জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী
✍️ডা: অরুণিমা দাস
"যারা নতুন কিছু খোঁজে না,একদিন তাদেরও কেউ খুঁজবে না!" - উক্তিটি বিখ্যাত লেখক জে আর আর টলকিন এর।
এই কয়েকটি কথা একজন মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিতে পারে। একঘেঁয়ে জীবনে সবাই সচেষ্ট থাকে নতুন কিছু করার,দরকার থাকে শুধু মোটিভেশনের। কিন্তু অনেকেই সমাজের ভয়ে, লোক কি বলবে! এসব ভেবে কুঁকড়ে থাকে। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে নতুনত্বের আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে,জীবনের চেনা পরিচিত গন্ডী থেকে বেড়িয়ে এসে নিজেকে এক নতুন রূপে প্রকাশ করতে হবে। তবেই সমাজ যথাযথ করে তুলে ধরার চেষ্টা করে,ইনোভেটিভ ওয়ে অনুসরণ করেছেন। আর এসবের মধ্যে দিয়েই সবার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন,পেয়েছেন বিখ্যাত মানুষের তকমা।
কে এফ সি এর প্রতিষ্ঠাতা কলোনেল স্যান্ডলার কে এফ সি শুরু করার আগে তিনি আইনজীবী ছিলেন। কিন্তু মনে সব সময় চিন্তা থাকতো নতুন কিছু করার। তিনি অনেক ছোট ছোট ব্যাবসা ও চাকরি এবং বিভিন্ন জায়গাতে কাজ করেছেন। কিন্তু এগুলোতে তার প্যাশন ছিলো না, তাও এভাবেই কেটে যায় তার ৪০ টা বছর! ৪০ বছর পরে সে অনুভব করলেন তার মনের ইচ্ছে হলো মানুষকে খাবার খাওয়ানো। আর এই ইচ্ছে তার মধ্যে ছিলো যখন ৭ বছর বয়স থেকে সে তার ভাইবোনকে খাবার বানিয়ে খাওয়াতেন। তার নতুন প্যাশন খুজে পাওয়ার পরে তিনি সারাটা জীবন সেটাই করে গিয়েছেন। তিনি এমন সফলতা পেলেন তার মৃত্যুর পরেও সেটা কমেনি বরং সারা বিশ্ব জুড়ে তার নাম ছড়িয়ে রয়েছে।
মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুক এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি ফেসবুক তৈরি করার আগে কখনই এটা নিয়ে ভাবেনি। প্রথমে সে কিছু ছোট ছোট টুলস তৈরি করেন এবং পরে সব গুলো একসাথে করে ফেসবুক বানিয়ে নেয়। এটা ছিল তার একটি কলেজ প্রোজেক্ট যখন ফেসবুক সফল হলো তখন মার্ক নতুনত্বের মাঝে খুঁজে পেলেন নিজেকে আর আমরা পেলাম বহুদিন আগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মানুষের সন্ধান,দূরে থেকেও মনে হয় তারা যেনো পাশেই আছে।
আমাজন আজ পৃথিবীর সবথেকে বড় দোকান যা শুরু হয়েছিলো শুধু মাত্র বই বিক্রি দিয়ে। আমাজন এর প্রতিষ্ঠাতা ভেবেছিলেন শুধু বই নয়, আরো অনেক কিছুই দরকার যা বাড়িতে বসেই মানুষ পেতে চাইবে। তার এই চিন্তা ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হয়ে তিনি আজ সবথেকে বড় অনলাইন শপিং সাইটের প্রতিষ্ঠাতা।
গুগল এর প্রতিষ্ঠাতা যে কোন দিন ভাবেওনি তাদের ছোট একটি কলেজ প্রোজেক্ট আজকে পৃথিবীর সবথেকে বড় কোম্পানিতে পরিনত হবে। কিন্তু নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই প্রজেক্ট টা শুরু করেছিলেন তিনি। আজ গুগলের সাহায্য প্রতিপদে আমাদের দরকার হচ্ছে, তাঁর অভিনব চিন্তা আমাদের জীবনকে অনেকটা ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।
তাই নিজের মধ্যে প্রচ্ছন্ন থাকা নতুন কিছু করার প্যাশনকে জাগিয়ে তুলতে হবে, সমাজও ঠিক চিনে নেবে একদিনের অনামী ব্যক্তিকে। নতুন চিন্তা ভাবনা,নতুন নতুন কাজ করার ইচ্ছেই অজানা অচেনার ভিড়ে অন্যরূপে নিজেকে প্রস্ফুটিত করে তুলবে।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
দুর্দান্ত লেখা 👌👌
উত্তরমুছুন