বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কথা বনাম কাজ✍️ডা: অরুণিমা দাস

 কথা বনাম কাজ
✍️ডা: অরুণিমা দাস

ছোটবেলায় একটা কথা খুব শুনতাম,কথা কম কাজ বেশী। তখন অত আমল দিতাম না। এখন বড়ো হয়ে বুঝেছি বাচালতা করে খুব বেশী জ্ঞানের পরিচয় দেওয়া যায় না। ভেতর ফাঁপা আর বাইরে কথার চাকচিক্যে আর যায় হোক জ্ঞানী হিসেবে নিজেকে জাহির করা যায় না। আসল কথা হলো ভেতরটা কতটা সাজানো গোছানো! ভেতর মানে অন্তর গোছানো হলে বেশি কথার প্রয়োজন হয় না। এক দুটো কথাতেই নিজের জ্ঞানের পরিচয় দেওয়া যায়। যে যত বেশি সৃজনশীল,সহনশীল হবে সেটাই তাকে নির্ভীক করে তুলবে কারণ তার সহনশীলতা তাকে শেখাবে হারানোর কিছু নেই,আর হারালেও তার মধ্যে দিয়ে সে জ্ঞান অর্জন করবে। দ্বিতীয়বার সেই ভুল সে করবে না। তাই নিজেকে একটু রিজার্ভ রেখে নিজের কর্মদক্ষতাকে কাজের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলার মধ্যেই রয়েছে জ্ঞানীর আসল পরিচয়,বাকপটুতায় নয়। 

"কাজ বেশি কথা কম,জীবনের মূলমন্ত্র হোক সবার
জ্ঞানীর লক্ষণ থাকুক কাজে, কথা বেশী নয় আর।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বংশীধারী ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বংশীধারী 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রাধার কথা ভেবে যে শ্যামের মন উচাটন
নদীর পাড়ে বাজিয়ে বাঁশি, তারে করে স্মরণ।

অবচেতন মনের কোণে বসে যে রাধা দেবী
জলের ওপর তাই তো ভেসে ওঠে তাঁর প্রতিচ্ছবি।

বংশীধারীর বাঁশির সুরে আকাশ বাতাস হয় মুখরিত
কৃষ্ণের মনে রাধাপ্রেম যে সর্বজন বিদিত। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

পরিবর্তন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পরিবর্তন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পরিবর্তন ই জগৎ সংসারের নিয়ম। পরিবর্তন ছাড়া এই ধরা অচল। সময়ের চাকা ঘুরছে অনবরত। আজ যে রাজা কাল সে ফকির। কালের নিয়মে বর্তমান একদিন কালের গর্ভে বিলীন হবে। সুখ দুঃখ, হাসি কান্না, ভালো মন্দ সব মিলিয়ে জীবন। আর এগুলো কোনোটাই চিরস্থায়ী নয়। একের পর এক চক্রাকারে ঘুরছে। এগুলো মেনে নিতে না পারলে জীবন চালানো খুব মুশকিল। সময়ের সাথে সাথে মনের পরিবর্তন হয়, চিন্তাধারার পরিবর্তন হয়। আর পরিবর্তন আছে বলেই হয়তো আমরা আছি, আর থাকবো। কিন্তু খেয়াল রাখা উচিত পরিবর্তন যেনো কারোর ক্ষতির কারণ না হয়ে ওঠে। বাস্তববাদী হয়ে পজিটিভ ভাবে সব কিছুই সাদরে গ্রহণ করলে জীবনের পথ অনেকাংশে সুগম হয়ে উঠবে।

"হাসি কান্না, সুখ দুখ,ভালো মন্দ করুক জীবনের অধ্যায়কে সেরা
পরিবর্তন জগতের নিয়ম,বিকশিত হোক সুচিন্তার ধারা!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

মুক্তি বনাম বন্দীত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মুক্তি বনাম বন্দীত্ব
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে এসে করলাম কি অবিচার!
গাছের ডালে ভাবছে বসে খেচর।

বন্দীত্ব ছেড়ে মুক্তির স্বাদ তো পেতেই চায় পক্ষীমন
আর মানুষকে মুক্তি দেয় মোবাইল,হেডফোন।

মোবাইল স্ক্রীনে আটকে গিয়ে চোখ,মানব জীবন হচ্ছে স্ক্রল
মুক্ত হয়ে সুখে আছে পাখি,
মানুষ হয়েছে গ্যাজেটের হাতের পুতুল।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৪

স্বামী বিবেকানন্দ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্বামী বিবেকানন্দ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

হে মহামানব আজি তোমার জন্মদিনে
প্রণাম জানাই তোমার চরণে।
তোমারি আদর্শে যেন সদা চলতে পারি
ঈশ্বরকে সেবি,জীবে প্রেম করি।
ভুলে সব ভেদাভেদ,উঁচু নীচু জাতপাত
সবার তরে বাড়িয়ে দিই সাহায্যের হাত।
হিন্দু ধর্ম পেয়েছিল মর্যাদা তোমারই চেষ্টায়
তোমার কর্মকাণ্ড রয়েছে সব মনের খাতায়।
ধন্য হয়েছে এই ভুবন মহামানবকে পেয়ে
থাকবে তুমি বেঁচে চিরদিন মানবহৃদয়ে।

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


বন্ধুত্বের সম্পর্ক✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বন্ধুত্বের সম্পর্ক
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বন্ধু মানে যে খুব আপন, যাকে মন খুলে সব কথা বলা যায়। যে অপরজনের নীরবতা দেখে বুঝে যায় কিছু তো একটা ব্যাপার হয়েছে সেই বন্ধু। যতই ঝগড়া হোক দিন শেষে সব কিছু মিটমাট করে নিয়ে গলা জড়িয়ে খাবার খেতে বসা,এগুলোই বন্ধুত্বের দাবীদার। সব রাগ অভিমান জেদ ভুলে গিয়ে কঠিন সময়েও হাতে হাত ধরে চলাটা বন্ধুত্ব। যে সম্পর্ক হয় লৌহ কঠিন,মজবুত যাকে ভাঙ্গার সাধ্য নেই কারোর সেটাই বন্ধুত্বের দৃঢ় বন্ধন। আর যার কাছে এরম বন্ধু আছে সে দুনিয়ার সবচেয়ে সৌভাগ্যশালী মানুষ। এরকম ভাগ্য খুব কমজনের ই হয়।
আজকাল এই বন্ধন খুব কম দেখা যায়। যত বড় হচ্ছি বন্ধুত্ব কম হচ্ছে,কলিগ হচ্ছে বেশী। স্বার্থের তাগিদে কথা বলতে আসছে,স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে চলে যাচ্ছে। তার মাঝেও দু একজন ভালো বন্ধু পেলে মনে হয় বড়ো গিফট। দিনশেষে নিজেকেই নিজের বড়ো বন্ধু হতে হয়, সব জমে থাকা কথা জমা হয় ডায়েরির পাতায়।

বন্ধুত্বের সম্পর্ক হোক মজবুত,না ধরে যেনো ভাঙন
ভুল বোঝাবুঝি হলে মিটিয়ে ফেলো,দিনের শেষে তুমিই তোমার আপন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৪

ব্যবহার দিয়ে যায় চেনা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ব্যবহার দিয়ে যায় চেনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কথায় আছে ব্যবহারই মানুষের পরিচয়। ভালো ব্যবহারের প্রত্যুত্তরে ভালো ব্যবহার করা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু কেউ যদি খারাপ ব্যবহার করে তার উত্তরে ভালো ব্যবহার করাটাই আসল শিক্ষার পরিচয়। আজকাল কারোর কাছে ভালো ব্যবহার পাওয়াটা প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটা বেশী। মানুষের ধৈর্য্য অনেক কমে যাওয়ায় অপর প্রান্তের ভালো ব্যবহার করা মানুষের ওপর তার মন্দ ব্যবহারের কি প্রতিক্রিয়া হয় সেটা ভাবার সময় টুকুও নেই। অপর প্রান্তের মানুষের সাথে দুটো হেসে কথা বলার মানসিকতাও নেই আজ সকলের। যান্ত্রিকতার যুগে মানুষের মনও সংবেদনশীলতা হারিয়ে কঠোর হয়ে উঠেছে,তাই খারাপ ব্যবহার করার আগে দুবার ভাবেওনা। নিজের সহনশীলতা বজায় রেখে অপর প্রান্তের মানুষের সাথে সুব্যবহার করাটাই আসল শিক্ষার পরিচয়,এতেই মানুষের গুণগত মানের সঠিক প্রকাশ হয়।

"ব্যবহার হোক ভালো সর্বদা,মন্দ বা ভালো কথার প্রত্যুত্তরে
ধৈর্য্যচ্যুতি না ঘটিয়ে সংবেদনশীলতা বাঁচিয়ে রেখো অন্তরে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

জয়✍️ ডা:অরুণিমা দাস

জয়
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কোনো কাজে সফল হতে গেলে প্রতিভা ও ক্ষুরধার বুদ্ধি ছাড়াও বেশি দরকার ইচ্ছাশক্তি ও একাগ্রতার। অধ্যবসায় না থাকলে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়না অনেক সময়ই। ইচ্ছেশক্তির ডানায় ভর দিয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, সাথে যদি অদম্য জেদ আর একাগ্রতা সঙ্গী হয়। কোনো কাজে সফল হতে গেলে ৯৯ শতাংশ ইচ্ছেশক্তি আর ১ শতাংশ ভাগ্যের সাথ প্রয়োজন। তাই দিনের শেষে জয় হয় ইচ্ছেশক্তির। প্রতিভা যদি বিজয় পথে চলার গাড়ি হয় ইচ্ছেশক্তি হচ্ছে সেই গাড়ির জ্বালানী। জ্বালানী ছাড়া যেমন গাড়ী এগোতে পারে না তেমনি ইচ্ছেশক্তি ছাড়া জয়ের মুখ দেখা যায় না।

প্রতিভা থাক যতই সাথে, ইচ্ছেশক্তি চাই লড়তে হলে
জীবন পথে জয়ী হবে একাগ্রতা,জেদ আর ইচ্ছের মিলে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - সংগ্রাম✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - সংগ্রাম
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বিশাল এক ঝড় উঠেছে, আকাশখানি কালো 
উত্তাল সমুদ্রে জাহাজখানি করছে টলোমলো।

পাড়ে যে ভিড়তে হবে তাকে, বাঁচবে তবে যাত্রী সকল
সমুদ্রের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে এগোতে চাই যে বল।

জাহাজ সমুদ্র নিমিত্তমাত্র, আছে লুকিয়ে এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সময় যখন খারাপ চলে,হাল না ছেড়ে এগিয়ে চলাই যে জয়ের মূল পথ্য। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

ভুল ঠিক ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভুল ঠিক
✍️ডা:অরুণিমা দাস

অন্যের ভুল ঠিক বিচার করার কাজে মানুষ পারদর্শী হলেও সে কিন্তু তখন প্রকৃত অর্থে মানুষ নয়, সে তখন বিচারক হিসেবে নিজেকে জাহির করতে বেশি ভালোবাসে। এই বিচারভারের দায়িত্ব না হয় সর্বশক্তিমানের হাতে দিয়ে নিজের কাজের ভুল ঠিক বিচার করার জন্য তৎপর হলে বোধহয় উন্নতিটা বেশী তাড়াতাড়ি সম্ভব। ক্ষমতার পিয়াসী মানুষ নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে গিয়ে অন্যের ভুল ধরে তাকে টেনে নিচে নামানোর চেষ্টাকেই মহৎ কাজ বলে মনে করে। এতে যেমন তার নিজের নীচ মানসিকতার পরিচয় দেয় তেমনি ক্ষতবিক্ষত করে তার মনুষ্যত্বকে। নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার প্রচেষ্টা সর্বদা রাখা উচিত কিন্তু সেটা নিজের ভুল গুলো শুধরে ফেলে,অন্য কারোর ভুল ধরে নয়। প্রতিযোগিতা সবসময় নিজের সাথে হওয়া উচিত, আমি আগের থেকে কতটা উন্নতি করলাম কতটা এগোতে পারলাম সেটাই জানার দরকার। এতে নিজের কাছে যেমন স্বচ্ছ থাকা যাবে তেমন কাউকে ছোট করাও হবেনা।

"ভুল যা আছে খোঁজো নিজের মধ্যে,শুধরে নেয়ার সময় রেখো
অন্যের দোষ খুঁজে কি লাভ! প্রকৃত মানুষ হতে আপনারে নিখুঁত রাখতে শেখো।"

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - মেডিটেশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - মেডিটেশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চোখ বন্ধ করে মাঝে মাঝে চলুক মেডিটেশন
বাড়বে যে এতে তোমার কনসেন্ট্রেশন।

জ্ঞানস্পৃহা জাগবে,বাড়বে বুদ্ধির প্রখরতা
সেরিব্রাম থেকে সেরেবেলাম, আসবে উন্নত চিন্তা।

কাজের চাপে পড়ে যখন, জীবন হচ্ছে জেরবার
তখনই প্রাণায়াম শক্তি দেবে লড়বার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

শিরোনাম - ব্যালেন্স✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ব্যালেন্স
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চলছি সবাই জীবন পথে, খেলছি ব্যালেন্সিং গেম
কাজ আর জীবনের ভারসাম্য  থাকলে বজায় তবেই তুমি জেম। 

কর্মই যে জীবন এসব কথা মানায় বইয়ের পাতায় 
জীবনের চ্যালেঞ্জ গুলো নিজেদের চিনতে শেখায়।

তুলাদন্ডের সূক্ষ্য কাঁটা যেনো না নড়ে ডাইনে বা বাম দিকে
মধ্যিখানে রেখে কাঁটা চালাক ব্যালেন্স কর্ম আর জীবনকে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

ক্যান্টিনের অন্দরে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 ক্যান্টিনের অন্দরে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কলেজে ভর্তি হবার পর নতুন নতুন বন্ধুদের সাথে গল্প আড্ডা মারার জন্য একদম উপযোগী জায়গা ছিলো ক্যান্টিন। কলেজে উঠে একটু বড়ো বড়ো ভাব এসেছে তখন। ছেলেদের জন্য লুকিয়ে তামাক সেবন করার উত্তম জায়গা ছিলো ক্যান্টিন। অনেক টুকরো টুকরো ঘটনা মনে আসছে। একদিন আমাদের এক বন্ধু শ্রেয়ান সিগারেটটা ধরিয়ে টান দেবে এমন সময় মাথায় এক গাট্টা আর কানমলা খেলো। এসবের চোটে বিষম খেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে দাদা দাড়িয়ে আছে। আমরা উল্টো দিক থেকে ওর দাদা কে আসতে দেখেছিলাম কিন্তু দাদা আমাদের হাত দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেছিল। সেদিনের পর থেকে শ্রেয়ান ক্যান্টিনকে সেফ মনে করতো না, কলেজের বাথরুমটা ওর জন্য সেফ ছিলো। 
আর আহমেদ কলেজের ক্যান্টিনে আমরা বন্ধুরা মিলে খেতে গেছি, ছটা মতন ফিশ ফ্রাই অর্ডার করেছি আর সাথে চা। আমি চা খাই না বলে বন্ধুরা পেছনে লাগছে কমপ্ল্যান খাবি বোর্নভিটা খাবি এসব বলছে। আমি নিরুত্তর হয়ে ফিশ ফ্রাই খাচ্ছি। সকলের খাওয়া হলে বিল এলো। বিল দেখে একটু অবাক লাগলো, বেশ কম। বিল মিটিয়ে সবাই মেনু দেখি ফিশ ফ্রাই এর জায়গায় ফিশ ফিঙ্গারের দাম ধরেছে। আমরা তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ পত্র গুটিয়ে পালাচ্ছি, ওরা বোধয় বুঝতে পেরেছিল। অনেকবার ডেকেছিল কিন্তু আমরা তখন হাওয়া। পরে যদিও ওই ক্যান্টিনের সকলকে কফি আর রোল খাইয়েছিলাম আমরা সবাই। তবে আমার জন্য চায়ে পে চর্চা টা কফি পে চর্চা তে বদলে গেছিলো।
এরপর এম বি বি এস পড়তে ঢুকে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনে প্রচুর গল্প জমে আছে পাঁচ বছরের। একদিন বন্ধুরা সকলে মিলে খেতে বসেছি চিকেনে দেখি বেশ কয়েকটা আরশোলা। আমরা চেঁচামেচি শুরু করেছি ক্যান্টিনের দাদা শান্ত স্বরে বললো আরে চাইনিজ ফুড তো মাঞ্চুরিয়ান, দু একটা আরশোলা থাকলে কি ক্ষতি? আমরা রেগে গিয়ে বেশ ঝাড়লাম দাদাকে। পরে অবশ্য ভালো চিকেন পাকোড়া খাইয়েছিল আমাদের ক্যান্টিনের দাদা। বেশ ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছিলো পাঁচ বছরে। তবে দাদা বলতো তোরা সব মা বাবার স্বপ্ন, পড়াশোনা ভালো করে করিস। কলেজে উঠেছিস বলে নিজেদের বখিয়ে দিসনা। দাদার কথা গুলো তখন বুঝতে না পারলেও এখন উপলব্ধি করতে পারি একটু একটু।
তারপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে পড়তে ঢুকে প্রথম ছমাস কোভিডের জন্য ক্যান্টিনে সেরকম যাওয়া হতো না। আর আন্ডার গ্র্যাজুয়েট জীবনের থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট জীবন টা অন্য রকম ছিলো। এখানে সবাই কলিগ বন্ধু কেউ নয় বুঝলাম। তাও ডিউটির চাপে যখন ফাঁকা পেতাম কাকিমার ক্যান্টিনে চলে যেতাম আড্ডা দিতে। কাকিমা খুব আন্তরিক ভাবে আমাদের আপ্যায়ন করতেন। আড্ডা দিতে বসে কার ওটি তে কোন কেস ঘেটেছে আর কিভাবে ম্যানেজ করেছে সেসব গল্প হতো। স্যার ম্যাডামদের নতুন নতুন নাম দেওয়া হতো, সেসব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলত কার জন্য কোন নামটা মানাবে। এই ভাবেই তিনটে বছর কেটে গেলো। তবে ওটিতে ব্যস্ত থাকলে কাকিমাকে একটা ফোন করে দিলেই খাবার এসে যেতো। 
আর এখন সময়ের অভাবে খুব একটা ক্যান্টিনে যাওয়া হয়ে ওঠেনা। ক্যান্টিনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পুরনো কথাগুলো মনে পড়লে বেশ আনন্দে ভরে ওঠে মনটা।

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...