# বিষয় - ছবি দেখে লেখা
# নাম- ভৌকাট্টা
# কলমে - অনিশা
"কষ্ট পেলে কেষ্ট মেলে", মায়ের বলা কথাটা ঘুড়ির মাঞ্জার সুতোয় হাত কেটে যাওয়ার পরে পলি বুঝল।
কলকাতায় মামার বাড়ি পড়তে এসে সে দেখল এখানে সবাই বিশ্বকর্মা পূজোর দিন ঘুড়ি ওড়ায়। পলির ছোটবেলাটা কেটেছে গ্রামের বাড়িতে। বেশ ভালো রকমের ডানপিটে অথচ মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে সে। মিষ্টি স্বভাবের জন্য ডানপিটে হওয়া সত্বেও বকাবকি বেশী খেতে হয়নি কোনদিন। স্কুলে যেদিন অ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হতো সেদিন থেকেই অঘোষিত ঘুড়ির লড়াই শুরু হয়ে যেত। সবার পরীক্ষা চলত, তাই কারুর ঘুড়ির সুতোই মাঞ্জা দেওয়া থাকত না। কয়েক দিনের মধ্যেই মাঞ্জা দেওয়া সুতো তৈরী। এরজন্য ও বন্ধুরা পলির দ্বারস্থ হতো। তখন সহজেই এত কাঁচের গুঁড়ো যোগাড় করা সহজ ছিল না। প্রয়োজনে পলি নিজের মেলা থেকে কিনে আনা কাঁচের চুড়ি গুলো ও ভেঙে ফেলত। কাটাকুটির খেলায় তাকে হারানো এত্ত সহজ নয়।
সেই পলি মামার বাড়িতে এসে এত তাড়াতাড়ি পাল্টে গেল? সবাই মিষ্টি স্বভাবটাই দেখতে পায়, ডানপিটে স্বভাব আর নেই। আসলে বেচারী কলেজ আর বাড়ির পড়াশোনা করতে করতেই হাঁফিয়ে ওঠে। বদ্ধ ফ্লাটে আর কি বা করবে!
কলেজে গিয়ে জানতে পারল এখানে বিশ্বকর্মা পূজোর দিন খুব ঘুড়ি ওড়ানো হয়। তাই বন্ধুরা কয়েক জন ঠিক করেছে অদ্বিতীর বাড়ি দুপুরে থাকবে। বিকেলে ওদের ছাদ থেকে পাড়ার সবার ঘুড়ি ওড়ানো দেখে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে আসবে। মামার কাছে পারমিশন নিয়ে পলি গেল অদ্বিতীর বাড়ি। সব বন্ধুরা এসে গেছে। পলিই সবার শেষে পৌঁছাল। ওদের বাড়িতে সবার সঙ্গে আলাপ পরিচয় হলো। অদ্বিতীর বাবার খুব ভালো লেগেছে পলিকে। বললেন, "মুখে কেমন সরলতার ছাপ। সদ্য গ্রাম থেকে এসেছে তো, তাই!" অদ্বিতী মজা করে হেসে বলল "হুম্, বলো গাঁইয়া।" অদ্বিতীর দাদা অনিমেষ বলে উঠলো, "স্টপ দিস ননসেন্স! সি ইজ্ সো ইনোসেন্ট!" একটু থমথমে হয়ে গেল পরিবেশটা। আসলে পলি জানে, বন্ধুরা পিছনে সবাই ওকে গাঁইয়া বলে।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ হলে সবাই একটু ঘরে বসে আড্ডা দিল। তারপর ছাদে। ছাদে অদ্বিতীর দাদার বন্ধুরাও হাজির ঘুড়ি, লাটাই নিয়ে। তারপর শুরু হলো ঘুড়ির লড়াই।
আশেপাশে অনেক বাড়ি থেকেই ঘুড়ি উড়ানো হচ্ছে। অনিমেষ নিজে ঘুড়ি ওড়াতে পারে না। বন্ধুদের ইচ্ছেতেই ঘুড়ির লাটাই হাতে। কিন্তু প্রতিবেশীরা ছাড়বে কেন! একটার পর একটা ঘুড়ি কাটা যাচ্ছে। আর পাশের বাড়ির ছেলে মেয়েরা আনন্দে চিৎকার করছে, হুইসেল বাজাচ্ছে। পলির হাত নিশপিশ করছে। ভাবছে একবার যদি হাতে সুতো পাই, তবে ওদের এক্ষুনি চুপ করিয়ে দেব। এই হেরে যাওয়া দেখতে দেখতে ওদের বন্ধুদের আড্ডাও আর জমছে না। হঠাৎ অদ্বিতী বলে বসল, "এই যে গ্রামের মেয়ে। নিশ্চয়ই ঘুড়ি ওড়াতে পারিস!" অনিমেষের বন্ধুরাও শুনতে পেয়ে পলিকে অনুরোধ করল একটু সাহায্য করার জন্য। পলিও এই হেরে যাওয়া সহ্য করতে পারছিল না। যেন শুধু এই অনুরোধটুকুর অপেক্ষায় ছিল। এরপর পলির হাতে সুতো, আর অনিমেষের হাতে লাটাই। তার মন ফিরে গেল সেই ছোটবেলায়। সদ্য কিশোরীর মতো তার হাত সুতো টানছে, ছাড়ছে, খুশীতে লাফাচ্ছে। আর অনিমেষ! মুগ্ধ হয়ে তা দেখছে। হঠাৎ ভৌকাট্টা! আবার একটু পরেই আবার ভৌকাট্টা! এবাড়ির ছাদে তখন আনন্দোৎসব। বাড়ির সবাই ছাদে এসে গেছে।
কিন্তু পাশের বাড়ির পরাজিত সৈনিকরা এত সহজেই ছেড়ে দেবে? শুরু হলো সুর করে টিপ্পনী কাটা। "কে তুমি পল্লিবালিকা, বাঁচালে ওদের গ্রাম থেকে এসে!!" "কে তুমি নন্দিনী, আগে তো দেখিনি!" রাগে গর্জে উঠলো অনিমেষ। অনেক হয়েছে, দরকার নেই কারুর ঘুড়ি ওড়ানোর। পলির হাত থেকে কেড়ে নিতে গেল সুতো। আর মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় পলির নরম হাত কেটে রক্ত বেরিয়ে গেল। ছুটে এসে ওর রক্তাক্ত হাতটা ধরে ফেলল অনিমেষ। পলি দেখল অনিমেষের চোখে জল। সেই চোখে অনুশোচনা, আবেগ ও ভালোবাসায় একাকার হয়ে গেছে।
তখনই মনে পড়লো মায়ের কথা। ভাবতেই মনে মনে লজ্জা পেল সে। ঈশ্, কে আমার কেষ্ট ঠাকুর রে!

দারুণ লাগল। অসাধারণ!👌👌❤❤⚘⚘
উত্তরমুছুনমিষ্টি প্রেমের গল্প খুব ভাল লাগল।
উত্তরমুছুনখুব খুব ভালো লাগলো😍😍
উত্তরমুছুনদারুন।💐💐
উত্তরমুছুন👌👌👌💐💐💐🍫🍫🍫🍫
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো 👌👌👌🌼🌼🌼💐💐
উত্তরমুছুন