রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১

# নাম - সতীত্ব ও সহমরণ। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর।
#বিষয় - *আধ্যাত্মিক।*
  #নাম - *সতীত্ব ও সহমরণ।*
   ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

*"আত্তার্ত্তে মোদিতা হৃষ্টে প্রোষিতে মলিনা কৃশ।*
*ত চ ম্রিয়তে পত্যৌ সা স্ত্রী জ্ঞেয়া পতিব্রতা।।"*- যে রমণী স্বামীর দুঃখে দুঃখিতা,স্বামীর সুখে সুখিনী,স্বামী প্রবাসী হলে মলিনা ও কৃশাঙ্গী হন এবং যিনি স্বামীর মরণে সহমৃতা হন,শাস্ত্রে তাঁকে পতিব্রতা রমণী বলে। সতী,সীতা, সাবিত্রী,দময়ন্তী,অরুন্ধতী,বেহুলা সব আদর্শ সতীনারী যাঁরা ব্যবহারিক জীবনের নারীদের মডেল। নারীসমাজ কথাটিতে নারীই একম অদ্বিতীয়ম। সেখানে কেবলমাত্র মেয়েলি আদব কায়দা,লোকাচার, স্ত্রী আচার!  বিপরীতে পুরুষসমাজ,পুরুষের একাধিপত্য। 
 শঙ্করপত্নী *সতী* সতীত্বের পূর্ণপ্রতিভূ। তিনিই সতীত্বের উৎস।   বালিকা থেকে কুমারী হওয়ার জ্ঞাণোদয় হলে সতীর আদর্শে অনুগতা হয়ে অনুশীলনে ব্রতী হয় মেয়েরা। শিবপূজা তার সতীত্বের অনুসঙ্গ। তাই লোকাচার। এই দেবভক্তি থেকে পুণ্য,পবিত্রতা ও ভক্তিমতী ভাব আসে। বারব্রতধারিণী হয়। সংসারের পুণ্যার্থে এক অপূর্ব পবিত্রতার বলয়ে নিজের অবস্থানকে সুরক্ষিত করে। 
 বিবাহকালে সতীত্বের প্রধান বিচার্য বিষয় কতটা ভক্তিমতী। শিক্ষাসংস্কার,সংস্কৃতিমনস্ক,রুচিশীলতা,রন্ধনপটিয়সী,সেবাব্রতিনী একেবারে সবেতেই পরিপূর্ণা হতে হয়। আর হিন্দু সমাজে মেয়েদের মাতৃরূপের প্রাধান্য বলে গৃহবধূ হতে গেলে সতীত্বের সে কত বাছবিচার। মেয়ে হয়ে জন্মালে পরের ধন হয়ে বাপের কাছে,স্বামীগৃহে প্রবেশ কালে সতীত্বের পরীক্ষা একটা লোকাচারে পর্যবসিত হয়েছে।
 গৃহবধূ হলে রূপে লক্ষ্মী ও গুণে সরস্বতী হওয়া চাই। 
   এতসব বাছবিচারের পর ব্যবহারিক জীবনে নারীর স্থানের কথায় আসি এবার।
 কন্যাকে অপরূপা হতে হবে। নম্রা,রুচিশীল, চলনে ভীতা- শঙ্কিতা,কমলমতী,গৃহনিপুনা হতে হবে। তারপর পাকা দেখা। সেই সঙ্গে দানসামগ্রীতে মেয়ের মূল্য নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ পণ-এ হল মেয়ের মূল্য নির্ধারিত হয়। 
  সতীত্বে সতী, সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী চাই। আর পণের সময় সমাছকে নাককাটা নির্লজ্জ মনে হয়। এখন আবার বলে দাবী নেই *যা দেবেন* - যা দেবেনের হাঁ বেশী। বাবা তো খালি হাতে পাঠাতে পারেন না। মেয়ে শ্বশুরবাড়ীতে প্রবেশের পর বধূবরণ উৎসবে যৌতুক নিয়ে কানাকানি ফিসফিসানি দেখলে মনে হবে সতীত্বের সাথে এগুলো হল মেয়েটির ব্যবহারিক মূল্য, যা সতীত্বের মর্যাদা বাড়ায়। কি সমাজ! এই পণ নিয়ে টানাপোড়েন অনেক সময় সতীত্ব বৃথা হয় ,পাকা দেখা থেকে বিয়ে ভেঙে যায়। কখনো বা বিবাহস্থল থেকে বর তুলে নেওয়ার ঘটনা প্রায়শই ঘটত। এখনও। 
  একজন সতী নারীর গুণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ীতে প্রবেশ কি লোকাচারের গুমোর! শ্বশুরবাড়ী বলা হয়,শাশুড়ী গৃহকর্তৃ। সংসারের অন্দরে আধিপত্য তাঁর।  আগেই বলেছি মাতৃপ্রধান সংসার,বধূর প্রাধান্য থাকেনা। পাশ্চাত্যে বধূর প্রাধান্য। মেয়ে ও পুরুষে স্বাধীকারের প্রাধান্য। সতীত্বের মাপকাঠি নেই। স্বামী দেবতা,সে দেবত্বগুণ থাকুক বা নাই থাকুক, স্বামীকে দেবতা বলতে হয়। পাশ্চাত্যে ওটি চলবে না। দেবত্বগুণ থাকলে তবেই তুমি স্বামীদেবতা। হিন্দু ধর্মে কেবল এই স্বামী দেবতার কথা আছে। বড়ই গন্ডগোলে ভাব  ছিল। এখনো তাই মনে হয়।
   সতীত্বের কিছু প্রমাণ বাকী থাকে বলে তাই মাতৃত্বের অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে থাকতে হয়। সংসারের ট্রেনিং চলে শাশুড়ি ট্রেনার। এই শাশুড়ি নামক আইটেমটি আর্থসামাজিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির হন। একদিন শাশুড়ি যেদিন গৃহবধূ ছিলেন সেদিন তাকে তাঁর শাশুড়ি যে যে আচার ও নিয়ম মেনে আসতে বাধ্য করতেন ইনিও তাই করবেন। সংসারের ঐতিহ্য বলে একটা মডেল সামনে থাকবে। এখন আধুনিক শিক্ষা দীক্ষায় তার বদল কিছুটা এলেও পুরোপুরি বদলায়নি। চাকরিওয়ালা মাধ্যমে মেয়েদের ঘরে ও বাইরে সামাল দিয়ে খুব একটা স্বস্তি নেই, তবে রোজগারের দিক বলে সবাই মানানোর চেষ্টা করে। খটামটি হামেশাই লেগে থাকে সংসার যাঁতাকলে। এতো গেলো সমাজ সাংসারের ব্যবহারিক দিকের কথা। সতীত্ব অর্থনৈতিক তুল্যমূল্য বিচার্য।
 তারাই সতী নারী যাঁরা স্বামী ভিন্ন পরপুরুষের চিন্তাকে পাপ মনে করে। অসতী বলে চিহ্নিত হয় যদি অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এখন আইন পর্যন্ত এই পরকিয়া সম্পর্ককে বৈধতা দিতে বাধ্য হয়েছে। আধুনিকতার খাতিরে। জীবনের দাবীতে। এতদিন নারীর সতীত্ব নিয়ে যা ভেবে এসেছি তা ভেক। সতী,সীতা,সাবিত্রী হলে ব্যবহারিক ভোগ,ব্যবহারিক জীবনের আইনী বৈধতাকে অস্বীকার করা থেকে সরিয়ে রাখা মানে অনেককিছু থেকে বঞ্চিত করে রাখা। অর্থাৎ জীবন এখন খুব বৈজ্ঞানিক পথে হাঁটতে চায়। সেখানে সতীত্বের ফাঁকা বুলি অস্বীকার করলে কোনো যায় আসে না। সতীত্বেও এখন আপেক্ষিক গুণাগুণ এসেছে জুটেছে।
 সতীত্ব নিয়ে বিতর্ক এখন মেলা। আর সহমরণের দিন শেষ। সহমরণ কথাটা নিতান্তই ভেক। সহমরণের যুগকে অভিশপ্ত মানে আধুনিক সমাজ। সতীত্ব ও সহমরণ কথাটা নিতান্তই সেকেলে। সেকেলে ধরনে আটকে। বরং আধুনিক জীবনে নারী ও পুরুষের যৌথ সম্পর্কে ও সমানাধিকারে সমাজ কতটা উন্নত হবে তাই ভাবার দিন এখন। মাতৃত্ব ও বধূর মধ্যে যত দূরত্ব কমবে তত সাংসারিক অশান্তি কমবে। বধূনির্যাতন কমবে। নারী স্বাধীনতার নতুন সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আমাদের কাছে সতীত্ব ও সহমরণ নামক ভাববাদ থেকে ক্রমে সরে এসে সমসাময়িক প্রগতিশীল ভাবনার সঙ্গে যত সমবেত হব তত সমাজ ও সংসার নতুনভাবে সজ্জিত হবে।
                 *****
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

৩টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...