শুভ অনুগল্প বাসর।
# বিষয় - *অনুগল্প।*
# নাম-
*নষ্ট মেয়ের গদ্য কথা।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
আমার রুক্মিনী। রুক্মিনী সাধুখাঁ। রুক্মিনীর জন্মের কুলকুন্ডলী ধীমান গণৎকার গণনা করেছিলেন,শুধু বাবা মায়ের কাছে রুক্মিনী শুনেছিল,চোখে দেখার আগেই তাঁর মৃত্যুর পরোয়ানা এসেছিল বলে তিনি চলে গেছেন। রুক্মিনীর খুব ইচ্ছে হচ্ছিল দু'চোখ ভরে দেখতে ধীমান গণৎকারকে। কারণ কুন্ডলিনীতে সব ইচ্ছে পূরণের কথা লিখে গেছেন বলে। রুক্মিনীকে দেখে বেশ শিক্ষা হয়ে গেছে সব ইচ্ছে পূরণ হয় না। তাই নিয়ে সুখ দুঃখের তুলনা করে বাঁচতে হয়। তা থেকে অতৃপ্তির জন্ম হয়। তা থেকে অসুখী হতে হয়।
কলকুন্ডলিনী অনুযায়ী আমি নাকি খুব বড় ঘরের গৃহিনী হব। বাবাতো ঐ দিনমজুর,দীনবন্ধু সাধুখাঁ। কি করে বড় ঘর হবে মাথায় ঢোকে না বাবার। তবু অন্ধ বিশ্বাস হয়,ধীমান গণৎকারের গণণা বৃথা না হওয়ার।
রুক্মিনীর উপরে দু'দাদা। পয়সার অভাবে বেশীদূর পড়াশোনা করতে পারেনি। তারাও দিনমজুর। নিত্য অভাবের সংসার। তার উপর রুক্মিনী বোঝা। বিয়ের পণের খরচ নিয়ে বাবার খুব দুশ্চিন্তা। ভাল বর পেতে খরচ লাগে। কিন্তু গণৎকার বলে গেছেন আমার বর ভাগ্য নাকি খুব ভাল। হলও তাই। একদিন উত্তরপ্রদেশের এক ছোঁড়ার সঙ্গে যোগাযোগ হল। দেখতে যেন দেবদূত। কি যেন অফিসে চাকরী করে। কর্তার সিং। ননবেঙ্গল। সম্পর্ক এনেছিল ঘটক কালিনাথ বিষই। কালিনাথের খুব সুনাম। কত মেয়ে বাইরে পার করে দিয়েছেন। তারা দিব্যি ঘর করছে। বাপের বাড়ী আসে যায়। এমন সফল ঘটকের কথায় দীনবন্ধু এক পায়ে খাড়া। খরচাপাতিও ততটা লাগবে না। আবার ছেলের বায়না মেয়ের বাপের কোনো খরচ করতে দেবে না,বরং কিছু নগদ দিয়ে বিয়ে করে নিয়ে যাবে। এমন প্রস্তাবে কোন কন্যদায়গ্রস্থ পিতাই বা রাজী হবে না!
পাড়ার দু'চারজনকে পেট পুরে খাইয়ে সামান্য বাবা তার অসামান্য মেয়েকে এক উত্তরপ্রদেশের পাত্রের হাতে তুলে দিলেন। রুক্মিনীর মামারা আপত্তি করেছিল,এতো তাড়াহুড়োর কি আছে। দু'চার দিন যাক,ততদিন ছেলের সব খবর নেওয়া যেতেই পারে। তারপর নাহয় বিয়ে। বাপের কথা "ছেলের সময় কই। চলে যাবে। ছুটি নেই।" আর মায়ের কোনো গুরুত্ব নেই। চলে গেল রুক্মিনী!
রুক্মিনী অষ্টমঙ্গলায় আসার অপেক্ষায় মায়ের দু'চোখ পথের দিকে চেয়ে থাকে। চেয়ে চেয়ে সন্ধ্যা,রাত,পরের দিন,দু'দিন,চারদিন যায়,রুক্মিনী আর আসে না। থানা পুলিশ হয়। শেষে পুলিশ যখন উদ্ধার করে আনে তখন রুক্মিনী হয়ে গেছে নষ্ট মেয়ের নষ্ট গদ্য। এঘাটে ও ঘাটে চালান হয়ে শেষে পুলিশের হাতে যখন উদ্ধার হলো রুক্মিনী অনেক হাত ঘুরে নষ্ট। গাঁ ঘরে আর তার স্থান নেই। চারদিকে ছিঃ! ছিকার! রুক্মিণী লজ্জায় মুখ ঢাকে। "ও নবীন কাকা"-যে নবীনকাকার ভুবনভোলানো আদর ছিল,তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন।লজ্জার ঘেন্নায় রুক্মিনী মাটিতে মিশে যায়। এই তার জন্মভূমি,এই আকাশ,বাতাস গাছপালা,সবাইকে কেমন পর পর লাগে। মনে হয় এরা আর কেউ রুক্মিনীকে চেনে না। সবাই মুখ ফেরায়।
একদিন রাতের অন্ধকারে রুক্মিনী গাঁটে কটা কড়ি বেঁধে সবার অজান্তেই ট্রেনে পাড়ি দিয়ে সেই আস্থানায় আবার ফিরে যায়। বাইরে সেই বৃষ্টি, বজ্র-বিদ্যুৎ! রুক্মিনীর কুলকুন্ডলিনী তাতেই যেন ধুয়ে মুছে গেছে। এখন সেই আবার নতুন করে নিজেই সে লিখবে। মুছে ফেলে ফেলে আসা জীবন।
লোকে বলে সে এখন নষ্ট। বাবুদের মদের গ্লাসে মদ ঢালে,নিজেও খায়,বাবুদের খুশী করে। কথায়,আবার কায়দায় গাঁয়ের সেই মাটির গন্ধের বদলে এখন পারফিউম ঢালে,কথায় যত অশিষ্ট ততই বাবুদের নাকি খুব পছন্দ! রুক্মিনী দর এখন নষ্ট মেয়ের গদ্যকথায়।
*******
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ গুরুদেব 🙏
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা👌👌👌👌💐💐
উত্তরমুছুনসুন্দর লেখা
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনদারুণ ।💐💐
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর চিত্রণ...💐👌💐👌
উত্তরমুছুনসমাজের কোণে এমন কত রুক্মিণীরা ছড়িয়ে আছে।অসাধারণ লেখনী।
উত্তরমুছুন