শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *আষাঢ় মাস।*
# নাম- *আষাঢ়ে মন।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
কালিদাসের *মেঘদূতম্* এ শুরু *("কশ্চিৎকান্তাবিরহগুরুণা স্বাধিকারপ্রমত্তঃ..."*) বিরহের কাব্যকথা দিয়ে,আর তারপরেই সেই বিখ্যাত লাইন *"আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে মেঘমাশ্লিষ্টসানুং..."* বিরহীর কাছে আষাঢ় মৃত সঞ্জীবনী সুধা। বিরহী যক্ষ মেঘকে দূত করে আষাঢ়ের প্রথম দিবসে যক্ষ তার প্রিয়াকে বার্তা পাঠাচ্ছে তাকে নিয়ে প্রিয়া যেন বেশী চিন্তা না করে। আর মেঘ-ভজনায় মেঘের স্তুতি করতে যক্ষ বিন্দুমাত্র কার্পণ্য না কর বলছে, - 'হে পুষ্কর বংশজাত...'-এই বলে মেঘবন্দনা করেছে মেঘের কাছে প্রিয়াকে খবর দেওয়ার কাজ যাতে পায়। মেঘকে সম্বোধন করে বলেছে তুমি যখন নদ নদী নগরীর উপর দিয়ে বয়ে যাবে দেখবে কত নারী পুরুষ তোমার জন্য বিরহে কাতর,যেমন আমার প্রিয়া আমার জন্য যেভাবে কাতর। মেঘদূতম্ এক কালজয়ী সৃষ্টি। আষাঢ় নিয়ে আলোচনা করব,আর মেঘদূতম্ এর ভাব আসবে না সে কি হয়! আষাঢ় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আসবেই - "নীলনবঘণে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নেই রে/ওরে তোরা ঘরের বাহিরে যাসনে...." - বর্ষা ও বসন্ত কবির প্রিয় ঋতু। এই দুই ঋতু প্রধানের কারণ শান্তিনিকেতনের দান। শান্তিনিকেতনের পরিবেশ কবিকে এই দুটি ঋতুর গভীরে অমৃতকুম্ভের সন্ধান দিয়েছিল। বিশেষ করে বর্ষাঋতু আবার সবার আগে। রবীন্দ্রনাথের বর্ষা কলকাতার জোড়াসাঁকোতে আর শান্তিনিকেতনে আকাশ পাতাল পার্থক্য অনুভূতিতে কীভাবে আসত 'ভানুসিংহের পত্রাবলি'র এক জায়গায় বলছেন- *"শান্তিনিকেতনের মাঠে যখন বর্ষা নামে বৃষ্টি নামে তখন তার ছায়ায় আকাশের আলো করুণ হয়ে আসে, .....কলকাতায় বর্ষামঙ্গল গান হবে। কিন্তু যে গান শান্তিনিকেতনের মাঠে তৈরি সে-গান কি কলকাতা শহরের হাটে জমবে। .... আষাঢ় মাসের বর্ষাকে এ শহরে যেমন মানায় না..."* বলছেন জোড়াসাঁকোয় বর্ষামঙ্গল গানের আয়োজক দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর যেন কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতনে পালিয়ে বর্ষামঙ্গল গানের আয়োজন করলে খুব আনন্দ পেতেন।
কালিদাস আষাঢ়ের মেঘ ও বর্ষাকে গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে ধরিত্রীর জীবসকলের মুক্তির আনন্দ দেখেছেন। আর কালিদাসের যোগ্য উত্তরসুরী রবীন্দ্রনাথের কাছে আষাঢ় ও বর্ষাঋতুর যেমন প্রাধান্য,আমরাও কবির রোমান্টিক ভাবের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আষাঢ়ের দূতকে পাই শ্রাবণের ধারায় শ্রাবণীরূপে।
সেই কবিতার ছোট্টবেলার বর্ষায় কাগজের নৌকা বানিয়ে স্রোতের মুখে ভাসিয়ে দিতাম। নৌকো স্রোতের টানে চলত,পিছু পিছু আমিও চলতাম। সেই ঘটনাকে রবীন্দ্রনাথ কাব্য করে জীবনের দর্শন মূর্ত করতে বুঝিয়ে দিলেন ঈশ্বর যেন এই জীবনকে ঐ নৌকার মত আয়ুস্রোতমুখে ভাসিয়ে দিয়েছেন,আয়ুস্রোতে আমরা সবাই ভেসে চলেছি,ধরিত্রী তাই ধারণ করেছেন,ঠিক আমরা স্রোতে শৈশবে যেমন নৌকা ভাসাই। আষাঢ় এলে ছোট্টবেলার তাই পুলক জাগে স্রোতে নৌকা ভাসাব। আর এখন সে সরল সৌন্দর্য থেকে অনেক দূরে এসে এখন জীবনটাই আয়ুস্রোতে ভেসে যাওয়ায় আছি।
নদীর যৌবগতি দেখে চোখ জুড়াই। আবার প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণাধীন বলে কূল ছাপিয়ে শান্ত জীবনের উপর হামলা এই সামান্য জীবনের উপর দুঃখের আঘাত নামে( সাম্প্রতিক যশ)। মাথায় কলাপাতা, মানকচুর পাতা চাপিয়ে স্কুলে যাওয়া,স্কুলে না যাওয়ার ফন্দিতে ইচ্ছে করে জল কাদায় চিৎপটাংয়ের অভিনয় সে কি আর ভোলার!
মুষলধারে বৃষ্টি গ্রামে কৃষকের তালপাতার পেখিয়া মাথায় ধান রোয়া, বাড়ির ছাতার চেয়ে পেখিয়া মাথায় রাস্তায় নেমে গলা ছেড়ে বলতাম "আয় বৃষ্টি ঝেপে .." সে মজার দিন আর নেই। এখন চাষের জমি,লাঙল,বলদের দিন গেছে। আষাঢ় এলে নিম্নচাপের দুঃস্বপ্নে নীল হয়ে যাই। অভিজ্ঞতা এখন আর সেই মধুর নেই। হয়তো আছে,বয়সের জন্য স্বাদ বদলে গেছে। এ বলার শেষ নেই।
ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।
*********
অসাধারণ লেখনী
উত্তরমুছুনঅসাধারণ বয়ান দাদা...💐💐👌
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ👏✊👍👏✊👍👏✊👍👏✊👍
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো দাদা 👌👌💐💐💐
উত্তরমুছুনঅসাধারণ।💐💐
উত্তরমুছুনঅসাধারণ 💐💐💐💐
উত্তরমুছুন