বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

সাহচর্য✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 সাহচর্য
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আজব এই বাস্তবের দুনিয়ায় সবাই ভান করে যে আছি পাশে, কত পাশে আছে সেটা সঠিক সময় এলেই টের পাওয়া যায় হাড়ে হাড়ে! তাই সামনে এগোতে হয় রবিগুরুকে স্মরণ করে, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,তবে একলা চলো রে! পাশে থাকলেই কেউ আপন হয়ে যায় না। বন্ধুত্বের সম্পর্ক বা সাহায্যের হাতই হোক, চট করে কেউ সেটা বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসে না। কেউ কেউ আসে পাশে থাকার অভিনয় করে নিজের ফায়দা নিতে। এরম লোক পাশে থাকার থেকে নিজের কাজ নিজে করে নেওয়ায় শ্রেয়। সাদামাটা জীবনকে কারোর সাহায্যের সহচর্য পাওয়ার আশায় জটিল করার কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না। 

"জীবন চলবে নিজের মতন, বিষাক্ত সাহচর্য নেই দরকার 
এগিয়ে চলো একলা আপন পথে,তাতেই তোমার জয় অনিবার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

উপকার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 উপকার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

পাখিটি খাবারের আশায় তাকিয়ে থাকে অশ্রুসিক্ত চোখে
চঞ্চু দুখানি বাঁধা তার,অসহায় তা উঠেছে ফুটে মুখে।

দু হাত ভরে দিচ্ছ খাবার, দেখো পাখিটি কী  পারবে আদৌ খেতে?
করুণ আর্তি নিয়ে দেখছে সে,চাইছে মুক্তি বাঁধনের আগল হতে।

চোখ কান খোলা রেখে সর্বদা করতে এসো উপকার
লোক দেখানো সাহায্যে কারো মনে দুঃখ দিওনা আবার। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ভালো থেকো বন্ধু✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 ভালো থেকো বন্ধু
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ছেড়ে আসার সময় বলে এসেছিলাম বিদায় বন্ধু,আমার ক্যারিয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি হয়েছে এখানে। তুমি চিরকাল আমার মনে অমলিন হয়ে থাকবে, আর সাথে ছয় বছরের স্মৃতি মনকে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে মাঝে মাঝেই। 
আবার কিছুদিন পরেই বিদায় জানানোর পালা আসতে চলেছে। এবারে এন আর এস মেডিকেল কলেজ কে বিদায় জানানোর পালা। কোথা দিয়ে পাঁচ টা বছর কেটে গেলো বোঝাই গেলো না। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি এই কলেজেই সিনিয়র হিসেবে প্রথম একক ভাবে দ্বায়িত্ব নিতে শিখেছি। জীবনের এটাও একটা বড় প্রাপ্তি। বুঝেছি জীবন অত সহজ নয়। এমবিবিএস লাইফ থেকে এমডি লাইফ অনেক আলাদা। এখানে সবাই কলিগ, বন্ধু কেউ নয়। তাই কলেজের মাঠ, গাছপালা, পুকুরের পাড় এরাই আমার বন্ধু ছিল। সারাদিন ক্লান্তির শেষে সবুজ গালিচা পাতা মাঠ বা শান বাঁধানো পুকুরের পাড়ে বসে মনের সব ক্ষোভ,উদ্বেগ উগড়ে দেওয়া যেতো। আর বড় ভরসা ছিল কলমের ওপর যা দিয়ে অন্তত সারাদিনের কথাগুলো লিপিবদ্ধ থাকতো খাতার পাতায়। এবার দেখা যাক নতুন জায়গা কেমন হয়? বন্ধু হতে পারে কিনা সেই জায়গা! 

"মন কেমনের মাঝে নতুন জায়গা নিয়ে জাগছে উদ্বেগ
ভালো থেকো এন আর এস,যা শিখেছি করতে যেনো পারি তার সঠিক প্রয়োগ!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

শিরোনাম - সত্ত্বা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - সত্ত্বা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


মনের গহীনে কি চলছে! তার প্রতিফলন হয় দর্পণে
প্রতিবিম্ব হোক পুরুষ বা নারী সব সত্ত্বার অবস্থান মনে।

অন্তরে পুরুষকার জাগিয়ে তোলো,লড়তে হবে বুক চিতিয়ে
কঠিন বাস্তবে তবেই সব ভয় পরিণত হবে জয়ে।

মুখই মনের আয়না - কথা খানা যে সত্য খুব
চিন্তাধারার বিকাশ হচ্ছে তাই, মনের গভীরে দিলে ডুব। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

শিরোনাম - ভ্যালেন্টাইন ডে✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ভ্যালেন্টাইন ডে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

রাস্তার ধারে বসেছে সারি সারি গোলাপের দোকান
বলছে লোকে গোলাপ দিয়ে ভালোবাসা জানান।

গোলাপ হোক,চকোলেট হোক কিম্বা হোক টেডি বিয়ার
ভালোবাসতে হলে এসব তুচ্ছ, চাই সুন্দর মন,ডিয়ার। 

মুখে লাভ ইউ না বলে করে দেখাও কাজে 
কেয়ার ফর ইউ,থাকে যেনো  মনের মাঝে। 

ভালোবাসার সঙ্গীকে আগলে রেখ,দিও যথাযথ সম্মান
প্রতিদিন হবে ভ্যালেন্টাইন, পাবে হাতে নাতে তার প্রমাণ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

জীবনের গল্প✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনের গল্প
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আজকেই ডিউটি তে আলোচনা হচ্ছিলো যে জীবনটা আজকাল কেমন হয়ে গেছে। যন্ত্রের মতো আসছি ডিউটি করছি রাউন্ড দিচ্ছি হোস্টেল ফিরছি। ছোটবেলাটা বড্ড মনে পড়ে সবার। শিশু শল্য বিশেষজ্ঞ এক দিদি বললেন চল আজ ছোটবেলার কিছু গল্প হয়ে যাক। শিশু দের নিয়েই যখন তোদের আমাদের জীবন বেষ্টিত আছে হোক কিছু শিশুসুলভ গল্প। দিদি শুরু করলেন,স্কুল থেকে পুলকারে ফিরছেন তখন রেজাল্ট বের করে মনে পড়লো জি কে তে তো উতরাতে পারেননি। অত্যন্ত নিপুণতার সাথে এফ টাকে এ করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন। আর রেজাল্ট মায়ের হাতে পড়তেই বেধড়ক মার,চোখে সর্ষেফুল দেখার মতো অবস্থা প্রায়। শুনে আরেকজন দাদাও শুরু করলেন ছোটবেলায় কুকুরের লেজে পটকা বেঁধে দিয়ে তাকে সারামাঠ ছোটানোর গল্প। আমারও এক দুটো গল্প বেরোলো। বন্ধুদের কথা শুনে বাড়ি থেকে পয়সা চুরি করে ব্যাগে জমানো আর সেটা দিয়ে আলুকাবলি,চুরমুর খাওয়া। একদিন ব্যাগ পরিষ্কার করতে গিয়ে ঝনঝন করা কয়েনের শব্দ শুনে সেই শব্দ গুলো তারপর পিঠে পড়েছিল। ম্যাথে ২৯ পেয়ে বাড়ীতে ৪০ বলা, তারপর মার্কশিট আসতেই আসল খেলা শুরু। জুতো,স্কেল,ঝাড়ু কিছুই বাদ যায়নি, সবগুলোর মার খেয়েছি। আরে দেখ গল্প করতে করতে ওটি শেষ হয়ে এলো রে, ব্লাড ও চালিয়ে দিয়েছি দিদি। এবার বাচ্চাকে রিভার্স করানোর পালা। এরকম গল্প মাঝে মাঝেই হলে মন্দ হয় না বল? দিদি বলল। আমরাও বললাম একদম, তবেই না এই স্মৃতিভরা মেঠোপথে দু একবার চক্কর মেরে আসার সুযোগ হবে। ছোটবেলায় মনে হতো বড়ো কবে হবো? আর এখন বড় হয়ে মনে হয় ছোটবেলা কি আবার ফিরে পাবো?

"জীবন চলছে নিজের মতো করে,ছোটবেলা ফিরে পেতে খুব ইচ্ছে করে আজকাল
স্ট্রেসফুল বড়বেলাটা বুঝিয়ে দিচ্ছে কঠিন বাঁধনে বাঁধতে হবে জীবনের সুর লয় তাল।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

শিরোনাম-জাহির✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-জাহির
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

দুঃস্থ মানুষকে সাহায্য করছো! করো নিজের মতো করে 
সেলফি তোলার নেই দরকার,
কোনকিছুই নয়  তাঁর দৃষ্টির বাইরে। 

লাভ কি আছে কিছু সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে জাহির করার?
মহৎ কাজ হোক গোপনে, আশা রেখোনা সুনাম কুড়াবার।

ফলের জন্য কখনো না ভেবে করে চলো আপনার কর্ম
সামাজিক মাধ্যমে প্রদর্শন না করে সৎ পথে পালন করো মানব ধর্ম।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম_তবু মনে রেখোকলমে_ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম_তবু মনে রেখো
কলমে_ডা: অরুণিমা দাস

বেশ অনেকদিন পর একটা বইমেলা শুরু হচ্ছে নীলু দের ছোট্ট শহরে। শহর বললেও ভুল হবে, আধা শহর আর আধা গ্রাম আর কি। তো এরকম জায়গায় মেলা খুব একটা হয় না, কিন্তু হলে সেখানে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। সে বই পড়ার জন্যই হোক বা খাওয়ার জন্যই হোক। নীলু শুনে ঠিক করলো মেলা যাবেই যেমন করে হোক,তাই পছন্দের বই সব লিস্টে রাখতে শুরু করলো। বন্ধু সোহমের সাথে প্ল্যান করলো যে কবে কখন যাবে এসব। বাড়িতে যখন জানালো মা বাবা বললেন যাও বন্ধুর সাথে ঘুরে এসো কিন্তু বেশি রাত কোরো না। প্ল্যান মত নীলু আর সোহম বেরিয়ে পড়লো মেলার উদ্দেশ্যে। প্রথমে বাস আর তারপর অটো করে পৌঁছলো মেলা প্রাঙ্গণে। বেশ ভালোই সাজিয়েছে মেলাটা, অনেক গুলো বইয়ের স্টল আর সাথে কিছু লিটল ম্যাগাজিনের স্টলও রয়েছে। সোহম হঠাৎ বলে উঠলো তিয়াস যদি থাকতো আজ খুব মজা করতো ও এখানে। নীলু শুনে বললো ওসব ভেবে কি করবি বল তো! ওর মায়াভরা চোখ টা মনে পড়লেই চোখের পাতা ভিজে আসে, মন ভার হয় রে খুব। লিখত তো বেশ ভালোই, কিন্তু কেউ যথার্থ মূল্যায়ন করলো না ওর লেখার। সেই অভিমানেই হয়তো চলে গেলো ও। এসব কথা বলতে বলতেই ওরা হাজির হলো একটা বইয়ের স্টলে। নিজের লিস্ট করা বইয়ের থেকে দুটো বই পেয়ে গেলো ওখানে নীলু। বই গুলো কিনে নিলো আর সোহম কে বললো আজ কিন্তু আমরা সব ম্যাগাজিনের দোকান গুলোতে যাবো। ওখানে শুনেছি নবীনদের লেখাকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়। সোহম বললো হ্যাঁ যাবো তো নিশ্চয়ই রে। তিয়াস থাকলে ওর লেখাও আজ ছাপা হতো, আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিওর রে এই ব্যাপারে। নীলু বললো আমিও কনফিডেন্ট এই ব্যাপারে কিন্তু পাগল টা আর বুঝলো কই! আমাদের কে ছেড়ে চলেই তো গেলো। সোহম বললো আর ওর কথা মনে করিস না রে, কষ্ট বাড়বে বই কমবে না। ওর ডাইরি টাও যদি পেতাম রে খুব ভালো হতো। কিছু লেখা ছাপানো যেতো। কী বলিস রে নীলু? নীলু ঘাড় নাড়লো। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো ছাড় ভাই, এসব ভেবে লাভ নেই কিছু। সময় যা নিয়ে গেছে সেসব চাইলেও ফিরে পাওয়া যায় না রে। চল আমরা মেলা ঘুরে দেখি আর কোথায় কি বই এসেছে! হ্যাঁ চল, সোহম বললো।

খানিক এগোনোর পর একটা ম্যাগাজিন স্টল চোখে পড়লো ওদের। স্টলের নামটা বেশ অন্যরকম।
"অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি"। দোকানে গিয়ে ওরা দুজন বিভিন্ন রকম ম্যাগাজিন ঘাটতে লাগলো। দোকানের একজন এগিয়ে এসে বললো দু একটা লেখা পড়ে দেখতে পারেন কিন্তু। নীলু বললো এরকম নাম কেনো আপনাদের স্টলের?? উনি বললেন দেখুন অনেকেই আছেন যারা লেখেন ভালো, কিন্তু কদর পায় না তাদের লেখা। আমাদের টিম সেই সব লেখা সন্ধান করে আনে আর আমরা সেই লেখা গুলোকে প্রকাশ করে রূপ দিয়ে থাকি। নীলু বললো বাহ বেশ ভালো উদ্যোগ তো। "যদি সময় মত খোঁজ পেতাম আপনাদের! তাহলে হয় তো"... বিড়বিড় করলো নীলু।  কিছু বলছেন? দোকানদার বললো। না না কিছু না, কিছু বলিনি। ও আচ্ছা, তাহলে দেখুন লেখা গুলো। খুব মন দিয়ে ম্যাগাজিনের লেখা গুলো দেখছিলো নীলু আর সোহম।

নীলু...অ্যাই নীলু!! কেউ যেনো ডাকলো মনে হলো, নীলু একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো পেছনে। কোই কেউ তো নেই! সোহম বললো কি রে? কী হলো? নীলু বললো কেউ যেনো আমার নাম ধরে ডাকলো। সোহম বললো কই কেউ নেই তো রে! তুই ভুল শুনেছিস হয়তো! হ্যাঁ রে, হতে পারে আমি ভুল শুনেছি। দেখ এই লেখাটা দেখ, একদম অন্য স্বাদের লেখা, সোহম বললো। কই কি লেখা দেখি! নীলু বললো। সোহমের হাত থেকে নিয়ে দেখলো লেখাটা। লেখা রয়েছে "মন খারাপের সময়ে লেখা যদি আসে ভেতর থেকে, বুঝবে তুমি সব দুঃখ জয় করে নিতে সক্ষম"। নীলু বললো এটা নিশ্চয় কোনো লেখকের লেখা প্রকাশ পাওয়ার অপেক্ষার জন্য লেখা। সোহম বললো হতেই পারে। নীলু আবার কিছুক্ষন পর একটা ডাক শুনতে পেলো, কানের কাছে কেউ ফিসফিস করে যেনো বললো অ্যাই নীলু... যা না আরেকটু ভেতরের দিকে,  দেখ ঐ তাকে সবুজ যে বইটা ওর বারো নম্বর পেজে যা, দেখ লেখাটা পড়ে। নীলু সম্মোহিতের মত এগিয়ে গেলো সবুজ মলাটে বাঁধানো বইটা নিতে। বই খুলে বারো নম্বর পেজে চলে গেলো সোজা, দেখলো উপরে লেখা অধরা স্বপ্ন,নিচে লেখকের নাম তিয়াস। নীলু চমকে উঠলো,ডাকলো সোহম কে। সোহম ছুটে গেল নীলুর ডাকে। নীলু ওর দিকে বাড়িয়ে দিল লেখাটা। সোহম পুরোটা পড়লো, শেষ দুটো লাইন খুব মন ছোঁয়া, "অধরা স্বপ্নেরা দিচ্ছিল ধরা, আশায় ছিলাম লেখক হব কিন্তু ছোঁয়ার আগেই স্বপ্নগুলো,উপহাসের পাত্র হলাম। দুনিয়া থেকে তাই ছুটি নিলাম"। সোহম পড়ে বললো এটা তো আমাদের তিয়াসের লেখা। চল তো বিক্রেতা কে জিজ্ঞেস করি এই লেখা কোথায় পেলেন উনি? দুজনের প্রশ্নের উত্তরে বিক্রেতা জানালেন একজন ভদ্রলোকের সাথে ওনার ট্রেনে দেখা হয়েছিল, উনি কথায় কথায় জানতে পারেন যে আমরা লেখা সংগ্রহ করে ম্যাগাজিনে প্রকাশ করি। তাই উনি পরে আমার সাথে কন্টাক্ট করে একটা ছোট ডায়েরী তুলে দেন। আর বলেছিলেন ছেলে বেঁচে থাকতে তো তার লেখা পড়েও দেখিনি, সবসময় দুর ছাই করেছি। হয়তো সেই দুঃখেই সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলো। ওর যাওয়ার পর যখন লেখা গুলো পড়লাম তখন বুঝতে পারলাম কি বড়ো ভুল করেছি? শুধু পড়াশোনা করেই যে বড়ো হওয়া যায় না, আরো অন্য ভাবেও যে নাম করা যায় সেটা যখন বুঝলাম অনেক দেরি হয়ে গেছে। নীলু সব শুনে বললো উনি তাহলে তিয়াসের বাবা হবেন।

আরে এই তো উনি এসে গেছেন দেখুন, বিক্রেতা ভদ্রলোক বললেন। নীলু আর সোহম পেছন ফিরে দেখলো ধুতি পাঞ্জাবি পরা এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে। ওদের দেখে বললেন খুব চেনা লাগছে তোমাদের। নীলু আর সোহম নিজের পরিচয় দিল, জানালো তিয়াসের সাথে এক ক্লাসে পড়তো। এখন ওরা ক্লাস টুয়েলভ পাস করে কলেজে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছে। তিয়াস বেঁচে থাকলে আজ তোমাদের মত... আর শেষ করতে পারলেন না কথা গুলো, ঝর ঝর করে কেঁদে ফেললেন তিয়াসের বাবা। নীলু বললো এখন অনেকটা দেরী হয়ে গেছে কাকু, আগে যদি বুঝতেন এতো বড়ো ক্ষতি হতো না আর আমরা তিয়াস কে হারাতামও না। ও সত্যি খুব ভালো লিখত। অনেক কিছু দিতে পারতো লেখক সমাজকে,কিন্তু সেটা হতে দেওয়া হলো না। তিয়াসের বাবা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
ওই সবুজ মলাটে বাঁধানো বইটা কিনলো নীলু। এতে যে ওর বন্ধু তিয়াসের ছোঁয়া রয়েছে। বইটা নিয়ে নীলু আর সোহম বেরিয়ে পড়লো দোকান থেকে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে একটা বেঞ্চ দেখে ওখানে বসলো দুজন। সোহম বললো একটু জিরিয়ে নিই এখানে। অনেকটা হেঁটেছি রে। নীলুর হাতে ধরা সবুজ বইটা। হঠাৎ একটা পাতা উড়ে এসে পড়ল। বাতাস নেই তো সেরকম, পাতা এলো কোথা থেকে? সোহম বললো। দাঁড়া দেখছি, বলে নীলু পাতাটা তুলে ফেলতে যাবে এমন সময় পাতার ওপর একটা লেখা পড়লো ওর চোখে," আছি তোদের পাশে সবসময়, আমার লেখাকে যে তোরা দিয়েছিস সম্মান, ঋণী আমি তোদের কাছে চিরকাল" নিচে লেখা তিয়াস। সোহমকে লেখাটা দেখালো নীলু। সোহম পড়ে বললো কেনো যে চলে গেলো পাগলটা আমাদের ছেড়ে?? লোকের কথায় কেউ নিজের জীবন শেষ করে? নীলু বললো একটু যদি বাড়ির লোক ওকে বুঝতো, অকালে ওকে ঝরে যেতে হতো না রে। একটা দমকা হাওয়া বয়ে গেলো নীলু কে ছুঁয়ে, কানে যেনো কেউ বলে গেলো "মৃত্যুর পরে যে পেলো আমার লেখা স্বীকৃতি, এতেই খুশি আমি, আত্মার যে নেই কোনো ইতি" খুব ভালো থাকিস তোরা, আসি এখন আমি। নীলু যা শুনলো বললো সোহম কে। সোহম বললো কিছু ঘটনা সত্যিই আমাদের ব্যাখ্যার বাইরে। তিয়াস আজও আমাদের মধ্যেই আছে, বইমেলায় সশরীরে থাকতে না পারলেও ওর কায়াহীন ছায়া এসে দেখা করে গেলো আমাদের সাথে। যেখানেই থাক ও খুব ভালো থাকুক। চল বাকি মেলাটা ঘুরে নিই। হাঁটা লাগলো ওরা দুজন। নীলু বললো এই বইমেলা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি হয়ে থাকবে রে। চল এগোই।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

কো ইনসিডেন্স✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 কো ইনসিডেন্স
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

যখন কোনো ঘটনা সমসাময়িক ভাবে সংঘটিত হয় অন্য কোনো ঘটনার সরাসরি ফলাফল হিসেবে, আমরা সেটাকে 'কজ অ্যান্ড এফেক্ট'নাম দিই। যদি কোনো কাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অন্য কোনো ঘটনা সংঘটিত হয়,সেটাকে আমরা বলি "রিঅ্যাকশন" আর যদি আমাদের কাছে মনে হয়, কোনোরকম সম্পর্ক নেই দুটো ঘটনার,তবু মিলে গেছে অনেকটাই,আমরা সেটিকে নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দিই।
সবটা হয়তো কাকতালীয় নয়, আমাদের চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে। বা যা ঘটবে তার কিছুটা হয়তো আগে থেকে আঁচ করা যায়। জ্যোতিষ শাস্ত্রে একটা কথা শুনেছি গুরুসৌরী যোগ,এতে নাকি আগে থেকে বোঝা যায় ভবিষ্যতে কি ঘটবে! জানিনা কোন যোগ না দূরদর্শিতা তবে কিছু ক্ষেত্রে মনের ভাবনা মিলে যায়। ডিউটিতে যাওয়ার আগে যদি ভেবে যাই আজকের দিনটা ঠিক যাবে না, কিছুনা কিছু ঘটেই। আবার যেদিন ভাবি ঠিকঠাক যাবে,চলেও যায় ঠিক ভাবেই। এভাবেই হয়তো মনের কথাগুলো মিলে যায়। হয়তো যা ভাবছি সেই জিনিস ঘটানোর জন্য বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সদা সচেষ্ট থাকে। সেই হিসেবে মনে সর্বদা পজিটিভ চিন্তা রাখা দরকার যাতে প্রতিফলনের দরুন ভালো কিছুই ঘটে। 

"পজিটিভ কিছু চিন্তা চলুক সবার চিন্তাশীল মনে 
তবেই তো ঘটবে ভালো ঘটনা তারই প্রতিফলনে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

আবরণ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 আবরণ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আসলে সেটুকু দেখি আমরা,যেটুকু দেখতে চাই
পুরো বিষয় খতিয়ে দেখতে যাওয়ার সময়টুকু কই!

গভীর জলের মাছ,নিজেকে তিমি হিসেবে করে প্রদর্শন
আইসবার্গ ধারণার ভিত্তিতে গলে যায় সকলের মন।

