শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

# নাম- সম্পর্ক ও জীবন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।


 # নাম- সম্পর্ক ও জীবন।  
        ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

      সম্পর্ক একটি যোগ প্রক্রিয়া। যেকোনো যোগ যেকোনো সম্পর্ক। এই সম্পর্ক আধ্যাত্মিক,সম্পর্ক ব্যবহারিক। আধ্যাত্মিক যখন  তখন তা ভগবানের সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে জীবনের পরিক্রমা। ধর্মীয় ভাবনায় মন্দির-মসজিদ-গির্জাকে ঘিরে শ্রেণি-গোষ্ঠীর যে যার সঙ্গে সম্পর্কের মেলবন্ধন। যার ধর্মাচারণ যেমন তার ঈশ্বর তেমন। সে যোগের মহান অনুষ্ঠান- ভাব,ভক্তি ও ভালবাসার। ব্যক্তি থেকে সর্বজনীন সম্পর্কের নানা পরিচয়।
  আর ব্যক্তিগত থেকে সর্বজনীন সম্পর্কের পরিচয়ে ব্যবহারিক জীবনের  সঙ্গে মানুষের সঙ্গে মানুষের,মানুষের সঙ্গে জড়ের,প্রকৃতির সম্পর্ক,জড়ের সঙ্গে জড়ের সম্পর্ক- সম্পর্কেই জ্ঞানের বিশ্ব থেকে মহাবিশ্বে বিচরণ। সম্পর্কের বিচারের অনন্ত পরিসীমায় শুধু মানুষের ব্যবহারিক সম্পর্কের দিকের কথা বলে শেষ করা যাবে না। 
  মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তিন ধরনের দেখা যায়। যেমন- 
     ১। আত্মীয় সম্পর্ক।
     ২। ব্যবসায়িক সম্পর্ক।
     ৩। আগ্রাসী সম্পর্ক।
            প্রথমটি পারিবারিক- বাবা মা সন্তান সন্ততি ছাড়াও আত্মিক সম্পর্কে আত্মীয়স্বজন। রক্তের সম্পর্কে বেশী ঘনিষ্ঠতা বোধ হয়। অহংয়ের সঙ্গে খুব গভীর সম্পর্ক থাকে। আমার, আমরা, আমাদের থেকে ঘনিষ্ঠতা। একে অপরের পরিপূরক হয়ে চলি।
দ্বিতীয়টি যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক,তা একাধিক পক্ষ সংক্রান্ত সম্পর্ক। পারিবারিক সম্পর্কের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্পর্ক। ক্রয় ও বিক্রয়ের সম্পর্ক। স্বার্থের সম্পর্ক। সবরকম ভোগ্যপন্য বিনিময়ের লাভ লোকসানের সম্পর্ক। স্বার্থ শেষ সম্পর্ক শেষ। নতুন সম্পর্ক সে ভোগবাদের নিরিখে আসে। এই ব্যবসায়িক সম্পর্কের স্তর নানাপ্রকার,থরে থরে সন্নিবেশিত। শুধু পরিচয় থেকে সম্পর্ক ভিন্ন ভিন্ন। তবে প্রয়োজনের জন্য।
  আর তৃতীয় যে সম্পর্ক- আগ্রাসনের সম্পর্ক। দুই পক্ষ  পরস্পরের সম্পর্কে থাকে দূরত্ব-ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্পর্ক। যেমন- ব্রিটিশ ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রবেশ বণিকের মানদন্ড নিয়ে। চূড়ান্ত পরিণতি রাজদন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। সে সম্পর্ক বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা চাননি বলে পলাশীর যুদ্ধ হয়,আর বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ও অন্যান্যরা স্বার্থের সম্পর্কে বাঁধা পড়েছিল বলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রবেশ ঘটেছিল। এ সাম্রাজ্যবাদ ও পরাধীন সম্পর্ক থেকে স্বাধীনতার জন্য বিপ্লবের সম্পর্ক ছিল বলে কত প্রাণের বিনিময়ে এসেছিল স্বাধীনতা। প্রায় দু'শ বছরের ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে ঘর করে কত রক্তপাত ঘটেছিল, ইতিহাস তার সাক্ষ্য দেয়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্পর্ক বলে ব্রিটিশ শক্তি ছিল আমাদের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন সম্পর্ক। আরো সহজ করে বলি। যেমন- ডাকাত ও গৃহস্থের সম্পর্ক। একজনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আরেক সম্পর্ক স্রেফ আগ্রাসন থেকে। হ্যাকারও একজন আগ্রাসক- সকলে অর্থ যখন সামলায়, হ্যাকার তখন অজান্তেই অর্থ হাতায়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে অর্থ অপহরণ করে। এ হল আগ্রাসন সম্পর্ক। নারী নিগ্রহও সমগোত্রীয়। অপরাধের বিচার,জেল হাজত সব ন্যায়-অন্যায় সম্পর্ক।
  রাষ্ট্রের গঠন,ক্ষমতার লড়াই, রাষ্ট্র দখল এ সব জানতে ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কে আসে বৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণা। সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক,সামাজিক সম্পর্ক ও সম্পর্কিত জীবনের মূল বৈশিষ্ট্য।
 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ দেশে দেশে শান্তির সম্পর্ক রক্ষার জন্য একটি সংস্থা। ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (হু) বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা- বিশ্বের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য দেশের সঙ্গে দেশের সমন্বয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত। 
  জলের সঙ্গে মাছের সম্পর্ক- জল ছাড়া মাছ যেমন বাঁচে না,তেমনি মানুষ সম্পর্ক ছাড়া বাঁচতে পারবে না। এই সম্পর্কের দ্বারা সত্তার বিকাশ হয়। সম্পর্ক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে,সম্পর্ক অধঃপতনকে ত্বরান্বিত করে - সম্পর্ক সদ,সম্পর্ক অসদ। সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস,অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। সুতরাং সুন্দর সম্পর্ক সুন্দর জীবন,খারাপ সম্পর্ক অধঃপতিত জীবন। শোষণ,নিপীড়ন,অত্যাচার,অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্পর্কের নাম বিদ্রোহ। আর ন্যায়,নীতি,সততা,প্রেম,প্রীতি মূল্যবোধের সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক মানে সুন্দর জীবন। সকল মানুষ সম্পর্কের বলেই যে যার পরিচয় গড়ে তোলে। 
     জন্ম হোক সেথা সেথা,সঠিক কর্মের সঙ্গে সম্পর্কই জীবনের যথার্থ উন্নয়ন।
     এতো গেল সম্পর্কের ব্যবহারিক দিক। আরো আছে সম্পর্কের কিছুকথা।
     সম্পর্কের প্রথম সুত্র- দুটি কোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বানু) একত্রে মিলনের সম্পর্ক থেকে সেই সম্পর্কের শুরু। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কেবল সম্পর্কের সমীকরণ। যত সম্পর্কের বিস্তার জীবন তত বিস্তৃত। সম্পর্কের লীলার দুটি ধারা - একটি সুখ-দুঃখ,আরেকটি আনন্দ। সুখ-দুঃখ দৈনন্দিনতার সামগ্রী,আনন্দ সেই দৈনন্দিনতাকে অতিক্রম করার সামগ্রী। সুখ ও দুঃখের সম্পর্কে প্রাত্যহিকতায় হৃদয় সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হয়,আর আনন্দ কেবল হৃদয়কে প্রসারিত করে। যত আনন্দের প্রকাশ তত হৃদয়ের বিস্তার। ফুল আপনার জন্য ফোটে না,ধূপ আপনার জন্য পোড়ে না - সেই হৃদয় আপনার তরে নহে,অপরে বিলিয়ে সেবার সম্পর্ক চায়, সেই তো ফুলের মত বিকশিত হতে,ধূপের মত বিলিয়ে দিতেই। এই সম্পর্কই পথ,সম্পর্কই মত। 
  শিশুকে ভালবাসি মানে নিজের শৈশবকে পাব বলে,মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব চাই মানে পিতা ও স্বর্গের সুখ ও আনন্দ,আর জননী জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও বড় - সম্পর্কের এক একটি দুর্লভ সংকলণ। সম্পর্কের যত মায়া ও মোহ, তত ধরিত্রীময়,আর সম্পর্ক যত মায়া ও মোহ থেকে মুক্ত, তত ভাবসকলকে সুষুম্নাবাহিত করে ভাবসকল আরো আরো উর্ধগামী করে সহজানন্দ, বিরমানন্দ,পরমানন্দ দান করে। পরমপুরুষ পরমানন্দ তথা সচ্চিদানন্দের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। আবার মাতৃভাবে জগন্মাতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সম্পর্কের এই পার্থিব থেকে অপার্থিব,রূপ থেকে অরূপে,সীমা থেকে অসীমে অভিসার হল সম্পর্কের মহোত্তর সাধনা ও সিদ্ধি।
   সম্পর্কের শেষ নেই যেখানে সম্পর্কের কথা শেষ করি কি প্রকারে। সম্পর্কের জয় হোক।
              *********
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

৬টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...