শিরোনাম - স্ট্র্যাটেজি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস
ও বিশুদা কি করছো গো? তৈরি হবেনা? আজ যেতে হবে তো। হাতিবাবু এসে জিজ্ঞেস করলো। এই জিনিসপত্র গুলো গোছালাম। ভালো কিছু ইয়ার প্যাড নিলাম বুঝলি হাতিশ্বর। আমার ভক্ত দের ওই সিসে কি উম্র আর সাত সমুন্দর শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। সাথে কিছু এক্সট্রা হাতুড়ি নিলাম বুঝলি। হাতুড়ি কেনো গো? হাতিবাবু একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো। আর কেনো? তোকে মারবোনা চাপ নিসনা। যখনি ওই প্যান্ডেলে বাবুরা আকন্ঠ সুরাপান করে উদ্দাম নৃত্য করতে করতে বিশ্বকর্মা মাইকি জয় বলবে তখনি একটা হাতুড়ি দিয়ে ঠোক্কর দেবো মাথায়। বাবুরা ওসব খেয়ে নাচবেন আবার পরে গাড়ি চালিয়ে এক্সিডেন্ট করবেন আর ভিড় জমাবেন হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে,অভব্য আচরণ করবেন সেটি হতে দেবোনা। যারা ডিউটি করে ওখানে,কোনোদিন মুখ ফুটে কিছু বলেনা। কিন্তু সারারাত এই মাতাল গুলোর বাঁদরামি সহ্য করতে করতে কাহিল হয়ে পড়ে। এই স্টিচ করছে তো এই ইনজেকশন দিতে হচ্ছে। তারাও তো মানুষ। আর যা সম্মান তাদের দেওয়া হয় সবই তো দেখছিস হাতিশ্বর। আর কি বলবো তোকে নতুন করে?
কিন্তু তা বলে তোমার পুজোতে ওরা একটু হাসি মজা করবেনা বিশুদা?
-কেনো করবেনা? নিশ্চয়ই করবে। এই জন্যই তোর মাথায় মোটা বুদ্ধি। মজা আনন্দ সব করবে কিন্তু সেটা আনলিমিটেড নয়,আর পাগলামি করে নয়। যাতে সবার ক্ষতি না হয় সেরকম ভাবে আনন্দ উল্লাস করবে।
- ওহ বুঝলাম।
- কত রকম আনন্দ আছে। ঘুড়ি ওড়াবে, মিষ্টি খাবে,খিচুড়ি খাবে। গান করবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে। এতে তো কারোর ক্ষতি হচ্ছে না।
ওই উঁচু ডেসিবেল এর গান আর গলা ভর্তি পান করে বাইক চেপে,হাতির পিঠে চেপেছি ভাবা এসব বন্ধ করতে হবে। নয়তো হাতুড়ির ঘা খেতে হবে। প্রতিবার ওদের গানের ঠেলায় কান প্রাণ সব যা অত্যাচার সহ্য করে সেটা এইবার মানবোনা। অনেক হয়েছে। চল এবার। নে তোর সানগ্লাস। রোদে ঘুরবি চোখ খারাপ যাতে না হয় তাই দিলাম। সত্যি বিশুদা,কত ভালো তুমি। আমার কথা কত ভাবো। আমি সবার কথাই ভাবি তাই দেখছিস না কত পন্থা অবলম্বন করেছি এবার। নাও নাও ওঠো আমার পিঠে। তাড়াতাড়ি বেরোই, অনেকটাই যেতে হবে। হ্যা চল,ভালো ভাবে ঘুরে আসি।
আসছেন ওনারা, আপনারা সবাই তৈরি তো? জয় বিশ্বকর্মা দেবের জয়। সকলের মঙ্গল হোক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন