রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম- কার্নিভাল লাইভ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম- কার্নিভাল লাইভ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কিরে তোরা সব রেডী? উমা চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। আর দুটো মিনিট ঘুমোতে দাও না মা! কার্তিক বললো। হ্যা রাত জেগে গেম খেলে উনি এখন আর উঠবেন কি করে? তোর জামা কাপড় দেখ ভক্তেরা রেখে গেছে ওখান থেকে পরে নিস পছন্দ মতো। কার্নিভাল বলে কথা,নীল পাঞ্জাবী আর সাদা পাজামা পরিস বাবা! নইলে উনি রাগ করবেন। ওকে মাম্মি,আরেকটু ঘুমিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডী হচ্ছি। কথা না বাড়িয়ে উমা দেবী ছুটলেন বাকি তিনজনকে ডাকতে। সিংহটা আবার সকাল থেকে ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদছে,কার্নিভালে গিয়ে ছোট্ট ট্রাকে থাকতে হয় ওনাকে। তাতে আবার বাতের ব্যথা বাড়ে। অসুর তাই অনলাইনে ঝান্ডু বাম অর্ডার দিয়েছে, সে নাকি বিকেলে ডেলিভারি আসবে। কিন্তু তার আগে তো প্যান্ডেল ছাড়তে হবে। কাস্টমার কেয়ারে কল করে অসুর আর্লি ডেলিভারির জন্য রিকোয়েস্ট করছে। উমাদেবী বললেন হ্যাঁ রে মাথামোটা তুই অফলাইনে না কিনে অনলাইন কেনো অর্ডার করলি? আমি মাথা মোটা বলেই তো ত্রিশূলের খোঁচা খাই। আহা ওরম বলে না, তুই ওই খোঁচা ছাড়াও চারদিন কত ফল মিষ্টি খেতে পাস সেটা বল! নে ফোন রেখে রেডী হ! অসুর বললো হুম! 
ওদিকে লক্ষ্মী সরস্বতীর মধ্যে ঝামেলা শাড়ী নিয়ে। উমা দেবী ঢুকতে গিয়ে দেখেন ঝগড়া তুঙ্গে, তাও একটা নীল কাঞ্জিভরম নিয়ে। উনি ওদের থামাতে বললেন লক্ষ্মী তুমি তো কদিন পরে আবার অনেক গিফট পাবে,এই শাড়ী সরো কে দাও। ও আবার পরের বছর জানুয়ারিতে আসবে। আর একটা কথা,গাড়ী চলে আসবে ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে, লাগেজ গুছিয়ে রেডী হও। মাসীমনি রাগ করবে টাইমে না পৌঁছলে। 
গণশা এই গনশা! রেডী হতে শুরু কর। হ্যা মাম্মি এই পিৎজাটা এসে গেলে খেয়ে রেডী হচ্ছি। আবার পিৎজা খাবি? এই যে লাড্ডু খেলি এক প্লেট! ওতে পেট ভরেনি গো! আর র‍্যাটস ও আমার লাড্ডু তে ভাগ বসিয়েছে। ইদুরটা এগিয়ে এসে বলে পিৎজা টা কতদূর গো গণেশ দা? 
উফফ! তোদের জ্বালায় আর পারিনে। কার্নিভালে খেতে পাবি তো! আর তোদের বাবা তো নন্দী ভৃঙ্গী কে বলে খাবার সব বানিয়ে রাখছে। ও কৈলাস যেতে অনেক দেরী হবে মাম্মি। খিদে পেয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি কর তোরা রেডী হ! 
সব্বাইকে সামলে সুমলে উমা দেবী নিজে রেডী হলেন, মাস্ক নিতে বললেন সবাইকে। গাড়ী এসে গেলো, ভাইবোনেরা একটা গাড়ীতে আর অসুর, সিংহ সহ উমা দেবী একটা গাড়ীতে উঠলেন। বেশ সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, রাস্তায় আলো জ্বলছে। কার্নিভালে ঢুকছে গাড়ী, মাসীমণি মঞ্চ থেকে হাই হ্যালো করছেন। সাথে আবার চ্যালাচামুন্ডারাও আছে। কিছুক্ষন পর দেখা গেলো লক্ষ্মীর সাথে হিসেবপত্র নিয়ে আলোচনা করতে গাড়িতে উঠে গেছেন মাসীমণি আবার। লক্ষ্মী ঘাড় নেড়ে বলছে হিসেবে গরমিল আছে মাসীমণি। সরস্বতী ওকে থামিয়ে কানে কানে বলছে মাসী কোনো ভুল করতেই পারে না,চল কার্নিভালে কনসেনট্রেট কর। এখানে বেফাঁস কিছু বললে বাড়ী ফিরতে পারবিনা। মাসী হিসেবের খাতা নিয়ে ব্যস্ত,মনে মনে ভাবছেন জল মেশানো কি ধরা পড়ে গেলো! সরস্বতী বললো আপনার কাজ নিখুঁত মাসীমণি, লক্ষ্মী কদিন ঘুমোয়নি, তাই মাথা কাজ করছেনা ওর। আমি ফিরে গিয়েই হাজার খানেক ল্যাপটপ পাঠিয়ে দেবো আপনাকে,শুনছি আজকাল আপনি ছাত্র ছাত্রী দের ল্যাপটপ দিচ্ছেন। ভালো উদ্যোগ, পড়াশুনো করুক সকলে। অশিক্ষার অন্ধকার দূর হোক। আপনি গাড়ী থেকে নেমে পড়ুন মাসীমণি, লোকজন দেখছে। যান মঞ্চে যান। মাসীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মঞ্চে পাঠানো হলো।
আরেকটা গাড়িতে উমা দেবীর সাথে অসুর আর সিংহ যাচ্ছে। সিংহটা চশমা পরে চারপাশের আলোর মেলা আর লোকজনের ভিড় দেখছে। বাম লাগিয়ে দিয়েছে অসুর,কোমর সিধে আছে সিংহের। 
অসুরকে উমাদেবী বললেন ভালোই হচ্ছে কার্নিভাল,গাড়িতে ঘুরছিস! কাজ করতে হচ্ছে না। কাল থেকে তো আবার দৌড়বি কাজে ৩৮১ দিনের প্রকল্পে, আজ মজা করে নে! হ্যা এই কদিন ভালোই কাটলো, তোমার সাথে আমিও সেবাযত্ন পেলাম। 
কথা বলতে বলতে কার্নিভালের শেষ হয়ে এলো প্রায়। ইউনেস্কোর লোকেদের সাথে সেলফি তুলে উমা দেবী চললেন তার সাঙ্গোপাঙ্গো দের নিয়ে স্বামীর ঘরে। যাওয়ার আগে মনভরে ভক্তদের আশীর্বাদ করে গেলেন। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...