দূরদর্শিতা থাকলে দুর্নীতি কিছুটা হলেও যায় এড়ানো
সমাজকে কলুষ মুক্ত করে উন্নতির পথে যাবে এগোনো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সরস্বতী বন্দনা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 সরস্বতী বন্দনা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ধরাধামে যাওয়ার জন্য রেডী হয়ে গিয়েছেন মা সরস্বতী ও তাঁর প্রিয় হাসা। লাগেজ চেকিং চলছে, দেবী দুর্গা সব গুছিয়ে দিচ্ছেন মেয়েকে। ওদিকে সরস্বতীর ফোনে ব্রহ্মা কলিং,ফোন ধরতেই তাড়া দিলেন ব্রহ্মা। হাসার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে সরস্বতী বললো হয়ে এসেছে প্রায়,ক্যাবটা ডেকে দিন। ক্যাব নম্বর থেকে ওটিপি সব এসে গেলো দেবীর ফোনে। ক্যাবে উঠে হাসার কত গল্প। জানলা দিয়ে বাইরেটা দেখতে দেখতে যাচ্ছে হাসা আর নানা প্রশ্ন করছে সরস্বতীকে। হাসা বলছে দুদিন পূজো এবারে তাই দু রকম পাঞ্জাবী নিয়েছে। শুনেই দেবী বলছেন আজকাল খুব স্টাইল বেড়েছে তোর হাসা! শুনে মুখ ফুলিয়ে হাসা বললো অমনি আমার দিকে নজর তোমার? এই দেখো খাতাটা, কতো দাবি ছাত্র ছাত্রীদের, নিজেরা দুদিন ঘুরবে বলে বইপত্র তোমার জিম্মায় রেখে দিয়ে লিখেছে "দেখো আমায় পরীক্ষায়।" 
আর কত দেখবো বল? পড়াশোনার যা হাল আজকাল সবাই তো বইপত্র বাদ দিয়ে অন্যদিকে মন দিয়েছে। 
প্যান্ডেলে ঢুকতেই, 
ঐ দেখো মা মেয়েটা অঙ্ক বইটা রাখছে তোমার পাশে। দেখেছি হাসা,কেনো রেখেছে বল তো? দুদিন বইটা আমার কাছে রাখলে ওকে দুদিন অঙ্ক করতে হবেনা। তবেই না বাইকের পেছনে চেপে চুল উড়িয়ে ঘুরবেন উনি। তারপর পরীক্ষার আগে মেসেজে আসবে এই যাত্রা উতরে দাও দেবী! পরের বার ঠিক পড়ব। এই পরের বার যে কবে আসবে সেটা আমিও জানিনা বুঝলি! 
চল এসব বাদ দিয়ে আলপনা দেখি,প্যান্ডেলের ডেকোরেশন গুলো দেখি। এতো প্রসাদ দেখেছ মা? এই তুই খাই খাই করবি না হাসা! দুদিন থাকতে হবে তারপর পেট খারাপ করলে হবে না। এখন কিসব পেটের অসুখ হচ্ছে শুনছি। আগে মোবাইল চিপে জিবি শুনেছি,এখন দেখছি রোগের নামও সেই দিয়ে। তাই খাই খাই করিসনা। দেখে শুনে খেয়ে ভালো করে ফিরতে হবে। আমরা বরং দেখি কেউ কিছু গল্প বই দিলো কিনা! সেগুলো পড়লে বরং রাত্রিটা বোরিং লাগবেনা,ঠিক সময় কেটে যাবে। আরে কেউ ওসব গল্পের বই পড়েনা আজকাল,সব গল্প শোনে অডিও চ্যানেলে। বরং ওদের কান ধরে বলো কয়েকটা মোবাইল দিয়ে যেতে, সিরিজ দেখে সময় কেটে যাবে। আরে হাসা,ফোন দিলে আর সেলফি গ্রুপফি উঠবে কি করে? ছাড় আমরা বরং রাত্রে একটা লোকাল ট্যুর করে নেবো। এই দেখ কিসব শিল্পমেলা হচ্ছে, ওতে ঘুরে টুকিটাকি জিনিস কিনে নিয়ে গেলে ভাইবোনেরা খুশি হবে। আর রইলো বাকি পড়াশোনা! সে ওদের আমি আশীর্বাদ সব সময় করবো। বাকীটা ওদের চেষ্টা আর অধ্যবসায়ের ওপর নির্ভর করছে। হ্যা তা ঠিক বলেছো। পুজো শুরু হলো বলে, চল চুপ করে বসবি। বাণী বন্দনা শুরু হলো বলে, সকলকে সরস্বতী পুজোর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...