বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - প্ল্যান অফ পুজো✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - প্ল্যান অফ পুজো
✍️ডা: অরুণিমা দাস

অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে লো টোনে মিউজিক প্লেয়ার চালিয়ে দিলো বিশাল। একটু পরেই কাজ নিয়ে বসতে হবে ল্যাপটপে। এবারের টার্গেট কমপ্লিট না করতে পারলে পুজোতে ছুটি দেবেননা বস বলেই দিয়েছেন। তাই একটু স্ট্রেসেই আছে বিশাল। এক কাপ কফি নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসলো বিশাল। কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলটা বেজে উঠলো। বসের ফোন ভেবে তাড়াতাড়ি রিসিভ করতে গিয়ে দেখে স্ক্রীনে ভাসছে অঙ্কুরের নাম! ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো করে বিশু কি খবর তোর?এখন তো তোর পাত্তা পাওয়াই মুশকিল।
- আর পাত্তা? বস যা টার্গেট দিয়েছে খুব চাপে আছি রে! কমপ্লিট করতে না পারলে পুজোতে নো ছুটি। সেই জন্য ঘাড় গুঁজে ল্যাপটপের সামনে বসে আছি সারাদিন। তোর খবর বল অঙ্কু।
- আমার আবার কি খবর? তোর তো ওয়ার্ক ফ্রম হোম আর আমার ওয়ার্ক আউট অফ হোম। পুজোতেও ডিউটি বাড়বে,আমি জুনিয়র মোস্ট বলে পুজোর চারদিনে দুদিন তো ডিউটি দেবেই। আর তখন পেশেন্ট লোড ও বাড়বে,কি যে করবো জানিনা!
- কি আর করবি? পেশেন্ট দেখবি অফলাইনে আর অনলাইনে দেখবি ঠাকুর।
অঙ্কুর হেসে ফেললো। তারপর বললো,
- ছাড় তো এসব! পুজো প্ল্যান কিছু করেছিস?
বিশাল - প্ল্যান? ধুর ওসব করে কি করবো বল তো? বস ছাড়বে কিনা তার ঠিক নেই।
অঙ্কুর - এক কাজ করি চল,আমরা বরং এবারে একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। একটু অন্যরকম হবে। বেশ নাটক,নাচ গান,আবৃত্তি আর খাওয়াদাওয়া থাকবে। কোথাও যখন সেরকম বেরোতে পারবনা তখন বাড়ীতেই কিছু হোক।
বিশাল - আইডিয়াটা মন্দ নয় বুঝলি! আমার বাড়ির বৈঠক খানাতে একটা ছোট্ট আয়োজন হতেই পারে। ডিউটি শেষ করে রাতের বেলা না হয় আয়োজন হবে।
অঙ্কুর - ছোটবেলাতে পুজোর আগে যেমন কদিন স্কুলে প্রোগ্রাম হতো সেটা মাথায় রেখেই কিছু ভাবি বুঝলি!
বিশাল - হ্যা ভাব সেরকম কিছুই। আর হয়তো ম্যাক্স ১০ মিনিট আমি কথা বলতে পারবো। তারপর আবার ল্যাপটপে বসতে হবে।
অঙ্কুর - একটা ভালো নাটক ভেবেছি,'চোখে আঙুল দাদা!' আমাদের স্কুলের গ্রুপে দিয়ে দেবো। আরো কিছুক্ষন নিশ্চয়ই রাজী হবে। বেশ একটা মজার পরিবেশ তৈরি হবে।
বিশাল - হ্যা তাই কর। আর যারা নাটকে অভিনয় করবেনা তারা গান বা আবৃত্তি করতে পারবে। পুজোতে বেরোতে না পারলেও মনমরা হয়ে থাকবোনা কেউ।
অঙ্কুর - ঠিক বলেছিস। ওই জন্য এখন থেকে প্ল্যান করা শুরু করলাম। আর পুজোতে ট্রিপ যেটা আমরা প্ল্যান করেছিলাম আগে ওটা না হয় পুজোর পরে টার্গেট ফুলফিল হলে ডিসেম্বরে করা যাবে।
বিশাল - এখন যা মার্কেট,আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর যুগে সবাই রিপ্লেসেবল। তাই বসের দেওয়া টার্গেট যেমন করেই হোক কমপ্লিট করে আমায় দুটো দিন পুজোতে ম্যানেজ করতে হবে। সাথে নাটকের জন্য রিহার্সালও আছে।
অঙ্কুর - হ্যা ওই শনি বা রবিবার করে রিহার্সাল করতে হবে। আর তো সময় পাবোনা অন্যদিন গুলো। তাও আমার রোববার রোটেশন ডিউটি পড়ে গেলে মুশকিল।
বিশাল - দেখ যেটুকু বুঝলাম ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর গেট টুগেদার ওটাই পুজোতে আমাদের আসল প্ল্যান। এর মধ্যে দিয়েই আমরা নিজেদের খুশী রাখবো। মা দুর্গা আসছেন বলে কথা! মন খারাপের কোনো অবকাশ নেই। প্যান্ডেল হপিং করতে না পারলেও অনলাইন শপিং আর টিভিতে ঠাকুর দেখতে কোনো বাধা তো নেই।
অঙ্কুর - একদম। বাড়ী বসে ঠাকুর দেখার মধ্যেও আনন্দ আছে। আশীর্বাদ নিশ্চই কম কিছু পাবোনা এতে। আর রোগী সেবা মানেই ঈশ্বর সেবা।
বিশাল - যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু সরে গিয়ে যেটুকু আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবো সেটাই অনেক। এই বছর টার্গেট ফিল করে কে বলতে পারে পরের বছর হয়তো চারদিনই ছুটি পেলাম।
কাজের মধ্যে দিয়েই নয় এই বছর ঈশ্বর কৃপা লাভ করবো।
অঙ্কুর - নে তোর দশ মিনিট প্রায় শেষ হয়ে এলো। মন দিয়ে কাজ কর। ইনিশিয়াল প্ল্যান তো হলো, বাকিটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আপডেট হবে সময় মতন।
বিশাল - হ্যা,এখন ফোনটা রাখি। কাজ নিয়ে বসি। দেখি কতদূর এগোতে পারি। ভালো থাকিস। তোর সাথে কথা বলে মনটা ভালো হয়ে গেলো। একরাশ ভালোলাগা জন্ম নিলো। আশা রাখি প্ল্যানমাফিক অনুষ্ঠানটা ভালোই হবে।
অঙ্কুর - চল বাই,পরে আবার কথা হবে।

কর্মব্যস্ততা আর চাপের মাঝেও দুই বন্ধু যে প্ল্যান করলো পুজোর জন্য সেটা যেনো সাকসেসফুল হয় তার জন্য শুভকামনা রইলো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সূচনা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সূচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কাল সারারাত ডিউটি করার পর,সকালে ভাবলাম একটু মহালয়া শুনবো। কিন্তু ঘুমের জন্য শোনা হলো না। ২-৩ ঘন্টা ঘুমের পর সকালে আবার একটা কেস উঠলো। ওটিতে স্যার মহালয়ার গান চালিয়েছিলেন। বেশ একটা অন্যরকম অনুভূতি। তার মধ্যেই একটা সিজার হলো। স্যার হেসে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে? দুর্গা না মহিষাসুর? হেসে বললাম দুর্গা,কিন্তু!
-কিন্তু কি রে?
- স্যার বাচ্চাটার ক্লেফট লিপ আর প্যালেট আছে। সত্যিই দুর্গা,ওকে এরপর কতগুলো অপারেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে কাটা তালু আর কাটা ঠোঁট ঠিক করতে। তবুও পূণ্য লগ্নে জন্মেছে মেয়েটা! সবাই বলছে ঠিক লড়বে কিন্তু ওর মায়ের মন খারাপ কারণ প্রথম সন্তান মেয়ে আবার দ্বিতীয় সন্তানও মেয়ে তাও আবার একটু ত্রুটিপূর্ণ। বোঝানো হলো ছেলে মেয়ে সবাই সমান মন খারাপ কোরোনা তাও এরকম দিনে। বাচ্চাটাকে নবজাতক বিভাগে পাঠিয়ে ওটি শেষে সবাই ফিরলাম যে যার মতো,বুঝলাম  দেবীপক্ষের সূচনা বোধহয় এভাবেও হয়। ভালো থাকুক বাচ্চাটা,বড়ো হোক নিজের জীবনীশক্তি দিয়ে লড়াই করে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

 

বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - বসু কথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - বসু কথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রাজনারায়ণ বসু সম্পর্কে লিখতে গেলে ওনার একটা কথা খুব মনে পড়ে। ওনার অনেক উক্তির মধ্যে একটি ছিলো 'আমার মতে ছাত্রদের নীতিশিক্ষা না হলে কোনো শিক্ষাই হলোনা।' ছাএদরদী এই মহামানব উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বড়াল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতায় এক স্কুলে পড়াশোনা করার পর শিক্ষকতা শুরু করেন। কিছুসময় মেদিনীপুরে কলিজিয়েট স্কুলে হেডমাস্টার পদে আসীন ছিলেন। মেদিনীপুরে তিনি নারীশিক্ষার প্রচলন করেন। মেদিনীপুরে একটি লাইব্রেরীও চালু করেছিলেন যা আজ ঋষি রাজনারায়ণ বসু স্মৃতি পাঠাগার নামে পরিচিত। ব্রাহ্মধর্ম প্রচারে সর্বাগ্রে ছিলেন তিনি। তিনি যেমন ঋষি অরবিন্দের মাতামহ ছিলেন তেমনি ব্রাহ্মধর্ম সমর্থনের কারণে তাঁকে 'ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পিতামহ' উপাধি দেওয়া হয়। 'তত্ত্ববোধীনি' পত্রিকায় নিয়মিত লেখালিখি করতেন। দীর্ঘসময় শিক্ষকতা করার পর তিনি অবসর নেন এবং জীবনের বাকি দিনগুলো তিনি দেওঘরে কাটিয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান আর অসামান্য গুণের জন্য মানব হৃদয়ে ও ইতিহাসের পাতায় আজও তিনি অমলিন। 

"পুঁথিগত শিক্ষার চেয়েও নৈতিক শিক্ষা ছাত্রদের খুব প্রয়োজন
যাঁর এই চিন্তাধারা তাঁকে নিয়েই আজ 'বসু কথা' করি নিবেদন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - স্ট্র্যাটেজি✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - স্ট্র্যাটেজি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ও বিশুদা কি করছো গো? তৈরি হবেনা? আজ যেতে হবে তো। হাতিবাবু এসে জিজ্ঞেস করলো। এই জিনিসপত্র গুলো গোছালাম। ভালো কিছু ইয়ার প্যাড নিলাম বুঝলি হাতিশ্বর। আমার ভক্ত দের ওই সিসে কি উম্র আর সাত সমুন্দর শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। সাথে কিছু এক্সট্রা হাতুড়ি নিলাম বুঝলি। হাতুড়ি কেনো গো? হাতিবাবু একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো। আর কেনো? তোকে মারবোনা চাপ নিসনা। যখনি ওই প্যান্ডেলে বাবুরা আকন্ঠ সুরাপান করে উদ্দাম নৃত্য করতে করতে বিশ্বকর্মা মাইকি জয় বলবে তখনি একটা হাতুড়ি দিয়ে ঠোক্কর দেবো মাথায়। বাবুরা ওসব খেয়ে নাচবেন আবার পরে গাড়ি চালিয়ে এক্সিডেন্ট করবেন আর ভিড় জমাবেন হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে,অভব্য আচরণ করবেন সেটি হতে দেবোনা। যারা ডিউটি করে ওখানে,কোনোদিন মুখ ফুটে কিছু বলেনা। কিন্তু সারারাত এই মাতাল গুলোর বাঁদরামি সহ্য করতে করতে কাহিল হয়ে পড়ে। এই স্টিচ করছে তো এই ইনজেকশন দিতে হচ্ছে। তারাও তো মানুষ। আর যা সম্মান তাদের দেওয়া হয় সবই তো দেখছিস হাতিশ্বর। আর কি বলবো তোকে নতুন করে?
কিন্তু তা বলে তোমার পুজোতে ওরা একটু হাসি মজা করবেনা বিশুদা? 
-কেনো করবেনা? নিশ্চয়ই করবে। এই জন্যই তোর মাথায় মোটা বুদ্ধি। মজা আনন্দ সব করবে কিন্তু সেটা আনলিমিটেড নয়,আর পাগলামি করে নয়। যাতে সবার ক্ষতি না হয় সেরকম ভাবে আনন্দ উল্লাস করবে। 
- ওহ বুঝলাম। 
- কত রকম আনন্দ আছে। ঘুড়ি ওড়াবে, মিষ্টি খাবে,খিচুড়ি খাবে। গান করবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে। এতে তো কারোর ক্ষতি হচ্ছে না। 
ওই উঁচু ডেসিবেল এর গান আর গলা ভর্তি পান করে বাইক চেপে,হাতির পিঠে চেপেছি ভাবা এসব বন্ধ করতে হবে। নয়তো হাতুড়ির ঘা খেতে হবে। প্রতিবার ওদের গানের ঠেলায় কান প্রাণ সব যা অত্যাচার সহ্য করে সেটা এইবার মানবোনা। অনেক হয়েছে। চল এবার। নে তোর সানগ্লাস। রোদে ঘুরবি চোখ খারাপ যাতে না হয় তাই দিলাম। সত্যি বিশুদা,কত ভালো তুমি। আমার কথা কত ভাবো। আমি সবার কথাই ভাবি তাই দেখছিস না কত পন্থা অবলম্বন করেছি এবার। নাও নাও ওঠো আমার পিঠে। তাড়াতাড়ি বেরোই, অনেকটাই যেতে হবে। হ্যা চল,ভালো ভাবে ঘুরে আসি। 
আসছেন ওনারা, আপনারা সবাই তৈরি তো? জয় বিশ্বকর্মা দেবের জয়। সকলের মঙ্গল হোক। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে ডায়েরী লেখা অভ্যেস রিনির। ডিনার করে ডায়েরী টা খুলে বসলো ও। পাতা গুলো উল্টোতে গিয়ে একটা পাতায় গিয়ে চোখ আটকে গেলো ওর। ওর কলেজ জীবনের কিছু কথা নিয়ে লেখা ছিল।
পড়তে শুরু করলো ও। লেখা রয়েছে,
আশা করি তোমরা সকলে ভালো আছো। একসময় আমাদের চার জনের একটা দল ছিল। কলেজে পড়তে এসে তোমাদেরকে পেয়ে নিজেকে খুব লাকি ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম তিনটে বছর খুব আনন্দে কাটবে। কিন্তু মাস তিনেক পর বুঝতে পারলাম ভাবনা সব ভুল ছিল। তোমাদের ব্যবহারে নিজেকে খুব এলোমেলো লাগছিলো। তোমাদের মতো অতটা আধুনিক হতে পারিনি, না পোশাকে, না খাওয়াদাওয়া আর পানে। একটু একটু করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। কোথাও খেতে বা ঘুরতে গেলে আমাকে আলাদা করে দিয়ে অনুভব করাতে বাধ্য করলে যে আমি ভিন্ন। বুঝতে পেরেছিলাম, আসতে আসতে সরে এলাম। কলমকে নিজের বন্ধু করলাম। দু একটা লেখা যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতাম, হাসতে তোমরা। উল্টোপাল্টা মন্তব্যও করতে। কিন্তু দমে যাইনি আমি। হয়তো খুব ভালো লিখি না কিন্তু কলমকে বন্ধু করে খুব শান্তিতে আছি। আজও তোমাদের সাথে দেখা হলে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি। এটা আমার মা বাবার শেখানো আর আমি এটাকে ভদ্রতা বলে মনে করি । আজ তোমরা আমায় না ডাকলেও আর দুঃখ হয়না। নিজের জগতে আমি বেশ ভালো আছি। তোমাদের নেগেটিভ কথা আমার মধ্যে অনেক পজিটিভিটির সঞ্চার করেছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ তোমাদের কাছে। তোমরা তোমাদের মত করে ভালো থেকো ত্রয়ী। ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
