মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

#নাম - 'ক্রিপ্টোকারেন্সি' ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।


  বিষয় - অশরীরী মূদ্রা।
  নাম - 'ক্রিপ্টোকারেন্সি'।
✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

     নেট দুনিয়ার এক স্তম্ভ হয়ে হাতছানি চোখের সামনে চকচকে মূদ্রা যার পরিচয় অশরীরী মূদ্রা। ডিজিটাল মূদ্রা লেনদেনের বিজ্ঞাপন বিটকয়েন। একপ্রকার এক্সচেঞ্জ সংস্থা এই লেনদেন করে। ০১ বিটকয়েনের দাম ভারতীয় টাকায় প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা। এই মূদ্রার জনপ্রিয়তার কারন এতে লেনদেনকারীর পরিচয় গোপন থাকে। ব্যবহৃত হয় একপ্রকার সংকেতলিপি। অন্য ডিজিটাল লেনদেনে যেমন জানা যায় কার কাছ থেকে কার কাছে এল ও গেল,বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা হয় না। শুধু জানা যায় এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে গেছে। তবে বিটকয়েন ভাঙিয়ে নগদ টাকা হাতে পেতে চাইলে তখন আর পরিচয় গোপন থাকে না।
  এই অর্থের উপর দেশের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই লোকসান হলে অভিযোগ জানানোর কোনো সুযোগ থাকে না। বিটকয়েন ওয়ালেট থেকে এই অর্থ লেনদেন হয়। সবটাই অনলাইনে। একে বলে বিটকয়েন ভল্ট বা লকার। লেনদেন বিটকয়েন টু বিটকয়েন। একবার চুরি গেলে পুলিশেরও সাধ্যি নেই একে খুঁজে বের করার।  বিটকয়েনের মোহে বিপুল সংখ্যক মানুষ তথা বর্তমান তরুন সমাজ প্রলোভিত হচ্ছে কারণ বিপুল মুনাফা। শুধু কি বাজারে বিটকয়েন, এছাড়াও ইথারিয়াম,ম্যাটিকের মত ডিজিটাল মূদ্রাও প্যারালাল জনপ্রিয়।
  কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিশেষ শাখা ক্রিপ্টোলজি। এই ক্রিপ্টোলজি ব্যবহৃত হয়ে যে মুদ্রা তৈরি হয় তার নাম ক্রিপ্টোকারেন্সি। এই মূদ্রায় হাতে ছোঁয়ার উপায় নেই। অস্তিত্ব কেবল ভার্চুয়াল দুনিয়ায়। 'ব্লকচেন' নামে এক প্রযুক্তি দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থাকা কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রণ করে এই অশরীরী মূদ্রা। প্রতিটি লেনদেন ডিজিটাল ব্লকের মাধ্যমে চিহ্নিত থাকে। সেই ব্লকচেন ভেদ করা প্রযুক্তিগতভাবে ভেদ করা নাকি অসম্ভব, সেই আস্থার পক্ষে সওয়াল করে আসছে এ পর্যন্ত। তাই ভরসা জোগাচ্ছে। 
 এর বিপদ কম্পিউটারে বিশেষ ব্যক্তির মালিকানায় পাসওয়ার্ড সিস্টেমে বন্দী থাকে। যদি ঐ ব্যক্তির কোনো কারনে মৃত্যু হয় যদি পাসওয়ার্ড না জানা থাকে তাহলে সেই মূদ্রা অশরীরী হয়েই থেকে যাবে। তাকে আর কেউ খুঁজে পাবে না। অধূনা ঘটেছেও তাই। কোয়াড্রিগা নামে কানাডার এক আর্থিক সংস্থার বিটকয়েন, লাইটকয়েন ও এথেরিয়াম নামের তিন ধরনের ডিজিটাল মূদ্রার লেনদেনের ব্যবস্থা ছিল। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জেরাল্ড কটন। ২০১৯ সালে রাজস্থানের জয়পুরে এক অনাথ আশ্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে এসে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে হোটেলে লাশ হয়ে যান। তাঁর কোম্পানির সমস্ত অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ছিল তাঁর জিম্মায়। আর সেই পাসওয়ার্ড ছিল কানাডায় তাঁর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে। তাঁর সংস্থার নথিভুক্ত গ্রাহক তখন ছিল ৩,৬৩,০০০ জন। তার মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টাকা রেখেছিলেন প্রায় ১,১৫,০০০ জন। টাকার পরিমান প্রায় ১০০০কোটি টাকা। এবার ঘটনা কি হতে পারে আগেই বলেছি। কানাডার সরকারি ব্যাঙ্কে কোনো নথি না থাকায় সরকার হাত তুলে দিয়েছে। বিপদ যা হওয়ার তাই হয়েছে। অতিলোভীর গলায় দড়ি আরকি।
   মুনাফার হাতছানি সংবরণ না করলে বিপদ আসে এভাবেই। বিটকয়েন ও অন্যান্য ডিজিটাল মূদ্রা যে ভাবে মুনাফার হাতছানি দিয়ে যাচ্ছে লোভ সংবরণ করা সত্যিই দুরুহ। মানুষ বড় লোভী।
                  *****

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...