শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১

# বিষয় - পত্র। # নাম- স্বপ্ন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

প্রিয়,
        শূদ্রক,আশা করি ভাল আছিস। এই তো গত দু'দিন আগে তোকে পত্র লিখলাম।  তুইও উত্তর দিলি। এখন সোস্যাল মিডিয়ায় পত্র লেখা খুব সুবিধা হয়েছে। যোগাযোগ নিমেষে হচ্ছে। তোকে বলেছিলাম না,ইদানিং আমার স্বপ্ন দেখার একটা কেমন একটা যেন অভ্যাস হয়ে গেছে। স্বপ্নে মন নাকি ভিন্ন হয় বলে শুনেছি। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো। যতসব উদ্ভট স্বপ্ন। মন ভাল করবে কি উল্টে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে স্বপ্নের মধ্যে শরীর শূন্য লাগে। ভূত,রাক্ষস-খোক্কস,জন্তু-জানোয়ার - সবাই যেন আমাকে গ্রাস করতে তেড় আসে। স্বপ্ন মনকে ফুরফুরে করবে কি এত দেখছি রীতিমত মনের উপর চাপ! স্বপ্নের জন্য জীবনকে বোঝা লাগছে। কোথায় ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখটাকার স্বপ্ন দেখব,হাওয়ায় খপাখপ টাকা ধরব,হাওয়ায় টাকা বানাব,জাদুগরের মত। এই ভাবতে ভাবতে একদিন তো স্বপ্নে এসেই গেল,তোকে বলা হয়নি,ভুলে গেছি বলতে,সে এক মাতালের পাল্লায় পড়েছি। বলে কিনা - " মদ খাব,পয়সা নেই। হাওয়া থেকে পয়সা ধরে দাও। তুমি তো জাদুগর। সেদিন তো হাওয়াতে টাকা তৈরী করে খপাখপ ধরছিলে। আজ মদ খাব টাকা দাও। পড়লাম মহাফাঁপরে। আর সরে পড়তে গেলে বেদম মার খাওয়াও ছিল। ঐ একদিন।  কবে সে আর মনে নেই।  তবে আজও ঐ অপ্রস্তুত অবস্থার ধরন মনে করলে হেসে মরি। বাদ দে সেসব। এখন যে সমস্যার জন্য লেখা,গতকাল স্বপ্ন হলেও বাস্তব সত্য ও তা থেকে নিরুপায় লাগছে বড্ড! স্বপ্নে দেখা দেশে হাজির। স্বপ্ন হলেও সত্যি। কোনো অভাব নেই,কিন্তু এই একটাই অভাব সবচে ছাপিয়ে আমাকে খুব চিন্তায় ফেলেছে। সব পেয়েছির দেশ,এমন স্বপ্নের দেশ।  কিন্তু আমি অস্থির চিন্তায়। এখানকার ভাষা একটুও বুঝতে পারছি না। কি করা যায় বলতো। এখুনি বল। আমার বোন পিউয়ের পরামর্শ নিতে বলল "দাদা,দেশটার নাম কী? বলুন। তাহলে ভেবে দেখব।" "বলতে বলতে নেট গেল কেটে। আই এস ডি কলের ক্যাপাসিটি শেষ। তোকেও ফোন করব সে উপায় নেই। কি কিম্ভূত কিমাকার এদের ভাষা। স্বপ্নও যে এমন নিষ্ঠুর হয় এই মুখোমুখি হলাম প্রথম। তা বলে ফেললি তো ফেল এক বিদঘুটে দেশে। কি সব বিচিত্র নিয়ম এখানকার। কার কাছে যে উপায় হয়। ইংরেজি ভাষা এখানে বললে শূলে চড়িয়ে দেবে। ভোলাপুক বা এসপারেন্ত ভাষার এরা নামও শোনেনি। কি তাজ্জব জায়গা রে বাবা!তো পরামর্শের অপেক্ষায় থাকলাম।
    এমন অবস্থায় তুই পড়েছিলি বলে একদিন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলি। কিন্তু তারা তো ইংরেজি বিকল্প হিসেবে চল ছিল।  কিন্তু এখানে তা নেই। তাই মহাফাপর। অঙ্গভঙ্গি করেও যে বোঝার সে উপায়ও নেই। ভয় হয়। কোন অঙ্গভঙ্গির কী মানে করে। শেষে না উগ্রপন্থী ভেবে না লাশ করে দেয়। এমন উদ্ভট দেশ স্বপ্নে দেখেছিলাম,স্বপ্নই সেই সাধ পূরণ করল,তবে চাওয়ার সম্পূর্ণ বিপরীতে,যা আমার জীবনের জেরবার অবস্থা। মোটামুটি টিকে থাকার অবস্থা।"
             ******
  এক সপ্তাহ পরে শূদ্রকের পরামর্শ পৌঁছল। তার পরামর্শ ছিল "তোর কাছে যাচ্ছি। ঐ দেশের ভাষা আমার জানা। ততক্ষণ তুই কোথাও বেরোস না। কেউ কিছু বললে,ইঙ্গিতে ভি আকারে দুটো আঙুল দেখা। ওরা ওটা খুব বোঝে। ওটার মানে আমি ভিন দেশী। তোমাদের অতিথি। তখন  ওরা তোর প্রতি খুব দরদী হবে। আপ্যায়ন করবে।"
যেমন বলা তাই করা। আর অমনি সব ঠিকঠাক হয়ে গেল। যেন শূদ্রক আলিবাবা,আমার অবস্থা কাশিমবাবার মত।
  ব্যাস স্বপ্ন শেষ। ঘুম ভেঙে বিছানায় চিৎ, পাখা বনবন ঘুরছে। আর বউ উঠে যেতে যেতে বলছে দুধের সঙ্গে একটা চারশ' ওজনের টক দইয়ের প্যাকেট নিও। বিরিয়ানি হবে। নীচে পেপারওয়ালা হাঁক - বর্তমান...
কোথায় স্বপ্ন, আর কোথায় আমি পদ্মপুকুর এলাকার স্বপ্নবিলাস সাধুখাঁ। এই গত রাতের স্বপ্নের অভিজ্ঞতার কথা তোকে জানালাম। উত্তর দিস।
           ইতি
            তোর স্বপ্নবিলাস।
         ***********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল দাস।


৬টি মন্তব্য:

  1. কে বলে কল্পনায় শুধু শিশুরা এগিয়ে।সব মানুষের মধ্যেই শৈশব লুকিয়ে থাকে।অসাধারণ লেখা।বাস্তবে ফিরে বিরিয়ানি খাওয়াবেন দাদা।

    উত্তরমুছুন
  2. খুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।

    উত্তরমুছুন
  3. এমন সুন্দর পরামর্শ...!!!
    অসাধারণ 💐👌

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...