস পায়। এই কর্টিসল স্ট্রেস হরমোন হিসেবে পরিচিত,যা মনোসংযোগ ব্যহত করে,দুঃখ ও দুশ্চিন্তার অনুভূতি জাগায়। তাই সুর শোনার ফলে মানসিক চাপ হ্রাস পায়। ছোট বেলায় গান চর্চা করলে ঐ ব্যক্তির শব্দপ্রক্রিয়া করার ক্ষমতা সাধারণের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে।সুর মানুষকে শান্ত ও ধীরস্থির করে তোলে। তবে গান শোনার চেয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর ফলে মস্তিষ্ক আরও বেশি তৎপর হয়ে থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চমানের গীত সৃষ্টির সময় মস্তিষ্কের অল্প অংশ সক্রিয় থাকে,নিউরাল কানেকশন কম থাকে। ফলে বাড়তি শক্তি জমা হয় এবং এই শক্তি ব্যবহার নিউরাল সার্কিটকে আরো সক্রিয় করে তোলে ও সঙ্গীত মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করে তোলে।


সার্বিক জনসংখ্যার তিন থেকে পাঁচ শতাংশ মানুষ সঙ্গীত ঘৃণা করে,একে বলা হয় মিউজিক্যাল অ্যানহেডোনিয়া। এ ধরনের মানুষের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের সাথে শ্রবণ অংশের যোগাযোগ কম।
সঙ্গীত শিল্পের চমৎকার একটি মাধ্যম হলেও এর ক্ষতিকর কিছু দিক রয়েছে
কিছু গান মানুষকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচনা দেয় বলে জানা গেছে। Gloomy Sunday নামক একটি গান এই কারণে বহুল আলোচিত। অতিরিক্ত হেভি মেটাল শুনলে স্মৃতিশক্তি বাড়ার বদলে কমতে থাকতে পারে। সঙ্গীত কখনো কখনো হিংস্রতা উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

বর্তমানে অ্যালজাইমার্স রোগের একমাত্র প্রতিকার মিউজিক থেরাপি। অটিজমে এর ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ডিপ কোমায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে মিউজিক থেরাপি দেয়া হয়ে থাকে।
এই জন্যই

বলা হয়ে থাকে গান মানুষের শরীরের জন্য একটি যাদু। যে যাদু হঠাৎ করে পৃথিবীর সব জরাজীর্ণতা,ক্লান্তি,অবসাদ,চাপ ও দুশ্চিন্তাকে প্রশমিত করে মনকে ফুরফুরে করে এবং কাজের জন্য আবার মনকে সজীব ও সতেজ করে।


সঙ্গীত মস্তিষ্কের ব্যায়াম। সুর,বাজনা ও কথার সাথে মস্তিষ্কের প্রায় সব অংশ উদ্দীপ্ত হয়।

"সঙ্গীতের মূর্ছনায় রয়েছে যে ম্যাজিক অফ মেলোডি
গানে জীবন হবে চাপমুক্ত,হবে না কোনো ট্র্যাজেডি।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 




















বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম -যোগ বিয়োগ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম -যোগ বিয়োগ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

জীবনে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির খাতা খুলে বসতে গেলে মনে হয় যোগের খাতাটা যদি পূর্ণ থাকতো, আর বিয়োগের খাতা যদি ফাঁকা থাকতো কতই না ভালো হতো। কিন্তু শুধু প্রাপ্তির আনন্দে মেতে থাকলে অপ্রাপ্তির দুঃখটা অনুভূত হয়না ঠিক। প্রাপ্তিতে যেমন আনন্দ থাকে, তেমনি অপ্রাপ্তির দুঃখটাও অনেক কিছু শিখিয়ে যায়। জীবনে সব পেয়ে গেলে, সব আনন্দ যোগ হতে থাকলে বিয়োগের হিসেবে যে গরমিল থেকে যাবে। তাই জীবনে কিছু জিনিস যা নিজের জন্য ক্ষতিকর সেটা বিয়োগ হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। যোগ আর বিয়োগের হিসেবে কখন যে পরিণত হয়ে সিড়িভাঙ্গা অঙ্ক কষে ফেলবো সেটাও বুঝতে পারা যাবেনা। ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনে বড়ো হতে হতে বয়সের অঙ্কের যোগ বিয়োগে কেউ সাবলীল হয়ে উঠবে সেটাও একটা বড়ো ব্যাপার। জীবনে শেখার কোনো শেষ নেই, তাই যোগ বিয়োগ করতে করতে যখন কোনো অপ্রাপ্তি উপরওয়ালা পুষিয়ে দেন দ্বিগুণ ভাবে তখন যোগ বিয়োগ ছাড়াও গুণের অঙ্ক টাও শেখা হয়ে যায় নিজের অজান্তে। ভরসা থাক নিজের ওপরে, ঈশ্বরের উপরে। ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়া জীবনে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। 

"যোগ বা বিয়োগ হোক কিম্বা হোক সিড়িভাঙ্গা শক্ত হিসেব
নির্ভয়ে কষে যাও,তবেই শিখবে জীবনের মানে- এই তো বাস্তব।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

সময়ে জেগে ওঠা প্রয়োজন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সময়ে জেগে ওঠা প্রয়োজন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সময়ের মূল্য বোঝার ক্ষমতা থাকাটা খুব দরকার সকলের। যে সময় চলে যায় সে আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায়না। তাই বলা হয় -"সময় বহিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়,যে জন নাহি বোঝে তারে ধিক শত ধিক"। সময় অসময় জ্ঞান থাকলে তবেই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে কোনো বাধা থাকেনা। 
ভালো মন্দের জ্ঞান থাকা দরকার, আর না থাকলে যাতে সঠিক সময়ে জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হয় সেই চেষ্টাও থাকা উচিত। 
ঘুম থেকে অসময়ে উঠলে যেমন সেটা শরীরের জন্য খারাপ তেমনি সময় থাকতে চৈতন্য না হলে সেটা মন ও শরীর দুইয়ের জন্য ক্ষতিকারক। সময় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। নয়তো সময়ের স্রোতে কখনো নিজেকে হারিয়ে ফেলতে হয়। সময় থাকতে তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে সামনে পিছনে পা ফেলা উচিত। এমন যেনো না হয় সময় থাকতে তার মূল্য অনুধাবন না করতে পারার জন্য ঘুম যখন ভাঙলো তখন সময় অতীত হয়ে গেছে। বর্তমানে থেকেও ভবিষ্যতের জন্য ভাবার সময় বের করে নিতে হবে যাতে জীবন নির্দিষ্ট ছন্দে নিজের মতো করে চলে। শিখতে হবে সময়ের মূল্য দিতে,বুঝদার হতে হবে। 

"সময়ের মূল্য দিতে কাজে লাগাও এই বর্তমান সময়কে
জীবনটা পাল্টাতে ঠিক সময়ে জেগে ওঠো ঘুম থেকে"।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না কর...