রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

#সুন্দরবন অভিযান #কলমে -সোমা দে।

সকলেই বলে সুন্দরবন জায়গাটি খুব সুন্দর। এটা শুনে দীপকবাবুরও সেখানে যেতে খুব ইচ্ছা করে কিন্তু নানান অসুবিধার জন্য তাঁর আর সেখানে যাওয়া হয়না। 

দীপকবাবু হলেন একজন প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। একদিন তিনি স্কুলে গিয়ে শুনলেন যে সব শিক্ষকরা আলোচনায় বসেছেন।আলোচনার বিষয় হল কোথায় পিকনিকে যাওয়া যায়? এটা শুনে দীপকবাবু সাথে সাথে সুন্দরবনে যাওয়ার কথা বলে উঠলেন ।সবাই রাজীও হয়ে গেলেন। সবাই সুন্দরবন যাওয়ার দিনও ঠিক করে ফেললেন। 

এক শনিবারে দীপকবাবু স্কুলের সব শিক্ষকদের নিয়ে বেলা এগারোটায় সুন্দরবনে উপস্থিত হলো। সবাই লঞ্চ থেকে নেমে সরাসরি হোটেলে না গিয়ে সুন্দরবনের চারিদিকটা একটু দেখতে গেলেন। দীপকবাবু প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তাই তিনি তাদের সঙ্গে গেলেননা। হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। 

দীপকবাবু মাঝপথে একটা আওয়াজ শুনতে পেলেন।শুনলেন প্রচুর মানুষের চিৎকার। তারপর তিনি দেখলেন প্রচুর মানুষ টিন পিটিয়ে চিৎকার করতে করতে কোথায় যেন দৌড়ে যাচ্ছে। তিনি সেখানে গিয়ে সেই মানুষদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসা করলেন
 -"কি হয়েছে ? সবাই এইভাবে দৌড়াচ্ছে কেন? "
মানুষটি দীপকবাবুকে বললেন গ্রামে বাঘিনী ঢুকেছে। তাই তারা এইভাবে গ্রাম থেকে বাঘিনীকে তাড়াচ্ছে। দীপকবাবু এটা শুনে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেলেন।

এদিকে স্কুলের আর সব শিক্ষকরা গ্রামে বাঘিনী ঢুকেছে এই শুনে তাড়াতাড়ি হোটেলে ফিরলেন। কিন্তু দীপকবাবুকে হোটেলে না দেখে সবাই চিন্তায় পড়ে গেলেন।যখন  তিনটে বাজে তখন সবাই আবার একসঙ্গে দীপকবাবুকে খুঁজতে বের হলো। 
অনেকক্ষণ তাঁকে ডাকাডাকির পর ও যখন কোন খোঁজ পাওয়া গেলনা তখন সবাই মিলে পুলিশের কাছে গিয়ে সব জানালো। সবাই হোটেলে ফিরে আসলো। কিছুক্ষণ পর পুলিশও এলো হোটেলে, দীপকবাবুকে নিয়ে। সবাই পুলিশের কাছে শুনলেন যে "দীপকবাবু বাঘিনীর নাম শুনে ভয়ে সেখানেই একটা আমগাছের উপর উঠে বসে ছিল। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে তিনি আম গাছ থেকে নিচে নামতেই চাইছিলেন না। অনেক কষ্টে তাঁকে নিচে নামিয়ে হোটেলে আনা হয়েছে।" দীপকবাবুর এই কান্ড শুনে সবাই হেসে উঠলেন। কিন্তু দীপকবাবু এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে তাঁর জন্য আর কারো সুন্দরবনও ঘোরা হয়নি। 

পরেরদিন দীপকবাবুও বাড়ি ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। আর ঠিক করেছিলেন জীবনে কখনও সুন্দরবনে যাবেননা। 

@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর সোমা দে।

২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...