বিষয় - গ্রন্থালোচনা
✍️ডা: অরুণিমা দাস
বইমেলা থেকে সদ্য কেনা বইটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। মানুষ যখন বৃদ্ধ হয় তার মূল্য কমে যায়, কিন্তু বৃদ্ধ যদি প্রভূত সম্পত্তির মালিক হন তাহলে তো কোনো কথাই নেই।এরকমই এক অকৃতদার মানুষের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করেন রিস্তেদারেরা। সেই কৌশল গুলোকেই ফুটিয়ে তুলেছেন নারায়ণ সান্যাল তাঁর কাঁটা সিরিজের অন্যতম গল্প
"রিস্তেদারের কাঁটা "তে।
এই গল্পেরই কিছু লাইন তুলে নিজের পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার চেষ্টা করছি।
বাসু বললেন, “শোন টুকু, তোমার বয়স কম, অভিজ্ঞতাও অল্প। যে ঘটনা তোমাদের বাড়িতে ঘটেছে তার ছকটা অতি পরিচিত। যুগে যুগে, দেশে দেশে,এই নাটকটা অভিনীত হয়ে গেছে।
পরিকল্পনার ছকটা সব ক্ষেত্রেই এক রকম। অগাধ সম্পত্তির মালিক বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ হয়ে পড়েন-হয়তো তখন তিনি বিপত্নীক, নিঃসন্তান। সম্পত্তির লোভে দূর-সম্পর্কের আত্মীয়েরা এসে জোটে। যারা এতদিন বৃদ্ধের দেখ্ভাল করছিল, নানা ছুতোয় তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাড়া প্রতিবেশী শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে। নৌকার হালটা কব্জা করার পরেই রিস্তেদারেরা দাবী করে,বৃদ্ধ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন! নিজের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা আর তাঁর নেই। আদালত ওদেরই একজনকে সম্পত্তির অছি নিযুক্ত করে। একাহ্নে নাটকের প্রথম অঙ্কের সমাপ্তি ঘটে। দ্বিতীয় অঙ্কে বৃদ্ধকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কোনও আরোগ্য-নিকেতনে, নার্সিংহোমে, কখনো বা মানসিক উন্মাদাগারে। সেই বিখ্যাত আরবীয় উটের ক্লাসিকাল কাহিনীটি পুনরাভিনীত হয়।রিস্তেদারেরা স্থায়ীভাবে সম্পত্তির দখল নেয় – আর উট নিজের তাঁবু ছেড়ে বাইরে এসে হয়ে যায় ‘অবন –ঠাকুরের’ উট!
বিষদে জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে গল্প বইটি।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন