শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

#বঙ্গ - পূর্ব ও পশ্চিম - ✍️ -মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর।
   #বিষয় - বঙ্গ আমার জননী আমার। 
     # নাম- পূর্ব ও পশ্চিম- বঙ্গ।
      ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

       বঙ্গের আগে পূর্ব ও পশ্চিম নিয়ে বঙ্গের পরিচয় বঙ্গবাসীর এ এক দুর্ভাগ্যের কাহিনী। অখন্ড বঙ্গের একটি পৌরাণিক কাহিনী বলি তাহলে।
    পুরাণে মহর্ষি দীর্ঘতমস ছিলেন জন্মান্ধ। মহর্ষির স্ত্রীর নাম প্রদ্বেষী। কয়েক সন্তানের জননী। কিন্তু মহর্ষির সঙ্গে স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ার জন্য দাম্পত্য সঙ্কটে তাদের সুখ দুরস্থ। 
  একদিন প্রদ্বেষী পুত্রদের নির্দেশ দিলেন তাদের বাবা দীর্ঘতমসকে গঙ্গায় ফেলে দিয়ে আসতে। ছেলেরা মায়ের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করল। অন্ধ মহর্ষি ভাসতে ভাসতে দৈত্যরাজা বলির আশ্রয়ে এলেন। 
 এদিকে বলিরাজা ও তাঁর স্ত্রী সুদেষ্ণা নিঃসন্তান। মহর্ষির স্পর্শে সুদেষ্ণা পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিলেন। এই পাঁচ পুত্র - অঙ্গ,বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুন্ড্র ও সুহ্ম। এদের নামে এক একটি দেশ। দেশগুলি সব উত্তর-পূর্ব ভারতের।
   অঙ্গ হল রাজশাহী ও ভাগলপুর। উত্তরে ভাগীরথী থেকে দক্ষিণে গোদাবরী পর্যন্ত কলিঙ্গ,অধুনা উড়িষ্যাকে বলা হয়। অঙ্গ ও কলিঙ্গের  পূর্ব- প্রদেশের নাম বঙ্গ বলে অভিহিত হয়। রাজসাহী বিভাগের পশ্চিমাঞ্চল হলো পুন্ড্র। বর্ধমান ও মেদিনীপুরের পূর্বাংশ বঙ্গ,আর এই বঙ্গের পশ্চিমভাগে সমগ্র বর্ধমান সুহ্ম রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।  
 বায়ু,বিষ্ণু,মৎস,মার্কেন্ডেয় প্রভৃতি পুরাণে এই পাঁচটি নামের উল্লেখ পাই।
  বঙ্গ নামের নেপথ্যে এই পৌরাণিক কাহিনী বাঙালি এখন প্রায় ভুলতে বসেছে।
  নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ে এই বঙ্গ থেকে বাঙালি জাতি অস্ট্রিক-দ্রাবিড়-মঙ্গোলয়েড- আর্যজাতির মিশ্রিত এক জাতি। আবার পরবর্তী সময়ে ইসলাম,বৌদ্ধ, জৈন,বিভিন্ন বহিরাগত রাজবংশ পাল,সেন মিশ্রনে এই মিশ্র জাতি থেকে এল জাতপাত, সম্প্রদায়,শ্রেনি ইত্যাদির বিভাজন। তার মূলে ভৌগলিক সীমা,পরিবেশও পরিচয়কে প্রভাবিত করল। ব্রিটিশ সরকারের সাম্রাজ্য বিস্তারের সুবিধার্থে বঙ্গ-বিভাজন ছিল একটি অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা।
 ভৌগলিক বিচারে গঙ্গা ও ভাগরথীকে মধ্যস্থ মেনে বঙ্গের আড়াআড়ি বিভাজন সাম্রাজ্যবাদীর অসৎ উদ্দেশ্যে বাঙালি হল প্রশাসনিকগত বলির পাঁঠা। গঙ্গা-ভাগীরথীর এপার ওপার। লোকসংস্কৃতি যার প্রাণের বন্ধন। ভৌগলিক সীমানায় বাহ্যিক পরিচয় বাঙালির দ্বৈত সত্তা- হিন্দু বাঙালি ও মুসলমান বাঙালি। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব দিক পূর্ববঙ্গ। পশ্চিম 
দিক পশ্চিমবঙ্গ। 
 স্বাধীন ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম মুছে দিয়ে অখন্ড বঙ্গদেশের তকমা নিয়ে গঙ্গা ভাগীরথীতে অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু হিন্দু ও মুসলিম বাঙালির তকমায় মেরুকরণ দিয়ে হল পাঞ্জালড়াই। ইতিহাসে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম,উদ্বাস্তু সমস্যার কি না ঘটেনি। বাঙালি দুই স্বাধীন দেশের দ্বিধাবিভক্ত। গঙ্গা-ভাগীরথী পূর্ব ও পশ্চিম জাতিসত্তায় দ্বিধা বিভক্ত। কিন্তু সাংস্কৃতিক সত্তায় মেরুকরণ অসম্ভব। রাজনীতি তিস্তার জলে সীমাবদ্ধ,মেরুকরণ দুই দেশ। কিন্তু অন্তস্থলে সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের ফল্গুস্রোত জাত্যাভিমান মুছে দেয়। এখানেই বাঙালি হিসেবে চির গৌরবের অঙ্গীকার হৃদয় থেকে হৃদয়ান্তরে।
 ধন্যবাদ।  নমস্কার। ❤❤🙏🙏
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...