সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

রামায়ণে গন্ডগোল। (রম‍্যরচনা ) কলমে -- পারমিতা মন্ডল।

রামায়ণে গন্ডগোল।( রম‍্যরচনা)

কলমে -- পারমিতা মন্ডল।

আজ গ্রুপে চলছে রাম রাবনের যুদ্ধ । মাঝে মাঝে লক্ষ্মনকেও দেখছি মাথা ঝাঁকিয়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে । শত হলেও সে তো দাদা অন্ত প্রান।  বৌদিকেও বেশ শ্রদ্ধা ভক্তি করে । এতদিন জানতাম সীতা জনক রাজার পালিত কন্যা । মাটি খুঁড়ে সীতাকে তিনি পেয়েছিলেন। এখন আবার শুনছি সে নাকি আসলে রাবনের মেয়ে । সম্পর্কগুলো বড্ড গুলিয়ে যাচ্ছে। আগে এটা ঠিক করে বুঝে নেই কে কার মেয়ে, কে কার বৌ তারপর লিখছি।

একটি কথা মনে উঁকি মারছে। বলেই ফেলি । কি আর হবে ? বড়জোর কেউ একটা পচা ডিম ছুঁড়ে মারবে । এর বেশী তো নয় ? আচ্ছা লক্ষ্মন কি দাদাকে ভালোবেসে বনে গিয়েছিল নাকি বৌদিকে ? এই প্রশ্নের উত্তর আমি আজও পাইনি। আসলে ঘর, সংসার নিজের বিয়ে করা বৌ সবাইকে ছেড়ে কেন যে চৌদ্দ বছরের জন্য দাদা- বৌদির সাথে বনে গিয়েছিল কে জানে ? রাম- সীতাকে একটু শান্তিতে হানিমুন ও করতে দিলো না ।" কাবাব মে হাড্ডি " কোথাকার !  কি দরকার ছিল তোর যাওয়ার বাবা?  সীতার কপালে তো রাজপ্রাসাদের সুখ জুটলো না, উল্টে লক্ষ্মনের জন্য বনে এসেও রোমান্স করতে পারলো না । মাঝখান থেকে রাবন এসে উদয় হলো । যাও বা  মোটামুটি ব‍্যালেন্স করে চলছিল, রাবন এসে সব সমীকরণ উল্টে দিল।

 আচ্ছা লক্ষ্মনের কি দরকার ছিল সূর্পনখার নাকটা কাটার । তোর না হয়  প্রেম-ট্রেপ নেই শরীরের। নিজের বৌকে ঘরে ফেলে রেখে পরের বৌ থুড়ি দাদা বৌদির পিছনে ঘুরছিস । তাই বলে কি সবাই তাই হবে ? সূর্পনখার ভালো লেগেছিল বলেই তো প্রেম নিবেদন করতে গিয়েছিল।  তুই তা রিফিউজ করতে পারতিস ? তাকে বোঝাতে পারতিস । বলতে পারতিস ঘরে বৌ আছে ।তা না করেএকেবারে  নাক কেটে দিবি ? ওর সৌন্দর্যটা নষ্ট হয়ে গেল না ? এই জন্য তো রাবন ক্ষেপে গিয়েছিল। কত হার্বাল মলম , লতা, পাতা লাগিয়েছিল ঘা ঠিক করার জন্য। কিছুতেই ঠিক হয়নি। তখন তো প্লাস্টিক সার্জারি ছিল না । তাই ঠিক করতে পারেনি। এই জন্য তো রাবনের এতো রাগ। রেগে গিয়ে সীতাকে হরণ করলো।


 সীতাকে হরণ করার সময় রাবন নিশ্চয়ই জানতো না সীতা তার মেয়ে । যদি জানতো তাহলে হয়তো হরণ করতো না । যদিও এর কতটা সত‍্যতা আছে , সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। 
 

সীতার রূপে রাবন মুগ্ধ হয়েছিল । তাই তাকে কিডন‍্যাপ করে নিয়ে গিয়েছিল। লুকিয়ে রেখেছিল অশোকবনে।  কিন্তু তখনো তো গোয়েন্দাদের অভাব ছিলনা । হনুমান ঠিক খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গিয়েছিল।খুঁজে বের করেছিল সীতাকে।  তার সাহায্য উদ্ধার পেয়েছিল সীতা।কিন্তু প্রশ্ন হলো হনুমান তুই সোনার লঙ্কা পোড়াতে গিয়েছিলি ভালো কথা । কিন্তু নিজের মুখটা কেন পোড়ালী বোকা ?কেউ কি তোর পোড়া মুখ ঠিক করে দিলো ? লক্ষ্মনের জন্য  ঔষধি গাছ খুঁজে না পেয়ে পাহাড় তুলে নিয়ে এসেছিলি । কিন্তু তোর যখন মুখটা পুড়লো লক্ষ্মন তোর কি ঘন্টা করেছিল ?  সার্জারি করে তো মুখটা ঠিক করে দিতে পারতো । ও শুধু লোকের নাক কাটতেই জানে । তুই বোকা হনুমান শুধু শুধু সারাজীবন ঘুরলি ওদের পিছনে। আর আজীবন পোড়ামুখো হয়ে  রইলি। 

রামের কথা কি আর বলি ? মেরুদন্ডহীন এক কাপুরুষ। নিজের বৌকে যখন রক্ষা করতে পারবি না , তখন কি দরকার ছিল তোর সাথে করে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর ? তোর সত্য তুই পালন করনা ? কি দরকার ছিল ভাই আর বৌটাকে কষ্ট দেওয়ার ? আসলে নিজে তো কোন কাজ জানতো না । তাই বৌকে নিয়েছিল রান্না করতে আর ভাইকে নিয়েছিল বাজার করতে। যেই না অযোধ্যায় ফিরে এলো চৌদ্দ বছর পর তখনই মনে পড়লো বৌ অসতী হতে পারে। অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে । এতোদিন কিন্তু মনে হয়নি। বনে জঙ্গলে বৌ পাশে ছিল,। রাজপ্রাসাদে এসেই বৌয়ের দোষ ধরা পড়লো।

আর রাবন তোর এতো ছুকছুকানী বাতিক কেন রে ? নিজের তো অনেক গুলো বৌ ছিল। তাও পরের বৌ দেখলে থাকতে পারিস না কেন রে ? কি হলো শেষ পর্যন্ত ? প্রানটা গেল তো ? এই রাবনগুলো আজকাল খুব বাড় বাড়ন্ত হয়েছে  । দেখি কে আসে এদের বধ করতে ?

 All rights are reserve by paramita.

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...