শুভ শব্দ আলোচনা-বাসর।
#বিষয় - *শব্দ।*
# নাম- *দুর্নীতি।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
দুঃ + নীতি = দুর্নীতি- খারাপ নীতি। খারাপ আচার। জীবনের নেতিবাচক ভূমিকা।
জীবনের কাঠামো গড়ে ওঠে ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ-দেশ নিয়ে। বিশেষ করে বাঁচার জন্য সমাজের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি লাগে। সবই দরকার। তাই আনে জীবনের বিকাশ। সবই একপ্রকার ঋণ। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান - নিত্য ভোগ্যপন্যের মধ্যে নিজের উৎপাদনের অংশ নিতান্তই সামান্য। ভাষা,সংস্কৃতি সবই বৃহত্তর মানবগোষ্ঠী গড়ে ওঠার মিলিত সুফল ভোগী সকলে। এই ঋণ শোধ করার চেষ্টা বা আগ্রহ যার ভেতর নেই সে পরশ্রমজীবী। পরজীবীতাই দুর্নীতির জন্ম দেয়। সমাজের ঋণ শোধের চেয়ে পরনির্ভর হয়ে স্বার্থলোভী হয়। আর ঋণশোধের যথাসাধ্য চেষ্টার মধ্যেই নীতির পরিচয় থাকে। আর এর অভাবকে বলে দুর্নীতি। এর উদাহরণের শেষ নেই। এই দুর্নীতিকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠে যে একধরণের আচরণ তাকে বলে ভ্রষ্টাচার। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থাকে,কিন্তু নির্মূল করা যায় না। এর নিরাময় বা নির্মূল দুঃসাধ্য বলে এ হল সমাজের দুরারোগ্য ব্যাধি। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এর কুঅভ্যাস ছড়ানো। পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে সচেতন হয়েও যেমন পরিবেশ দূষণ অহরহ করে চলি,এও ঠিক তেমনি দুর্নীতি জেনেও দুর্নীতি করা একটা স্বভাবের দাস সকলেই। যে এর থেকে মুক্ত হতে চায় সেই সমাজের ঋণ স্বীকার করলে দুর্নীতি মন থেকে নিকেশ করতে পারে।
দুর্নীতির নানা রূপ আছে। কিছু প্রতিনিয়ত ঘটছে বলে চমক নেই,একটা গা সহা ব্যাপার। কিছু খুব চমকপ্রদ। ই.ডি.,সি.বি.আই.- দুর্নীতি দমন শাখার ভূমিকায় চোখ ভ্যাবাচ্যাকা খায়। ভাল লোক আকন্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে,দুর্নীতি দমন শাখা করে দেখায়। চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন তুমিও। মন্ত্রী,আমলা তোমরাও।
দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে নীতির কথা বলি - অন্যায় যে করে,অন্যায় যে সয় উভয়েই সমান অপরাধী। অপরাধ মুখে বলি,কাজে তাকেই মদত দিই হরে দরে। দুর্নীতি রোধের আইন বিপক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু আইন বাবাজির ফাঁকতাল গলে দুর্নীতি দিব্যি টিকে থাকে। আইন মানুষের তৈরী। দুর্নীতিও। আইন দিয়ে দুর্নীতি রোখার অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। তবুও কি দুর্নীতি রোখা যাচ্ছে! কারণ দুর্নীতি সামাজিক ব্যাধি।
সমাজের যেখানে যত দুর্বলতা সেখানে তত দুর্নীতির আখড়া। দুর্নীতি ইচ্ছা করেও তৈরি হয়। কাজ জমিয়ে রেখে। কাজে যে সমাজ যত এগোবে তার দুর্নীতি তত কমবে। কীরকম?
ধরা যাক ব্যাঙ্কে একটি ছেলে যত হাতের কাজ দ্রুত সেরে রাখবে তত কাজের জায়গা তৈরী হবে। ছেলেটি তাই করছে দেখে ইউনিয়ন তাকে সাবধান করে দিল এত কাজ করা চলবে না,কাজ জমতে দিতে হবে। কাজ জমলে বাড়তি রোজগারের সুযোগ মিলবে। বাড়তি পয়সা দিয়ে কাজ করাতে হবে কর্তৃপক্ষকে। এতে ইউনিয়নের ক্ষমতা জাহির হবে। অপরপক্ষে যাদের কাজ জমে আছে তারা বাড়তি পয়সা দিয়ে কাজ করিয়ে নেবে। কাজের ধরণ দুর্নীতির জন্ম দেয়। বেতনের বিনিময়ে সমাজকে কাজ দেব। সেই কাজের উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে আসি যাই বেতন পাই,দুটো বাজলে পায়ে চটি গলাই,টাইমে লোকাল নাহলে ফেল হবে,হাতের কাজ হাতে থাকুক,বাড়তি কাজ বলে বিজ্ঞাপন দিয়ে বেতনের উপরি নিয়ে কাজ করা যাবে। মানে সমাজের চোখে কত বড় অন্যায়কারী,দুর্নীতি পরায়ণ হয়েও পার পেয়ে যায়। এটাই সিস্টেম বলে দিব্যি চালায়। এই থেকেই তো দুর্নীতির আখড়া তৈরি হয়। এজন্য দেশ পড়ে বিপদে।
ভারতবর্ষ একটি কেলেঙ্কারির দেশ। বোফর্স,হাওলা,কয়লা,শেয়ার,স্টাম্প পেপার,হালে যেদিকে চোখবন্ধ করে দশটা ঢিল ছুঁড়বে আটটাই কেলেঙ্কারির গায়ে লাগবে। কেলেঙ্কারির হলাহলে সকলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়ে চলেছি। সর্বত্রে দালালি। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদন্ড হয়,এখানে কেলেঙ্কারি সুযোগ বুঝে ঢুকছে। পড়তে লাগে,চাকরি পেতে লাগে। স্বাস্থ্যের মত জায়গায় দুর্নীতি,স্বজনপোষন সে বলতে! চিকিৎসায় দালাল চক্র এখন রমরমা। করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে জাল জুয়াচ্চরি হচ্ছে মানুষের দুর্বলতার সুযোগকে ঘিরে। দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। দুর্নীতি না হওয়া অস্বাভাবিক। যেখানে দেখিবে ছাই,উড়াইয়া দেখ ভাই দুর্নীতির তাল তাল মণিমাণিক্য তোমাকেও সাদরে অভ্যর্থনা করবে। বিপথে রোজগার করে অনেক সম্পদের অধিকারী,আমিও করব না কেন- এই বেপরোয়া মনোভাবই তো দুর্নীতির জন্ম দেয়। দুর্নীতির জন্ম হচ্ছে ভোগবাদ মনোভাবের জন্য। ভোগবাদের হাতছানির কাছে মানুষ সংযম রক্ষা করতে পারছে না। আর সেই সুড়ঙ্গপথে দুর্নীতির ধামাকা। পরিবেশ দূষণের ন্যায় দুর্নীতি দূষণ এখন আধুনিক ভোগবাদের নতুন *অভিজ্ঞান জীবনম্।*
*******
অনবদ্য
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনদুর্নীতির বিচিত্র রূপ....
উত্তরমুছুনঅসাধারন লিখেছেন দাদা 👏👏
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর করে সবদিক তুলে ধরেছেন 👍👍👍👍💐💐💐💐
উত্তরমুছুন