পুরোটা পড়ার পর চোখের কোলটা ভিজে এলো ওর। সত্যি এখন অনেক বেশী ভালো আছে ও। নিত্য দিনের অসম্মান হজম করার চেয়ে কলমের সাথে বন্ধুত্ব করে খুব শান্তিতে আছে ও। চিৎকার গুলো কলম দিয়ে বেরিয়ে যায় সহজেই। কষ্ট সব ধুয়ে মুছে যায় কালির স্রোতে। বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিনি। এরকম শান্তির জীবন যাপনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। লোক দেখানো বন্ধুত্বের থেকে নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া অনেক ভালো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

                                          


আমার ডায়েরি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে ডায়েরী লেখা অভ্যেস রিনির। ডিনার করে ডায়েরী টা খুলে বসলো ও। পাতা গুলো উল্টোতে গিয়ে একটা পাতায় গিয়ে চোখ আটকে গেলো ওর। ওর কলেজ জীবনের কিছু কথা নিয়ে লেখা ছিল।
পড়তে শুরু করলো ও। লেখা রয়েছে,
আশা করি তোমরা সকলে ভালো আছো। একসময় আমাদের চার জনের একটা দল ছিল। কলেজে পড়তে এসে তোমাদেরকে পেয়ে নিজেকে খুব লাকি ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম তিনটে বছর খুব আনন্দে কাটবে। কিন্তু মাস তিনেক পর বুঝতে পারলাম ভাবনা সব ভুল ছিল। তোমাদের ব্যবহারে নিজেকে খুব এলোমেলো লাগছিলো। তোমাদের মতো অতটা আধুনিক হতে পারিনি, না পোশাকে, না খাওয়াদাওয়া আর পানে। একটু একটু করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। কোথাও খেতে বা ঘুরতে গেলে আমাকে আলাদা করে দিয়ে অনুভব করাতে বাধ্য করলে যে আমি ভিন্ন। বুঝতে পেরেছিলাম, আসতে আসতে সরে এলাম। কলমকে নিজের বন্ধু করলাম। দু একটা লেখা যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতাম, হাসতে তোমরা। উল্টোপাল্টা মন্তব্যও করতে। কিন্তু দমে যাইনি আমি। হয়তো খুব ভালো লিখি না কিন্তু কলমকে বন্ধু করে খুব শান্তিতে আছি। আজও তোমাদের সাথে দেখা হলে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি। এটা আমার মা বাবার শেখানো আর আমি এটাকে ভদ্রতা বলে মনে করি । আজ তোমরা আমায় না ডাকলেও আর দুঃখ হয়না। নিজের জগতে আমি বেশ ভালো আছি। তোমাদের নেগেটিভ কথা আমার মধ্যে অনেক পজিটিভিটির সঞ্চার করেছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ তোমাদের কাছে। তোমরা তোমাদের মত করে ভালো থেকো ত্রয়ী। ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
পুরোটা পড়ার পর চোখের কোলটা ভিজে এলো ওর। সত্যি এখন অনেক বেশী ভালো আছে ও। নিত্য দিনের অসম্মান হজম করার চেয়ে কলমের সাথে বন্ধুত্ব করে খুব শান্তিতে আছে ও। চিৎকার গুলো কলম দিয়ে বেরিয়ে যায় সহজেই। কষ্ট সব ধুয়ে মুছে যায় কালির স্রোতে। বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিনি। এরকম শান্তির জীবন যাপনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। লোক দেখানো বন্ধুত্বের থেকে নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া অনেক ভালো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

                                          


সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পাঠ প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম - কপিলাবস্তুর কলসলেখক - প্রীতম বসু ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পাঠ প্রতিক্রিয়া 
বইয়ের নাম - কপিলাবস্তুর কলস
লেখক - প্রীতম বসু 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 


বেশ কিছু মাস আগে পড়েছিলাম হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্তের লেখা বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে বইটি। অসম্ভব ভালো লেগেছিল বইটি যার জন্য ভাতঘুম কেও অগ্রাহ্য করেছিলাম। তেমনি আজ রাতের ঘুম কে অগ্রাহ্য করে পড়ে শেষ করলাম কপিলাবস্তুর কলস বইটি। ৪০০ পাতার বইটিতে ছত্রে ছত্রে রয়েছে থ্রিলারের ছোঁয়া। বিষয়বস্তু বুদ্ধদেবের পবিত্র অস্থি নিয়ে। সেই অস্থি নিয়ে বেআইনি ব্যবসার জন্য কত লোকে কতরকম প্ল্যান করেছিল। উদ্দেশ্য ছিলো মুনাফা লোটার। কিন্তু কপিলাবস্তু নেপাল না ভারতের এই দ্বন্দ্বে ইউ এন নিউইয়র্কে যে বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা হয় সেই সভাতে আসার জন্য ড: উইকিস এর ছাত্রী রিধিমা যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করে তাতে বোঝা যায় পিতরাওয়া তে পাওয়া অস্থি কপিলাবস্তুর নয়। আর এটা সত্যি প্রমাণ করতে গিয়ে খুন হন ড উইকিস ও তার সহকারী ড হফম্যান আর প্রফেসর রিচার্ড। আসল কলসের সন্ধান দিয়ে গেছিলেন রিধিমার দাদা ড: সিদ্ধার্থ বোস তাঁর লেখা ডায়েরীতে, আসল কলসের উদ্ধারকর্তা ছিলেন দেবচরণ, তার স্ত্রী তুলসী আর মেয়ে রাজকুমারী। আর সিদ্ধার্থ বে আইনী কাজে লিপ্ত না হতে চাওয়ায় কু কীর্তির অধিকারী লি ঝেন তাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো তার পোষা গুন্ডাদের দিয়ে। কিন্তু গুন্ডারা সিদ্ধার্থ কে ড্রাগ ইনজেক্ট করে এক বৌদ্ধ মঠে লিনপোচে নামক লামার হাতে তুলে দেয়। লামা তাকে প্রাণে বাঁচিয়ে প্রচার করে যে বোধিসত্ত্ব মঞ্জুশ্রী লামা ফিরে এসেছেন মঠে আর সকলের কাছে ভগবান হিসেবে পূজিত হন। লিনপঁচে এর আসল উদ্দেশ্য ছিলো বুদ্ধের হাড়গুলো একে একে সংগ্রহ করে একটা কাঠামো বানিয়ে চড়া দামে বিক্রি করার। তাই লি ঝেন কে দিয়ে এক জিগস পাজলারকে নিয়ে আসেন মঠে যার নাম ছিলো হরিপরসাদ। হরিকে নিয়ে যাওয়া হয় মঞ্জুশ্রী লামা এর সামনে। মঞ্জুশ্রী ওরফে সিদ্ধার্থ সেও পাজল সলিউশনে বেশ চোস্ত ছিলো। সে হরিকে