সোমবার, ৭ জুন, ২০২১
রামায়ণে গন্ডগোল। (রম্যরচনা ) কলমে -- পারমিতা মন্ডল।
হনুমানের হতাশা(সুদেষ্ণা দত্ত)
হনুমানের হতাশা
সুদেষ্ণা দত্ত
রম্য রচনা
রাম—রাবণের কূটনীতিতে আমি হয়ে গেলাম ক্ষুদিরাম।লঙ্কায় আগুন ধরাতে গিয়ে লাভ তো কিছুই হল না।মাঝখান থেকে এখনও মুখপোড়া বদনাম নিয়ে ঘুরছি।ব্যাটা রাবণটার দশ মাথার বুদ্ধির সঙ্গে আমি এঁটে উঠব কেন!দিল আমার লেজে আগুন দিয়ে।লঙ্কা তো আমার চেনা জায়গা নয়,ধুত্তোর রামায়ণের যুগ!না আছে স্মার্ট ফোন,না আছে জিপিএস—খুঁজে পাব কি করে নদী, নালা,ঝর্ণা।বোকা আমি দিলাম লেজকে মুখে ঢুকিয়ে।উরিবাবা সে জ্বালা বলে বোঝানোর নয়।তোমরা যখন ঝাল লঙ্কার পকোড়া খেয়ে,তার উপর চা খেয়ে হুসহাস কর,এ তার থেকেও অনেক বেশি।মনে হচ্ছিল সিলভারএক্স খেয়ে ফেলি।
বাপ কা বেটা সিপাহীকা ঘোড়া।রাবণের ছেলেটাও হয়েছে বাপের মতই বজ্জাত।কোথায় রামরা তোদের অতিথি,আতিথেয়তা করবি—বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নতি হবে।দুটো পয়সা আসবে!তা না দিল লক্ষণকে শক্তিসেল মেরে।কে ওষুধ জোগাড় করবে!না,ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো হনুমান!আবার পাড়ি অন্ধকারে অজানার উদ্দেশ্যে বিশল্যকরনী আনতে।আবার শর্ত আলো ফুটলে হবে না।পারবে না এই হনুমান।নিজেরা গেলেই তো পারতিস।রাম ছিল কিন্তু রামদেব তো ছিল না।এদিকে আমি কি ছাই বিশল্যকরনী চিনি!গায়ে গতরে খাটতে পারি তুলে নিলাম গন্ধমাদন।এদিকে সূর্যদেব উঁকি মেরেছেন।নিলাম বগলদাবা করে।সারা শরীর জ্বলে যাচ্ছে।গন্ধমাদনকে গ্যারেজ করে আমি ওষুধের দোকানে গেলাম।ও ব্যাটারাও কম নয় প্রেসক্রিপশন ছাড়া একটি ওষুধও দিল না।এদিকে আগেই বললাম রামদেব না থাকায় এন্টি বার্ন কোন ভেষজ গন্ধমাদনে ছিল কিনা তাও জানি না।আবার না ছিল পার্লার তাই কেমিক্যাল পিলিং টিলিং কি সব হয় তাই দিয়ে মুখটারও একটু বিউটিফিকেশন হল না। তোমরা তো বাপু খুব সঙ্কটমোচন,সঙ্কট মোচন কর।কিছু ওষুধ বিষুধ দাও বাপু যাতে জ্বালা পোড়াগুলো একটু কমে।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য--গুগুল
মহাকাব্য বিকৃত করার ধৃষ্টতা বা ইচ্ছা কোনোটাই আমার নেই।শুধু মজার জন্য লিখলাম।কেউ কিছু মনে করবেন না।কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য আমার নয়।
রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
#সুন্দরবন অভিযান #কলমে -সোমা দে।
মান্ডবী~অনিশা
শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
#বিষয় - রম্যরচনা। # নাম- কৈশোর কেল্লা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ২ জুন, ২০২১
# নাম- রাজা রামমোহন রায় ও সংস্কারক। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
ভৌকাট্টা~অনিশা
# বিষয় - ছবি দেখে লেখা
# নাম- ভৌকাট্টা
# কলমে - অনিশা
"কষ্ট পেলে কেষ্ট মেলে", মায়ের বলা কথাটা ঘুড়ির মাঞ্জার সুতোয় হাত কেটে যাওয়ার পরে পলি বুঝল।
কলকাতায় মামার বাড়ি পড়তে এসে সে দেখল এখানে সবাই বিশ্বকর্মা পূজোর দিন ঘুড়ি ওড়ায়। পলির ছোটবেলাটা কেটেছে গ্রামের বাড়িতে। বেশ ভালো রকমের ডানপিটে অথচ মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে সে। মিষ্টি স্বভাবের জন্য ডানপিটে হওয়া সত্বেও বকাবকি বেশী খেতে হয়নি কোনদিন। স্কুলে যেদিন অ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হতো সেদিন থেকেই অঘোষিত ঘুড়ির লড়াই শুরু হয়ে যেত। সবার পরীক্ষা চলত, তাই কারুর ঘুড়ির সুতোই মাঞ্জা দেওয়া থাকত না। কয়েক দিনের মধ্যেই মাঞ্জা দেওয়া সুতো তৈরী। এরজন্য ও বন্ধুরা পলির দ্বারস্থ হতো। তখন সহজেই এত কাঁচের গুঁড়ো যোগাড় করা সহজ ছিল না। প্রয়োজনে পলি নিজের মেলা থেকে কিনে আনা কাঁচের চুড়ি গুলো ও ভেঙে ফেলত। কাটাকুটির খেলায় তাকে হারানো এত্ত সহজ নয়।
সেই পলি মামার বাড়িতে এসে এত তাড়াতাড়ি পাল্টে গেল? সবাই মিষ্টি স্বভাবটাই দেখতে পায়, ডানপিটে স্বভাব আর নেই। আসলে বেচারী কলেজ আর বাড়ির পড়াশোনা করতে করতেই হাঁফিয়ে ওঠে। বদ্ধ ফ্লাটে আর কি বা করবে!
কলেজে গিয়ে জানতে পারল এখানে বিশ্বকর্মা পূজোর দিন খুব ঘুড়ি ওড়ানো হয়। তাই বন্ধুরা কয়েক জন ঠিক করেছে অদ্বিতীর বাড়ি দুপুরে থাকবে। বিকেলে ওদের ছাদ থেকে পাড়ার সবার ঘুড়ি ওড়ানো দেখে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে আসবে। মামার কাছে পারমিশন নিয়ে পলি গেল অদ্বিতীর বাড়ি। সব বন্ধুরা এসে গেছে। পলিই সবার শেষে পৌঁছাল। ওদের বাড়িতে সবার সঙ্গে আলাপ পরিচয় হলো। অদ্বিতীর বাবার খুব ভালো লেগেছে পলিকে। বললেন, "মুখে কেমন সরলতার ছাপ। সদ্য গ্রাম থেকে এসেছে তো, তাই!" অদ্বিতী মজা করে হেসে বলল "হুম্, বলো গাঁইয়া।" অদ্বিতীর দাদা অনিমেষ বলে উঠলো, "স্টপ দিস ননসেন্স! সি ইজ্ সো ইনোসেন্ট!" একটু থমথমে হয়ে গেল পরিবেশটা। আসলে পলি জানে, বন্ধুরা পিছনে সবাই ওকে গাঁইয়া বলে।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ হলে সবাই একটু ঘরে বসে আড্ডা দিল। তারপর ছাদে। ছাদে অদ্বিতীর দাদার বন্ধুরাও হাজির ঘুড়ি, লাটাই নিয়ে। তারপর শুরু হলো ঘুড়ির লড়াই।
আশেপাশে অনেক বাড়ি থেকেই ঘুড়ি উড়ানো হচ্ছে। অনিমেষ নিজে ঘুড়ি ওড়াতে পারে না। বন্ধুদের ইচ্ছেতেই ঘুড়ির লাটাই হাতে। কিন্তু প্রতিবেশীরা ছাড়বে কেন! একটার পর একটা ঘুড়ি কাটা যাচ্ছে। আর পাশের বাড়ির ছেলে মেয়েরা আনন্দে চিৎকার করছে, হুইসেল বাজাচ্ছে। পলির হাত নিশপিশ করছে। ভাবছে একবার যদি হাতে সুতো পাই, তবে ওদের এক্ষুনি চুপ করিয়ে দেব। এই হেরে যাওয়া দেখতে দেখতে ওদের বন্ধুদের আড্ডাও আর জমছে না। হঠাৎ অদ্বিতী বলে বসল, "এই যে গ্রামের মেয়ে। নিশ্চয়ই ঘুড়ি ওড়াতে পারিস!" অনিমেষের বন্ধুরাও শুনতে পেয়ে পলিকে অনুরোধ করল একটু সাহায্য করার জন্য। পলিও এই হেরে যাওয়া সহ্য করতে পারছিল না। যেন শুধু এই অনুরোধটুকুর অপেক্ষায় ছিল। এরপর পলির হাতে সুতো, আর অনিমেষের হাতে লাটাই। তার মন ফিরে গেল সেই ছোটবেলায়। সদ্য কিশোরীর মতো তার হাত সুতো টানছে, ছাড়ছে, খুশীতে লাফাচ্ছে। আর অনিমেষ! মুগ্ধ হয়ে তা দেখছে। হঠাৎ ভৌকাট্টা! আবার একটু পরেই আবার ভৌকাট্টা! এবাড়ির ছাদে তখন আনন্দোৎসব। বাড়ির সবাই ছাদে এসে গেছে।
কিন্তু পাশের বাড়ির পরাজিত সৈনিকরা এত সহজেই ছেড়ে দেবে? শুরু হলো সুর করে টিপ্পনী কাটা। "কে তুমি পল্লিবালিকা, বাঁচালে ওদের গ্রাম থেকে এসে!!" "কে তুমি নন্দিনী, আগে তো দেখিনি!" রাগে গর্জে উঠলো অনিমেষ। অনেক হয়েছে, দরকার নেই কারুর ঘুড়ি ওড়ানোর। পলির হাত থেকে কেড়ে নিতে গেল সুতো। আর মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় পলির নরম হাত কেটে রক্ত বেরিয়ে গেল। ছুটে এসে ওর রক্তাক্ত হাতটা ধরে ফেলল অনিমেষ। পলি দেখল অনিমেষের চোখে জল। সেই চোখে অনুশোচনা, আবেগ ও ভালোবাসায় একাকার হয়ে গেছে।
তখনই মনে পড়লো মায়ের কথা। ভাবতেই মনে মনে লজ্জা পেল সে। ঈশ্, কে আমার কেষ্ট ঠাকুর রে!
