বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২

সুর-অসুর(রম্য রচনা) সুদেষ্ণা দত্ত


      সুর-অসুর(কৌতুক রচনা)

      সুদেষ্ণা দত্ত

   কল্যানবাবুর দীর্ঘদিনের শখ মেয়ে আহিরকে গান শেখাবেন।তাঁর অবসর গ্রহণের সময় হয়ে আসছে।প্রথম রবিকিরণ যখন পাদস্পর্শ করবে বা সূর্যাস্তের মৃদু লালিমা যখন ললাট চুম্বন করে বিদায় নেবে তখন হাতে গরম পানীয় নিয়ে তিনি সঙ্গীত সুধা পান করবেন-এমনটাই তাঁর দীর্ঘদিনের শখ।স্ত্রী গান্ধর্বীকে গান ধরতে বললেই বগলে খুন্তি বাগিয়ে রাইফেল শ্যুটিং এ নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন ভাব করে তেড়ে আসেন।

           কিন্তু সমস্যা দাঁড়িয়েছে অন্যত্র।আহিরের গলায় সুর নেই এমন নয়।তবে এই মহামারীকালে কেই বা তাকে গান শেখাবেন আর কল্যাণ বাবুই বা  বুকের হৃৎস্পন্দনকে হারমোনিয়ামের রিড ভেবে চোখের মণি মেয়েকে কার বাড়ীতে বাজতে রেখে আসবেন!অগত্যা কল্যাণ বাবু সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি নিজেই স্নানঘরে গানের বিদ্যাকে ভরসা করে মেয়েকে গান শেখাবেন।স্ত্রী রীতিমত চমকে উঠলে তিনি বলেন,আরে সুরবিশিষ্ট শব্দই তো সঙ্গীত।গিন্নী বলে উঠলেন তাই বুঝি।

           সেদিন বিকেলেই বন্ধ দোকানের ঝাঁপ আর দোকানীর কানের লম্বা চুলের ঝাপটা সরিয়ে মেয়ের জন্য একটি হারমোনিয়াম কিনে আনলেন।পরের দিন থেকেই শুরু হল সুর সাধনা।কিন্তু হারমোনিয়াম প্যাঁ পোঁ ধ্বনি তুলতেই গিন্নী গলা তুলে হঠাৎ গান গাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেই মনে হল কল্যাণ বাবুর।মনে মনে খুশি হলেন,একদিনে না হলেও ধীরে ধীরে বাড়ীটা বুঝি সঙ্গীতালয় হয়ে উঠবে।কান করে শোনার চেষ্টা করলেন গিন্নী কোন গান গাইছেন—          রাঁধব আমি সুক্ত সুখে

                  সব্জী আন বাজার হতে

       ভুল হলে  জ্বালব নুরো তোমার মুখে

                 হরিমটর দেব পাতে।

কল্যাণ বাবু হকচকিয়ে গেলেন গানের শব্দে।কিন্তু সবাই তো আর দুর্গার সিংহ নয়।অগত্যা সঙ্গীত সাধনা স্থগিত রেখে বাজারের দিকে পা বাড়ালেন।বাজার সেরে রান্নাঘরে থলি নামিয়ে বাথরুমের দিকে যেতে যেতে থমকে গেলেন তিনি।আবার কানে ভেসে এল সুরবিশিষ্ট শব্দ—

           আনতে বললাম ফুলকপি নিয়ে এলে বাঁধা

         কালো বেগুনের জায়গায় নিয়ে এলে সাদা,

              আটান্ন তো পেরিয়ে গেল--

                    কবে হবে জ্ঞান

               ভাল করে সংসারেতে 

                          কবে দেবে ধ্যান

        বাজার যদি শিখতে হয় যেও বাবার কাছে

    পাঁঠার মাংস কেমন কেনে-কেমন চোখ মাছে।

এই ঝাঁঝালো বাক্যবান শুনেও চুপ করে থাকলেন একটাই কথা ভেবে যে তিনিও সুরে সুরে কথা বললে আহিরের সঙ্গীত সাধনায় ব্যাঘাত ঘটবে।তিনি আবার সুরুৎ করে বাথরুমে ঢুকে গেলেন।বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখেন ছেলে ইমন দুটো সাউন্ড বক্স কিনে এনেছে।গিন্নীর ছিটানো নুন-মরিচের উপর এক পরত পুদিনার চাটনীর মত আরাম লাগল।

          শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে বারান্দায় আহিরকে নিয়ে সবে বসেছেন।হঠাৎ ঢিক ঢিক ঢক্কা নিনাদে ভাবলেন ছাদের ট্যাঙ্কের কলটা খারাপ হওয়ায় লাল্টু মিস্ত্রীকে আসতে বলেছিলেন,সেই বুঝি এসেছে।কিন্তু কিঞ্চিৎ পরেই ভুল ভাঙল।উপলব্ধি করলেন শব্দের উৎস ইমনের কক্ষ।ইমন গান শুনছে তার নতুন কেনা বক্সে।কল্যাণ বাবু ভাবলেন ছেলে বুঝি সুর শুনে প্ল্যানচেটে অকালবোধনে দুর্গা থুড়ি অসুরকে ডাকছে।সে সুরের মূর্ছনা শুনে কল্যাণ বাবুর মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হল।আহির গান গাইতে গাইতে জল খাবে বলে কাচের গ্লাসটা হারমোনিয়ামের উপরে রেখেছিল।সেটা ব্রহ্মান্ড ফাটানো সঙ্গীতের সুরের ধ্বনিতে ভেঙে চৌচির।আহিরের হাত থেকে সুরের ঝর্ণা ধারার মত লহু ধারা নেমে আসছে।দিশাহারা,স্নেহশীল পিতা একদিকে ছেলের ঘরের দিকে ছোটেন গান বন্ধ করার তাড়নায়,অন্যদিকে বারবার মেয়ের কাছে এসে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন।সঙ্গীতালয় ক্রমে নৃত্যালয়ে পর্যবসিত হয় এবং তিনি সিদ্ধান্ত নেন মহামারী উত্তরপর্বে কোন অভিজ্ঞ সঙ্গীতজ্ঞর কাছেই মেয়েকে পাঠাবেন।কারণ স্বল্প সময়েই তিনি উপলব্ধি করলেন সব সুরবিশিষ্ট শব্দই সঙ্গীত নয়!

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

ছবি সৌজন্য:গুগুল

ঋণ স্বীকার:আবোল তাবোল।

           

             

 

 

মেডিক্লেম(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


মেডিক্লেম

সুদেষ্ণা দত্ত

 

  কাব্য আর শব্দের বিবাহিত জীবন বছর সাতের।শব্দ একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করে।আয় খুব বেশি নয়।ভাড়া বাড়ীতে থেকে কোনরকমে চলে যায় তাদের।গ্রামে থাকা বাবা—মা কে উপেক্ষা করতে পারে না শব্দ।সঙ্গে আছে চার বছরের ছেলে ছন্দর ছোট-খাটো বায়নাক্কা।এসব মিটিয়ে কাব্যর কোন শখ—আহ্লাদ মেটাতে পারে না শব্দ।

       কাব্যর কোনদিনই বিরাট চাহিদা ছিল না।কিন্তু একটা নিজস্ব ছোট্ট সুখের নীড়ও শব্দকে নিয়ে বাঁধতে পারেনি কাব্য।শব্দকে একটা একতলা বাড়ীর কথা বললেও বলত বুঝতেই তো পার আমার আয়!এত লোভ ভাল নয়!এরকম আরও নানা ছোট-বড় কথার তীর শব্দের কাব্য রচনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।শব্দরা মুখর হয় শব্দ আর কাব্যের সংসারে।ছন্দ হয়ে যায় নির্বাক।কিন্তু তবু কাব্য মনের মুখের দিকে তাকিয়ে শব্দের সঙ্গে টেনে নিয়ে যায় ভাষাহীন সম্পর্কের বোঝা।

            এরমধ্যে ছোট—বড় নানাঘটনায় শব্দ তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে।কিন্তু যেদিন কাব্যের মা মারা গেলেন,সেদিনও তার পাশে দাঁড়াল না শব্দ।সে তখন তার অসুস্থ বাবাকে দেশের বাড়ী থেকে আনতে গেল।এরপর কাব্যর সব প্রতিরোধ ভেঙে যায়।শব্দের বোঝা হয়ে নিজে তার কাছে কতটা মূল্যহীন সেটা বোঝানোর জন্য আর একসাথে থাকতে রাজি হয়না কাব্য।তবে এক বরফ কঠিন দাম্পত্যকে মুক্তি দিয়ে শব্দই বাড়ী থেকে চলে যায়।

          আজ প্রায় বছর পনেরো হয়ে গিয়েছে তারা পৃথক থাকে।সাধারণ উচ্চমাধ্যমিক পাশ গৃহবধূ কাব্য এরপর একটি পার্লারে কাজ নেয় ছেলে ছন্দকে বড় করার জন্য।ছন্দ এখন উনিশ বছরের মিষ্টি মেধাবী কিশোর।নিজের স্বভিমান থেকেই কাব্য কোনদিন শব্দের কাছে খোরপোষ দাবি করেনি।কোন মতে চলে মা—ছেলের সংসার।কিন্তু ঈশ্বর যার কড়া পরীক্ষক হন,তার জীবনের কঠিন পরীক্ষা বোধহয় আমৃত্যু চলতে থাকে।এরমাঝেই সুনামি হয়ে কাব্যের জীবনে আছড়ে পড়ে এক কঠিন ঝড়।কাব্য জানতে পারে,তার দুটি কিডনি বিকল।ডোনার ছাড়া তার বাঁচা সম্ভব নয়।একদিকে ছন্দের মুখ চেয়ে আরও অনেকদিন বাঁচতে চায় কাব্য,অন্যদিকে আর্থিক অবস্থা তাকে ক্রমশঃ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

     একদিন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কাব্য আলমারি তছনছ করে ঘাঁটতে থাকে।যদি কোথাও তার সামান্য কিছু সঞ্চয় তার বিস্মৃতির আড়ালে থেকে যায়।হঠাৎ তার হাতে ঠেকে একটি বাদামী রঙের খাম।সেটা খুলে থ হয়ে যায় কাব্য।দেখে অনেক কিছু না দিতে পারা,হাজার অভিযোগ মেনে নেওয়া প্রাইভেট চাকুরে শব্দ তার স্ত্রীর নামে করে গিয়েছে একটি দু’লাখ টাকার মেডিক্লেম।বাঁচার আনন্দে ও কৃতজ্ঞতায় বৃষ্টি নামে কাব্যের কাব্যের দু’চোখে।


©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি সৌজন্য:গুগুল।

এখনও খুঁজি(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


এখনও খুঁজি

সুদেষ্ণা দত্ত

 

 থিয়েটারকে করে অনাথ--

পাগলা ঘোড়া’, ‘কথা অমৃতসমান’, ‘নাথবতী অনাথবৎ’,

চিতার এক একটা পোড়া কাঠ--

বলে যায় জীবনের নানাপাঠ,

ফুলভারে দেহ প্রদর্শনে অনীহা প্রকট,

তাই নীরবে চলে যায় শববাহী শকট

 

চরণযুগল তুলেছে লহর--

মৃদু বা প্রবলে মেতেছে নগর,

রবিশঙ্করের লয়ের পুতুল’,

অভিনেতা-আমজনতা শিখেছে কত্থকের বোল

হঠাৎ নীরব ছন্দ পায়ের

ঘুঙুর ছিঁড়ল মহারাজের

 

মজার ছবি রঙতুলিতে

বাঁটুল,হাঁদা-ভোঁদা,নন্টে-ফন্টের দুস্টুমিতে,

পিঠে পড়ত যখন মায়ের শাসনের হাত,

ক্ষত মলম হতেন নারায়ণ দেবনাথ

ছিল না স্মার্টফোন,ভিডিও গেম বৈভবের

কাটল সুতো শৈশবের

 

যুগ এক একটা যায় হারিয়ে--

আমরা এগিয়ে চলি পথের ধুলো মাড়িয়ে,

শবহলে অকৃপণ হাতে খরচ করি কত শব্দ

তবু থেকে যায় প্রিয়জন-প্রয়োজনের নিকটে কত ঋণ লব্ধ

ন্যুব্জ হতে বাধা যখন অহমিকা

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

ছবি:সংগৃহীত

 

 

 

 

 

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২

প্রণমি তোমায়

*নারায়ণ দেবনাথের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন* 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন বাংলা কমিকসের জনক
আজ থেকে শুকতারার পাতায় থাকবেনা কোনো চমক।

আকাশের বুকে উনি আঁকুন ছবি নিয়ে রং তুলি
বাঁটুল, নন্টে ফন্টের স্রষ্টাকে মোরা যেনো কভু না ভুলি।

ভালো থাকুন তারাদের দেশে,
আর মর্ত্যে আপনার সৃষ্টিরা বেঁচে থাকুক
বাঁটুল,কেলটু,নন্টে ফন্টের চোখ দিয়েই আগামী প্রজন্মরা আপনাকে চিনুক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২

মকর সংক্রান্তি

মকর সংক্রান্তি 
✍️ডা: অরুণিমা দাস

আজি মকর সংক্রান্তির পূণ্য দিনে চলছে গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি
গঙ্গা স্নানে পূণ্য মেলে,তাই সকলে উঠেছে উৎসবে মাতি।

দুর দুরান্ত থেকে আসছে পুন্যার্থীরা কপিল মুনির আশ্রম দর্শনে
মনস্কামনা যে হবে পূরণ সাগর মেলায় সাগর স্নানে।

কেউ বা আবার ব্যস্ত রয়েছে টুসু দেবীর  আরাধনায়
তিন দিন তিন রাত্রি কাটে উপাসনা আর নাচ গানের মূর্ছনায়।

পৌষ মাসের শেষ দিনে চলছে পিঠে পুলি তৈয়ারী
সাথে আছে নলেন গুড়ের পায়েস,মন যে খুশি ভারী।

পাশাপাশি চলছে সবার ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন 
মাঞ্জা,লাটাই সবই আছে,আকাশ হয়েছে ঘুড়ীদের রঙে রঙিন।

এই ভাবেই উৎসবে মেতে আনন্দ গানে সকলের দিনটি কাটুক
কাল থেকে না হয় শুরু হবে তিনশো পয়ষট্টি দিনের অপেক্ষা,আজ খুশিতে মাতুক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২২

আমার মন চলে যায় ভ্রমণে ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার মন চলে যায় ভ্রমণে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
 

মেঘের সঙ্গী হতে যে চায় মোর এই মন 
যাওয়া যাবে সবখানে, চাইবো যখন।

কখনো বা দেখতে চায় কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয়
কোনোদিন বা পৌঁছে যাবো মরুভূমি,বালুকাময়।

মন যে করে উড়ু উড়ু, চায় যেতে দুর বহুদূর
কল্পনার পাখায় ভর করে,ইছেশক্তি যে ভরপুর।

ডাকছে আকাশ,ডাকছে বাতাস ডাকছে যে প্রকৃতি
বেরোতে যে চাইছে মন,ইচ্ছেরা দিচ্ছে উঁকি ইতি উতি।

দিচ্ছে যে হাতছানি, গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ 
মন আজ খুশিতে পাড়ি দিতে চায়,চড়ে ইচ্ছের বিজয়রথ।


   

ছাড়িস না হাত আমার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

*বিষয় - চিত্রালোচনা* 
 *ছাড়িস না হাত আমার* 
✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 

যাস না ছেড়ে আমার এই হাত,রাখবো আগলে জীবনভর 
তোর মতন আপন আর নেই তো কেউ আমার।

একসাথে পাড়ি দেবো সুখ দুঃখের পথে
আসুক যতই বাঁধা,লড়বো একসাথে।

জীবনের রাস্তা নয়কো সোজা, আঁকা বাঁকা ভীষণ
হাতে হাত রেখে চলবো মোরা, হারবোনা কোনোদিন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

আশার আলো- মুছে দিক সব কালো ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

*আশার আলো- মুছে দিক জীবনের সব কালো* 
✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 


সূর্যের আলোয় ভরে উঠেছে সারাঘর,ভাঙলো ঘুম তিথির
যেতে হবে কলেজ, বাড়ি থেকে যে তা বহুদূর।

যাওয়ার পথেই চোখ বুলিয়ে নিতে হবে বইয়ের পাতায়, সময় যে খুব সীমিত
রাতে পড়াশোনা হবে না আর তার, গ্রাম যে তার বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত।

চেষ্টা ছাড়েনি সে, কখনো পড়েছে হারিকেনের আলোতে কখনো বা ল্যাম্প পোস্টের আলোয়
বাবা বলে হবি কি তুই বিদ্যের সাগর, থাকতে হবে তো সেই স্বামীর পায়ের তলায়।

গর্জে উঠে তিথি বলে সেসব দিন কবেই গেছে, পড়াশোনা করে স্বনির্ভর হবো আমি
গ্রামে ছড়িয়ে দেবো শিক্ষার আলো,বোঝাবো সকলকে শিক্ষার চেয়ে নেই কিছু দামী।

মা এসে জড়িয়ে ধরে বলে তিথিকে,তুই হলি আমাদের আঁধারি জীবনে চাঁদের আলো
হবি যেদিন শিক্ষিত, করবি দামী চাকরী, ঘুচবে মোদের জীবনের কালো।

থাকবেনা গ্রাম অন্ধকারে,একদিন ঠিক উঠবে ভরে বিদ্যুত আর শিক্ষার আলোয়
আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে বুকে, মোরা রইবো সবাই সেই দিনের অপেক্ষায়।।


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

লহ প্রণাম হে বীর

*লহ প্রণাম হে বীর* 
  ✍️ *ডা: অরুণিমা দাস* 

হে মহামানব আজি তোমার জন্মদিনে
প্রণাম জানাই তোমার চরণে।
তোমারি আদর্শে যেন সদা চলতে পারি 
ঈশ্বর কে সেবি, জীবে প্রেম করি।
ভুলে সব ভেদাভেদ,উঁচু নীচু জাত পাত
সবার তরে বাড়িয়ে দিই সাহায্যের হাত।
হিন্দু ধর্ম পেয়েছিল মর্যাদা তোমারই চেষ্টায়
তোমার কর্মকাণ্ড সব রয়েছে  মনের খাতায়।
ধন্য হয়েছে এই ভুবন মহামানবকে পেয়ে
থাকবে তুমি বেঁচে চিরদিন মানব হৃদয়ে।

 ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

# নাম - স্বামী বিবেকানন্দ। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

#বিষয় - *জন্মদিন-স্মরণে।*
  #নাম - *'স্বামী বিবেকানন্দ।'*
  ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

দক্ষিণেশ্বরে নরেন্দ্রনাথের অচিরেই যোগাযোগ ঘটল। মিত্তির ম'শায়ের বাড়ীতে নরেনকে দেখে সপ্তরথির এক রথি দিব্য দৃষ্টিতে দেখলেন ঠাকুর। তাঁকে জড়িয়ে ধরতে খুব ইচ্ছে করছিল, কিন্তু চারদিকের মানুষ ও লোকলজ্জাজনিত কারনে নিজেকে সংযত রাখলেন। আর যাওয়ার সময় ঠাকুর নরেনকে দক্ষিনেশ্বরে আসার জন্য ডেকে গেলেন। নরেন রাজি হলেন,ও সে নাহয় হবে এমন একটা ভাব নিয়ে। 
  নরেন পায়ে পায়ে একদিন গেলেন। প্রথম প্রথম বিশ্বাসই হচ্ছে না ঈশ্বর দর্শন করাতে পারবেন কিনা। আর সেই নরেন ঠাকুরের তিরোধানের মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে নরেন্দ্রনাথ কি হয়ে যাবেন ঠাকুরের কৃপায় সে তো সবার জানা।
   নরেন ঠাকুরের সংসারে ঢুকে জানতে পারলেন- 
এই জগতের রূপ এক নির্বাক শূন্য ব্রহ্মান্ডের মধ্যে প্রকাশিত যা অসীম মর্ত্য সীমায় এক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেমে এসেছে। প্রকৃতি তাঁরই অলঙ্কার। তাঁকেই প্রকাশের জন্য মানুষের আকূতি থেকেই ঈশ্বর লাভের পথ খোঁজে। ঈশ্বরকে খুঁজতে গিরি গুহায় সাধু তপস্যার পথগামী হন। জগৎ সংসার তুচ্ছ জ্ঞান হয়। সকলের যদি এই ইচ্ছা পূরণ হত তাহলে সব মানুষ তো সাধু হয়ে যেতেন। কিন্তু তা তো নয়। হওয়ার কথাও নয়। মানুষ জগতের অংশ। পঞ্চভূত থেকে জন্ম। পঞ্চভূতের অংশ। এই জগৎ তার জন্য। জগত সংসারকে উপেক্ষা করে বাঁচা অসম্ভব। তাই মানুষ থাকে জগতের সীমাবদ্ধতার মধ্যে। স্বভাব তার সীমাবদ্ধ। তাই কোনো বস্তু যদি সীমাবদ্ধ হয় তবেই সে ভাল বোঝে। তাই কোনো কিছু বোধগম্য হতে হলে বস্তুকে বিভাজিত ও সীমিত হতেই হবে।
     যেহেতু ঈশ্বর ও তাঁর শক্তি অবিভাজ্য ও অসীম, সেহেতু সীমাবদ্ধ মানুষের পক্ষে ভাগবতীয় শক্তি বোধগম্য হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। সাধু-সজ্জন ব্যতিক্রম। তাঁদের সংখ্যা মুষ্ঠিমেয়। জগত সীমাবদ্ধ চেতনা সম্পন্ন মানুষের। অবতার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ঈশ্বরের অংশ হয়েও শিষ্য নরেন্দ্রনাথকে জগৎ-নিরপেক্ষ হয়ে থাকতে দিলেন না। নরেন্দ্রনাথ জগৎ থেকে নির্বাসন চাইতেই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে স্বার্থপরের দাগা দিলেন। ওটি হবে না। জগতকে শিক্ষা দিতে এসেছ, শিক্ষা দিতে হবে... ঘাড় পারবে।
    কী সেই শিক্ষা?
    'জীব সেবা শিব সেবা'।
দেশে ধর্মের ছড়াছড়ি। তার উপর খ্রিস্টানরা রাশি রাশি পাথর ঠেসে গুঁজে গীর্জার পর গীর্জা বানিয়ে চলছে। ধর্মের কথায় পেট ভরে না কবে ভরেছে? পেটে ক্ষুধা,ধর্মে পেট ভরবে না। গীর্জার বদলে যদি ওরা অন্ন দিত তাহলে মানুষ ধর্মের কথা শুনত। খালি পেটে ধর্ম হয়না। যে অন্ন দেবে মানুষ তার সঙ্গে। এই মর্ম বাণী ঠাকুর শিষ্যের কানে ঢেলে দিলেন। দরিদ্রকে নারায়ণ জ্ঞানে অন্ন সেবা দিতে হবে।
সীমাবদ্ধ চেতনায় আবদ্ধ মানুষ অনন্ত ও অখন্ড ঈশ্বরেরই বা কী বোঝে। বোঝে ক্ষুধা পেটে অন্ন। এই মোক্ষম কাজটি ঠাকুর শিষ্যকে দিয়ে করিয়ে নিলেন। তারপরে অখন্ড ঈশ্বরের কথা, মানুষ,প্রকৃতিও ঈশ্বরের অংশ বলতেই মানুষ কত সহজেই নিতে পারল। জীবে প্রেম থেকে ঈশ্বরে প্রেম এল। অখন্ড ঈশ্বরকে খন্ডরূপে যেই অনুধাবনের মধ্যে এল, অমনি অখন্ড ঈশ্বরের স্বরূপ উপলব্ধিতে আসার সুযোগ পেল। বহুর মধ্যে একত্বের ভাব কত সহজেই আনা গেল। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে সেই ভাববাদের জন্ম দিয়ে জগতকে কি সুন্দর শিখিয়ে পড়িয়ে নিলেন। 
আর পাশ্চাত্য চেনাতেই আমরা চিনলাম। পাশ্চাত্যকে কীভাবে চিনিয়ে ছিলেন! 
চিকাগো বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলন। মহাসম্মেলনে প্রাণের আকূতিভরা জলদগম্ভীরস্বরে নিনাদিত কন্ঠে গোটা বিশ্ব শুনবে -
  "সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা..."
এই কথাগুলো বলবেন বলেই কি তাই ভেবে তিনি ভারতবর্ষ ছেড়েছিলেন। না একদম না। 
  কলম্বাস হলের দর্শকাসনে সাত হাজার আমেরিকার বোদ্ধা নরনারী। অদূরে নিউ লিবার্টি বেলে শোনা গেল- টেন সলেম স্ট্রোকস্- সকাল দশটা,১১ সেপ্টেম্বর- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ। ঘন্টার ধ্বনিই যেন বলে দিচ্ছে -
   'A new commandant I give unto you,that you love to another.'
  পূর্ববর্তী বক্তাদের লিখিত বক্তব্য শুনে অভ্যস্ত শ্রোতৃগণ, দেখছেন অপার কৌতূহল ভরা দৃষ্টি নিয়ে,এ কোন সন্ন্যাসী যাঁর হাতে কোনো লেখিত বক্তব্য নেই। হিন্দুধর্মের উপর আলোকপাতের কি-ই বা আছে, তখন পাশ্চাত্য জানত প্রতাপ চন্দ্র মজুমদারের হিন্দুধর্ম, যিনি ( প্রতাপ চন্দ্র মজুমদার) আবার এই মহাসম্মেলনের অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের মনোনীত সদস্য,তাঁর বহূল প্রচারিত বক্তব্যের উর্ধ্বে কি এমন নতুন বার্তা দেবেন। তাই নিয়ে শ্রোতৃগণের অপার কৌতূহল! গোটা হল তখন দেখল এক আলোকময় পুরুষকে। আপাদমস্তক গেরুয়া বসনে আবৃত। নিস্তব্ধ গোটা সম্মেলন কক্ষ।
আর অমনি যেই না জলদগম্ভীর স্বরে নিনাদিত হয়ে উঠল- "হে আমেরিকাবাসী বোন ও ভাইয়েরা..." -সে যেন এক ব্রাহ্মমুহূর্ত! নিস্তব্ধ কক্ষ খান খান, যেন দর্শকাসন হলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট! উল্লাসে আসন ছেড় লাফিয়ে উঠলেন সকলে। ডিসিপ্লিন গেল ভেসে। তালি আর তালি। সে অনেকক্ষণ! 
নিস্তব্ধ ডিসিপ্লিন কক্ষে গুরুই যেন শিষ্যের জিহ্বাগ্রে উপবিষ্ট হয়ে বলতে বলেছিলেন -
    শোনাও তোমার মাতৃভূমির মর্মবাণী 'যত মত তত পথ।' শোনাও আমিই ভারতবর্ষ। দরিদ্র ভারতবাসী,চন্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই। শোনাও বিশ্বের জন্য একটা মন্ত্র,যে মন্ত্রে ধর্ম,রাজনীতি,যুদ্ধ,সংঘাত সব দূর হয়ে যাক। সকলে আমার ভাই ও ভগিনী। বাইবেল,কোরান,বেদ জেন্দাবেস্তা সব এক। যথা - 
   *"নদীনাং বহোবম্বুবেগাঃ - যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে। শান্তিই বেদ। ভ্রাতৃত্বই হলো অমৃতত্ত্ব।"*
              ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
        

     

   

বিবেক(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


বিবেক

সুদেষ্ণা দত্ত

বর্তমান ভারত’, ‘কর্মযোগগ্রন্থ আরও কত--

কর্মযোগী তুমি মুছেছিলে সঙ্কীর্ণ রাজনীতির ক্ষত

ধর্মীয় সংকীর্ণতা পায়নি প্রশ্রয়,

দরিদ্র-অজ্ঞ-মুচি-মেথরকে দিয়েছিলে আশ্রয়

প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সমন্বয়ে গড়া শীল

বিবিধের মাঝে চেয়েছিলে মিল

 

তোমার আবির্ভাবের পেরিয়ে একশো ষাট-

বর্তমান ভারত তোমার আদর্শের নিল কত পাঠ!

তোমার সত্যের জায়গা-মিথ্যা করেছে দখল,

স্খলিত যুবসমাজ পরেছে নকাব নকল

তাদের নাইকো বিবেকনাই আনন্দ,

মনের ঘরে তাদের শুধু মনের সাথে দ্বন্দ্ব

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

 

 

 

 


শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...