বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩

লক্ষ্যভেদ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

লক্ষ্যভেদ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলার পথ সুগম হবে,এটা আশা করা উচিত নয় বরং কোনো আশা না রাখাই শ্রেয়। শত বাধা বিপত্তি আসবে,সেগুলো উপেক্ষা করে এগিয়ে চলার মাঝেই রয়েছে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছনোর আনন্দ। গরম চা খেতে গিয়ে জিভ যখন পুড়ে যায়, বাকি স্বাদকোরক গুলো বরং আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে, চায় তারা বাকি চা টুকুর উষ্ণ পরশ নিতে, তখন খাওয়া কিন্তু থামিয়ে রাখা যায় না। চলার সময় পথে বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন হলে থেমে যাওয়া যায় না। এগিয়ে যেতে হয় সেই কাটার পথ ধরে, পায়ের দগদগে ক্ষতগুলোই মনে করিয়ে দেয় লড়াই করে যেতে হবে, লক্ষ্যভেদ করতে হবে। তাই তো জীবনের মূলমন্ত্র হলো চরৈবতি। কোনোভাবেই ছাড়া যাবে না হাল,বেয়ে যেতে হবে জীবনতরী  তবেই পাওয়া যাবে পাড়ে পৌঁছানোর আনন্দস্বাদ।

"দুর্গম পথ যতই ধরাক পায়ে জ্বালা,থেমে যাওয়া তো যাবেনা
লক্ষ্যে থেকে অবিচল,আস্থা রেখে নিজের ওপর জীবন করো চালনা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩

সম্পূর্না✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 সম্পূর্না
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

মেয়েদের নিজের বাড়ি বলে কি সত্যিই কিছু হয়না? এই প্রশ্ন সকলের। অনেকে নানা মত ব্যক্ত করেন। ছোটবেলায় বাবার বাড়ি, বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি, তারপর ছেলের বাড়ি এভাবেই বাড়ী বদল হয়তো হতে থাকে একটি মেয়ের জীবনে। কিন্তু কোনো বাড়ীতেই মেয়ে না থাকলে সেই বাড়ী,বাড়ী হয়ে ওঠেনা। নারী মানেই হলো শক্তির আরেক রূপ। সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে। নারী ছাড়া কি করে আর সংসার হয়? আজকাল সব মেয়ের জীবন শুধু সংসারের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়,কেউ কেউ পা রেখেছে বাইরের দুনিয়ায়,কর্মক্ষেত্রে আর বাড়ীতে দুজায়গাতেই সমান ভাবে সাবলীল ভাবে কাজ করে। তাই নারী তোর বাড়ি কোথায়? এই প্রশ্নে কাউকে বিব্রত না করে বলা উচিত নারী তুমি ছাড়া বাড়ি বলো,সংসার বলো সব অসম্পূর্ণ। আজকাল পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেও নারী ছাড়া বাড়ীতে কোথাও একটা শুন্যতা থেকেই যায়। তাই নারীর কোনো বাড়ী লাগে না,বাড়ীর বরং নারীকে দরকার বাড়ীকে সম্পূর্ণ করার জন্য। 

"কোনটা তোর বাড়ী,জিজ্ঞেস করে নারীকে কষ্ট দিও না।
নারী ছাড়া শূন্য যে বাড়ী, তাই যে সে অদ্বিতীয়া ও সম্পূর্ণা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - জীবনের পথ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - জীবনের পথ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলার পথে আসবে বাঁধা,
করতে হবে অতিক্রম
বাঁধাহীন পথে চলা সহজ, এসব শুধুই মনের ভ্রম।

আঁকাবাঁকা যে জীবনের পথ, নয় যে তা সোজা
প্রতি বাঁকে আছে চ্যালেঞ্জ, লড়তে পারলেই আসল মজা।

বুক চিতিয়ে বলো প্রতিবন্ধকতাকে ডরাই নাকো আর
লক্ষ্যে অবিচল থেকে পথের শেষ বিন্দুতে পৌঁছতে বদ্ধ পরিকর। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম-বৌ হরণ✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম-বৌ হরণ
✍️ডা: অরুণিমা দাস


আজ সেনগুপ্ত বাড়িতে মহা সমারোহ। এবাড়ির ছোট ছেলে বিজয়কৃষ্ণের আজ বিয়ে। পাশের পাড়ার শ‍্যামলীর সাথে। বাড়িতে খুব হৈচৈ। পুরনোদিনের বাড়ি। বাবা, কাকা, জেঠ‍্যা কাজের লোক সবাই মিলে প্রায় কুড়িজন মতো লোকজন এবাড়িতে বসবাস করে।ওরা নিজেরাও তো ভাইবোন অনেক। বিজয়কৃষ্ণ কলকাতায় থেকে পড়াশোনা করে । গরমের ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। মা আগেই মেয়ে দেখে রেখে দিয়েছিল। তাই ছুটিতে আসার সাথে সাথেই বিয়ে। মেয়েকে একবার দেখেনি পর্যন্ত। তখন অবশ্য এমনই হতো।


যাইহোক বিয়ে তো মিটে গেল বেশ ভালোভাবেই।  কিন্তু দুজনেই বেশ ছোট। তাই বিয়ের পরেই পাঠিয়ে দেওয়া হলো মেয়েকে বাপের বাড়িতে। বড় হবে , আর এদিকে বিজয়ের লেখাপড়া শেষ হবে , তখন মেয়ে আবার শশুর বাড়িতে আসবে। তখনকার দিনে এমন হতো। বিজয়ের ও তাই হলো ।


কিন্তু নিজের বিয়ে করা বৌকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পেলো না কলকাতায় চলে যাওয়ার সময়। বড়দের সামনে দেখা করা  যেতনা তখন।বড় লজ্জার ব‍্যাপার ছিল। এদিকে নতুন বৌ রেখে যেতেও ইচ্ছা করছে না।  কিন্তু কি আর করা । বাধ‍্য হয়ে চলে যেতে হলো। কিন্তু মন তো বসছে না কিছুতেই কলকাতায়। তাই সে প্লান করলো বৌ চুরি করবে।


কিন্তু প্ল্যান তো একা করা যায় না। বিজয় বন্ধুদের জানালো ব্যাপারটা। বন্ধুরা সবাই মিলে উপায় ভাবতে লাগলো। কেউ বললো চল কালকের ট্রেনে তোর শ্বশুর বাড়ী। গিয়ে নিয়ে আসবি বউ কে। বিজয় বললো না এরকম হয় না, চুরি মানে চুরি ই করবো। ভাবতে দে একটু। সারারাত ধরে ভেবে বিজয় প্ল্যান করলো ছদ্মবেশে যাবে শ্যামলী দের বাড়ীতে। পরদিন বিজয় ফকির সেজে আর এক বন্ধুকে মেয়ে সাজিয়ে চললো শ্বশুর বাড়ী। বিজয় শুনেছিল শ্বশুরের দয়ার শরীর, কাউকে কখনো ফেরান না। পরদিন দুপুরে হাজির হলো শ্বশুর বাড়ী। দরজা খুললো শ্যামলী নিজেই। ফকির বাবা কে দেখে প্রণাম করে বললো আসুন বাবা ভিতরে আসুন। ফকির বলে উঠলো কিরে বেটি তোর মুখ এত শুকনো কেনো? কিছু হয়েছে নাকি? শ্যামলী কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো হ্যা বাবা,আমার মনের মানুষ চলে গেছে অনেক দূরে। মন বড্ড খারাপ তার জন্য। কিন্তু আপনি কি করে জানলেন?


ফকির বললেন আমি সব জানি বেটি। বল কোথায় আছে তোর মনের মানুষ?


- সে তো শহরে আছে বাবা। অনেক দূরের পথ। আমি জানিও না কি ভাবে যাবো।


- আচ্ছা আমি আর আমার মেয়ে বেরিয়েছি তীর্থে যাবো বলে। আজ তো অনেক বেলা হলো। একটু জিরিয়ে নিয়ে কাল আবার বেরোব। তোর বাসায় একটু থাকতে দিবি?


ওদের কথার মাঝে শ্যামলীর বাবা এসে হাজির। ফকির কে দেখে প্রণাম করে বললেন কি চাই বাবা? শ্যামলী বললো ফকির বাবা আর ওনার মেয়ে আশ্রয় চান আজকের রাতটা। ওনারা তীর্থে যাবেন। শ্যামলীর বাবা বললেন হ্যাঁ কোনো অসুবিধে নেই। তুই যা তোর মাকে গিয়ে বল এনাদের খাবার ব্যবস্থা করতে। আমি সেরেস্তায় গেলাম। শ্যামলী ঘাড় নাড়লো। মাকে ডাক দিল। কাজের লোক নিয়ে এসে তাদের খাবার খেতে দিল শ্যামলীর মা। খাওয়া শেষে ফকির একটা কাগজ গুঁজে দিলো শ্যামলীর হাতে। শ্যামলী আড়ালে গিয়ে খুলে দেখলো লেখা আছে রাতে দরজা খুলে রেখো, আসবে তোমার মনের মানুষ। রাতের বেলা সকলে খাওয়া দাওয়া সেরে ফকির বাবা আর তার মেয়েকে অতিথি সদনে পাঠিয়ে ঘুমোতে গেলো। ঠিক রাত বারোটার সময় শ্যামলীর দরজায় টোকা পড়লো। দরজা ভেজানো ছিলো। দরজা খুলে দেখে ফকির বাবার মেয়ে দাড়িয়ে আছে। চট করে মেয়েটা ঘরে ঢুকে শ্যামলীকে একটা বোরখা দিলো।বললো এটা পরে নাও। নিচে বাগানে ফকির বাবা অপেক্ষা করছেন, যাও তার কাছে। শ্যামলী বললো কেনো? বেশি কথা বলো না, পরো বোরখাটা আর বেরিয়ে পড়ো। সকলের কাগজের লেখাটা মনে রেখো। আমায় বিশ্বাস করতে পারো। নিচের দারোয়ানদের ঘুম পাড়িয়ে রাখা আছে। তারা জেগে ওঠার আগে বেরোতে হবে তোমাদের। শ্যামলী বোরখা পরে বাগানে হাজির হয়। ফকির বাবা পেছন করে দাঁড়িয়ে ছিলো। শ্যামলী বললো বাবা আমায় ডেকেছেন? ফকির মুখ ঘুরিয়ে তাকালো। শ্যামলী অবাক! কোথায় ফকিরের গোঁফ দাড়ি? এযে তার মনের মানুষ। কিছু বলতে যাবে, ফকির তার মুখ চেপে বললো চলো শেষ ট্রেন টা ধরতে পারলে আমাদের আর কেউ ধরতে পারবে না। বিয়ের পর বৌ ছেড়ে থাকার থেকে বউ চুরি ঢের ভালো আর চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা। শ্যামলী আর ফকির বাবা রাতের অন্ধকারে স্টেশনের দিকে রওনা হলো, বিজয়ের মুখে হাসির রেখা, শেষ অব্দি বউ চুরিতে সাকসেসফুল হলো সে।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৩

লড়াকু✍️ ডা:অরুণিমা দাস

লড়াকু
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

স্বপ্ন থাকে প্রতিটা মানুষের চোখে। স্বপ্নের মায়াজাল বুনতে বুনতে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সকলে চায়। সফল হতে চায়,শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে। কিন্তু সেই পথ কখনো মসৃন হয় না পুরোপুরি। কখনো দুর্গম কখনো সুগম। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলে মনে মনে সংকল্প থাকে সেটা পূরণ করার। সমস্ত প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়চেতা হয় মানুষ। যে কোনো উপায়ে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর নিজের জেদ অধ্যবসায় এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে সে একদিন ঠিক নিজের জায়গা করে নিতে পারে, পূরণ করতে পারে নিজের স্বপ্ন। দরকার শুধু হাল না ছাড়ার মানসিকতা। 

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে নিজের জ্ঞানচক্ষুর হোক উন্মীলন 
অদম্য জেদ আর লক্ষ্যে অবিচল থেকে করো স্বপ্ন পূরণ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...