ঘুড়ির চিঠি (অণুগল্প)-শুভ্রজিৎ চক্রবর্তী
বিষয়:অণুগল্প
কলমে: শুভ্রজিৎ চক্রবর্তী
ঘুড়ির চিঠি
ঘুড়ি কেটে গেলে কেউ খুশি হয়, সেটা অজয় কে দেখেই প্রথম জানলো পারমিতা। "আন্টি, আজকে আবার আমার ভোঁ কাট্টা গেছে" বলে একটা নির্মল হাসি দেয় অজয়। বছর আটের অজয়কে এর আগে কোনদিন জিজ্ঞেস করা হয় নি পারমিতার যে এতে খুশির কি হয়েছে।
কিন্তু আজকে যখন কারণটা জানতে পারলো, পারমিতার হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠলো। অজয়ের মা, সুনীতা পারমিতার ঘরে কাজ করে গত ৪ মাস ধরে। এক হাজার টাকা মাইনে বাড়াতে, ছ-শো টাকাতে ঘর মোছার কাজের লোক হিসেবে সুনীতাকে রেখেছে পারমিতা। বেসরকারি স্কুলে পড়িয়ে যৎসামান্য মাইনে পায় পারমিতা। অল্প বয়সে বিধবা হলেও, আর বিয়ে করতে পারেনি সে। স্বামী জয়দীপের জায়গায় কাউকে কল্পনা করতে পারেনি সে। জয়দীপের কেনা ফ্ল্যাটেই থাকে পারমিতা। অজয়কে দেখে কিরকম একটা মায়া জেগে উঠেছিলো তার মনে।
সুনীতার সাথে প্রায় দিনই অজয় আসে পারমিতার ফ্ল্যাটে। ওর চোখে মুখে একটা দ্যুতি আছে। একটা বুদ্ধিদীপ্ত চাউনি আছে। পারমিতা জিজ্ঞেস করে, "ঘুড়ি ভোঁ কাট্টা গেলে কি হয়?" চোখ মুখ নাচিয়ে অজয় উত্তর দেয়, "ও মা! তুমি জানোনা বুঝি? এত বড়ো হয়েছে আর এটাও জানোনা?" পারমিতার চোখে করুণা মাখা হাসির চমক দেখা যায়। মাথা নাড়িয়ে পারমিতা না বলে। "আরে, ঘুড়ি যখন কেটে যায়, সেটা আকাশে মিলিয়ে যায়। আমার বাবা আকাশে চলে গেছে তো, তাই আমি ঘুড়িতে বাবাকে চিঠি লিখি। তাড়াতাড়ি আসার জন্য বলি আর আসার সময় খাসীর মাংস নিয়ে আসতে বলি।" শুনে পারমিতা চোখের জল ধরে রাখতে পারেনা। "তুই খাসীর মাংস খেতে ভালোবাসিস?"- জিজ্ঞেস করে পারমিতা । "হ্যাঁ গো, খুব ভালবাসি " - বলে সম্মতি জানায় অজয়।
"আমি জানি, আমার জন্মদিনের আগে বাবা নিশ্চয়ই আসবে" যোগ করে অজয়। পারমিতা ঠিক করে, যে ভাবেই হোক, অজয়কে একদিন ও খাসীর মাংস খাওয়াবে।
কিন্তু ঢাকুরিয়ার দু কামরার ফ্ল্যাট বাড়ির সোসাইটির বিল দিতেই পরমিতা হিমশিম খাচ্ছে। তবুও ভাবে, "নিজের সন্তান হলে কি করতাম"? টাকা বাচিয়ে একদিন খাসীর মাংসের আয়োজন করতে হবে। তিনটে প্রাণী খাবে। পাছে ভয় পায় পারমিতা, ছোট্টো শিশুর মনে আবার করুণার ভিক্ষে ভেবে দুঃখ না হয়। ছক কষে পারমিতা, বাবার পাঠানো মাংসই খাবে অজয়।
মাইনে পেয়ে এক কেজি খাসীর মাংস আর একটা ঘুড়ি কেনে পরমিতা। ঘুড়িতে লেখে "বাবা অজয়, আমি জরুরী কাজে আটকে আছি, আসতে দেরি হবে। তোমার জন্য মাংস পাঠিয়েছি, খেয়ে নিও। আমি এলে আবার আনবো মাংস।" কিন্তু সেদিন সুনীতা একা কাজে এলে পারমিতা জানতে পারে যে অজয়ের জ্বর হয়েছে। পারমিতা ঠিক করে যে মাংস বানিয়ে নিজেই নিয়ে যাবে অজয়ের কাছে।
বিকেল বিকেল মাংস নিজের হাতে রান্না করে ঘুড়ি হাতে নিয়ে পারমিতা চলে যায় পাশের পঞ্চানন তলার বস্তিতে। খুজে পেয়ে যায় সুনীতার ঘর। ছোট্টো দশ বাই দশের ঘর, ঘরে আসবাব বলতে শুধু একটা খাট। খাটের তলায় রান্না - খাওয়ার জোগাড় । খাটের ওপর সুনীতা বসে আছে। কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে ছোট্টো অজয়। "অজয়, উঠে দেখ আমি কি এনেছি। তোর বাবা ঘুড়ি পাঠিয়েছে, কিন্তু ভুল করে সেটা আমার ঘরে চলে এসেছে। সাথে খাসীর মাংসও পাঠিয়েছে। তাড়াতাড়ি ওঠ । আজকে আমিও তোর সাথে খাবো ।" অজয় সাড়া দেয় না। সুনীতার চোখে শীতল চাউনি। স্থির চক্ষু। কোলে শুয়ে আছে অজয়ের নিথর দেহ। জাপানিস এনকেফেলাইটিসের প্রকোপে দুদিনের জ্বর থেকে আর উঠতে পারেনি অজয়। চলে গেছে ওর বাবার কাছে, আকাশের দেশে, যেখানে যেতে পারে শুধু ঘুড়ির চিঠি।
সমাপ্ত
All rights reserved for © Subhrajit Chakravorty
রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
"ছোটগল্প"–"অবসরের সঙ্গী"…
# নাম- বিশ্বাস ও তর্ক। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
# নাম- গৃহীজীবনের বুদ্ধত্ব। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রবিবার, ২৩ মে, ২০২১
# নাম- ইতি কুরুক্ষেত্র। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১
# নাম- ক্রোধ ও অসহিষ্ণুতা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ১৯ মে, ২০২১
# নাম- -'নৌকা'। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
সোমবার, ১৭ মে, ২০২১
চাওয়া-পাওয়া অনিশা
চাওয়া-পাওয়া
অনিশা
অপ্রতিরোধ্য শক্তির কাছে হেরে গিয়ে সায়নী যখন তার ঠোঁটে মুখে, হারিয়ে যাওয়া প্রিয়তম মানুষটির স্বাদ পেল তখন সে বুঝতে পারল সে বুঝি এই শক্তির কাছে হেরে যেতেই চেয়েছিল। বহু বছর পর ডাকাতিয়া বাঁশির মতো বিয়ে বাড়ীতে নীলের গলার গলার আওয়াজ পায় তখন এই পড়ন্ত যৌবনে ও সায়নীর মন উচাটন হয়ে ওঠে। বিয়ে বাড়িতে সবাই তখন বিয়ে দেখতে ব্যস্ত, শুধু সায়নী মেয়ের মা বলে বিয়ে দেখতে নেই। সে একটু বুকে ব্যথা নিয়ে ঘরের এককোনে বসে ছিল। কেমন অজানা আশঙ্কায় মন দুরুদুরু। সেই আশঙ্কাকে সত্যি করে দিয়ে নীলের আগমন। নীলের বুকে নিষ্পেষিত হয়ে যেতে যেতে সায়নী ফিরে গেল বহুবছর আগে এমনি এক সন্ধ্যায়।
অভিষেকের সঙ্গে সায়নীর বিয়ে আর কয়েকটা দিন পরেই। অভিষেকদের অনেক বড় বাড়ি। কাকা জ্যাঠা সব মিলিয়ে অনেক ভাই-বোন। অভিষেকের খুব ফর্সা গায়ের রঙ দেখে সবাই তাকে রাঙা বলে ডাকত। অভিষেকের ঠাকুরমা বলতেন, "বড়, মেজ, সেজ, ন, ফুল, ফল। তারপর তো নতুন কিন্তু আবার রাঙাবাবু আমার কোথা থেকে এলেন?" অভিষেকে দাদাদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। বৌদিরা আদর করে রাঙা বাবু বলেই ডাকে। অভিষেকের বড় দাদা, বড় দিদিরা বয়সে অনেক বড়। বড়দির ছেলে নীল। সম্পর্কে অভিষেকের ভাগ্না। নীল মাঝেমাঝে মামার বাড়ি আসে। এখানে এলে সারাবাড়ি মাতিয়ে তোলে। নীলের গায়ের রং মাঝারি মাপের হলেও তার তার ঠোটের ও চোখের দুষ্টুমি ভরা হাসিতে সবাই কুপোকাত। বৌদিরা তো নীল বলতে অজ্ঞান। খুব মজা করে, আমুদে ছেলে। অভিষেকের সঙ্গে সায়নীর বয়সের অনেকটাই তফাৎ। প্রায় তার ভাগ্না নীলের বয়সী। সায়নীর মায়ের মৃদু আপত্তি থাকা সত্বেও সুপুরুষ ইঞ্জিনিয়ার পাত্রকে সায়নীর বাবা হাতছাড়া করতে চাননি। পাকা দেখার দিন বড়দি এসেছিল, নীলকে সঙ্গে নিয়ে। বড়দির তো খুব পছন্দ সায়নী কে। বাড়ি এসে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নীল তো ওখানে থেকেই গেল। বলেছে রাতে খাওয়া-দাওয়া করে যাবে। আর ওদের বাড়ির লোকেদেরও খুব ভালো লেগেছে। অভিষেকের কেমন যেন ব্যাপারটা ভাল লাগেনি অথচ মুখে কিছু বলতে ও পারছে না।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন এসে গেল। বিয়ের কাজকর্ম দেখাশোনা করার জন্য বড়দি কে দুদিন আগেই আসতে বলা হয়েছিল। সেইমতো বড়দি দুদিন আগেই এসেছে। নীল আসার পর থেকেই বলছে, "একবার নতুন মামীমার সঙ্গে দেখা করে আসবো।" অভিষেকের বড় বৌদিরা এই নিয়ে খুব হাসি ঠাট্টা করছে। "বড় মামীদের আর মনে ধরছেনা বুঝি? আমাদের কেষ্ট ঠাকুর বুঝি রাধার প্রেমে মগ্ন।" এই নিয়ে হাসি-ঠাট্টা যতই বেড়ে উঠছে অভিষেকের মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি দানা বেঁধে উঠেছে। ঠাকুরমা হয়তো কিছু একটা আন্দাজ করে মজা করে অভিষেককে বলেন, "ওরে ভাই, জানিস তো শ্রীকৃষ্ণ আসলে আয়ান ঘোষের ভাগ্না। রাধা হল কৃষ্ণের মামী। তাই তোর বৌদিরা একটু মজা করছে।" অভিষেক একটা কাজের বাহানা দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
সন্ধ্যায় নীল সায়নীর এর কাছে যায়। সায়নী প্রথম দিনেই নীলকে দেখে তার জীবনের প্রথম ভালোলাগা অনুভব করতে পারে। নীল ও সায়নীকে ছেড়ে বাঁচতে পারবে না জানায়। এই কথা জানানোর জন্যই সেদিন থেকে গিয়েছিল ওদের বাড়ি। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিয়ের সব বন্দোবস্ত পাকা হয়ে গেছে। সায়নী বাবা মাকে এখন আর জানাতে পারবে না। আর এতে দুই পরিবারের অসম্মান। সায়নীকে কোনভাবেই রাজী করাতে পারেনি নীল। একবার শেষ বারের মতো দেখে আসবে সায়নী কে।
নীল যেতেই ওদের বাড়ির লোকজন সাদর অভ্যর্থনা জানান। সামান্য সৌজন্য দেখিয়ে নীল সায়নীর ঘরে যায়। ধীরে ধীরে ওদের কথাবার্তা শুরু হয়। নীল হঠাৎ গভীর আবেশে সায়নীকে জড়িয়ে ধরে। সেদিন ও এই অপ্রতিরোধ্য শক্তির কাছে হেরে গিয়ে পরম সুখে সুখী হয়েছিল সে। যেন এই হেরে যাওয়াতেই সুখ। জীবনের চরম পাওয়ার মুহুর্তে তার দুফোঁটা চোখের জল জল গড়িয়ে পড়ে। তা দেখে নীলের মনে অপরাধ বোধ জেগে ওঠে। কিন্তু নীলকে ভুল প্রমাণ করে সায়নী নিজেই আবার নীলকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানায়।
আজ এত বছর পর সেই স্বাদ পাওয়ার জন্য তার মনটা যে উপোসী হয়েছিল, সায়নী নিজেও তা জানত না। শুধু একটি কথাই সে জানত, যা সারা পৃথিবীর কেউ জানে না এমনকি নীল ও জানে না, তা হলো তাদের সেই ভালোবাসার সন্তানকেই এত বছর বুকে আগলে বড় করেছে আজ তার বিয়ে। আর বাবা হিসেবে কন্যা সম্প্রদান করছে অভিষেক।
পৃথিবীতে সব চাওয়া যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি সব চাওয়া চাইতেও নেই। এই অপ্রাপ্তিটুকু নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়, কর্তব্য পালন করতে হয়। আজও সেদিনের মতো চোখের জলে শেষ আলিঙ্গন দিয়ে বিদায় জানাল সায়নী তার প্রিয় পুরুষকে।
# নাম- প্রতারণা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ১২ মে, ২০২১
# নাম- আমাদের পরিবার। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রবিবার, ৯ মে, ২০২১
পাওনার পাকে(সুদেষ্ণা দত্ত)
পাওনার পাকে
সুদেষ্ণা দত্ত
অভিরাম বাবুর বাড়ীতে কান্নার রোল উঠেছে।পাড়াপ্রতিবেশীরাও সন্ধ্যা বেলা সেই শুনে ওনার বাড়িতে উপস্থিত।কিছুক্ষন আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত হয়েছেন ব্যবসায়ী অভিরামবাবু।এদিকে অভিরামবাবু দেখছেন দুজন সিং ওয়ালা ষন্ডামার্কা কালো,মোটা লোক তাঁকে কোথাও নিয়ে চলেছে।তিনি বেশ হাল্কা বোধ করছেন,যেন হাওয়ায় ভেসে চলেছেন।চুলগুলো উড়ে এসে মুখে লেগে সুড় সুড়ি দেওয়ায় এমন জোরে হেঁচে উঠেছেন যে লোক দুটো তাকে এক ধমক দিল যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে।একজন তো বিরক্তিতে বলে উঠল লোকটা কি খেত বলত—সিমেন্ট,না পাথর,নাকি তুলোর বস্তায় জল পড়েছে!এমনিতে বিশাল বপু অভিরামবাবু গজগমনই করেন।লোক দুটো আর এক কালো মোষের মত লোকের সামনে নিয়ে গিয়ে বলল ৪২ নম্বর দ্বারকা নাথ লেনের অভিরাম বাবুকে তারা নিয়ে এসেছে।অভিরামবাবু এতক্ষনে অনুধাবন করলেন তিনি মারা গিয়েছেন এবং যমরাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।এদিকে চিত্রগুপ্তেরও ডাক পড়েছে।কিন্তু পক্ককেশ পাকা দাড়ি চিত্রগুপ্ত তাঁর জাবদা খাতা দেখে জানান এ লোক সে লোক নন।তবে ভুল কোথায়! সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।চিত্রগুপ্ত যম দূতদের বলেন তৎক্ষণাৎ অভিরামবাবুকে মর্ত্যে ফিরিয়ে দিতে হবে।