✍ - মৃদুল কুমার দাস।
জৈব যুদ্ধ বা বায়োলজিক্যাল ওয়ার হল জীবাণু-অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ। শত্রুপক্ষের প্রতি এই জৈব অস্ত্রের আঘাত হেনে ঘায়েল করার পদ্ধতি হল জৈবযুদ্ধ। জৈব যুদ্ধের ইতিপূর্বে জীবাণু অস্ত্র যেমন- স্মলপক্স,অ্যানথ্রাক্স,প্লেগ প্রভৃতি। কোভিড-১৯ এই ধারায় নতুন সংযোজন।
বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের প্রভূত উন্নতি থেকে এই জৈব অস্ত্র বা জীবানু অস্ত্র এসেছে। বিজ্ঞানী মহলে ভয়ানক আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। অভিমন্যুর মত চক্রব্যূহে প্রবেশের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আছে,কিন্তু তার হাত থেকে মুক্তির উপায়ের পথ জানা নেই, কারণ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবায়োটিক বা ভ্যাকসিন বিজ্ঞানীদের হাতে নেই বলে। জীবানু অস্ত্র নিয়ে বিজ্ঞানীদের কাছে আতঙ্কের বিস্তর কারণ হল- জীবাণুর জেনেটিক কোড অর্থাৎ DNA-এর গঠনগত ও অবস্থানগত বদল ঘটিয়ে নতুন নতুন জৈব অস্ত্র তৈরী করা যায় বলে। বিপদ জৈব টেররিস্টদের নিয়ে। একসময় মানবক্লোন হাতানোর জন্য তাদের ক্ষিপ্রগতিলাভ মানব সভ্যতা এই রসাতলে যায় যায় অবস্থা। তার হাত থেকে যদিও রেহাই পাওয়া গেল কিন্তু জৈব অস্ত্রের হাত থেকে রেহাই কারো নেই। সে জৈব অস্ত্র কাউকে বাছবিচার করেনা। টেররিস্টরাও না।
কোভিড-১৯ জৈব অস্ত্র হিসেবে বিশ্ব-স্বীকৃত। বিশ্বের অভিমত - কানাডার উইন্নিপগের পি-৪ ন্যাশনাল মাইক্রোবাইলোজি ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাসের স্যাম্পল চুরি করেছে চিনে উহানের ল্যাবের এক গবেষক। সেই জীবানুর জেনেটিক মিউটেশন ঘটিয়ে করোনা ভাইরাস হিসেবে বিশ্ববাজারে মুক্তি দিয়েছে চিন।
এখন যা বিশ্বের অবস্থা দেখছি তা করোনার ট্রেলার চলছে মাত্র। চিন এই কুকীর্তির প্রযোজক বলে বিশ্বের দিকে দিকে চিন নিন্দিত। সে নিন্দার ঢেউ সামাল দেওয়া ঢং ছিল তুমি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার। বিশ্ব পারেনি চিনতে এক ঘরে করার রক্তচক্ষুর ভয় দেখাতে। কারন চিন ধনী দেশ। আমেরিকার সমকক্ষ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সে এক প্রধান পরিচালকের ভূমিকায় অর্থ বিনিয়োগ করে। ইতিহাস সেই সাক্ষ্য দিয়ে যাবে যতদিন পৃথিবী বেঁচে থাকবে।
অস্ত্র দুই শ্রেণীর- পারমাণবিক অস্ত্র ও জৈব অস্ত্র। পারমাণবিক অস্ত্রে একসময় বিশ্বের ভয়ঙ্কর সঙ্কট নেমে এসেছিল। সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের রাষ্ট্রনায়কদের অসুবিধা - এটি প্রয়োগে অনায়াসে দেশ চিহ্নিত হয়। ব্যায়সাপেক্ষ। কিন্তু জৈব অস্ত্র তৈরীতে খরচ কম। লক্ষ্য বস্তুর উপর প্রয়োগের ফল কিছু সময় নেয় সত্য,তার ফল সুদূরপ্রসারী,পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও। অস্ত্র বহন ও ছড়ানো সহজসাধ্য। জৈব অস্ত্রের প্রতিক্রিয়া বিলম্বিত বলে,এটি প্রয়োগের হোতা থাকেন নেপথ্যে। আর উৎস ও সংক্রমন পদ্ধতি সনাক্ত করা দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। জৈব অস্ত্রের গতিপ্রকৃতি সাধারণ মানুষের কাছে অধরা বলে মানুষ ধ্বংসের মুখোমুখি হয় বেশী। পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর কতটা করোনা তারই নমুনা।
আমাদের শরীর জীবানুর সঙ্গে অহরহ লড়াই করে অস্তিত্ব বজায় রেখেছে- strangle for existence - তবে জীবানু DNA মিউটেশন ঘটিয়ে মানুষের ইমিউনিটি পাওয়ারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলাই হল জৈব অস্ত্রের অসৎ উদ্দেশ্য। এমন জৈব অস্ত্র অ্যানথ্রাক্স একসময় বিশ্বের মানবসভ্যতার থরহরিকম্প অবস্থা হয়েছিল। এই জৈব অস্ত্র হিসেবে অ্যানথ্রাক্সের স্পোর্টস পাউডারে মিশিয়ে খামে ভরে ডাকে পাঠানো হত নানা জনের কাছে। সংক্রমিত ব্যক্তি আক্রান্ত হত পালমোনারি অ্যানথ্রাক্সে। শুরু হত শ্বাসকষ্ট,কাশি,রক্তপাত ও শেষে মৃত্যু। গবাদি পশু থেকে বেশী সংক্রমন ঘটত।
জৈব অস্ত্র প্লেগ রোগকে ছড়ানো হয়েছিল ratflia-এর মাধ্যমে। একটা মানুষের রক্তে প্লেগ প্রবেশ মানে কমপক্ষে দশ হাজার মুহূর্তে সংক্রমিত হয়ে পড়ত।
বিশ্ব এখন জৈব যুদ্ধের আশঙ্কায় ভুগছে। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অবস্থা শেষের সেদিন কি ভয়ঙ্কর অবস্থার মত। বিশ্বে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন, যার অস্ত্র জৈব অস্ত্র। ২০২০ এই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের করোনার ক্রান্তিকাল। দেশে করোনা মিউটেশন করে নিয়ে নতুন নতুন স্ট্রেন তৈরী হচ্ছে। ভারতীয় স্ট্রেন এখন বিশ্বের কাছে ভয়ঙ্কর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কি হয়! কি হয়! থেকে কি হবে! কি হবে! উত্তর নেই। শুধুই মৃত্যুর মিছিল! লাশের পরে লাশের পাহাড়,মানুষ বড় অসহায়। ধ্বংসের মুখোমুখি।
**********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
খুব বাস্তব লেখা। সত্যিই চারিদিকে ভয়াবহ অবস্থা।
উত্তরমুছুনঈশ্বর ভরসা আর মানুষের সচেতনতা।🙏
একদম বাস্তব কথা,,,,খুব সুন্দর লিখেছেন দাদা 👌👌👌💐💐💐
উত্তরমুছুনতাহলে কানাডা না চীন? কে দায়ী এই অস্ত্রের জন্য? সময় তাদেরকে ক্ষমা করবে না। ভারতীয় দের মতো নিরীহ জাতিদেরকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার শাস্তি পেতে হবে। সে কানাডা হোক বা চীন।
উত্তরমুছুনযারা অন্যের মৃত্যু কামনা করে তাদের ধ্বংস নিশ্চিত।
উত্তরমুছুনমানুষের প্রাণ নিয়ে যারা খেলা করে পরম প্রভু নিশ্চয় তাদের কাছে চরম ক্ষতিপূরণ নেবেন।
মুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ....👌👌💐💐
উত্তরমুছুনদারুন ব্যাপার
উত্তরমুছুনসুন্দর তথ্যবহুল লেখা ।খুব ভালো লাগল ।
উত্তরমুছুন