বিষয়-নাটিকা
শিরোনাম-টার্গেট
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
স্কুলে অ্যানুয়াল প্রোগ্রাম চলছে। নাটক মঞ্চস্থ হবে। নাম টার্গেট। সবাই খুব মনোযোগ নিয়ে দেখতে বসেছে। পর্দা সরিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করলো নাটকের শিল্পীরা। দুই বন্ধু (সোমেশ ও অমিত) কথোপকথনে ব্যস্ত।
সোমেশ : মনে পড়ে ছোটবেলার দিনগুলো তোর
অমিত? কী সুন্দর আমরা একসাথে স্কুলে যেতাম, খাওয়া দাওয়া খেলা ধুলো করতাম।
অমিত: হ্যা রে, ভীষণ মনে পড়ে সেই দিন গুলো। আর তুই যা কান্ড করতিস ভুলি কি করে বল সেসব?
সোমেশ: কি করতাম রে? খুব বেশি কিছু করতাম কি?
অমিত: বাব্বা! তুই তো ব্যাট ছাড়া কিছুই করতিস না। বল করতে চাইতিস না কিছুতেই। একদিন সেই তপনের সাথে ঝামেলা হলো,তুই ওর ব্যাটটা ভেঙে দিলি।
সোমেশ: হ্যা আমি ব্যাট কাউকে করতে দেবো না এটাই টার্গেট ছিল। সবাই আমায় শচীন বলে খেপাত, রেগে যেতাম। কিন্তু আমি জানতাম শচীন হতে না পারি কোনোদিন, জীবনের হালটা ব্যাটের মত করেই চিরকাল ধরে রাখতে হবে আমায়।
অমিত : হ্যা আজকাল তো টার্গেট পূরণ করার চক্করে বাচ্চাগুলো খেলাধুলা ভুলে গেছে। দিনরাত অনলাইন ক্লাস আর এক্সাম। সময় পেলেই মোবাইল ফোনে গেম। আর কিছু করছে না এরা।
হঠাৎ করে একটা ছেলে দৌড়তে দৌড়তে আসে অমিতের কাছে। বাবা দেখো না আমার ফোনটা হ্যাং করছে, ক্যান্ডি ক্রাশ টা খেলতে পারছি না।
সোমেশ : তোর ছেলে বুঝি?
অমিত: হ্যা রে, এই নয় বছর হলো ঋজুর বার্থ ডে তে ওর মামা মোবাইল গিফট করেছে। তারপর থেকেই ক্যান্ডি ক্রাশ নিয়ে বসে থাকে সারাক্ষণ।
সোমেশ : ঋজু এদিকে এসো তো একবার।
ঋজু : আসছি আঙ্কেল
সোমেশ : দেখো বাবু তোমায় দিয়ে সারাদিন যদি কেউ হোম টাস্ক করায় ভালো লাগবে তোমার? নিশ্চই বিরক্ত লাগবে, ক্লান্ত লাগবে।
ঋজু : হ্যা আঙ্কেল
সোমেশ: তাহলে তুমি মোবাইল টা নিয়ে ওকে সারাক্ষণ টাস্ক কেনো করাও? ওকেও রেস্ট দাও। তবেই না ও হ্যাং করবেনা। তোমার জন্য একটা জিনিস আমি নিয়ে আসবো এরপর যেদিন আসবো।
ঋজু : কি আংকেল?
সোমেশ : আউটডোর গেমস লাইক ব্যাট বল, ফুটবল এসব।
ঋজু : বাহ আঙ্কেল। এসব তো খেলতে খুব ইচ্ছে করে কিন্তু পাপা ছাড়ে না। বলে পড়ার টাইম নষ্ট হবে।
অমিত : আমতা আমতা করে বলে, না না! ওরম কিছু নয় রে।
সোমেশ : দেখ আমার মনে হয় জীবনের ক্রিজে মাঝে মাঝেই মোবাইল গেমস অফ করে ব্যাট বল নিয়ে নেমে পড়া উচিত। এতে বাচ্চাদের সাথে প্রকৃতির সংযোগ স্থাপন হবে, ওদের চিন্তা ভাবনার বিকাশও হবে।
অমিত : হ্যা, ঠিক বলেছিস রে! আমরা শুধু পরীক্ষার রেজাল্টে নাম্বার বেশি পেতে হবে এই টার্গেট দিয়ে বাচ্চাদের জীবনের খাতার নাম্বার বড্ড কমিয়ে ফেলছি।
সোমেশ : ঠিক বুঝেছিস তাহলে! ঋজু বাবু নেক্সট যেদিন দেখা হবে সেদিন আর ঘরে নয়, মাঠে আমরা ব্যাট বল নিয়ে মিট করবো। ওকে।
ঋজু : ওকে আঙ্কেল। ডান।
অমিত : একটা ছোট্ট ঘটনার মধ্যে দিয়ে জীবনের কতো বড়ো শিক্ষা দিলি তুই বন্ধু!
সোমেশ : ওটাই তো আমার কাজ। শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে শিশুদের মন পড়া আর ওদের বোঝানো নাম্বার টাই সব নয়। পরীক্ষার খাতায় দু এক নাম্বার কম এলেও হবে। মানুষ হিসেবে যেনো নম্বর না কমে।
অমিত : গ্রেট বন্ধু, গ্রেট! ঋজু মনে রেখো কথা গুলো। জীবনে অনেক কাজে লাগবে।
ঋজু : ইয়েস পাপা। আউটডোর গেমস আর মোর ইম্পর্ট্যান্ট।
সোমেশ : হাতে থাক ব্যাট, লড়তে থাকি জীবনের লড়াই
চলার পথ ক্রিজ হোক,জীবনে সবার সাপোর্ট থাকা চাই।
তিনজন হাসি মুখে হাত মেলালো। স্টেজের আলো জ্বলে উঠলো। হাততালি তে মেতে উঠলো দর্শক গণ।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন