আমার ডায়েরি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
সারাদিনের কাজের শেষে ডায়েরী লেখা অভ্যেস রিনির। ডিনার করে ডায়েরী টা খুলে বসলো ও। পাতা গুলো উল্টোতে গিয়ে একটা পাতায় গিয়ে চোখ আটকে গেলো ওর। ওর কলেজ জীবনের কিছু কথা নিয়ে লেখা ছিল।
পড়তে শুরু করলো ও। লেখা রয়েছে,
আশা করি তোমরা সকলে ভালো আছো। একসময় আমাদের চার জনের একটা দল ছিল। কলেজে পড়তে এসে তোমাদেরকে পেয়ে নিজেকে খুব লাকি ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম তিনটে বছর খুব আনন্দে কাটবে। কিন্তু মাস তিনেক পর বুঝতে পারলাম ভাবনা সব ভুল ছিল। তোমাদের ব্যবহারে নিজেকে খুব এলোমেলো লাগছিলো। তোমাদের মতো অতটা আধুনিক হতে পারিনি, না পোশাকে, না খাওয়াদাওয়া আর পানে। একটু একটু করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। কোথাও খেতে বা ঘুরতে গেলে আমাকে আলাদা করে দিয়ে অনুভব করাতে বাধ্য করলে যে আমি ভিন্ন। বুঝতে পেরেছিলাম, আসতে আসতে সরে এলাম। কলমকে নিজের বন্ধু করলাম। দু একটা লেখা যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতাম, হাসতে তোমরা। উল্টোপাল্টা মন্তব্যও করতে। কিন্তু দমে যাইনি আমি। হয়তো খুব ভালো লিখি না কিন্তু কলমকে বন্ধু করে খুব শান্তিতে আছি। আজও তোমাদের সাথে দেখা হলে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি। এটা আমার মা বাবার শেখানো আর আমি এটাকে ভদ্রতা বলে মনে করি । আজ তোমরা আমায় না ডাকলেও আর দুঃখ হয়না। নিজের জগতে আমি বেশ ভালো আছি। তোমাদের নেগেটিভ কথা আমার মধ্যে অনেক পজিটিভিটির সঞ্চার করেছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ তোমাদের কাছে। তোমরা তোমাদের মত করে ভালো থেকো ত্রয়ী। ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
পুরোটা পড়ার পর চোখের কোলটা ভিজে এলো ওর। সত্যি এখন অনেক বেশী ভালো আছে ও। নিত্য দিনের অসম্মান হজম করার চেয়ে কলমের সাথে বন্ধুত্ব করে খুব শান্তিতে আছে ও। চিৎকার গুলো কলম দিয়ে বেরিয়ে যায় সহজেই। কষ্ট সব ধুয়ে মুছে যায় কালির স্রোতে। বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিনি। এরকম শান্তির জীবন যাপনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। লোক দেখানো বন্ধুত্বের থেকে নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া অনেক ভালো।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন