বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

নক আউট ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পরিত্রাণ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কুয়াশা ঘেরা পাহাড়টা নন্দিনীদের হোটেলের 
বারান্দা থেকেই দেখা যাচ্ছিল। চাদরটা গায়ে জড়িয়ে বারান্দায় এসে বসেছিল নন্দিনী। একদৃষ্টে তাকিয়েছিলো বাইরের দিকে। বাড়ীর কথা খুব মনে পড়ছিলো ওর। মায়ের ওষুধ, ভাইয়ের পড়াশোনা সব কিছু চালাতে ও মেনে নিয়েছিল জামাইবাবুর কথা। বিউটি পার্লারে কাজ জোগাড় করে দেওয়ার নাম করে জামাইবাবু ওকে নিজের এক ক্লায়েন্টের হাতে তুলে দিয়েছিল,সেই থেকে শুরু ওর এসকর্ট জীবনের। বাড়ীতে কেউ কিছু জানতে পারলোই না। ইদানিং কয়েকদিন হলো জামাইবাবু ওকে বেশ কিছু টাকা চেয়ে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেছে। হুমকি দিয়েছে টাকা না দিলে বাড়ীতে জানিয়ে দেবে সব, তখন কোথায় থাকবে ওর মা ভাইয়ের সম্মান? ভাই আর স্কুলেও যেতে পারবেনা, মুখ দেখাতে ও পারবে না। প্রথম প্রথম কিছু টাকা দিলেও পরের দিকে জামাইবাবুর ডিমান্ড খুব বেড়ে যাচ্ছিল, আর পারছিলো না নন্দিনী। অনেক প্ল্যান করে জামাইবাবুর সাথে দার্জিলিং আসে নন্দিনী। এসব ভাবছিল বসে বসে,পাশের চেয়ারে এসে বসলো অমিত,ওর জামাইবাবু। নন্দিনীর দিকে তাকিয়ে বললো এককাপ চা হলে মন্দ হয় না বলো! নন্দিনী বললো নিশ্চয়ই! খুব ভালো হবে। তুমি বসো, আসছি কিছুক্ষনের মধ্যে চা বানিয়ে নিয়ে। অমিত নন্দিনীর কোমরে হাত রেখে বলল তোমার এই উষ্ণতা মাথা স্পর্শ যে আরো বেশি রিফ্রেশিং। নন্দিনী বললো আমি আসছি একটু ভেতর থেকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চা নিয়ে এসে হাজির হলো নন্দিনী। 
এক কাপ চা তুলে মুখের সামনে ধরলো অমিতের।
অমিত চা নিয়ে খেতে শুরু করলো। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মনে হলো কিছুই যেনো মনে পড়ছে না, চোখ গুলো বন্ধ হয়ে আসছে। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। কেমন একটা অডিটরী আর ভিসুয়াল হ্যালুসিনেশন হচ্ছে, কেউ যেনো দাড়িয়ে আছে সামনের কুয়াশা ঘেরা পাহাড়টায়। সে যেনো হাত বাড়িয়ে ডাকছে ওকে। নন্দিনীর দিকে তাকিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করে, পারে না! চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে পড়ে অমিত, বারান্দা দিয়ে গিয়ে সামনের রাস্তায় নেমে পড়ে, এগোতে থাকে পাহাড়ি রাস্তার দিকে। নন্দিনী এগিয়ে যায় পেছন পেছন,একটা চাদর জড়িয়ে দেয় অমিতের গায়ে। হিস হিস করে বলে চলো জামাইবাবু, অনেকটা রাস্তা বাকি। হাঁটতে হাঁটতে খাদের কিনারায় পৌঁছে যায় অমিত। বুঝতেও পারে না কি অপেক্ষা করছে ওর জন্য! একটা ধাক্কা পেছন থেকে আর পাথরে পা পিছলে গিয়ে খাদের গভীরে হারিয়ে যায় অমিত। উফফ কি শান্তি! বুক ভরে মুক্তির স্বাদ নেয় নন্দিনী। ভাগ্যিস প্ল্যান করে চায়ের মধ্যে স্টুপিফায়িং এজেন্ট ধাতুরা স্ট্রামোমনিয়াম এর রুট ক্রাশ করে মিশিয়ে দিয়েছিলো। চা টা খাওয়ার পর আর নিজের মধ্যে ছিলো না অমিত। কনফিউশন আর হ্যালুসিনেশনের জন্য মনে হচ্ছিল কেউ ডাকছে ওকে আর সেই ডাক উপেক্ষা করতে না পেরে তলিয়ে গেলো অতল গহ্বরে। চুপচাপ হোটেলে ফিরে এলো নন্দিনী,সব কিছু গুছিয়ে নিলো। প্রমাণ সব লোপাট করে দিলো,এবার ফেরার পালা! আর কেউ ওকে ব্ল্যাকমেল করতে পারবে না। নিজের শহরে ফিরে আবার কাজগুলো শুরু করবে মা ভাইয়ের মুখের দিকে চেয়ে,কিন্তু কিছুতেই ওদের ওপর এই অন্ধকার জগতের ছায়া পড়তে দেবে না। যে ওকে টেনে নিয়ে এসেছিল অন্ধকার জগতে, তাকেই সে পাঠিয়ে দিলো অন্ধকারের ঠিকানায়। মন শান্ত করে স্টেশনের দিকে রওয়ানা দিলো নন্দিনী,নিজের শহর তিলোত্তমার জন্য মন যে তার টানছে খুব। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...