শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৩

বীর বিক্রম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বীর বিক্রম
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বিক্রম তুই রেডী তো? বন্ধুরা সব জিজ্ঞেস করছে। ইয়েস আমি রেডী। একটু ভয় বই লাগছে বৈকি! কিন্তু ল্যান্ডিং তো আমায় করতেই হবে সফল ভাবে।
গতবার আমার সিনিয়র ল্যান্ডিং না করতে পারায় সবাই খুব মুষড়ে পড়েছিল। তাছাড়া চাঁদ মামার বাড়িতে খুব মজা হবে সবাই বলছিলো। মামার মা  মানে দিদা নাকি ওখানে চরকা কাটে। ওটা দেখতে পাবো ভেবেই বেশ এক্সসাইটেড লাগছে, বেশ একটা গান্ধীজি ফিলিং আসবে। হ্যা রে তোর খুব মজা,তাই না বিক্রম? হ্যা এতদিন ধরে আমায় ঘষে মেজে তৈরি করেছে এত মানুষ তাদের মুখ তো আমায় রাখতেই হবে রে ভাই! তোদেরকে সব খবর দেবো, বাকি গ্রহযানদের বললো বিক্রম।
সবার চোখ টিভির পর্দায়। বিক্রমের সফল ল্যান্ডিং হওয়ার অপেক্ষায়। সুপার এক্সসাইটেড হয়ে কেউ বলে ফেললো রাকেশ রওশনের নাম! যে নাকি প্রথম মহাকাশচারী ছিলো। গোটা দুনিয়া জুড়ে তোলপাড় চলছে,রওশন বাবুর বন্ধুরা বার বার ফোন করছে ওনাকে, কবে কিভাবে গেছিলেন উনি? বড্ড বিপদে পড়ে গেছেন উনি। বাড়িতে নাতি নাতনি ধরেছে দাদু গল্প বলো,কেমন অভিজ্ঞতা ছিলো? এই খবর রাকেশ শর্মা জানতে পেরে ভাবলেন আমার কষ্টের এই মূল্য পেলাম! সে এক কাণ্ড বটে!
এসবের মাঝেই কোনো মনোসংযোগে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে বিক্রম পৌঁছে গেলো মামা বাড়ী। গিয়েই সে কি সাদর সম্ভাষণ পেলো। খুব খুশি সে এসব পেয়ে। এই সাফল্যের আনন্দ ছড়িয়ে পড়লো গোটা দেশে, ইসরোতে খুশির হাওয়া বয়ে গেলো। সকলের প্রশ্ন একটাই রওশন না শর্মা? উত্তর একটাই। যেটা দিতে পারেন একমাত্র চাঁদমামা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০২৩

শিরোনাম - নিজের মতন করে ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - নিজের মতন করে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

করো মেরামত আপনারে, হাতুড়ি,ছেনি নিয়েছো হাতে
গড়ে তোলো এমন অবয়ব আঙ্গুল কেউ না তোলে যাতে।


দোষী কোরোনা কাউরে,করো নিজের কাছে অঙ্গীকার
আত্ম উন্নয়ন হোক জীবনের চলার পথে হাতিয়ার।

আসবে বাধা চলার পথে,তাই হাল ধরো শক্ত হাতে
থেমোনা কখনো,পিছপা হয়ো না ভুল শুধরে নিতে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩

শিরোনাম - যৌবনের অন্দরে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - যৌবনের অন্দরে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

যৌবনের স্থায়িত্ব বেশিদিন নয়, তাই সকলেই উপভোগ করতে চায়। যৌবন মানে কুড়ি থেকে বিকশিত হওয়া ফুলের বড়ো হওয়া। যৌবন মানে অনেক দায়িত্ত্ব যাতে পরবর্তী সময় কাল ভালো কাটে। যৌবন মানে আবেগে ভেসে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, সুপরিকল্পিত ভাবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্ল্যান করা। বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন থাকে সন্তানদের নিয়ে, যৌবনে উপনীত হয়ে অনেকেই তা ভুলে যায়। কলেজে সমবয়সীদের পাল্লায় পড়ে কিংবা সিনিয়রদের প্রভাবে অনেকেই বিপথে চলে যায়। কেউ হয় র‍্যাগিং এর স্বীকার কেউ হয় ড্রাগ অ্যাডিক্টেড। আসলে সবটাই নিজের চিন্তাধারার ওপর নির্ভর করে। সব কিছুর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মতো কঠোর মনোভাবাপন্ন হওয়া খুব দরকার। রঙিন দুনিয়া সব সময় হাতছানি দেবে কিন্তু নিজেকে সংযত রাখা খুব প্রয়োজন। দেশের যুবক বৃন্দের কাছে সকলের অনেক আশা,এরাই দেশের ভবিষ্যত। তাই এমন কিছু করা উচিত নয় যা নিজের ও দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যৌবন ধরে রাখার আর নতুন আর কি উপায় হতে পারে, সংযত জীবন যাপন করা, নিজেকে নষ্ট হতে না দেওয়া, সব জায়গায় নিজের বাঁচিয়ে চলা আর বুদ্ধিহীনতার পরিচয় না দেওয়া। বাকি তো রইলো হরমোনাল ব্যাপার, পিটুইটারি নিজের ছন্দে চলবে। সেই ছন্দে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এমন কোনো কাজ আবেগী হরমোনের বশে না করাই উচিত। এর জন্য সকালে প্রাণায়াম, যোগ কিছুটা হলেও কাজে দেবে। 
"ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে"। 
এই কথা মাথায় রেখেই জীবনে চলার উচিত। 

স্বল্পস্থায়ী যৌবন,খুঁজছে পন্থা সকলে তারে ধরে রাখার 
সুচিন্তা আর হরমোনের ভারসাম্যে লুকিয়ে রয়েছে  উপায় তার। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

শিরোনাম - আশায় বাঁচি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - আশায় বাঁচি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়,আড়ালে তার সূর্য হাসে
হারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে।।

আশা নিয়েই তো মানুষ বেঁচে থাকে। জীবনের আকাশে নিরাশার মেঘ ঘনিয়ে এলেও মনের মাঝে আশা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। আশা নিরাশার চক্রাকারে আবর্তনই তো জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে। নিরাশার অন্ধকারে নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়া মানে আশার দরজা বন্ধ করে দেওয়া। কথায় আছে একটা দরজা বন্ধ হলে ঠিক আরেকটা দরজা খুলে যায়। নিজের কাজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, বুকের মাঝে আশাকে সঞ্চারিত করতে হবে সর্বদা। ঠকতে ঠকতে যেমন একদিন জিতে যাওয়া যায় তেমনি আশার আলো আমাদের নতুন করে বাঁচার পথ দেখায়। লড়াই তো চলতেই থাকবে,বাঁচতে হলে করতেও হবে লড়াই, তাই বলে নিরাশা যেনো কখনোই মনে বাসা না বাঁধে। নিজেকে নিরাশ কখনোই করা উচিত নয়, পজিটিভ চিন্তাশক্তি মনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে,নিরাশার মেঘ কেটে আশার আলো দেখা ঠিকই যাবে একদিন। সেদিন মনে হবে ভাগ্যিস আশা নিয়ে এগিয়ে গেছিলাম নয়তো কোথায় হারিয়ে যেতাম।


আশার আলো জ্বালিয়ে মনে চলতে থাকো জীবন পথে

নিরাশাকে বাঁধতে দিওনা বাসা, চড়বে তবেই বিজয়রথে।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০২৩

শিরোনাম-মুখোশের আড়ালে ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম-মুখোশের আড়ালে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 

হাসির আড়ালে দুঃখকে একপাশে করে
বিষন্নতার ছোঁয়াকে রেখেছে সে দূরে।

খুশীতে ভাসে যে সকল মানুষের মুখ
সুখী হওয়ার নাটকে তারা বিদায় করে দুখ।

বুঝবেনা কেউ মনের গহীনে থাকা যন্ত্রণা
মুখোশের আড়ালে কষ্ট লোকাতে নেই তাই মানা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩

বইস্মৃতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বইস্মৃতি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চিলেকোঠার ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে বই খানি খুঁজে পায় মেয়েটি। ধুলোর পুরু আস্তরণ পড়ে গেছে,মলিন হলদেটে পাতা গুলো ওল্টাতে ওল্টাতে মনে পড়ে যায় অনেক কথা। বিয়ের পর থেকে তার পড়াশুনো বন্ধ। শ্বশুর বাড়ীর সবাই বলে মেয়েমানুষ পড়াশোনা করে কি রাজ্য জয় করবে? তার স্থান হেশেলে। স্বামী তাকে সমর্থন করলেও মায়ের মুখের ওপর কথা বলতে পারেনি সে কোনোদিন। 
এই বইখানি বছর খানেক আগে তার ভাইয়ের দেওয়া,প্রথম পাতায় লেখা আছে দেশের কাজে পথে নামলাম,যদি কোনোদিন আসি ফিরে, হবে আবার দেখা। ভাইকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পুলিশের চোখের আড়াল করে লুকিয়ে পালাতে সাহায্য করেছিল দিদি। সে কথা শুধু তার বাবা আর স্বামী জানে,অন্য কেউ জানে না। দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই, মেয়েটি খুলে বসে  পথের দাবী বইটি। হলদেটে হয়ে গেছে পাতাগুলো, কিন্তু লেগে রয়েছে ভাইয়ের পরশ, হাতের গন্ধ। কোথায় আছে ভাইটা কে জানে! ভাইকে নিয়ে তার যে গর্বের শেষ নেই। গুলির শব্দে ঘোর কাটে মেয়েটির, জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখে কতগুলো পুলিশ একটা ছেলেকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে, আর বলছে স্বদেশী করা ঘুচিয়ে দেবো। ভাইয়ের মুখটা মনে পড়ে মেয়েটির চোখে নামে জলের ধারা। আরো শক্ত করে বুকে চেপে ধরে বইটি, দুর থেকে কানে আসে 
"পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে এ পথ চেনা।" হাত দুখানি জড়ো করে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে জানায় ভাই যেনো ভালো থাকে, যেখানে থাকে। বইটি নিয়ে নিচে নেমে আসে, নিজের বিছানায় নীচে রাখে। আমৃত্যু এই বই তার সাথে থাকবে,থাকবেনা আর চিলেকোঠায়।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম-মোটিভেশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম-মোটিভেশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আজকালকার দিনে সঠিক পথ দেখানোর মানুষের বড়ই অভাব। পিছিয়ে দেওয়ার মানুষের সংখ্যাটা বড্ড বেশি। কেউ যখন বলে তোর দ্বারা হবে না কাজটা,ছেড়ে দে,এটা শুনতে খুব খারাপ লাগে। চেষ্টা কর ঠিক পারবি,কেনো এভাবে বলা কি যায় না? যে ডি মোটিভেট করে সে নিজেই সারাক্ষণ নেগেটিভ চিন্তায় মগ্ন থাকে তাই কাউকে পজিটিভ কিছু চিন্তাভাবনা করতে সাহায্য করতে পারেনা। কাউকে পিছিয়ে দেওয়ার মধ্যে নেই কোনো বীরত্ব, বরং এতে নিজের নীচু মানসিকতা, নেগেটিভ চিন্তার পরিচয় দেওয়া হয়। যে সবসময় পজিটিভ ভাববে সে কখনোই এভাবে কাউকে এভাবে পিছিয়ে দিতে পারবেনা। বরং বলবে একবারে হয়নি তো কি হয়েছে? নিশ্চই হবে আরও কিছু বার চেষ্টা করে দেখ,হাল ছাড়িসনা। আশা নিয়েই মানুষ বাঁচে, সেই আশার পথ না দেখিয়ে কেউ যদি নিরাশার মেঘ আনে কারোর জীবনে সেটা ঠিক কাজ নয়। এর দ্বারা বোঝা যায় সে নিজে কাজটা পারবেনা বলে অন্য কারোর দ্বারা কাজটা হোক সেটা চায় না। আর এতে তার নিজের অপারদর্শিতা প্রকাশ পায়। তাই নিজে পজিটিভ ভাবা উচিত, আর অন্যকেও পজিটিভলি মোটিভেট করা উচিত। 

আশা নিয়ে এগিয়ে চলো,ফল একদিন পাবে নিশ্চয়
অন্যকে প্রভাবিত করো সদর্থক চিন্তায়,হও দৃঢ় প্রত্যয়।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...