ওয়ার্ড জাম্বল দিয়ে পালাবার পথ বলে দেয় যা লিনপঁচে বুঝতে পারে না। এদিকে রিধিমাকে লি ঝেন এর লোকেরা কব্জা করে অনেক বিপদে ফেলে। উদ্ধারকর্তা হয় সুনয়ন,ড: উইকিস এর ছেলে। নিউইয়র্কের বেস্ট হ্যাকারদের মধ্যে একজন ছিলো সুনয়ন। সুনয়নের মা  ভক্তি দেবী সেই দেবচরণের বংশধর ছিলেন। রিধিমা কিছু তথ্য ভক্তিদেবীর থেকেও পেয়েছিল। রিধিমাকে সমস্ত বিপদ থেকে সুনয়ন উদ্ধার করে ফাইনালি ডিবেট সভাতে লি ঝেন এর আসল স্বরূপ প্রকাশ করে দেয়। এদিকে হরি মঞ্জুশ্রী লামার সংকেত অনুসরণ করে পালিয়ে যায় ও পুলিশের সাহায্যে মঞ্জুশ্রী লামাকে উদ্ধার করে। রিধিমা ফিরে পায় হারিয়ে যাওয়া দাদা সিদ্ধার্থকে। সাহসিকতার জন্য সুনয়ন পুলিৎজার পুরস্কার পায়। ভক্তির থেকে বুদ্ধাপট সংগ্রহ করে এক মিউজিয়ামে রেখেছিলেন ড: উইকিস্। সেটা সিদ্ধার্থ উদ্ধার করতে সাহায্য করে। সব শেষে রিধিমা সিদ্ধার্থ আর সুনয়ন রওয়ানা দেয় ভারতের উদ্দ্যেশ্যে। সুনায়ন যাবে তরাই অঞ্চলে গবেষণা করতে যেখানে তার পূর্বপুরুষ দেবচরন এক সময় থাকতেন। আর সিদ্ধার্থকে নিয়ে রিধিমা দিল্লী ফিরে গিয়ে সুনয়নের জন্য অপেক্ষায় থাকবে। 
আর পাঠকেরা যারা বইটি পড়েননি আর অপেক্ষা না করে পড়ে ফেলুন টানটান উত্তেজনা আর গবেষণা মূলক থ্রিলার এই বইটি। দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা হবে,এটুকু বলতে পারি। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - নাচ না জানলে উঠোন বাঁকা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - নাচ না জানলে উঠোন বাঁকা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অন্যের দোষ দেখতে পাওয়া যায় খুব সহজেই, নিজের দোষ খুঁজতে হলে ম্যাগনিফাইং গ্লাস লাগে। এটাই আজকের দুনিয়ার নিয়ম। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে খুব বেশী কষ্ট করতে হয়না। নেই কোনো আত্মবিশ্লেষণ,নেই কোনো আত্মগ্লানি। কাজটা পারলাম না মানে কাজটার দোষ কিন্তু আমার কোনো দোষ হতেই পারেনা,এই মানসিকতা দিন দিন মানুষকে অপদার্থ করে তুলছে। এরম অদ্ভুত চিন্তার ঘেরাটোপ থেকে নিজেকে বের করে আনতে না পারলে উন্নতি কোনোদিন সম্ভবপর নয়। তাই আত্মসমালোচনা খুব প্রয়োজন। কোথায় ত্রুটি আছে সেটা খুঁজে বের করে নিজেকে সংশোধন করার মধ্যেও একটা আনন্দ আছে। আর বিষাক্ত মানসিকতার মানুষ তো সব সময় নিজেকে ভিকটিম বানিয়ে অন্যকে দোষী সাব্যস্ত করতে ব্যস্ত থাকে। এরম মানুষের দেখা রোজ মেলে কিন্তু সহজ সরল মানুষ যে অন্যকে দায়ী করেনা সেসব মানুষ কমই আছে দুনিয়াতে। কমের দলে নাম লেখাতে চাইলে নিজের ভুল ত্রুটি দেখা উচিত,অন্যের নয়। তাতে নিজেরও ভালো, অন্যেরও মঙ্গল। 

"উঠোনের দোষ না দেখে বরং নাচটা শেখো ভালো করে
তাহলেই দেখবে নিশ্চিন্তে হেঁটে চলেছো উন্নতির পথ ধরে"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...