শুভ আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *রামমোহন।*
#নাম- *সংস্কার মুক্তির রাজা রামমোহন রায়।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রামমোহন রায়ের রাজা উপাধি দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ ১৮২৯এর আগষ্ট মাসে দিয়েছিলেন। যেকোনো উপাধি দান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক্তিয়ারভুক্ত আইন বলবৎ ছিল। নবাব সরকারের কাছে রামমোহনের রাজা উপাধি দানের পর কোম্পানির কাছে তাঁরও এক্তিয়ারের কথা জানিয়ে(৮ জানুয়ারী,১৮৩০)সরকারকে চিঠি দেন। কিন্তু নবাবের এই দৌত বড়লাট বেন্টিং তাঁর সেক্রেটারীর মাধ্যমে জানিয়ে দেন কোম্পানি তা মান্যতা দেবে না। এ ছিল এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। কোম্পানি নবাবের বার্ষিক আয়ের শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন, চুক্তির প্রাপ্য টাকায় বিদ্রোহ সংগঠিত করতে পারেন বলে। এরই আইনী লড়াই করতে নবাবের দূত হিসেবে ব্রিটিশরাজ চতুর্থ জর্জের রাজসভায় যাবেন,আর যেতে গেলে রাজা উপাধি চাই। তাই ব্রিটিশ কোম্পানি উপাধি দিতে অস্বীকার করেন। তখন রামমোহন এই জটিল আবর্তন এড়ানোর জন্য বড়লাটকে জানিয়ে দিলেন তিনি সাধারণ নাগরিক হিসেবেই বিলেতে যাবেন। আর বাদশাহের বক্তব্যের আইনী লড়াই করবেন। রামমোহন বিলেত গিয়েছিলেন ১৮৩০ এর ১৯ নভেম্বর। বিলেতের সাধারণ নাগরিক রামমোহনকে রাজা হিসেবেই সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানির লন্ডনস্থ কর্তৃপক্ষ রামমোহনের উপাধি স্বীকার না করলেও তাঁকে সংবর্ধনা দিতে কসুর করেননি। তবে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে নবাবের হয়ে আইনী লড়াই ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। আইনী লড়াইয়ে অনেক জল গড়িয়েছিল। কোম্পানি নানা ছল চাকুরী করে আইনের ফাঁক দেখিয়ে নবাবের নাহ্য অধিকার পেতে কোনো সুরাহা করেনি,কোম্পানির সে নির্মমতার কথা ইতিহাসের দলিল সাক্ষ্য বহন করে চলে।
এই রাজা উপাধি নিয়ে কোম্পানির এই রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি রামমোহনের মত ঊনবিংশ শতাব্দীর রেনেসাঁর জনকের কাছে ব্যাপারটি নিতান্তই মামুলি লেগেছিল। পাছে উপাধির জন্য লালায়িত এই বদনামের বিজ্ঞাপন যাতে তাঁকে গ্রাস না করতে পারে সেজন্য এক উদার মানবতাবাদের পথ তাঁর সবসময়ই সহায়ক হত। এই ধারায় সংস্কার মুক্তির জনক ছিলেন আলোকদীপ্ত জ্ঞানবাদী যুগ পুরুষ রাজা রামমোহন রায়। বহুভাষা ও সঠিক জ্ঞান তাঁর মধ্যে লৌহমানবের দৃঢ় পৌরুষ এনেছিল। ব্রিটিশ কোম্পানির এদেশ শাসনের জন্য এদেশীয় ধর্মের ও কুসংস্কারের ধ্বজাধারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে মদত দিয়ে এক সাম্রাজ্যবাদী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল। শিক্ষায় অর্থব্যায়ে এদেশীয়দিগকে ইংরেজী ভাষার হয়ে,পাশ্চাত্য জ্ঞান বিজ্ঞানের হয়ে জোর সওয়াল করেছিলেন। নাহলে জাতীয় জীবনের উন্নতি অসম্ভব। তাই নিয়ে এদেশে রাজণ্যবর্গ ও রাজপুরুষ বনাম বিত্তশালীরা দুটি দল হয়ে পড়েন। একদলের জোর সওয়াল যা কিছুই পুরনো তা ভাল, আরেকদলের জোর সওয়াল যা কিছু পুরনো ও প্রাচ্য ভাল নয়। প্রতীচ্চ অনেক ভাল। প্রাচীনের পক্ষে নেতৃত্বে রাধাকান্ত দেব। আর তাঁর বিরুদ্ধে রামমোহন। এই মতান্তরের আলোড়নে কলকাতার থরহরিকম্প অবস্থা হয়েছিল। সংস্কার মুক্তির জয় হয়েছিল। রামমোহনের সতীদাহ প্রথা নিবারণ সেই কুসংস্কার মুক্তির জয়সূচক ধ্বণি আজও রামমোহনের জন্য ধ্বণিত হয় - ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের অগ্রদূত,যুগ পুরুষ। আধুনিক অবতার বললেও অনেকে অন্ধ ভক্তির কথা বলতে পারেন। কিন্তু বিশ্বাস সম্মত বলতে পারি - বৈদিক যুগ থেকে নারী জাগরণের সময়ে সময়ে পালা রচিত হয়েছে যেভাবে,ঊনবিংশ শতাব্দীতে রামমোহন নারী জাগরণের অনুরূপ পথ প্রদর্শক। পথ নির্মাতা। একজন প্রোটেস্টান্ট পন্থী। বৈদিক যুগে মেয়েদের বেদ পাঠের অধিকার নিয়ে প্রোটেস্টান্টপন্থী দল সোচ্চার হয়েছিলেন বলে আদি ব্যাসদেব পঞ্চম বেদ মহাভারত রচনা করেছিলেন। আর সতীদাহ প্রথাও রামমোহন প্রোটেস্টান্ট পন্থী হয়ে সংস্কারের মনোবল যেভাবে দেখিয়েছিলেন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মতো আধুনিক কুরুক্ষেত্রে নারীসমাজের জন্য জীবন দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। হ্যাঁ,তাঁর সতীদাহ প্রথা নিবারণের জন্য সমাজে বিধবাদের সংখ্য দুর্বহ হয়ে পড়েছিল সত্য। তাই যদি না হতো তাহলে বিদ্যাসাগর আসতেন কি করে! তাই সংস্কারের ভিত্তিপ্রস্তর রাজা রামমোহন।
*******
অপূর্ব সুন্দর লেখা
উত্তরমুছুনজ্ঞান বর্ধক ও তথ্যাদি সমৃদ্ধ লেখা।
উত্তরমুছুনঅনেক কিছু জানতে পারলাম,,,, খুব ভালো লাগলো দাদা 🙏🙏🙏
উত্তরমুছুনঅপরুপ পর্যালোচনা...💐💝
উত্তরমুছুন👌👌👌
উত্তরমুছুনএতো সুন্দর তথ্যবহুল উপস্থাপনা ,খুব ভালো লাগল ।🙏
উত্তরমুছুনদুর্দান্ত লেখা, অনেক জানতে পারলাম।
উত্তরমুছুন