গ্রন্থালোচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
নীহার রঞ্জন গুপ্ত সম্পর্কে কিছু কথা ও তাঁর লেখা 'হাসপাতাল' উপন্যাসের পাঠ প্রতিক্রিয়া
লেখক পরিচিতি -
ডাঃ নীহাররঞ্জন গুপ্ত (জন্মঃ ৬ই জুন, ১৯১১ – মৃত্যুঃ ২০শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় রহস্য কাহিনীকার এবং চিকিৎসক। তিনি বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র কিরীটি রায়ের স্রষ্টা হিসেবে উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন।১৯১১ সালের ৬ই জুন তৎকালীন যশোরের (বর্তমান নড়াইল জেলার) লোহাগড়া উপজেলার ইটনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ছিল বিখ্যাত কবিরাজ বংশীয়। তার পিতা-মাতার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত এবং লবঙ্গলতা দেবী। তিনি শৈশবকাল কাটিয়েছেন কলকাতায়।
ছোটবেলা থেকেই তিনি সবসময় স্বপ্ন দেখতেন লেখক হবার। একসময় তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ গ্রহণসহ তাঁর অটোগ্রাফ সংগ্রহ করেন। আঠারো বছর বয়সে নীহাররঞ্জন তার প্রথম উপন্যাস রাজকুমার
রচনা করেন। ইংল্যান্ডে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি গোয়েন্দা গল্প রচনায় আগ্রহান্বিত হয়ে লেখার উত্তরন ঘটান এবং আগাথা ক্রিস্টির সাথে সাক্ষাৎ করেন। ভারতে ফিরে এসে তিনি তার প্রথম গোয়েন্দা উপন্যাস কালোভ্রমর রচনা করেন। এতে তিনি গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে কিরীটি রায়কে সংযোজন করেন যা বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যে এক অনবদ্য সৃষ্টি। পরবর্তীতে কিরীটি খুব জনপ্রিয়তা পায় বাঙালি পাঠকমহলে। তিনি বাংলা সাহিত্যে রহস্য কাহিনী রচনার ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখক ছিলেন। উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপট ও উপযোগী করে রচিত হয়েছে তার রহস্য উপন্যাসগুলো। বর্মা বা অধুনা মায়ানমার দেশের কথা বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে তার রচনায়। এ পর্যন্ত প্রায় পঁয়তাল্লিশটি উপন্যাসকে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে যথাক্রমে টলিউড ও বলিউডে এছাড়াও তিনি শিশুদের উপযোগী সাহিত্য পত্রিকা সবুজ সাহিত্যের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রকর এস এম সুলতান ইটনায় অবস্থিত নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাসভবনে শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৪ নভেম্বর, ১৯৯৩ সালে নড়াইলের তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলী হোসেন এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে এস এম সুলতানের মৃত্যুর পর শিশু সংগঠনের কর্মীরা তা দখল করে। ২০০৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাসভবন অধিগ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগী হয়। কিন্তু, আজ অবদি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
সদ্য পড়ে শেষ করেছি ওনার লেখা একটি বই, হাসপাতাল। খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে সেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার চেষ্টা করছি।
"সৌজন্য বল, বন্ধুত্ব বল, তার মধ্যে অর্থের দেনাপাওনা আনতে নেই। কারণ তাতে করে অতি বড় বন্ধুত্ব বা সৌজন্যের মধ্যেও চিড় খেতে পারে।" -হাসপাতাল
যেহেতু ডাক্তার তাই হাসপাতাল নামে একটা উপন্যাস থাকবেনা আর তা পড়বোনা - তা কি হয়। সব ডাক্তারদের এই বইটি পড়া উচিত বলে আমার মনে হয়। এক মেয়ের জীবন সংগ্রাম। মেয়েদের নিত্য দিনের ইনকমপ্লিট এবরশনের অভিজ্ঞতা। আর পুরুষ সমাজের নিত্য অভ্যাস। হয়ত দিনশেষে বইটি সেই ডাক্তারনীকে করে তুলবে অনেক শক্ত। দিনশেষে কি শর্বরী কি খুব সুখে ছিল? রাত গুলো কি নির্ঘুম হয়নি মাঝে মাঝে? শৈবাল এর দিকটা উপন্যাসে কমই ছিল। সেও বিশাল ভুলের সাক্ষী। কিন্তু সংসারে জেদ, অভিমান খুব খারাপ জিনিস। একপক্ষের জেদ সংসারে আরেকপক্ষকে জেদ করতে শেখায়। মানুশ বেশিদিন সহ্য করেনা। অপরদিকে জলি সেই একরোখা স্বামীকেই মানিয়ে নেবার অসম্ভব ক্ষমতায় কি সুন্দর সাজিয়ে নিল। স্বামীও হয়ে গেল সামাজিক। স্বামীকেও মাঝে মাঝে কম্প্রোমাইজ করতে হয়। আর উপন্যাসের নামের প্রতি সুবিচার রেখে বারবার এসেছে রোগীদেরকথা, ডাক্তারদের কথা, অসহ্য রোগের কথা। আর দিনশেষে লেখক দাবী রেখেছেন ভবিষ্যতের দিকে। রোগের এই জ্বালা থেকে মানুষ যেন মুক্তি পায়। চিকিৎসকের জীবন যে একটা ব্যবসা নয় এটুকু যেন সবাই জানতে পারে। অর্থের মোহে কেউ যেন শতকরা নব্বইজন ডাক্তারের মত ডাক্তারী পড়তে না যায়। আজও যে সব জীবানু মানুষের শরীরে রোগ ছড়িয়ে তাদের অকাল মৃত্যুমুখে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাদের যেন ধ্বংস করার পথ খুজে পায় পড়াশোনা করে। এই রোগ ও রোগের দু:স্বপ্নকে মুছে ফেলে যেন সব চিকিৎসক মঙ্গলের, শান্তির, সুন্দর স্বাস্থ্যের সন্ধান দিতে পারে মানুষকে।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন