বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২

মেডিক্লেম(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


মেডিক্লেম

সুদেষ্ণা দত্ত

 

  কাব্য আর শব্দের বিবাহিত জীবন বছর সাতের।শব্দ একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করে।আয় খুব বেশি নয়।ভাড়া বাড়ীতে থেকে কোনরকমে চলে যায় তাদের।গ্রামে থাকা বাবা—মা কে উপেক্ষা করতে পারে না শব্দ।সঙ্গে আছে চার বছরের ছেলে ছন্দর ছোট-খাটো বায়নাক্কা।এসব মিটিয়ে কাব্যর কোন শখ—আহ্লাদ মেটাতে পারে না শব্দ।

       কাব্যর কোনদিনই বিরাট চাহিদা ছিল না।কিন্তু একটা নিজস্ব ছোট্ট সুখের নীড়ও শব্দকে নিয়ে বাঁধতে পারেনি কাব্য।শব্দকে একটা একতলা বাড়ীর কথা বললেও বলত বুঝতেই তো পার আমার আয়!এত লোভ ভাল নয়!এরকম আরও নানা ছোট-বড় কথার তীর শব্দের কাব্য রচনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।শব্দরা মুখর হয় শব্দ আর কাব্যের সংসারে।ছন্দ হয়ে যায় নির্বাক।কিন্তু তবু কাব্য মনের মুখের দিকে তাকিয়ে শব্দের সঙ্গে টেনে নিয়ে যায় ভাষাহীন সম্পর্কের বোঝা।

            এরমধ্যে ছোট—বড় নানাঘটনায় শব্দ তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে।কিন্তু যেদিন কাব্যের মা মারা গেলেন,সেদিনও তার পাশে দাঁড়াল না শব্দ।সে তখন তার অসুস্থ বাবাকে দেশের বাড়ী থেকে আনতে গেল।এরপর কাব্যর সব প্রতিরোধ ভেঙে যায়।শব্দের বোঝা হয়ে নিজে তার কাছে কতটা মূল্যহীন সেটা বোঝানোর জন্য আর একসাথে থাকতে রাজি হয়না কাব্য।তবে এক বরফ কঠিন দাম্পত্যকে মুক্তি দিয়ে শব্দই বাড়ী থেকে চলে যায়।

          আজ প্রায় বছর পনেরো হয়ে গিয়েছে তারা পৃথক থাকে।সাধারণ উচ্চমাধ্যমিক পাশ গৃহবধূ কাব্য এরপর একটি পার্লারে কাজ নেয় ছেলে ছন্দকে বড় করার জন্য।ছন্দ এখন উনিশ বছরের মিষ্টি মেধাবী কিশোর।নিজের স্বভিমান থেকেই কাব্য কোনদিন শব্দের কাছে খোরপোষ দাবি করেনি।কোন মতে চলে মা—ছেলের সংসার।কিন্তু ঈশ্বর যার কড়া পরীক্ষক হন,তার জীবনের কঠিন পরীক্ষা বোধহয় আমৃত্যু চলতে থাকে।এরমাঝেই সুনামি হয়ে কাব্যের জীবনে আছড়ে পড়ে এক কঠিন ঝড়।কাব্য জানতে পারে,তার দুটি কিডনি বিকল।ডোনার ছাড়া তার বাঁচা সম্ভব নয়।একদিকে ছন্দের মুখ চেয়ে আরও অনেকদিন বাঁচতে চায় কাব্য,অন্যদিকে আর্থিক অবস্থা তাকে ক্রমশঃ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

     একদিন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কাব্য আলমারি তছনছ করে ঘাঁটতে থাকে।যদি কোথাও তার সামান্য কিছু সঞ্চয় তার বিস্মৃতির আড়ালে থেকে যায়।হঠাৎ তার হাতে ঠেকে একটি বাদামী রঙের খাম।সেটা খুলে থ হয়ে যায় কাব্য।দেখে অনেক কিছু না দিতে পারা,হাজার অভিযোগ মেনে নেওয়া প্রাইভেট চাকুরে শব্দ তার স্ত্রীর নামে করে গিয়েছে একটি দু’লাখ টাকার মেডিক্লেম।বাঁচার আনন্দে ও কৃতজ্ঞতায় বৃষ্টি নামে কাব্যের কাব্যের দু’চোখে।


©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি সৌজন্য:গুগুল।

২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...