শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

গ্রন্থালোচনা - আর্টিমিসিয়া

গ্রন্থালোচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সম্প্রতি নারায়ণ সান্যালের লেখা একটি গল্প পড়লাম,আর্টিমিসিয়া। হয়ত এই বছর অনেক গল্প বই পাঠ করবো,মুগ্ধ হবো, পাঠ প্রতিক্রিয়া দেবো। কিন্তু বছরের শুরুতে 'নিউটাউন বইমেলা ২০২২' থেকে সংগ্রহ করা এই বইটি আমার কাছে অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বই। কেন! বলছি। বলার আগে আমার এই প্রচ্ছদের ছবিটা একবার দেখে নেওয়া উচিত। ছবির স্রষ্টা আর্টিমিসিয়া জেন্টেলেসচি,যাকে নিয়ে এই গ্রন্থ। আমি আঁকার বিষয়ে অনেক কিছু বুঝতাম না। কিন্তু এই গ্রন্থ আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আঁকারও ব্যাকরণ আছে, জ্যামিতি আছে,দর্শন আছে,দৃষ্টিকোণ আছে। এছাড়াও এই গ্রন্থের রচয়িতা নারায়ণ সান্যাল রেনেসাঁ যুগে রোমে আর ফ্লোরেন্সে মহিলাদের সামাজিক অবস্থাগত পার্থক্য লেখার মধ্যে দিয়ে অঙ্কন করেছেন। 

আর্টিমিসিয়া জেন্টিলেসচি রেনেসাঁ যুগের একমাত্র মহিলা-শিল্পী যিনি সার্থকতার গৌরীশৃঙ্গে উপনীত হয়েছিলেন। ফ্লোরেন্স আকাডেমিয়ার প্রথম ও একমাত্র সদস্যা। অন্যান্যরা : বত্তিচেল্লি, বেলিনী, লেঅনার্দো, মিকেলাঞ্জেলো, কারজ্জিত্ত, গ্যালিলেও! ফ্লোরেন্সের উফিজি সংগ্রহশালায় মহিলাশিল্পীর আঁকা একটি মাত্র চিত্রই তখন স্থান পেয়েছিল - বলা বাহুল্য সেটি ছিল আর্টিমিসিয়ার আঁকা।

এই গ্রন্থকে উপন্যাস বলা যায় না। এই গ্রন্থ লেখক  এক অবহেলিত শিল্পীর জীবন সম্পর্কে তাঁর করা পর্যবেক্ষণ গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। অবহেলার কারণ তিনি ছিলেন একজন মহিলা - আর্টিমিসিয়া জেন্টিলেসচি। যার নামের মধ্যেই "আর্ট" (ব্যক্তিগত মনভাব)! আর তাঁর জীবন যুদ্ধ যেমন লেখক একনাগারে কোন পর্ব, অনুচ্ছেদে বিরতি না দিয়ে মসৃণ ভাবে বর্ণনা করেছেন, এই বই পড়ার সময়ও বিরতি প্রয়োজন বলে আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়নি। কিন্তু সময় অকুলান বলে বিরতি নিতে হয়েছে। বেশি কিছু আর বলবো না। শুধু বলব, এই গ্রন্থ ও এই গ্রন্থের নায়িকা মনে এক গভীর দাগ কেটে দিয়েছেন। যে দাগ শক্তি যোগায়, প্রেরণা দেয়। আমার মনে হয় এই গ্রন্থ সবার পড়া উচিত আর এর মাধ্যমেই আর্টিমিশিয়াকে ওঁর যোগ্য সম্মান দেওয়া হবে হয়তো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...