ধৈর্য্যের মাস্টার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
জীবনের পথে চলতে গিয়ে অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকি আমরা। কোনো কোনো সময় জীবন আমাদের মাস্টার হয় তো কোনো সময় আমরা জীবনের মাস্টার হই। ধৈর্য্য আর সময় এই দুটোর থেকে বড়ো মাস্টার বোধহয় আর কেউ হয়না। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে যখন হতাশার অন্ধকারে ডুবে যাবো মনে হয় তখনই শুরু হয় ধৈর্য্যের পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পাস করতে পারলে জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। আর এরকম অনেকবার পরীক্ষা দিতে দিতে কখন যে ধৈর্য্যের মাস্টার হয়ে যাই বুঝতে পারিনা। উদাহরণ স্বরূপ প্রথম প্রথম দিন গুনতাম কবে এসব ডিউটি প্রেসার শেষ হবে,পড়াশোনা শেষ হবে! এক সময় মনে হতো আর পারবোনা চাপ নিতে। কিন্তু ওই যে ধৈর্য্য সব সময় মনে করিয়ে দিত আমি আছি, পারতে তোমাকে হবেই। থেমে গেলে চলবে না! ব্যাস ওভাবেই অনেক পরীক্ষা দিতে দিতে মাস্টার হবার সুযোগ পেলাম। এখন জুনিয়র দের পরীক্ষা নেবার পালা, ওদেরকে ধৈর্য্যবান করে তোলার চ্যালেঞ্জ এবার শুরু। এখন আর ডিউটিকে চাপ মনে হয় না, বরং বাড়ীতে বসে থাকতে বোর লাগে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি ধৈর্য্যের হাত ধরে যাতে সুপার স্পেশালিটি টা উতরে যাই, যদিও সে এক লম্বা যুদ্ধের প্রস্তুতি তবুও দেখা যাক কী হয়!
যেদিন মানুষ অভ্যাসের দাস হয়ে ওঠে সেদিন থেকে তার ধৈর্য্যচ্যুতি হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। মাথা উচু করে চলতে শেখে, কোনো কিছুই তাকে আর দমিয়ে রাখতে পারেনা। জীবনের চড়াই উতরাই পার হয়ে যায় নিমেষেই। অন্ধকারে চলতে চলতে অভ্যাস হয়ে যায় আর একদিন আলোর দেখা ঠিক ই মিলে। ধৈর্য্য আর সময় এই দুটো হাতিয়ারই জিতিয়ে দেয় তাকে।
"জীবনে পরীক্ষা দিতে দিতে ছাত্র থেকে যখন হবে ধৈর্য্যের মাস্টার
বুঝবে কোনো পরিস্থিতিই টলাতে পারবেনা তোমায়, পাবে না ভয় আর!"
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন