এপ্রিল ফুল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শুধু এপ্রিলের প্রথম দিনটাই কেনো ফুল বা বোকা বানানোর জন্য বরাদ্দ? আর অন্য দিনগুলো নয় কেনো? এ নিয়ে অনেক ইতিহাস রয়েছে।
পয়লা এপ্রিল। বছরের ৯২ তম দিন। পথ চলা তখনও অনেক বাকি। ১৫৬২,পোপ গ্রেগরি খ্রিস্টানদের জন্য আনলেন নতুন ক্যালেন্ডার। এর আগে পর্যন্ত নতুন বছর পালিত হতো এপ্রিল ১ এ। এই পরিবর্তনের খবর গোটা পৃথিবীর জানতে লেগে গিয়েছিল বিস্তর সময়। মানুষ তখনও এপ্রিল ১ কে কেন্দ্র করেই পাঠিয়ে চলেছে শুভেচ্ছা বার্তা। আর সেগুলোই জমা হয়েছে মজার দিনের গল্প হিসাবে।
এই ছিল গল্প এক। গল্পই বটে! কারণ ইতিহাস আজও এই ঘটনার কোনও জ্যান্ত দলিল প্রকাশ করে উঠতে পারেনি।
এটা তো গেলো ইতিহাস! কিন্তু বাস্তব? সেটা তো অন্য কিছু বলে। যখন ছোট ছিলাম তখন বড় হবার লোভ আমাদের বোকা বানায়। বলা হয় যখন ভালো করে পড়াশোনা করো, মাধ্যমিক পরীক্ষা জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা! তখন কি বোকা হইনা আমরা? উচ্চমাধ্যমিকের পরে ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে গেলেই লাইফ সেট। এগুলো আসলে বোকা বানানোর দুর্দান্ত ফন্দি। এই ট্র্যাপে পা দিয়েই বছরের পর বছর আমরা বোকা হচ্ছি। বসের টার্গেট পূরণের ট্র্যাপ সেটাও আরেকটা বড় ট্র্যাপ। আর বিজ্ঞাপনে একটা প্রোডাক্ট কিনলে গাড়ি বাড়ি ফ্রী,লাকী ড্রতে বড় ইনাম! এসব তো বোকা বানানোর জন্য যথেষ্ট। চটকদার জীবনের হাতছানি,জীবনে সুখ শান্তি ঐশ্বর্যে থাকতে হলে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে,এটাও একটা ফাঁদ। মরীচিকার পেছনে ছুটে ছুটে ছোট থেকে বড় হই, বুড়ো হই। কিন্তু চালাক ও পরিণত হতে পারি কয়জন? কেউ ভাবছে নেশায় আসক্ত হয়ে দুঃখ ভোলা যাবে,কিন্তু নেশার জন্য তার শরীরের কতটা ক্ষতি হচ্ছে সেটা ভাবছেনা একবারও! বোকা কি হচ্ছে না সে? আবার কেউ ভাবছে অন্যের লেগপুল করে এগিয়ে যাবে। কিন্তু এটা ভাবেনা যে তার অসৎ কর্মের জন্য সে কতটা পিছিয়ে পড়বে! তাই এমন ভাবে কাউকে বোকা বানানোর দরকার নেই যাতে নিজেই জ্যাক অ্যাস হয়ে যেতে হয়। বোকা বানাও মজাদার উপায়ে কিন্তু কারোর ক্ষতি না করে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন