সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪

শিরোনাম - স্বনির্ভর✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - স্বনির্ভর
✍️ ডা:অরুণিমা দাস



আপন ভেবে যাকে কাছে টেনে নিলে 
ভেঙেচুরে তোমায় সে বরবাদ করলে।

নিজেই হয়ো নিজের ভরসা, বিশ্বাস থাক আপনার ওপর
ঠকালেও কেউ হবেনা কষ্ট, কারণ তুমি আত্মনির্ভর।

ভারসাম্য থাকুক ভাল আর মন্দের বিষয়ে
প্রকৃতি তো দেয় সব হিসেব চুকিয়ে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

শিরোনাম - সাহস✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সাহস
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ভয়বিহীন মানুষ কখনো হয়না। ভয় থাকে সকলের ভেতরে, সবরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেই ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাওয়াই সাহসিকতার পরিচয় প্রদান করে। আর এই পরিচয় প্রকাশের সকল উপাদানই সঞ্চিত রয়েছে সকল মানুষের মধ্যে, যে যেভাবে কাজে লাগাবে তার সেরকম বহিঃপ্রকাশ হবে। সারা জীবন কারোর অনুকূল পরিবেশে চলে না, নানা রকমের বাঁধা বিপত্তি চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। চলার পথে হোঁচট খেলে মনে ভয় জন্মায়! পুরো পথটা ঠিক ভাবে চলতে পারবো তো? ভয়ের সাথে নিরাশা গ্রাস করে অনেক সময়ে। সবকিছুকে ছাপিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যার দরকার সেটাই হলো সাহস। এগিয়ে চলুক সকলে সাহসের সঙ্গে।

"ভয় আর সাহস এই দুইয়ের ভারসাম্যে টিকে আছে সকলে
সাহসের সাহচর্যে লড়াই হোক,ভয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪

ভিলেন ভার্সাস হিরো✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ভিলেন ভার্সাস হিরো
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সিনেমা আর বাস্তব জীবন এক নয়, সেটা বুঝতেই অনেকটা সময় লেগে যায় আমাদের। সিনেমার হিরো তারা অভিনয় করে মানুষের মনোরঞ্জন করে। তাদের অভিনয়টা মানুষকে আনন্দ দেয়। কিন্তু বাস্তব জীবন হয় সাদা কালো। বাস্তবে হিরোরা জয়ী হয়েছে এরকম খুব কমই শোনা গেছে। 
"নায়ক নেহী, খলনায়ক হু ম্যায়"! এই মন্ত্রে বাস্তব চলে। ভিলেনদের সামনে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারেনা নায়কেরা। জয় হয় ভিলেনেরই। সিনেমায় হিরো মানে সৎ,নির্দোষ মানুষ হয়। আর বাস্তবে হিরো মানে নিঃশেষিত নিপীড়িত মানুষ, তাই ভিলেন সহজেই তাদের কাবু করে ফেলে। এই স্বার্থপর দুনিয়া জুড়ে ভিলেনের রাজ চলে। ভিলেন সহজেই নিজের অসৎ কর্মের দ্বারা অন্যকে প্রভাবিত করে, নিজের আয়ত্তে রাখতে চায় সবকিছু। সেটা করতে গিয়ে মানুষের ক্ষতি করতেও তাদের বিবেকে বাঁধে না। হিরো হতে না পারার আক্ষেপ বাস্তবে ভিলেন এভাবেই পুষিয়ে নেয়। 

"ভিলেন সহজেই করবে কাবু দুনিয়াকে,হিরো যে হবে জিরো
বাস্তব জীবন তো সিনেমা নয়,তাই সামলে থেকে কাজ কোরো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪

শিরোনাম - যোদ্ধা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - যোদ্ধা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

একাকী নির্জনে বসে বাড়ীর কথা পড়ছে মনে 
সুমধুর কিছু সময় যে কেটেছিল স্ত্রী ও সন্তানের সনে।

দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ, সমরে সে অগ্রগামী
বাড়ী থেকে বহু ক্রোশ দূরে,চোখের জল যে না থামি। 

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই,ভাবা হোক দেশের সীমান্তে থাকা যোদ্ধার ব্যথা
তেরঙা পতাকার জন্য তার যে লড়াই!রাখবে কি মনে ইতিহাস সে কথা?

