শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *বজ্রগর্ভ প্রকৃতি।* # নাম- *বজ্রগর্ভ মেঘ।*
✍ - *শূদ্র।*
প্রাচীন যুগে বিভিন্ন সভ্যতায় বজ্রকে কল্পনা করা হয়েছে ইন্দ্র,থর,জিউস,অভিন প্রভৃতি দেবতার অস্ত্র বজ্র হিসেবে। তাঁরা শাস্তি দিতে শত্রুপক্ষের উপর এই অস্ত্র ব্যবহার করতেন।
এই বজ্র সৃষ্টির মূলে বৈজ্ঞানিক মত অ্যামোনিয়া,মিথেন,হাইড্রোজেন, জলীয়বাস্প একসঙ্গে বিক্রিয়া ঘটায় বজ্রপাত। সেই গ্যাসগুলি বজ্রপাত জাত বিদ্যুতপ্রবাহের দ্বারা বিক্রিয়া ঘটে অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরী হয়। এই অ্যাসিড নাকি একসময় প্রাণের বীজ বপন করে বলে অনেকের বৈজ্ঞানিক গবেষণার দ্বারা প্রমাণ করেছেন।
বজ্রপাত সৃষ্টির মূলে বায়ুর উলম্ব গতি মূল শক্তি। কারণ বায়ুর উলম্বগতির সঙ্গে মেঘের কণারা পরস্পর বিক্রিয়ার ফলে ধণাত্মক ও ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক আধানে ভাগ হয়। বাতাস মেঘকে এই আধানে ভাগ করে বজ্র তৈরী করে। তাই বজ্রপাতের সময় তড়িৎ চুম্বক সৃষ্টি হয়। আর এই বজ্র সৃষ্টি হয় সাধারণত ৬০ কিমি উচ্চতায়। আর তার পতনে কাছাকাছি উচ্চতায় পাহাড়,উঁচু অট্টালিকা শিকার হয়।
বজ্রপাতে তাপমাত্রা তৈরী হয় ৩০০০০(ত্রিশ হাজার) ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত। আর গরম হাওয়া শকওয়েভ সৃষ্টি করে বলে বিকট শব্দ হয়।
প্রতি এক বর্গ কিমি স্থানে বছরে কতবার বিদ্যুতের চমকানি হয় তা ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত হিসেবের গবেষণায় পাঁচশ' টি স্থান চিহ্নিত হয়,যেখানে সবচেয়ে বেশী বজ্রপাত হয়। এই বজ্রপাত প্রবণ এলাকায় বছরে হাজার হাজার বজ্রপাত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে সমুদ্রের চেয়ে স্থলভাগে,শীতকালে তুলনায় গ্রীষ্মকালে এবং দিন ও রাতের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশী বজ্রপাত হয়।
পৃথিবীর মধ্যে আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশী বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা রয়েছে। ৫০০এর মধ্যে ২৮৩। আফ্রিকার জলবায়ুর উষ্ণতার জন্য যে হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তাহলে প্রশ্ন পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে কী বজ্রপাত বাড়ছে? এবং বাড়লে কতটা বাড়ছে? সহজ উত্তর বাতাস যত গরম হবে তত ঝড় বৃষ্টি সৃষ্টিকারী বাতাসের জলীয়বাস্প ধারণের ক্ষমতা বাড়ে। অঙ্ক কষে বের করে প্রমাণিত সত্য এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বাড়লে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বজ্রপাত বাড়তে পারে। আর বর্তমান বিশ্বের পরিবেশ ও তার তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘাতক গ্রীণহাউস গ্যাসসহ,ওজন স্তরের ফুটো,বরফের গলন,সমুদ্র জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর কোনো খবর জানতে বাকি নেই যে ধরিত্রীর অবস্থার ভয়ানক সঙ্কটের কারন।
তাই পৃথিবীর সঙ্কট কতটা ভারী সেই বিজ্ঞাপন সবসময়ই চোখের সামনে খাড়া দাঁড়িয়ে। আর বজ্রপাত ঘর পোড়া গরুর সিঁদুরে মেঘ দেখার ভয়ের মত বিশ্ব আতঙ্কে ভুগছে। এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা চার ডিগ্রি বাড়বে। ফলে কি কি ঘটবে তা সহজেই অনুমেয়। আর বজ্রপাত তো বর্তমানের চেয়ে ডাবল হবে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বজ্রপাত মুষলধারে বৃষ্টির মতো হবে।
ভারত বাংলাদেশ ভৌগলিক সীমায় এক,মানুষের সৃষ্টি সীমারেখা আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও ভৌগলিক
পরিবেশে এক। বঙ্গোপসাগরের দানে এই দেশ দুটিতে পরিবেশের দান সমবন্টন থাকবে। এই তো গতকাল ০৭/০৬/২০২১ সোমবার, ভারতবর্ষের শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ছাব্বিশ জন একদিনে বজ্রপাতে মারা গেল, যা সর্বকালের রেকর্ড। বঙ্গোপসাগরের দোষ না মানুষের দোষ,প্রশ্নের উওর সবাই তারস্বরে বলবে কে দায়ী।
*******
সমৃদ্ধ হলাম । গুরুত্বপূর্ণ অবদান
উত্তরমুছুন