রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২

লাইফটাইম এক্সপেরিয়েন্স✍️ ডা: অরুণিমা দাস

লাইফটাইম এক্সপেরিয়েন্স
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আজ গাইনি ওটিতে বারোঘণ্টা ডিউটি । সকাল সকাল ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে হাজির হলাম ডিউটি রুমে। সাড়ে আটটা হবে হয়তো, ভাবলাম একটু রেস্ট নিয়ে নেই কখন ডাক আসবে কেস উঠছে বলে! ঘণ্টা খানেক শুয়েছি গাইনির আর এম ও স্যার এসে হাজির হলেন। বললেন একটা ঘাটা কেস উঠবে রে! বললাম হ্যা বলুন স্যার কি কেস? বললেন অ্যাবর্শন করাতে গিয়ে পেশেন্টের জরায়ু ফুটো হয়ে গেছে। সেখান দিয়ে ইন্টেস্টাইনাল পার্ট ঢুকে গিয়ে পেটে ইনফেকশন ছড়িয়ে গেছে। হাই ফিভার পেশেন্টের আর সেপসিস ডেভেলপ করেছে। বললাম ঠিক আছে, পেশেন্ট রেডী করুন,আমি হাই ডেফিনেশন এ গিয়ে পেশেন্ট দেখে নিচ্ছি আগে। এইচ ডি ইউ তে গেলাম, দেখি পেশেন্ট মাঝ বয়সী মহিলা, আগে দুটো সিজার হয়েছে। বললাম কেমন আছো এখন? বললে পেটে খুব ব্যথা। ইন্টার্ন কে বললাম জেলকো করেছিস? দু হাতে চ্যানেল করে রাখিস! বললো দিদি চ্যানেল করা যাচ্ছে না! রেগে বললাম আগে বলিসনি কেন? এখন পেশেন্ট কে ওটি তে তোলার আগে বলছিস? সিরিয়াস কবে হবি? প্রি লোড করার দরকার ছিল। চুপ করে রইলো। বললাম ওটি তে তোল, সেন্ট্রাল লাইন করবো। তারপর কেস আন্ডার করবো। পেশেন্ট টেবিলে উঠলো। সেন্ট্রাল লাইন করলাম সাবক্লাভিয়ান ভেইন এ। সেই লাইন পেটেন্ট হতে ড্রাগ আর ফ্লুইড দিয়ে পেশেন্ট আন্ডার করলাম। কেস শুরু হলো। ইনট্রা অপারেটিভ পিরিয়ডে পেশেন্ট ভালোই ছিল। ঠিক মতো করে এক্সটিউবেট করে পেশেন্ট রিভার্স করছি এমন সময় পাশের টেবিলে জুনিয়র স্পাইনাল দিয়ে পোস্ট সিজার পেশেন্ট কে আন্ডার করছিল। বললাম দেখে দিস ড্রাগ। পাশের টেবিলে পেশেন্ট আন্ডার হয়ে শুয়ে পড়েছে তখন, আমার টেবিলে পেশেন্ট রিভার্স হয়ে গেছে। হঠাৎ চোখ গেলো পাশের টেবিলের মনিটরে, রোগীর স্যাচুরেশন ৮৯%। জুনিয়রকে বললাম প্রোব লাগা ঠিক করে, প্রোব লাগানোর পরও স্যাচুরেশন বাড়লো না, বরং আরও কমতে লাগলো। আমার টেবিল ছেড়ে ছুটলাম আমি পাশের টেবিলে। গিয়ে পেশেন্টের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক সরিয়ে বেইন সার্কিট ধরে ব্যাগ মাস্ক কন্টিনিউ করা শুরু করলাম, তখন স্যাচুরেশন জিরো। পেশেন্টের তখন কোনো রেসপন্স নেই। পালস পাচ্ছি না, সি পি আর দিতে বললাম। ইন্টার্ন সি পি আর দেওয়া শুরু করলো। আর দেখি আমার জুনিয়র খেয়াল করেনি জেলকো এক্সট্রা হয়েছে। ফ্লুইড ঠিক মত না পাওয়ায় পেশেন্টের হাইপো টেনশন হয়েছে প্লাস টেবিলের মাথার দিক এতটা নীচু করেছে যে হাই স্পাইনাল হয়ে রেসপিরেটরি মাসল এফেক্ট হয়ে অ্যাপনিক হয়ে গেছে পেশেন্ট। কন্টিনিউয়াস সি পি আর এবং ব্যাগ মাস্ক করে পেশেন্টের স্যাচুরেশন ১০০ তে ওঠালাম। অ্যাট্রোপিন আর অ্যাড্রেনালিন দিলাম এক অ্যাম্পুল করে। হার্ট রেট বেশ খানিক বেড়েছিল। পেশেন্ট একটু স্টেবল হতেই গাইনি পি জি টি কে বললাম সিজার শুরু করো,নয়তো বাচ্চা খারাপ হবে। সিজার শুরু হলো,ঈশ্বরের কৃপায় বাচ্চা সুস্থ ভাবে পৃথিবীর আলো দেখলো। ততক্ষনে পেশেন্ট ও চোখ মেলে তাকিয়েছে, নাম জিজ্ঞেস করলাম! হেসে বললো বীথি। বললাম কেমন আছো? বললো ভালো আছি। গলার স্বর স্বাভাবিক হয়েছে দেখলাম। বললাম বাচ্চা ভালো আছে, তুমি চিন্তা করো না। জুনিয়রের দিকে তাকিয়ে বললাম সিরিয়াস হও। জেলকা এক্সট্রা এটা মেজর মিসটেক। সিনিয়র হও, বুঝবে কত চাপ! চুপ করে রইলো ও। পরে অবশ্য ওকে ভালো করে বুঝিয়েছিলাম কি ভুল থেকে কি কি ক্ষতি হতে পারে পেশেন্টের! বললো খেয়াল রাখবো। এরপর আর কি! ডিউটি থেকে ফেরার সময়ে এইচ ডি ইউ তে গিয়ে পেশেন্ট দুটোকে দেখে এলাম। দিব্যি আছে দেখলাম। মনে মনে ঈশ্বর কে ধন্যবাদ দিলাম। কোথা দিয়ে বারো ঘণ্টা কেটে গেছে খেয়ালই নেই। হোস্টেলের পথে পা বাড়ালাম, গিয়ে ঘুম দিতে হবে ভালো করে। 
                      I treat,he cures!
                  Thanks to almighty🙏

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...