বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

অদৃশ্য ক্ষত✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 অদৃশ্য ক্ষত
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সকলের চোখে যা দৃশ্যমান সেই ক্ষত নিরাময় খুব সহজে হয়ে যায়। বাহ্যিক ক্ষত মেরামতির জন্য দরকার সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও ওষুধের প্রলেপ। কিন্তু যেই ক্ষত দেখা যায়না,যা অদৃশ্য সেই ক্ষত নিরাময় কিন্তু সহজে হয়না। মনের গভীরে থাকা ক্ষত শারীরিক ক্ষতের চেয়ে অনেকগুণ বেশী মারাত্মক। মানুষের মন ই যদি ভালো না থাকলো তাহলে কিসের ভালো থাকা! কথার খোঁচা, কোনো বিরূপ ঘটনা কিংবা কোনো আবেগপ্রবণ ঘটনা মনকে ক্ষতবিক্ষত করতে যথেষ্ট। আর এই ক্ষতের প্রলেপ দেওয়া কিন্তু সহজ নয়। অনেক সময় এমন কিছু ট্রমা হয়ে যায় যে সেটা নিরাময় করতে যথাযথ কাউন্সেলিং দরকার হয় কিনমা পোস্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার এর জন্য প্রয়োজন ট্রমা থেরাপি দরকার হয়। তাই মনের কথা চেপে রেখে ক্ষত না বাড়তে দেওয়া উচিত। যারা অন্তর্মুখী স্বভাবের তারা লেখার মাধ্যমে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারে। বিশ্বাস করে কাউকে বলা যাবে এমন কাউকেও মনের কথা বলতে পারে কিন্তু অন্তরে ক্ষত লালন করে নিজের ক্ষতি করা যে কোনো রোগের চেয়েও বেশী মারাত্মক। ধীরে ধীরে এই ক্ষত এমন শাখা প্রশাখা বিস্তার করে যে সেই ক্ষত নিরাময় করা একসময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আজকাল তাই মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ওপরে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন ঠিক থাকলে সব ঠিকঠাক চলবে। তাই কথা বলার সময় বা কারোর কোনো ব্যবহারে অন্য কাউকে আঘাত করা উচিত নয়। বাইরের হাসিমুখ দেখে কারোর ভেতরের কষ্টটা হয়তো বোঝা যায়না। সবাই লড়াই করছে নিজেকে ভালো রাখার জন্য,ক্ষত গুলোকে লুকিয়ে প্রতিদিন হাসিমুখে লড়াই করছে,তাই কোনোভাবেই তাদের অদেখা লড়াইকে অসম্মান করা উচিত নয়। 

"কথা দিয়ে হোক বা আচরণ দিয়েই হোক কোরোনা করো মনের ক্ষতি
অদৃশ্য ক্ষত হয়না নিরাময়,মনে রেখো ব্যবহারই মানুষের পরিচিতি।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

এপ্রিল ফুল✍️ ডা: অরুণিমা দাসএপ্রিল ফুল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এপ্রিল ফুল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শুধু এপ্রিলের প্রথম দিনটাই কেনো ফুল বা বোকা বানানোর জন্য বরাদ্দ? আর অন্য দিনগুলো নয় কেনো? এ নিয়ে অনেক ইতিহাস রয়েছে। 
পয়লা এপ্রিল। বছরের ৯২ তম দিন। পথ চলা তখনও অনেক বাকি। ১৫৬২,পোপ গ্রেগরি খ্রিস্টানদের জন্য আনলেন নতুন ক্যালেন্ডার। এর আগে পর্যন্ত নতুন বছর পালিত হতো এপ্রিল ১ এ। এই পরিবর্তনের খবর গোটা পৃথিবীর জানতে লেগে গিয়েছিল বিস্তর সময়। মানুষ তখনও এপ্রিল ১ কে কেন্দ্র করেই পাঠিয়ে চলেছে শুভেচ্ছা বার্তা। আর সেগুলোই জমা হয়েছে মজার দিনের গল্প হিসাবে।
এই ছিল গল্প এক। গল্পই বটে! কারণ ইতিহাস আজও এই ঘটনার কোনও জ্যান্ত দলিল প্রকাশ করে উঠতে পারেনি। 
এটা তো গেলো ইতিহাস! কিন্তু বাস্তব? সেটা তো অন্য কিছু বলে। যখন ছোট ছিলাম তখন বড় হবার লোভ আমাদের বোকা বানায়। বলা হয় যখন ভালো করে পড়াশোনা করো, মাধ্যমিক পরীক্ষা জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা! তখন কি বোকা হইনা আমরা? উচ্চমাধ্যমিকের পরে ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে গেলেই লাইফ সেট। এগুলো আসলে বোকা বানানোর দুর্দান্ত ফন্দি। এই ট্র্যাপে পা দিয়েই বছরের পর বছর আমরা বোকা হচ্ছি। বসের টার্গেট পূরণের ট্র্যাপ সেটাও আরেকটা বড় ট্র্যাপ। আর বিজ্ঞাপনে একটা প্রোডাক্ট কিনলে গাড়ি বাড়ি ফ্রী,লাকী ড্রতে বড় ইনাম! এসব তো বোকা বানানোর জন্য যথেষ্ট। চটকদার জীবনের হাতছানি,জীবনে সুখ শান্তি ঐশ্বর্যে থাকতে হলে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে,এটাও একটা ফাঁদ। মরীচিকার পেছনে ছুটে ছুটে ছোট থেকে বড় হই, বুড়ো হই। কিন্তু চালাক ও পরিণত হতে পারি কয়জন? কেউ ভাবছে নেশায় আসক্ত হয়ে দুঃখ ভোলা যাবে,কিন্তু নেশার জন্য তার শরীরের কতটা ক্ষতি হচ্ছে সেটা ভাবছেনা একবারও! বোকা কি হচ্ছে না সে? আবার কেউ ভাবছে অন্যের লেগপুল করে এগিয়ে যাবে। কিন্তু এটা ভাবেনা যে তার অসৎ কর্মের জন্য সে কতটা পিছিয়ে পড়বে! তাই এমন ভাবে কাউকে বোকা বানানোর দরকার নেই যাতে নিজেই জ্যাক অ্যাস হয়ে যেতে হয়। বোকা বানাও মজাদার উপায়ে কিন্তু কারোর ক্ষতি না করে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

অদৃশ্য ক্ষত✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 অদৃশ্য ক্ষত ✍️ ডা: অরুণিমা দাস সকলের চোখে যা দৃশ্যমান সেই ক্ষত নিরাময় খুব সহজে হয়ে যায়। বাহ্যিক ক্ষত মেরামতির জন্য দরকার সঠিক সময়ে চিকি...