ভুল ধরা পড়ল যখন জানা গেল,মর্ত্যের মত সব জায়গায় অনভিজ্ঞ চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী রাখা হচ্ছে।সেই ব্যক্তি স্বল্প শিক্ষিত।তিনি সবটা খেয়াল না করে চিরকুটে লিখে দিয়েছিলেন ৪২,ওটা হবে ৮২।চিত্রগুপ্ত অভিরামবাবুকে জানান মর্ত্যে তাঁর ১১.৫০ টাকা পাওনা আছে।যতদিন না তিনি সে টাকা ফেরত পাচ্ছেন ততদিন তিনি মরতে পারবেন না।অভিরাম বাবু স্বর্গপুরীর অনেক গল্প শুনেছেন।তিনি আর রোজকার তেল,নুনের হিসেব আর গিন্নীর খিটখিটের মাঝে মর্ত্যে ফিরতে চান না।কিন্তু তা বললে শুনছে কে!যমালয়েরও কিছু আইন-কানুন আছে। এদিকে অভিরামবাবু আবার দেহ ধারণ করেছেন।সমবেত লোকজন তা দেখে স্বাভাবিকভাবেই পগার পার।অভিরাম বাবু মাথা চুলকেও মনে করতে পারছেন না কার কাছে তাঁর ১১.৫০ টাকা পাওনা আছে।মোবাইলের দোকানে গিয়ে খোকনকে জিজ্ঞেস করতেই সে কোনো মতে পাওনা নেই বলেই ভয়ে ঝাঁপ নামিয়ে দেয়।ওষুধের দোকানদারও একই ভূমিকা নেন।মুদিখানার দোকানদার রতুকে অনেক কষ্টে বোঝাতে সক্ষম হন তিনি ভূত নন, তিনি জীবিত।কিন্তু ততক্ষণে রতুর দাঁত-কপাটি লেগে গিয়েছে। বাড়ীতে ফিরেও এক অবস্থা।কেউ দরজা খোলে না।শেষে গিন্নীকে একটা দামি শাড়ির টোপ দেওয়াতে দরজা খুললে, তিনি বোঝাতে পারেন তিনি মারা যাননি।এদিকে দিন চলে যায়।তিনি কিছুতেই জানতে পারেন না,কোথায় তাঁর পাওনা আছে।মনে অস্বস্তি চলতে থাকে।প্রত্যহ নানা জায়গায় খোঁজ নেন।গিন্নীও স্বামীর নব জন্ম হওয়ায় তাঁকে আর খিটখিট করেন না।এদিকে গিন্নী যম পুরীর কোন ঘটনাই জানেন না।একদিন তিনি দিবা নিদ্রা দিচ্ছেন মনে করে গিন্নী পাশের বাড়ীর রমলা বৌদিকে একটা শাড়ী দেখিয়ে গল্প করছেন যে,ভাই চারদিকের যা পরিস্থিতি দোকান বাজার যাওয়া তো বন্ধই হয়ে গিয়েছে।তাই অনলাইনে এই শাড়ীটা কিনেছি।ডেলিভারি চার্জ নিল ১১১.৫০টাকা।কর্তাকে না বলে কোনদিন একটা টাকাও এধার ওধার করিনি।কিন্তু এই মাগ্গি গণ্ডার বাজারে চাইতে কেমন লজ্জা করল।তাই ১১.৫০ টাকা ওনার পকেট থেকেই দিলাম।আঁতকে উঠলেন অভিরামবাবু।ভাবলেন যমরাজ শুনতে পেলেন না তো!পরক্ষণেই ভাবলেন এই টাকা তো পাওনা নয়,এই টাকার উপর স্ত্রীর অধিকার আছে।তিনি জানেন যে এই টাকা তিনি কোন দিনই ফেরত পাবেন না।একেই যদি চিত্রগুপ্ত পাওনা বলেন,তবে এজন্মে আর তাঁর মৃত্যু হল না।মনের ভার লাঘব হয়েছে এতদিনে।জোরে জোরে নাক ডাকতে লাগলেন অভিরাম বাবু।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য--গুগুল
রবিবার, ২ মে, ২০২১
# বিষয় - আধ্যাত্মিক। # নাম- সীতার সহিষ্ণুতা। ✍ মৃদুল কুমার দাস।
শনিবার, ১ মে, ২০২১
# নাম- জৈব অস্ত্র ও করোনা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...



