শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - আধ্যাত্মিক।
#নাম-
*সীতার সহিষ্ণুতা।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
ভারতীয় জীবন-দর্শন ও জীবনাদর্শের ভিত্তি রামায়ণ ও মহাভারত। মহাভারত তো বলেই দিয়েছে যা নেই মহাভারতে,তা নেই ভারতে। আর রামায়ণ হল ভারতীয় আদর্শ যে অতিথি দেবভবঃ,রাজকাহিনীর প্রাধান্য বাল্মীকি রামায়ণের মূলকাহিনীর রূপান্তরে বহুজাতি যে প্রাণের কথা পেয়েছিল তাই নিয়ে ভারতবাসীর গর্বের শেষ নেই।
বাল্মীকির রামায়ণ মহাভারতের পরে রচিত হয়,অথচ মহাভারতের আগে শেষ হয় বলে রামায়ণকে আদিকাব্য বলা হয়। দুই মহাকাব্যে বীর রসের প্রাধান্য থাকলেও,অন্যান্য ভাষায় যখন কাব্যখানি রচিত হয়েছে তখন কাব্যখানির কাহিনী কাঠামো ঠিক রেখে যে যার সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়েছে। বিশেষ করে রামায়ণ ব্রহ্মদেশ,শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশে রামায়ণের আজও জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।
এই জনপ্রিয়তার পেছনে কাহিনীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিকের মধ্যে সীতার সহিষ্ণুতা একটি অন্যতম দিক।
বাঙালিয়ানায় বাল্মীকি রামায়ণের মূল কাহিনী অব্যাহত রেখে কাহিনীর অনেকাংশে গ্রহণ বর্জন লক্ষ্য করি কৃত্তিবাসী রামায়ণে। কৃত্তিবাসী রামায়ণের কাহিনী যা বাঙালির গার্হস্থ্য ও পারিবারিক জীবনের কাছে যাতে অত্যন্ত রসগ্রাহী হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কৃত্তিবাস তাঁর সীতাকে বাঙালির ঘরের বধূর হুবহু আদলে গড়ে তুলেছেন।
সীতা বাঙালি ঘরের আদর্শ বধূ হিসেবে উপস্থিত। বাঙালি রমণীর মধ্যে যে সহিষ্ণুতাশক্তি সীতা তারই পূর্ণ প্রতিভূ।
ধরিত্রী-কন্যা। ধরিত্রীর মতো তিনি সর্বংসহা। পতিব্রতা। সত্যরক্ষার্থে রাজ অন্তঃপুরের সুখৈশ্বর্য ছেড়ে স্বামী অনুগামীনী হলেন বনবাসের দুঃখের তপস্যাকে সাদরে গ্রহণ করলেন। বনবাসের থাকার সময় মেয়েদের স্বাভাবিক দুর্বলতা সোনায় সাময়িক লোভ(স্বর্ণহরিণ) থেকে পাপের ফল রাবণের পরস্ত্রী অপহারকের ইচ্ছার অধীন হতে বাধ্য হলেন। নির্বাসন স্বর্ণ লঙ্কায় - বনবাস থেকে নির্বাসন লঙ্কার অশোককাননে ঠিকানা। সীতা স্বামীসঙ্গ সুখ থেকে বনবাসের চেয়েও আরও গভীরতর একাকীত্বের সহনশীলতার পরীক্ষার মাঝে পড়লেন। রাক্ষসী (চেঁড়ি) পরিবৃত দেবকীর কারাবাসের মতই দুঃখ ছিল নিত্যসঙ্গী। এই বিভূঁয়ে বিভীষণ পত্নী সরমা সুখ-দুঃখের যদিও সঙ্গী ছিলেন,সে সঙ্গ তো আর রাম ও লক্ষ্মণের সাথে থাকার চেয়ে মধুর তো নয়ই,বাড়তি অনবরত টেনশন স্বামী রঘুপতির এই দুর্ভেদ্য স্বর্ণালঙ্কার ভেদ করে,দুর্বৃত্য রাবণকে বধ তাঁকে উদ্ধার করা কি সম্ভব! সে তো চাট্টিখানি কথা নয়। সফল কি হবেন? একেবারে প্রিয় পরিজন বিহনে বন্দীজীবনের দুঃখের কথা সে বলার নয়। সরমা বড়জোর ক্রাইসিসপূরক। কিন্তু সীতার এই দুঃখের সহনশীলতায় বাঙালির চোখের জল বাঁধ মানেনি। সীতার সহনশীলতার এমন লঘুপাপে (সোনার হরিণ আকাঙ্খাপূরণ) গুরুদন্ড লাভে ধরিত্রীমাতা তার কন্যার প্রতি এমন অবিচার সহ্য করছেন কীকরে? তিনি সহ্য করবেন তো,মাতা ধরিত্রী যে তিনি। তাঁর কন্যা তো তেমনই হবেন।
সীতার সহিষ্ণুতার আরো কঠিন পরীক্ষার বাকী - এর চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিণতি যে সামনে সীতা তা মনেও ভাবেননি। বিভূঁয়ে থাকার জন্য সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হলো পবিত্রতা সন্দেহে। স্বামীর সন্দেহ। কোনো প্রশ্ন না করে পতিব্রতা মনপ্রাণে বলেই,তিনি নির্দ্বিধায় পরীক্ষা দিলেন।
এবার অযোধ্যায় সীতাসহ রাম ফিরলেন। রাম রাজা হলেন। কিন্তু রাজমাতাকে নিয়ে প্রজার মধ্যে কানাঘুষো - মহারানী কতটা পবিত্র। আবার সীতার বনবাসে নির্বাসন। এদিকে সোনার নকল সীতা বানিয়ে রামের রাজসূয় যজ্ঞ, আর ওদিকে বাল্মিকী আশ্রমে একাকী বনবাসে। শত দুঃখের মধ্যেও যেটুকু সুখ লব-কুশকে নিয়ে সন্তানবাৎসল্য। এখানেই নারীর পূর্ণতা। শত দুঃখের সহিষ্ণুতার মাঝে ওয়েসিস ( মরুভূমিতে মরুদ্যান)।
সেই যে সীতার পিছু পবিত্রতার প্রশ্ন সীতাকে ঘিরে। লব-কুশের জন্য তাদের মা আবার অযোধ্যা ফিরলেন বটে কিন্তু অগ্নিপরীক্ষা তাঁর পিছু ছাড়ে না। আবার অগ্নিপরীক্ষা প্রজার সামনে। রামের প্রজানুরঞ্জক আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য। সীতার এই বারবার অগ্নিপরীক্ষা এও সহ্যের শেষসীমায় পৌঁছলে তার একটা ফল তো ফলবেই - সীতার পাতাল প্রবেশ। সীতার এই সহিষ্ণুতার জন্য রামায়ণকে সীতাসর্বস্ব বাঙালির পাঁচালী কাব্য বলা হয়।
আর যুগ যুগ ধরে সীতার এই সহিষ্ণুতার মূলে নারীশক্তির সামর্থ কতটা তা প্রমাণিত। সীতার এই সহিষ্ণুতাই তার প্রমাণ। এর থেকেই নারীশক্তির প্রতি সমীহ আসাই আমাদের আদর্শের প্রতীক হয়েছে। সীতাসর্বস্ব রামায়ণ আমাদের সেই শিক্ষাদান করে। সীতা,সাবিত্রী,বেহূলা প্রমুখ ভারতীয় সহিষ্ণুতার প্রতীক। যুগে যুগে নারী এই গুণে তাঁর প্রাপ্য সম্মান আদায় করে আসছে। যে সমাজ যত সম্মান দিয়েছে সেই সমাজ তত অগ্রগতি লাভ করেছে। সীতা,সাবিত্রী,বেহূলা তারই পথ প্রদর্শক।
********
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
অপূর্ব
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো 👌👌👌💐💐💐
উত্তরমুছুনঅসাধারণ
উত্তরমুছুনঅসাধারণ 🙏🙏
উত্তরমুছুনঅসাধারণ।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ। 🌷🌷💐💐💐
উত্তরমুছুনবাপ রে বাপ, কত তথ্যপূর্ণ লেখা। অসংখ্য ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ👏✊👍
উত্তরমুছুনঅসাধারণ লেখনী
উত্তরমুছুনদারুন , দারুন
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনদুর্দান্ত ।চমৎকার।🙏🙏
উত্তরমুছুনদুর্দান্ত ।চমৎকার।🙏🙏
উত্তরমুছুন