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০২৪

ভালোবাসা - সে তো অন্ধ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভালোবাসা - সে তো অন্ধ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভালোবাসলে মানুষ হয় অন্ধ,তাই বোধহয় কোথাও কেউ রসবোধ প্রয়োগে বলেছিল প্রেমে অন্ধ মানেই বাসের প্রতিবন্ধী সিট তার জন্য বরাদ্দ। দখিনা বাতাসের মতো যখন ভালোবাসা এসে মনকে ছুঁয়ে যায়,সব কিছু উজাড় করে দিতে ইচ্ছে করে তখন। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মন বদলায়,বদলায় ভালোবাসার অনুভূতিগুলোও। সেরা জিনিস পাওয়ার জন্য হাতের নাগালে থাকা অনুভূতি গুলোকে ধীরে ধীরে পিষে মেরে ফেলা হয়। চাঁদ ছোঁয়ার অদম্য ইচ্ছেয় হারিয়ে যায় নক্ষত্রেরা। মানুষের আকাঙ্ক্ষা যখন গগনচুম্বী হয় পাশে থাকা ভালোবাসার মানুষের সাথে হঠকারিতা করতে দু বারও ভাবেনা। তখন বেরিয়ে আসে মানুষের আসল রূপ, খোলস খসে পড়ে। কিন্তু প্রকৃতি! সে তো অন্ধ নয়। সব কর্মের হিসেব নিকেষ করে খুব মনোযোগ দিয়ে। চোখে পরে থাকা ভালোবাসার পট্টিকে সরিয়ে বাস্তবকে চেনাতে থাকে মানুষকে। তাই পাতাঝরার মরশুমের মতন ভালোবাসা যখন টুপ করে খসে পড়ে তখনই উন্মীলিত হয় মানুষের জ্ঞানচক্ষু। ঠকে গিয়ে বরং দুচোখ ভরে আগলাতে চায় তার ভালোবাসাকে। সজল নয়ন থেকে ঝরে পড়া মুক্তোর মতো অশ্রুবিন্দু দান করে তাকে দৃষ্টিশক্তি যা আগের চেয়েও প্রখরতর হয়ে ওঠে কিন্তু তখন ভালোবাসা আর আসেনা ফিরে। চলে যায় দৃষ্টির বাইরে।

"ভালোবাসার আগমন দৃষ্টিকে করে ক্ষীণ,অন্ধ যে হয় মানুষ
যখন যায় চলে ভালোবাসা,চোখ তখন খোলে,ফিরে আসে হুঁশ।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




রবিবার, ৭ জুলাই, ২০২৪

শুভ রথযাত্রা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শুভ রথযাত্রা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ও জগু দাদা! তৈরি হলে তুমি? বেরুতে হবে তো! বাইরে আমাদের জন্য রথ অপেক্ষা করছে। সুভা জিজ্ঞেস করে তার আদরের জগু দাদাকে।
- হ্যা রে, আরেকটু বাকী বোন। মুকুটটা পরে উত্তরীয়টা জড়িয়ে নিলেই হয়ে যাবে। যা যা তোর বলরাম দাদা কে তাড়া দে, সে তো অনেক সময় লাগায় তৈরি হতে!
- তাই বুঝি? বলরাম ধুতির কোঁচা ঠিক করে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো।
- হ্যা গো তাই,জগু বললো।
- তাই বুঝি ঠুঁটো জগন্নাথ বলে লোকে? কই ঠুঁটো বলরাম তো বলে না।
উফফফ। আর ঝগড়া করো না দাদারা,একটু দয়া করো। মাসী দুবার মিসকল দিয়ে ফেলেছে। ধরিনি কারণ বলতে পারবনা কখন বেরোবো!
- তোর চুল টা খোলা কেনো রে সুভা? দুই দাদা একসঙ্গে জিজ্ঞেস করে।
- ইস! জানো না যেনো। ঠোঁট ফুলিয়ে বলে সুভা।
তোমরাই তো আমার চুলে বেণী করে দাও।
ওহ! ভুলে গেছি রে। নিজেদের কথা ভাবতে গিয়ে বেমালুম ভুলে গেছি।
আয় দেখি বোস। দুই দাদা দুপাশের বিনুনী করে দিলো সুভার। খুব খুশি দুই দাদার আদরের বোন। সাথে একটা সেলফিও তুললো।
এর মধ্যে সারথী এসে বললো চলুন প্রভু, এবার যাত্রা করা যাক। নয়তো যা দেখছি গুগল ম্যাপে, মাসী বাড়ী পৌঁছতে মাঝরাত হয়ে যাবে।
হ্যা হ্যা চলো, যাত্রা শুরু করা যাক। বাড়ীর দরজা বন্ধ করে পুরোহিতের হাতে চাবি হ্যান্ডওভার করে রথে উঠে বসলো তিন ভাই বোন। সুভাকে আগলে রেখে বসে দাদারা বললো চলো সারথী এবার রথ এগিয়ে নিয়ে চলো। দুই দাদার মাঝে বসে ছোট্ট বোনটি দেখতে লাগলো রাস্তায় সার দিয়ে লোকজন দাঁড়িয়ে আছে, একটু রথের দড়ি ছোঁয়ার আশায়। দুই দাদা সকলকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করছে। সুভা হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস দিলো, ফিলিং হ্যাপি, গোয়িং টু মাসী বাড়ী।
তিন ভাই বোনের যাত্রা শুভ হোক। জয় জগন্নাথ।
সকলের জন্য রথযাত্রার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০২৪

জীবন - এক রঙ্গমঞ্চ ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন - এক রঙ্গমঞ্চ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন নামক নাট্যশালায় সকলেই ব্যস্ত নিজের নিজের চরিত্রে দক্ষতার সাথে অভিনয় করার কাজে। কেউ ভালো থাকার অভিনয়ে পারদর্শী কেউ বা ভালো সাজার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছে নিখুঁত অভিনয়ের। টিকে থাকার জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম চলছে, চলবে। এর নেপথ্যে থাকা মানুষেরা নিজেদের অবস্থান সঠিক রেখে নাটকের প্রতিটি অঙ্ক মন দিয়ে বাস্তবায়িত করার চেষ্টায় মগ্ন। এই নাটকের দর্শক শুধু ঈশ্বরই নন, দর্শক তার চেনাজানা সকলে। তুখোড় পারফরমেন্স যার হবে সেই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে। তার জন্য এমন কাজ করা উচিত জীবনে,যাতে সকলের ভালো হয়,কারোর অনিষ্ট চিন্তা যেনো মনে না আসে। পাপ পুণ্যের পুরো হিসেব নিকেষ এই দুনিয়াতেই করতে হবে, তাই ভালো মানুষ সাজার থেকে ভালো মানুষ হয়ে থাকাটাই শ্রেয়। মানুষ বেঁচে থাকে তার কাজের মধ্যে দিয়ে, তাই কাজ অর্থাৎ অভিনয় এমন করতে হবে যেটা সারাজীবন ধরে মনে রাখবে সকলে, এমনকি নাটকের শেষ দৃশ্যের পরেও। সুস্থ ভাবে বাঁচো, পাশের সকলে সুস্থ ভাবে বাঁচতে দাও। 

"ভালো মানুষ সাজার থেকেও বেশি দরকার ভালো মানুষ হওয়ার
জীবনের নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে, কোরো সেটার সদ্ব্যবহার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১ জুলাই, ২০২৪

শিরোনাম - বাংলার রূপকার ডা:বিধান চন্দ্র রায় ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্মরণে মননে ডা: বিধান চন্দ্র রায়                          শিরোনাম - বাংলার রূপকার ডা:বিধান চন্দ্র রায় 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সুদূর পাটনার বাকিপুর থেকে কোলকাতা
পায়ে হেঁটে এলেন তিনি,ভরসা শুধু পায়ের পাতা।

সম্বল বলতে শুধু তখন পাঁচ টাকা পঁচিশ পয়সা
খাবার আর বাসস্থান জোগাতে সেটাই শুধু ভরসা।

মাতৃহারা ছিলেন তিনি,পিতাই ছিলেন তাঁর সব
খুবই কষ্টের মধ্যে কেটেছিল তাঁর শৈশব।

কলকাতায় এসে করেন ডাক্তারিতে ভর্তির আবেদন 
থাকতেন কলেজ স্ট্রীটে,পয়সার টানাটানি ভীষণ।

পড়াশোনা শেষে শুরু করলেন তিনি প্র্যাকটিস
রোজগার হতো না মন্দ,কেবল খালি উনিশ বিশ।

বারোশো টাকা করে সম্বল,গেলেন তিনি বিদেশ
চূড়ান্ত সম্মান অর্জনে করতে মনোনিবেশ।

ভারতীয় বলে জুটেছিল শুধুই প্রত্যাখ্যান
কিছুতেই কিন্তু হাল ছাড়েননি ডা:বিধান।

প্রায় বার তিরিশেক করলেন টানা আবেদন
দুবছরে মেডিসিন,সার্জারির চূড়ান্ত ডিগ্রী করলেন অর্জন।

ফিরলেন দেশে,শুরু করলেন ডাক্তারি
মনে এলো প্রেমের জোয়ার,হলেন প্রেম পূজারী।

প্রেম তাঁর মানল হার অর্থদণ্ডের বিচারে
প্রত্যখিত হয় এলেন ফিরে,মন দিলে রোজগারে।

সাল যখন উনিশশো আটচল্লিশ,ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারি
গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রিত্ব,গড়লেন কল্যাণী সহ আরো উপনগরী।

দায়িত্বে ছিলেন যতদিন,করে গেছেন শুধু বাংলার উন্নয়ন
তাঁর কাছে চিরঋণী বাংলার আপামর জনগন।

তিরোধানের পরে ঘরে মেলে এগারো টাকা পঁচিশ পয়সা
জীবনের সঞ্চয় শুধু ছয় টাকা আর মানুষের ভালোবাসা।

আজ তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে জানাই তাঁকে নমস্কার মানুষের হৃদয়ে অমর থাকুন বাংলার রূপকার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০২৪

পতনের শুরু যেখানে✍️ ডা:অরুণিমা দাস

পতনের শুরু যেখানে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আত্মঅহমিকা যে কতোটা খারাপ হতে পারে তার পরিচয় পাওয়া যায় মানুষ যখন একটু বড়ো হয়ে যায় সেটা বিদ্যায় হোক বা বিত্তে তখন সে নিজের কাছের লোককে পর করে বাইরের মানুষের পরামর্শ গ্রহণ করে। আপন মানুষের চেয়ে ভালো পরামর্শদাতা কেউ হতে পারেনা কিন্তু সেটা ভুলে যায় তখন। কোনো সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি আসা মানেই সম্পর্কে ঘুণ ধরতে শুরু করা,আর সেই ব্যক্তির কাছে কেউ যদি পরামর্শ নেয় কি করে আপন কাউকে পর করা যায় তাহলে তো ষোলোকলা পূর্ণ হতে বেশী দেরী হয়না। যে আপনজন তার পাশে থেকে থাকে শুন্য থেকে পূর্ণ করে তোলে পূর্ণতা পেয়ে সেই আপনজনকে পাশ থেকে হটিয়ে দিয়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করার লক্ষ্যে সে অবিচল তখন। কিন্তু সব কর্মের সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মতন পতন ঘনিয়ে আসতে শুরু করে তার জীবনে। পর কখনো সুপরামর্শ দেয় না আর আপনজন কখনো কুপরামর্শ দেয়না। সেটা বোঝার ক্ষমতা সে হারিয়ে পরকেই আপন বলে আঁকড়ে ধরতে চায়। মরীচিকার পেছনে ধাওয়া করে নিজের জীবনে বিপদ ডেকে আনে। আর যখন বুঝতে পারে আপনজন দুর হটে গিয়ে নিজের জীবনে বিপদের কালো মেঘ নেমে এসেছে তখন অনেক দেরী হয়ে যায়, আর পুরোনো পথে ফেরা যায় না,ফেরার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। মুখ থুবড়ে পড়ে আর পস্তাতে থাকে অন্যের উপদেশে আপনকে পর করার জন্য।

"পরের উপদেশে আপনকে করলে জীবন থেকে বহিষ্কার 
সৃষ্টিকর্তা হাসছেন বসে আর ভাবছেন এই তো শুরু পতন হওয়ার!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪

আর নয় অন্ধ অনুসরণ ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আর নয় অন্ধ অনুসরণ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আজকাল মানুষের মধ্যে একটা ব্যাপার খুব দেখা যায়, সেটা হচ্ছে অন্যকে অনুকরণ করা। ও এটা করছে তো আমাকেও তাহলে এটা করতে হবে। অনুকরণ করতে গিয়ে হারাচ্ছে নিজস্বতা, ভুল পথে চলছে। এমনও হতে পারে হাজারটা লোক যে কাজ টা করছে সেটা ভুল পদ্ধতি, কিন্তু সঠিক পথে চলার সাহস নেই বাকীদের কারণ অন্ধ অনুসরণ করাটাই তাদের কাছে মুখ্য। সঠিক পথে চললে যদি সে একা হয়ে যায়, সমাজ তার দিকে আঙুল তোলে সেই ভয়ে সেই পথে সে হাটে না। তবে ভুল তো ভুল ই হয় যদি সেই ভুল হাজার জন ও করে সেটা ভুল ই থাকবে। আর এক শতাংশ মানুষ যদি ঠিক কাজ টা করে সেটা ঠিক ই থাকবে। ওই জন্য মানুষের ভিড়ে ভুল কাজের জন্য হারিয়ে না গিয়ে সঠিক পথে চলা দরকার সেই পথে একলা হয়ে গেলেও। কারণ কেউ সঠিক কাজ টা না করলেও সেটা কিন্তু কোনোদিন ভুল হয়ে যাবেনা, সঠিকই থাকবে চিরকাল। 

চোখ কান খোলা রেখে সঠিক পথে আসল কাজটা করে চলো
বেঠিক কাজে শত লোক থাকলেও,সেটা না করাই ভালো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

শান্তিতেই জীবন পূর্ণ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শান্তিতেই জীবন পূর্ণ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস 


পরিবার ও জীবন সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য যেমন অর্থের প্রয়োজন তেমনি আরেকটি জিনিসের প্রয়োজন অনস্বীকার্য,সেটি হলো মানসিক শান্তি। শান্তি বিহীন জীবন যেনো এক কারাগার আর সেই কারাগারে বন্দী সবাই একটু শান্তির খোঁজে সবাই মুখিয়ে থাকে। শান্তির অভাবে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হতেও দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে। অর্থ প্রাচুর্যে ভরা সংসারে থাকা মানুষেরা হয়তো ধনবান কিন্তু শান্তি উপস্থিত না থাকলে সেই অর্থের কোনো মূল্য থাকেনা। তাদের নিজেকে তখন পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী মানুষ মনে হয়। যে কোনো ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য শান্তির খুব প্রয়োজন সেটা পারিবারিক হোক বা মানসিক! শান্তি না থাকলে সবদিকে এগোনোর পথে বাধার সম্মুখীন হতে হয়, মন খুলে কোনো কাজ করা যায়না। বাবা মায়ের মধ্যে অশান্তি যা সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর,সে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকে নিজের মতো জগৎ তৈরী করে নেয়। হয়ে ওঠে বেপরোয়া,এক সময় যা তার ভবিষ্যতের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। পরিবারের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির,ভেঙে যায় যৌথ পরিবার। আবার 'যুদ্ধ নয় শান্তি চাই' এই স্লোগানে বিশ্বাসী শান্তিপ্রিয় জনগণ। শান্তিই তাই জীবনে খুব দরকার সেটা পারিবারিক হোক বা মানসিক। 

"শান্তিহীন জীবন যে মানুষকে বন্দী করে কারাগারে 
অর্থ প্রাচুর্য যতই থাক,শান্তি অপরিহার্য অঙ্গ সংসারে"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

বোকা বাক্সের কারসাজি✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বোকা বাক্সের কারসাজি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

দিনের শেষে কাজের পরে মন ও চোখ ক্লান্ত যখন
গা এলিয়ে দিয়ে সোফায়, সামনে চলে দূরদর্শন।

বিনোদন আর খবর শোনা, তাই টিভির সামনে বসে পড়া 
আসল খবর আদৌও কি! নকল খবর সব রংচড়ানো আর মনগড়া।

বোকা বাক্সের সকল আবর্জনা জমা হচ্ছে মস্তিষ্কে 
চিন্তাধারার বিকাশ স্তব্ধ!নেগেটিভিটি করছে গ্রাস মানুষকে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪

অনাদর✍️ ডা:অরুণিমা দাস

অনাদর
✍️ ডা:অরুণিমা দাস 

ঠাকুমার অসুস্থতার খবর শুনে রিমি অফিসের কাজ ছেড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি ট্রেনে উঠে বসে। জানলার ধারে সিট পেয়ে গা এলিয়ে দেয় তাতে। অনেক কথা মনে পড়ে যায় ওর। ছোটবেলায় রিমি মায়ের কাছে শুনেছিল যে সে হয়েছিল যখন তার ঠাকুমা মুখ দেখতে পর্যন্ত আসেনি। কারণ তিনি চেয়েছিলেন যে তার নাতি হোক। নাতনী হোক সেটা চাননি তিনি। রিমির পর যখন ভাই জন্মালো ছয় বছর পরে তখন ঠাকুমা ওর মাকে একটু ভালো চোখে দেখতো। তবে বাড়ীতে মাছ মাংস বা ভালো খাবার এমনকি পুজোর জামাকাপড় সবই বরাদ্দ ছিলো ভাইয়ের জন্য। রিমি এগুলো দেখে খুব কষ্ট পেতো,কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতোনা। ভাই সবার আদর পেয়ে বিগড়ে যেতে শুরু করলো,রিমি প্রথমে কিছু বলতে গেলেও মেয়ে বলে তার কথার কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি। এভাবে যেতে যেতে একদিন ভাই ধরা পড়লো ড্রাগ পাচার করতে গিয়ে। সেবারে বাবা আর ঠাকুমা গিয়ে ভাইকে ছাড়িয়ে আনলো কোনরকমে। আর সব দোষ গিয়ে পড়লো রিমির মায়ের ওপর। মেয়েকে দেখতে গিয়ে ছেলেকে মানুষ করার দিকে তার নজর নেই এই অভিযোগ এলো। রিমির মা কেমন যেনো চুপ করে গেলো। রিমি তখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরীর পরীক্ষাগুলো দিচ্ছে। চাকরী যখন পেলো তখন সে কারোর তোয়াক্কা না করে মাকে নিয়ে আলাদা হয়ে গেলো। যেখানে তার আর মায়ের কোনো মূল্য নেই সেখানে না থাকাই শ্রেয়। এদিকে ঠাকুমার আসকারা পেয়ে ভাইয়ের দৌরাত্ম্য বাড়তে লাগলো। বাবা নিজের মান সম্মান বাঁচাতে একদিন ঘর ছাড়লেন। ঠাকুমার তখন বোধহয় একটু টনক নড়েছিল,নাতিকে শাসন করতে শুরু করলেন কিন্তু সেটা অনেক দেরী হয়ে গেছিলো। নাতি তখন হাতের বাইরে চলে গেছে। মুখের ওপর শুনিয়েছিল যাওনা নিজের নাতনিকে নিয়ে থাকো,সে তো চাকরী করে সেখানে গিয়ে থাকো যাও। সেদিনের পর থেকে ঠাকুমা আর কিছু বলেননি নাতিকে। হয়তো বুঝেছিলেন একসময় অন্যায় করেছেন। দিনের পর দিন অবহেলায় অযত্নে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রিমির মা খবর পেয়ে রিমিকে বলেন ওখানে গিয়ে থাকবেন বলে। বলেন উনি ভুল করেছেন বলে আমরাই বা ভুল করবো কেনো! রিমি প্রথমে গররাজি হলেও পরে মায়ের জেদের কাছে হার মেনে ঠাকুমার কাছে ফিরে যায়। বছর তিনেক ধরে সে,মা আর ঠাকুমা একসাথে থাকে। আজ মায়ের ফোন পেয়েই দৌড়ে দৌড়ে আসছে রিমি। শেষ স্টেশন এসে গেছে,নামুন ম্যাম। টিটির ডাকে ঘোর কাটে রিমির। পুরোনো কথা ভাবতে ভাবতে কোথায় যে হারিয়ে গেছিলো সে, বুঝতেই পারেনি। স্টেশনে নেমে একটা রিক্সা ধরে বাড়ীর পথে পা বাড়ায় সে। বাড়ী পৌছে দেখে যে ঠাকুমা শুয়ে আছে, মা বসে আছে বিছানায়। মুখটা ঠাকুমার কানের কাছে নিয়ে এসে বলে কি করো তুমি?ওষুধ গুলো খাওনা কেনো? 
-কাঁপা কাঁপা গলায় বলে অনেক ভুল করেছি, আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না রে দিদি। সেগুলো মনে পড়লে মনে হয় আমার আর থাকা উচিত নয় এই দুনিয়ায়।
-যা হয়ে গেছে সেগুলো মনে করে নিজেকে কষ্ট দিয়ে কি লাভ? আসলে কি জানো! অনাদরে বেড়ে ওঠা গাছেরাই কিন্তু ছায়া দেয়। আর সযত্নে লালন করা গাছেরা আগাছার মতো জাপটে ধরে কিন্তু ভালো কিছু করতে পারেনা। 
যতদিন আমার সাথে থাকবে পুরোনো কোনো কথা মনে করবে না, কথা দাও সময় মতো ওষুধ খাবে, খাবার খাবে। 
-সব করবো দিদি। আমার কথাটাও শুনতে হবে তোমায় এবার।
-কি কথা? শোনার মত হলে নিশ্চই শুনবো।
-কতদিন আর আমাদেরকে আগলে রাখবি? এবার নিজের একটা সংসার কর। 
-ওসব করে কি হবে ঠাকুমা? মায়ের কষ্ট তো দেখেছি আর ওসব ভালো লাগেনা গো। 
-সবার কপাল এক হয় না দিদি। আমার যে বড়ো ইচ্ছে তোর কোলে আবার মেয়ে হয়ে জন্মাতে। জানি তুই আমায় কোনোদিন অবহেলা করবিনা। 
রিমির চোখে জল চিকচিক করে। ঠাকুমার হাতে হাত রেখে বলে সত্যি আসবে তো! আমি রাখবো তোমার কথা। আর আমার মেয়ে হয়ে এলে কোনোদিন অনাদর হবেনা তোমার। ঠাকুমা শীর্ণ হাত দুটি দিয়ে জড়িয়ে ধরে রিমি আর ওর মায়ের হাত। এই মুহুর্তের সাক্ষী রইলেন শুধু ঈশ্বর। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

বিপদের সংজ্ঞা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বিপদের সংজ্ঞা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কার সাথে কি হবে সেটা ভগবান আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন। আমার বিপদ মানে ভগবানের পরীক্ষা আর অন্য কেউ বিপদে পড়লে সেটা পাপের ফলভোগ এসব ভাবার আগে সব সময় ভাবা উচিত যা হচ্ছে ভগবানের ইচ্ছেয় হচ্ছে। 
নিজের শ্রম মেধা দিয়ে যে জিনিসটা চাইছি সেটা হয়তো পাচ্ছি না,অন্য কিছু পাচ্ছি যেটা চাইছিনা। সেটাও ঈশ্বরের ইচ্ছেতেই হচ্ছে। উনি যেটা দিতে চাইছেন সেটা হয়তো আমার চাওয়ার চেয়ে অনেক ভালো। সেইজন্য হয়তো বিপদে পড়তে হচ্ছে ভুল জিনিস চাওয়ার জন্য আর সঠিক জিনিসের কাছে পৌঁছনোর জন্য। সবার চিন্তাধারা একরকম হয়না তাই বিপদের সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম। পাপ পূণ্যের দাড়িপাল্লা একমাত্র ঈশ্বরের হাতে আর উনি সেটা ব্যালেন্স করতেই কখনো কখনো পরীক্ষা নেন যাতে পাপের দিকের পাল্লা ভারী না হয়ে পড়ে। বিপদ আসলে আমাদের সবাইকে আরো দৃঢ় মানসিকতা সম্পন্ন করে তোলে সে নিজের কর্মফলই হোক বা ভগবানের পরীক্ষাই হোক। জীবনে ঠোক্কর খেতে খেতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মাঝে মাঝে বিপদ নামে দুএকটা বড় বাধা জোট যেগুলো অতিক্রম করাই আসলে আমাদের উদ্দেশ্য।

"বিপদ মানে দৃঢ় মানসিকতা সম্পন্ন হবার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া
কর্মফল হোক বা ভগবানের পরীক্ষাই হোক তার ইচ্ছেয় হয় সব পাওয়া।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...