মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

অনুগল্প


 বৃষ্টি নামার আগে
✍️ডা: অরুণিমা দাস 

বাইরে প্যাচপ্যাচে গরম,জৈষ্ঠ্য মাস চলছে তখন।  বেসরকারি হাসপাতালের লেবার রুমে রাউন্ড দিচ্ছেন নামকরা গাইনি ডক্টর রায়। বিকেলের দিকে আকাশের অবস্থা ভালো নয় দেখে এক প্রসূতি মা কে তার পরিবারের লোকেরা ভর্তি করিয়ে দিলেন ডক্টর রায়ের আন্ডারে। চেক করে ডাক্তার বাবু বললেন এখন তো বাচ্চা হবার সম্ভাবনা দেখছি না, আজ রাতে বা কাল সকালের দিকে হতে পারে। ওনার স্বামী বললেন বাড়িতে দেখার কেউ নেই সেরকম, এখানেই থাকুন উনি। আর প্রথম সন্তান তো, আমিও একটু ভয়ে আছি। ওকে উনি তাহলে আমার অবজারভেশনে থাকুন,বললেন ডা. রায়। সিস্টারকে নির্দেশ দিলেন কিছু ইনজেকশন আর স্যালাইন চালিয়ে দিতে,আর বলে গেলেন আজ রাতেই হয়তো ওনার প্রসব বেদনা উঠবে।আপনি কিন্তু কল করবেন আমায়। সিস্টার বললেন আচ্ছা স্যার। এরপর ওনার স্বামীকে বাড়ি যেতে বলে আশ্বস্ত করলেন ডা রায়। তারপর রাউন্ড দেওয়া শেষ করে ডা রায়ও বেরিয়ে গেলেন।
রাত তখন প্রায় দুটো, আকাশ কালো করে বিশাল মেঘের আনাগোনা চলছে, সাথে বিদ্যুতের ঝলকানি। সেই প্রসূতির তখন অল্প অল্প বেদনা উঠেছে, সিস্টার ফোন করলেন ডা রায় কে। লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হলো প্রসূতি মাকে।বাইরে তখন কালো অন্ধকার,আর টুপটাপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মেঘের গর্জন তখন তুঙ্গে,লেবার রুমে সেই মহিলা তখন যন্ত্রণায় কাহিল আর মনে মনে ঈশ্বর কে ডাকছেন আর বলছেন, এত আকাশ কালো করা মেঘ আর ঝড় বৃষ্টি কেনো?? তাহলে কি আমার অনাগত সন্তানের জীবনেও এরকম অন্ধকার নেমে আসবে নাকি কোনোদিন?? কমিয়ে দাও এই ঝড় বৃষ্টি।এর মধ্যেই ডা: রায় এসে পৌঁছলেন হসপিটালে। 
সোজা চলে গেলেন লেবার রুমে, পরীক্ষা করে বললেন মা আপনার বাচ্চা হওয়ার দ্বার খুলে গেছে, আর দু তিন ঘন্টার মধ্যে আশা করি আপনার সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। মায়ের চোখের কোনে জল চিক চিক করছে, হয়তো কষ্টের হয়তো বা আনন্দের। সারারাত ঝড় বৃষ্টির তাণ্ডব চলতে লাগলো। ভোর ছটার দিকে সেই প্রসূতির যন্ত্রণা নিবারণ হলো, জন্ম নিল তার প্রথম কন্যা সন্তান। আর বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সেই মা দেখলো বাইরে পরিষ্কার আকাশ, সূর্য উঠেছে,পাখিরা ডাকছে। ডা. রায় এসে বললেন ম্যাডাম আপনার মেয়ে হয়েছে। সিস্টার এসে বললো আপনার স্বামীকেও দেখিয়েছি মেয়ের মুখ। মা তখন আলতো হেসে বললেন আচ্ছা। ডা: রায় জিজ্ঞেস করলেন মেয়ের নাম কিছু ঠিক করে রেখেছেন নাকি?? মেয়ের মা বললেন সারারাত আকাশ কালো করা মেঘ আর ঝড়বৃষ্টির পর যখন প্রথম সূর্যকে দেখলাম, তখনি আমার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখলো। তাই আমি ওর নাম রাখবো এমন কিছু, যার মানে হয় ভোরের উদিত সূর্যের লাল আভা। ডা রায় হেসে বললেন বেশ জবরদস্ত নাম ভেবেছেন তাহলে। মেয়ের মা বললেন হ্যাঁ ডাক্তারবাবু, নাম ক্রমশ প্রকাশ্য। ডা: রায় হেসে বললেন ভাগ্যিস আপনার স্বামী একদম ঠিক সময়ে আপনাকে এখানে অ্যাডমিট করিয়ে দিয়ে গেছিলেন, নাহলে রাতে যা ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিলো, তখন যন্ত্রণা উঠলেও আপনাকে ভর্তি করতে নিয়ে আসাটা খুব চাপের হতো। মেয়ের মা বললেন ঈশ্বর মঙ্গলময়, উনি যা করেন সর্বদা সবার ভালোর জন্যই করেন। দিন সাতেক পর ছুটি হয়ে যায় মা আর মেয়ের এবং সেই দম্পতি হাসি মুখে কন্যা সন্তান কে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে। 🌞🌞🌞

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...