বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩

বইস্মৃতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বইস্মৃতি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চিলেকোঠার ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে বই খানি খুঁজে পায় মেয়েটি। ধুলোর পুরু আস্তরণ পড়ে গেছে,মলিন হলদেটে পাতা গুলো ওল্টাতে ওল্টাতে মনে পড়ে যায় অনেক কথা। বিয়ের পর থেকে তার পড়াশুনো বন্ধ। শ্বশুর বাড়ীর সবাই বলে মেয়েমানুষ পড়াশোনা করে কি রাজ্য জয় করবে? তার স্থান হেশেলে। স্বামী তাকে সমর্থন করলেও মায়ের মুখের ওপর কথা বলতে পারেনি সে কোনোদিন। 
এই বইখানি বছর খানেক আগে তার ভাইয়ের দেওয়া,প্রথম পাতায় লেখা আছে দেশের কাজে পথে নামলাম,যদি কোনোদিন আসি ফিরে, হবে আবার দেখা। ভাইকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পুলিশের চোখের আড়াল করে লুকিয়ে পালাতে সাহায্য করেছিল দিদি। সে কথা শুধু তার বাবা আর স্বামী জানে,অন্য কেউ জানে না। দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই, মেয়েটি খুলে বসে  পথের দাবী বইটি। হলদেটে হয়ে গেছে পাতাগুলো, কিন্তু লেগে রয়েছে ভাইয়ের পরশ, হাতের গন্ধ। কোথায় আছে ভাইটা কে জানে! ভাইকে নিয়ে তার যে গর্বের শেষ নেই। গুলির শব্দে ঘোর কাটে মেয়েটির, জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখে কতগুলো পুলিশ একটা ছেলেকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে, আর বলছে স্বদেশী করা ঘুচিয়ে দেবো। ভাইয়ের মুখটা মনে পড়ে মেয়েটির চোখে নামে জলের ধারা। আরো শক্ত করে বুকে চেপে ধরে বইটি, দুর থেকে কানে আসে 
"পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে এ পথ চেনা।" হাত দুখানি জড়ো করে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে জানায় ভাই যেনো ভালো থাকে, যেখানে থাকে। বইটি নিয়ে নিচে নেমে আসে, নিজের বিছানায় নীচে রাখে। আমৃত্যু এই বই তার সাথে থাকবে,থাকবেনা আর চিলেকোঠায়।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...