মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

# নাম- মানুষ ও ধর্ম। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ চিত্র আলোচনা-বাসর। 
# বিষয় - *চিত্র।*
 # নাম- *মানুষ ও পৃথিবী।* 
   ✍ - মৃদুল দাস। 

  মহাবিশ্বের একটা বিন্দুর ভগ্নাংশ বিচারে একের পিঠে শূন্য বসাতে বসাতে যখন ক্লান্ত হবে তখন ভেবো মহাবিশ্বের কাছে পৃথিবী তাই। আর মহাবিশ্বের হাতে তৈরী পৃথিবীও পদে পদে মহাবিস্ময়! অন্ধকার থেকে পঞ্চভূত এল। পঞ্চভূতই  নিয়ে এল প্রাণ। এই প্রাণের প্রকৃতি দু'ধরনের - এক উদ্ভিদ,দুই মানুষ। আর তৃতীয় পক্ষ জড়,যে কিনা দুই প্রাণের অনুঘটক। 
  এই দুই প্রাণের ধরনে স্রষ্টা গুণ দিলেন যেন নিজের মত করে - উদ্ভিদ তোমার চলন থাকবে, গমনহীন। মানুষ তোমার চলন-গমন দুই থাকবে। তবে তোমার প্রাণের দায় গাছেদের। কোনোদিন গাছেদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে,তার প্রাণ নাশে উদ্যত হলে তার প্রতিবাদের শক্তি দিলাম না,আখেরে তোমার ক্ষতি যে হবে তাই দিলাম। তোমাকে বুঝে চলতে হবে। এই বিধি না মানলে তোমার ধ্বংসের জন্য তুমিই দায়ী থাকবে।
   কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। তার প্রাণের বিকাশে কত ঘটনাই না ঘটাতে থাকল। বিশ্বস্রষ্টার সাবধান বাণী হল উপেক্ষিত। মানবসভ্যতা যত দিন গড়াতে লাগল নিজের চাহিদা থেকে ক্ষমতা,ক্ষমতা থেকে পরস্পর বিবাদ কেবল শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে। প্রগতিশীলতার নামে কত সব বিচিত্র কর্মপন্থার আমদানি করল। সব ধারণ থেকে এলো ধর্ম - আর ধর্মের ভিত্তিতে নিজেদের চিনতে গিয়ে আজ তাই পৃথিবীর বড় বিপদ। এমনকি ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েও বিশ্ব ধর্মসম্মেলন সে তো ধর্মকে মদত দেওয়া ছাড়া কি-ই বা ছিল! তা একটা লোকদেখানো ভাব ছিল বলে বিপদ বেশী ছিল,তা বোঝার জো ছিল না। আর তাই নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারল - ধর্মের জন্য মানুষ, মানুষের জন্য ধর্ম নয়,তাই সগর্বে ঘোষণা থেকে বিপদ দিনে দিনে বাড়ল বই কমল না। ধর্ম থেকে এলো যত জটিল সমীকরন। এমনকি হানাহানি,কাটাকাটি পর্যন্ত। অশিক্ষা এই ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতা,জাতপাত বর্ণবৈষম্য ভেদাভেদ -  ভাইকে ভাই শত্রু করে।  
   মানুষের পৃথিবী একথা মানুষ আর মানে না। মানে ধর্ম দিয়ে মানুষ মানতে হবে। মানব ধর্মের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বড়। ইসলাম, খ্রিস্টান, হিন্দু,বৌদ্ধ,জৈন...পৃথিবী নানা ধর্মের গন্ডিতে যে যার নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবে। তাই তার ভোগ। সে ভোক্তা। বিশ্বের মধ্যে ভারতবর্ষ তারইএকটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। ধর্মের অধিকার থেকে তার গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা এসেছে নিজেকে রক্ষার জন্য। যদি না ধর্মের এতো গুরুত্ব থাকত অধিকার রক্ষার জন্য এত ভাবতে হত না। পেছনে এত কাড়িকাড়ি অর্থ খরচ হত না। কিন্তু ধর্মের নামে যে অর্থ উপার্জন একটা শ্রেণির খাই খরচ,ভোগের আকাঙ্খাপূরণ। 
 পৃথিবী সৃষ্টির সময় তো এতসব ছিল না। কেন এসব এল। এই মানুষের তৈরী এক নকল গড়। ধর্মের নামে পরিচয় যে যার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের মর্যাদা। এক থেকে আরেকের পরিচয় আলাদা। তা থেকে এসেছে পরিচয়ের প্রতিযোগিতা। বর্ণবৈষম্য আনল অহংকার- তুমি সাদা আমি কালো।
  কিন্তু পৃথিবী আসলে বেঁচে আছে মাবধর্মের জন্য। ধর্মের ভিত্তিতে বাঁচার চেয়েও তা অনেক বড়। কেননা সভ্যতার বিকাশ মানবধর্মের হাত ধরে।  ধর্ম, জাত,পাতের উর্ধে। ওরা কাজ করে নগরে প্রান্তরে বলে পৃথিবী বেঁচে আছে। তাদের জন্য বাঁচবে। আর ধর্মের বিলাসিতায় বাঁচাটাই আসলে মিথ্যা তখনই মনে হয়,যখন ভাবব - ধর্মের জন্য বাঁচা নয়,বাঁচার জন্য ধর্ম,সে মানবধর্ম।
   
             ******
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল দাস।

৮টি মন্তব্য:

  1. সুন্দর লিখেছেন দাদা 👌👌👌💐💐💐

    উত্তরমুছুন
  2. অসাধারণ।অন্য মাত্রার লেখনী

    উত্তরমুছুন
  3. খুব সুন্দর বার্তা দাদা....
    মানব ধর্ম ই শ্রেষ্ঠ ধর্ম...💐👌

    উত্তরমুছুন
  4. অতুলনীয় লেখা।
    মানব ধর্ম যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম তা তথাকথিত উঁচু জাতের যারা নিজেদের ব্রাক্ষণ বলে দাবি তারাই সর্বনাশের মূলে। সনাতন ধর্ম যে আজ ধুকছ শুধু ওই করে খাওয়া তথাকথিত উঁচু জাতের লোকেদের ব‍্যভীচার,অত‍্যাচার,আর ধর্মকে নিজেদের ব‍্যক্তিগত সম্পত্তি ভেবে নেওয়ার ফলে।তার পরিনতি আমরা দেখতে পাচ্ছি সৃষ্টির আদি থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

    আপনার বার্তায় যদি একজন তথাকথিত উঁচু জাতের লোকের সঠিক জ্ঞান ফিরে আসে তাতে একটু হলেও সমাজের মঙ্গল।

    পরিশেষে আপনার লেখায় যে ভাবার্থ তার গভীরতা অনন্ত দিগন্ত বিস্তৃত। রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে সত‍্যের বাণী। আমরা যেন এই সত‍্যকে অন্তরে ধারণ করে এগিয়ে যাই এই প্রার্থনা

    উত্তরমুছুন
  5. অতুলনীয় লেখা।
    মানব ধর্ম যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম তা তথাকথিত উঁচু জাতের যারা নিজেদের ব্রাক্ষণ বলে দাবি তারাই সর্বনাশের মূলে। সনাতন ধর্ম যে আজ ধুকছ শুধু ওই করে খাওয়া তথাকথিত উঁচু জাতের লোকেদের ব‍্যভীচার,অত‍্যাচার,আর ধর্মকে নিজেদের ব‍্যক্তিগত সম্পত্তি ভেবে নেওয়ার ফলে।তার পরিনতি আমরা দেখতে পাচ্ছি সৃষ্টির আদি থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

    আপনার বার্তায় যদি একজন তথাকথিত উঁচু জাতের লোকের সঠিক জ্ঞান ফিরে আসে তাতে একটু হলেও সমাজের মঙ্গল।

    পরিশেষে আপনার লেখায় যে ভাবার্থ তার গভীরতা অনন্ত দিগন্ত বিস্তৃত। রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে সত‍্যের বাণী। আমরা যেন এই সত‍্যকে অন্তরে ধারণ করে এগিয়ে যাই এই প্রার্থনা

    উত্তরমুছুন
  6. খুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...