শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১

#নাম - মহাত্মা গাঁধীজি।✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

#বিষয় - *জাতির জনক মহাত্মাজীর স্মরণে জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।*
   # নাম - *মহাত্মা গাঁধী।*
✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
আজ(২-অক্টোবর) জাতির জনক,ভারতাত্মা গাঁধীজীর জন্ম দিন। দেশে ও বিদেশে গাঁধী-স্মরণ ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে প্রতি বছর জন্মদিন পালিত হয়।
     গান্ধীজীর পরিবার ছিল জৈন ধর্মাবলম্বী। মহাত্মা আবার রাজনৈতিক ভাবাদর্শে বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, কেননা বুদ্ধদেবের 'মা হিংসি' অবলম্বনে অহিংস নীতির উদার ভাববাদের প্রয়োগ তারই প্রমাণ। তাহলে তাঁর বিলেত যাত্রা দিয়ে শুরু করা যাক।
     ১৮৮৮,৪-সেপ্টেম্বর ব্যরিস্টারি পাঠ নিতে ইউনিভার্সিটি অব্ কলেজ, লন্ডনে যান। যাওয়ার সময় জৈন সন্ন্যাসি বেচার্জির কাছে মা শপথ করিয়ে নেন লন্ডনে থেকে কোনোপ্রকার মাছ-মাংস তথা আমিষ ভোজন চলবে না। মদ স্পর্শ তো নয়ই। উচ্ছৃঙ্খল জীবন নৈব নৈব চ। হিন্দুত্বের আদর্শে নিষ্ঠাবান থাকতে হবে। মায়ের সামনে শপথ তো না হয় হল। কিন্তু জায়গাটা যে লন্ডন। ইংরেজ আদব কায়দায় রপ্ত না হতে পারলে একা হয়ে পড়তে হবে যে। গুজরাটের পোরবন্দরে নেওয়া শপথ যতটা পারা যায় রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। পরীক্ষামূলকভাবে 
নাচের তালিম নিলেও বাড়িওয়াালির দেওয়া ভেড়ার মাংস,বাঁধাকপি ছুঁ'তেন না।
থাকতেন নিরামিশাষি পাড়ায়। একটি বাঁধা দোকানে নিয়মিত খেতেন। এই সূত্রে তিনি নিরামিশাষি সংঘে যোগদান করেন। অচিরে সংঘের কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। এমনকি একটি স্থানীয় শাখা গড়ে তোলার দায়িত্ব পান। এই সংঘই তাঁর জীবনে সংঘবদ্ধ শক্তির নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি এনে দেয়। আবার এখানকার থিওসফিক্যাল সোসাইটির( ১৮৭৫ ) কিছু সদস্যকে সংঘে পান। তাঁরাই গান্ধীজীকে বৌদ্ধ-হিন্দু-ব্রাহ্মণ্য সাহিত্য পাঠের সুযোগ করে দেন।গীতা পাঠে উৎসাহিত করতেন তাঁরা। ধর্ম সম্পর্কে প্রথম প্রথম আগ্রহ ততটা না থাকলেও এই বইগুলি পাঠে ক্রমেই ধর্মীয় ভাবের নিজস্ব জগৎ গড়ে তোলেন। ব্রিটেনের থিওসফিক্যাল সোসাইটির পরিবেশ তাঁকে অনেকটাই গড়ে দেয়,ভবিষ্যতের দিশা খুুুঁজে পান,নিজেকে কোথায় কতটুকু উজাড় করে দিতে পারবেন।
          ভারতবর্ষের পশ্চিমাংশ (গুজরাট, মহারাষ্ট্র...) থেকে ভাল সংখ্যক আফ্রিকায় পাড়ি জমাত বাণিজ্যের লক্ষে। তাঁরা ক্রমেই বংশ পরম্পায় স্থায়ী বাসিন্দাও অনেকেই হয়ে যান। আফ্রিকার ব্রিটিশ উপনিবেশে কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে এই ভারতীয়দেরও নিপীড়িত হতে হত। এদেরই হয়ে আইনী লড়াই করতে গাঁধীজীর ডাক পড়ত। সেই সূত্রে ডারবানে গুজরাটি ব্যবসায়ী দাদা আবদুল্লার অফিসে কাজ দিয়ে শুরু ব্যারিস্টারি পেশা। ১৮৯৩ দিয়ে শুরু আফ্রিকা পর্ব।
        শেতাঙ্গদের বর্বরোচিত বর্ণবিদ্বেষ গান্ধীজীকেও রেহাই দেয়নি। পদে পদে হেনস্থা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। যেমন উল্লাখযোগ্য দু'চারটি হল___
     ১। ডারবান আদালতে একদিন ম্যাজিস্ট্রেট মাথার পাগড়ি খুলে রাখতে বললেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে আদালত কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন।
      ২। একদিন প্রথম শ্রেণীর টিকিট কেটে পিটার ম্যারিজবার্গের ট্রেনে উঠেছেন। কিন্তু তাঁকে বাধ্য করা হয় তৃতীয় শ্রেণীর কামরায় যেতে। কেননা তিনি যে কৃষ্ণাঙ্গ। সেজন্য মারধরও খেতে হয়েছিল। সঙ্গের লটবহর কামরার বাইরে ছুঁড়ে ফেলা পর্যন্ত হয়েছিল।
       ৩। স্টেজ কোচে ভ্রমণের সময় একজন চালক তাঁকে প্রহার করেন,কেননা তিনি এক ইউরোপীয় যাত্রীকে জায়গা করে দিয়ে ফুট বোর্ডে চড়তে রাজী হননি বলে। আরো কত কত! বর্ণবৈষম্য-কুসংস্কার-অত্যাচার-অবিচারের শিকার যেভাবে নির্বিচারে চলত গান্ধীজী এদের পাশে না থাকলে আরো এরা অসহায় হবে,এই ভেবে কঠিন কর্তব্যে বাঁধা পড়লেন। সেজন্য তিনি ১৮৯৪ খ্রীঃ নাটাল ইন্ডিয়া কংগ্রেস স্থাপন করলেন পেশা ও রাজনীতিতে ক্রমেই পসার জমতে লাগল। মাতৃভূমি তাঁকে আরো বেশি করে টানে। কিন্তু নিরুপায়।মাতৃভূমির টানে প্রায়ই যান। সবে ডারবানে ভারতবর্ষ থেকে ফিরেছেন, ১৮৯৭-জানুয়ারীতে এক মব তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু গা়ধীজী ঐ মবের বিরুদ্ধ কোনো অভিযোগ আনলেন না এই ভেবে, একের দোষে পুরো দলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর এই দৃঢ় মানসিকতায় প্রতিপক্ষ সেদিন পিছু হঠেছিল। এই সাফল্য পরবর্তী সত্যাগ্রহ আন্দোলনে কাজে লাগালেন। 
         ১৯০৬ খ্রীঃ। ট্রান্সভাল সরকার ভারতীয়দের ভোটাধিকারের বদলে বহিস্কারের আইন আনতে চলেছে। তখন তিনি ১১-সেপ্টেম্বরে জোহানেসবার্গে এক সংগঠিত গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আইন বর্জনের জন্য। এই প্রথম আইন অমান্য আন্দোলন। সংগঠিত জমায়েতে শপথ নিলেন এই আইন অমান্যের জন্য
যত অত্যাচার নেমে আসুক না কেন পিছু হঠবেন না। এই আন্দোলনের জন্য অনেককে
আহত,নিহত ও বন্দী হতে হয়েছিল। তথাপি আন্দোলন শান্তিপূর্ণ দেখে,কৃষ্ণাঙ্গদেরও
স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান করতে দেখা গেল। আন্দোলন দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলল। শেষে জেনারেল ইয়ান ক্রিশ্চিয়ান স্মুট গান্ধীজীর সঙ্গে
সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন। এরই মাধ্যমে আফ্রিকায় গাঁধীজীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রথম সাফল্য,যা মাতৃভূমির
জন্যও তুলে রাখলেন। 
   আফ্রিকা তাঁকে চিনিয়ে দিয়েছিল ধর্ম ও রাজনীতির সম্পূর্ণ আলাদা দুটি সত্ত্বার কথা। আফ্রিকায় তাঁর লড়াই ছিল ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে, মাতৃভূমিতেও তাই। মাতৃভূমিতে বাড়তি সুবিধা পেলেন অহিংসার পূণ্যভূমি বলে। আর অবশ্যই হিন্দু ধর্মের সহনশীলতা। স্বামী বিবেকানন্দের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভারতবর্ষকে আবিস্কার করলেন নতুন করে। হিন্দ্ স্বরাজ দিয়ে অহিংসার বীজ বপন করলেন। আফ্রিকা থেকে ইসলাম ধর্মকে আপন ধর্মের সঙ্গে পিঠোপিঠি ভাবতেন। ইসলামকে কোনোদিন বৈরীতা দিয়ে দেখলেন না, কেননা শিল্প-সংস্কৃতিতে উভয় সম্প্রদায় যে পরস্পরের পরিপূরক। যত নষ্টের গোড়া ছিল সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ, রাজনীতির স্বার্থে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল তাকে গাঁধী কোনো দিন মেলাতে পারেননি। তাই তাঁকে অনেকেই ব্যর্থ নায়ক বলেছেন। ব্যর্থতা এজন্য উগ্র হিন্দুরা তাঁকে দাগিয়ে দিয়েছিল তিনি হিন্দু বিদ্বেষী। সেই সস্তা রাজনীতির মাশুল হিসেবে চড়া খেসারদ দিতে হয়েছিল দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা নিয়ে। গান্ধীজী তা মানতে পারেননি বলে স্বাধীনতা উদযাপনের আনন্দ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে ছিলেন। কলকাতায় নিজেকে নির্বাসনে পাঠিয়ে।
  বর্তমান সেই রাজনীতির গলিঘুঁজিতে আমরা আজও যখন খেই হারিয়ে ফেলি,বাপুজিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাই। মনে হয় বাপুজি থেকে যত দূরে যাচ্ছি বাপুজীকে তত কাছে পাওয়ার প্রবল আকুলতা আমাদের কি ব্যাকুলই না করছে! তাই গান্ধী আদর্শের স্থান বইয়ের পাতা ছেড়ে অন্তরে উঠে এসেছে, কেননা গাঁধী  যে আমাদের বর্তমান দুঃসময়ের সাথি। মহাত্মা ছাড়া গত্যন্তর নেই। বর্তমান যে বড়ই হিংসায় রক্তাক্ত। গা়ধীজীর ভাব আন্দোলন বড়ই দরকার।
               *******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...