শিরোনাম - কথোপকথন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
ধরাধামে আসার পূর্বে কথোপকথনে ব্যস্ত কর্তা গিন্নী।
কইগো রেডী হলে নাকি? হ্যা আরেকটু মেকআপ বাকি করে নিই, দাড়াও একটু। স্বামী শিবকে উত্তর দিলেন কালী মাতা।
- আরে এতো মেক আপ করে হবেটা কি শুনি?
- আমার কালো রং যে, একটু সাজগোজ না করলে চলে বলো?
- দূর ওসব বাহ্যিক গো গিন্নী। মন তো তোমার কালো নয়,ভক্তদের জন্য সর্বদা আকুল। এতেই হবে গো!
-বরং এই দুনিয়ার যত কালিমা আছে, সেসব দুর করে নিজের কালো রং আরো উজ্জ্বল করো। আমি কালো বউকে নিয়েই খুশি।
- আহা! ঢং দেখে আর পারি না। যাও রেস্ট করে নাও একটু।
- রেস্ট করেছি, কয়েকটা ডনবৈঠক ও দিয়েছি। দুদিন এখন আমার খাটাখাটনি যাবে, ওজন তো বেশ ভালোই তোমার।
- হ্যা জানি খুব কষ্ট হয় তোমার! কি আর করবো বলো! আমার খুব লজ্জা লাগে।
- আহা লজ্জা কিসের গিন্নী! তুমি তো সব গৃহিণীর অনুপ্রেরণা। তোমায় দেখেই তো তারা ঘরের কর্তা দের ওপর জোরজুলুম করে।
- তা করে। আর সে তো ভালো! স্বামীদের একটু দমিয়ে রাখা দরকার। এখন আমার কুচিটা একটু ধরে দাও দেখি। দেরী হয়ে যাবে যেতে নইলে।
- সে ধরে দিচ্ছি। তার আগে নাও এই গয়নার সেটটা এনেছি তোমার জন্য,পরে নাও।
- আরে এসব আবার কেনো? জানো তো আমার এসবের প্রতি মায়া নেই।
- জানি গো! কিন্তু আমারও ইচ্ছে করে তোমায় কিছু দিতে। আবার ধনতেরাস চলছে এখন। তুমি পরে দেখো,ভালো লাগবে।
- সে তুমি ফুলের মালা দিলেও আমার ভালো লাগবে গো। তোমার দেওয়া সামান্য জিনিসও আমার কাছে অনেক মূল্যবান।
- নাও কুচি ধরে দিলাম, এবার চলো।
হ্যা চলো,তোমার ডমরুটা নাও মনে করে। ভক্তরা সারাদিন না খেয়ে অপেক্ষা করছে,চলো এবার যাওয়া যাক।
-হ্যা চলো গিন্নী। তোমার আশীষ যেনো সবাই পায়। দুনিয়ার সব কালো মুছে যাক তোমার আগমনে। আলোয় ভরে উঠুক চারিদিক।
আলোকমালায় সেজে উঠেছে প্যান্ডেল সব। ঢাক বাজছে। শুরু হবে এক রাতের কালীপুজো। সব দুঃখ ভুলে সকলে মেতে উঠুক শ্যামা মায়ের আরাধনায়।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন