শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

#বিষয় - রম্যরচনা। # নাম- কৈশোর কেল্লা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ রম্যরচনা- বাসর।
  #বিষয় - রম্যরচনা।
     # নাম- কৈশোর কেল্লা।
           ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

      পাড়ার কয়েকজন বিভিন্ন সাইজের সব অল্প বয়সের ইচড়ে পাকা ছেলেপিলে সব। এই বয়সের এসে সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে মনে মনে তীর্থযাত্রা হয় যেন। 
   গরমের সময় সকাল স্কুল। স্কুল থেকে ফিরে পাকা আম কুঁড়োর বস্তা থেকে বের করে পুকুরে ঝপাং। জল কমে আসে পুকুরে। সেই জলে পাঁক তুলে স্নান,মা পাড়ে গিয়ে লাঠি যতক্ষণ না নাগান  জল থেকে ওঠার জো নেই। লাঠির বাড়ির ভয়ে অপর পাড় দিয়ে উঠে সে অনেক রকম ভিরকুটি। 
   এবার দুপুরে ঘুম। তিনটার সময় মাষ্টার আসবেন পড়াতে। ছেলে মেয়ে করে জনা দশেক। সবার মধ্যে আমি ছিলাম টার্গেট। পড়তে বললেই ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। মাষ্টারমশা'ইয়ের কড়া নজরদারিতে আমার খুব রাগ হত। আর ওতেই মাষ্টারি করার খুব মজা পেতেন মাষ্টারমশাই। ঘনা নাম। মাষ্টারমশাই বসেই বলতেন- "ঘণা যা সারার সেরে আয়। এর মাঝে আর যাওয়া যাবে না। আমার খুব লজ্জা হত। মেয়েদের সামনে বলে একটু বেশী হত। এমনকি মাঝে মাঝে মাঝে আমাকে ইন্টারভ্যাল দিলে পেছন পেছন নেপলাকে পাঠাত। যে নেপলা ছিল মাষ্টারমশাইয়ের স্পাই। আমার পড়ার সময় নেপলাকে শত্রু মনে হত। ওকে পাঠাত সত্যিই কাজ করছি না,দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সময় কাটাই দেখতে। সঠিক রিপোর্ট না দেওয়ার জন্য এই ব্যাপারে নেপলার পেছনে কিছু খরচাপাতি হত,ঘুষ দিতে,আমার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষী না দেয়।
  ইদানিং সেই নেপলাকে মাষ্টারমশাই যেন কোথাও সন্দেহ হতে লাগল। নেপাল ঠিক ঠিক কাজ করছে না। তাই একদিন নিজে গিয়ে দেখল আমি প্রসাব করার নাম করে যে গেছি,প্রস্রাবের নাম করে কি একটা কাগজ পড়ছি। আসলে কাগজটা ছিল একটা প্রেম পত্র। স্কুলে দিয়েছিল অমল। দিশাকে দিতে। সেটা ভুল ক্রমে ব্যাগে থেকে গেছে। এই পড়ার সময় যদি মাষ্টারমশাই ব্যাগ হালটে পেয়ে যায়,তাহলে কেলেঙ্কারি আরকি। ব্যাগ থেকে কি একটা বের করে নিয়েছি মাষ্টারমশাই আড় চোখে দেখেছে। বুঝতেও পেরেছি। আর সেদিন নেপলাকে না পাঠিয়ে নিজে গেছেন আড়ালে দেখতে কি করি। দেখলেন আমি প্রস্রাবের ভান করছি। যতটা খোলার খুলে কম্ম করার চেষ্টা করছি। হয় নাকি। আসলে তো পায়নি। ঐ কাগজটা ছিঁড়তে গেছি। কাগজে মন। অথচ প্রস্রাবের ভান। আসলে ছেঁড়ার আগে কৌতূহল দেখি কি লিখেছে। এই কাজে মনোযোগে বিভোর আমি। হঠাৎই মাষ্টারমশাই গলা চড়িয়ে বললেন- "ঘনা এই তোর বাইরে আসার বাহানা। চমকে উঠলাম। টপ টপ যে পড়ছিল,দ্রুত ঢোকাতে গিয়ে বাকিটা প্যান্টের শুকনো খিদে খেল। তাতেই সর্বনাশ! এ খাওয়া এমন বোঝা যাবেই। লজ্জা দেবেই। আবার মেয়েদের মাঝে। আর কি পড়েছিলাম জেরা চললে,সত্যিটা যদি জানাজানি হয়! তাই মার কাছে গিয়ে বায়না আজ পড়তে যাব না। প্যান্টের এই অবস্থা। মা বললেন- "প্যান্ট পাল্টে যা।" 
  তখন জেরার সামনে পড়ার ভয়ে বায়না - "আজ আর পড়ব না।" মা বুঝলেন গুরুতর ব্যাপার। ব্যাটার আমার লজ্জার কারণ। কিন্তু জেরার মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারটা যদি জানতেন সেদিন মা রেহাই দিতেন কিনা,আজও সেই সন্দেহ ঘিরে মনে মনে হাসি পায়। মা গিয়ে মাষ্টারমশাইকে বললেন। কি অদ্ভুত ব্যাপার মাষ্টারমশাই কিছুই বললেন না। বাকিদের পড়িয়ে চলে গেলেন। তবে নেপলাও আমার মত পড়ায় ফাঁকিবাজ । যতই মাষ্টারমশাই নেপলাকে আমার স্পাই ভাবুন না কেন, আসলে নেপলাকে এটা ওটা ঘুষ দিয়ে দলে টেনেছি কীভাবে মাষ্টারমশাই ঘুণাক্ষরে টের পাননি। হায় আজ সেই সোনার দিনগুলোর জন্য কি না মনে মনে হারিয়ে যাই।
          ********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার।

৬টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...