অদৃশ্য ক্ষত
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
সকলের চোখে যা দৃশ্যমান সেই ক্ষত নিরাময় খুব সহজে হয়ে যায়। বাহ্যিক ক্ষত মেরামতির জন্য দরকার সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও ওষুধের প্রলেপ। কিন্তু যেই ক্ষত দেখা যায়না,যা অদৃশ্য সেই ক্ষত নিরাময় কিন্তু সহজে হয়না। মনের গভীরে থাকা ক্ষত শারীরিক ক্ষতের চেয়ে অনেকগুণ বেশী মারাত্মক। মানুষের মন ই যদি ভালো না থাকলো তাহলে কিসের ভালো থাকা! কথার খোঁচা, কোনো বিরূপ ঘটনা কিংবা কোনো আবেগপ্রবণ ঘটনা মনকে ক্ষতবিক্ষত করতে যথেষ্ট। আর এই ক্ষতের প্রলেপ দেওয়া কিন্তু সহজ নয়। অনেক সময় এমন কিছু ট্রমা হয়ে যায় যে সেটা নিরাময় করতে যথাযথ কাউন্সেলিং দরকার হয় কিনমা পোস্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার এর জন্য প্রয়োজন ট্রমা থেরাপি দরকার হয়। তাই মনের কথা চেপে রেখে ক্ষত না বাড়তে দেওয়া উচিত। যারা অন্তর্মুখী স্বভাবের তারা লেখার মাধ্যমে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারে। বিশ্বাস করে কাউকে বলা যাবে এমন কাউকেও মনের কথা বলতে পারে কিন্তু অন্তরে ক্ষত লালন করে নিজের ক্ষতি করা যে কোনো রোগের চেয়েও বেশী মারাত্মক। ধীরে ধীরে এই ক্ষত এমন শাখা প্রশাখা বিস্তার করে যে সেই ক্ষত নিরাময় করা একসময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আজকাল তাই মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ওপরে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন ঠিক থাকলে সব ঠিকঠাক চলবে। তাই কথা বলার সময় বা কারোর কোনো ব্যবহারে অন্য কাউকে আঘাত করা উচিত নয়। বাইরের হাসিমুখ দেখে কারোর ভেতরের কষ্টটা হয়তো বোঝা যায়না। সবাই লড়াই করছে নিজেকে ভালো রাখার জন্য,ক্ষত গুলোকে লুকিয়ে প্রতিদিন হাসিমুখে লড়াই করছে,তাই কোনোভাবেই তাদের অদেখা লড়াইকে অসম্মান করা উচিত নয়।
"কথা দিয়ে হোক বা আচরণ দিয়েই হোক কোরোনা করো মনের ক্ষতি
অদৃশ্য ক্ষত হয়না নিরাময়,মনে রেখো ব্যবহারই মানুষের পরিচিতি।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন