সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম - ভাব সম্প্রসারণ✍️ ডা:অরুণিমা দাস স্কুলে যখন পড়তাম তখনকার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। ক্লাস তখন নাইন,বাংলা ক্লাস চলছে। ভাব সম্প্রসারণের জন্য একটি বিষয় দিয়েছেন দিদিমনি। নিজেদের মতন করে লিখছি। লিখে খাতা জমা দেওয়ার পালা,সবাই খাতা জমা দিলো। শুধু তনুকার মুখের দিকে একটু অন্যভাবে তাকালেন দিদিমনি। বললেন পরের দিন সবার খাতা ফেরত দেবেন। তো সেদিনের মতো ক্লাস শেষ করে সকলে বাড়ীর পথে পা বাড়ালাম। স্কুলের ছুটির সময় কিছু অন্য স্কুলের ছেলে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতো। বন্ধুরা সব মজা করতে কাউকে জাম্বো বা কাউকে দাদাভাই এসব বলতো মজা করে। আমাদের বন্ধু গ্রুপের মধ্যে ছিলো তনুকা, আর তার জন্য বাইরে অপেক্ষা করতো উৎসবদা। পুজো তখন আসবে আসবে আর ওদের প্রেম তখন সবে তিনমাসের,তাই দুজনের নানা প্ল্যান থাকতো। আমাদের সাথে কিছু কিছু শেয়ার করতো তনুকা। দুজনে মিলে সাইকেলে করে বাড়ী ফিরতো,প্রতিমা তৈরী দেখতে যেতো,প্যান্ডেলের প্রস্তুতি দেখতে যেতো এসব গল্প বলতো। এরকম বাড়ী ফেরার সময়ে বাংলা দিদিমণির সাথে দেখা,দিদিমনি তনুকাকে দেখে দাঁড় করালেন আর বললেন দেখো ক্লাস নাইনে পড়ছো,পড়াশোনাটা ঠিক করে করো একটু। উৎসবদা তো পালাতে যাচ্ছিলো,দিদিমনি ওনাকেও দাঁড়াতে বলেন। বললেন যেটা বলবো আশা করি দুজনেরই কাজে লাগবে। তনুকার পড়াশোনাতে মনোযোগ কমছে দিন দিন,দুজন দুজনের জন্য আছো এই ভরসাটুকু দিয়ে নিজেদের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে আলোচনাটা বাড়াও। নিজের পায়ে দাঁড়াতে গেলে পড়াশোনা খুব দরকার। তনুকা বললো বুঝেছি ম্যাম আমি ভাব সম্প্রসারণের খাতায় খুব ভালো লিখতে পারিনি। দিদিমনি বললেন ভালো লিখতে ঠিক পারবে তার জন্যই মনটা দিও পড়াশোনাতে। উৎসবদা মাঝে বলে উঠলো দিদিমনি পুজোটা চলে গেলে আমরা ভালো করে পড়বো। কথা দিলাম ম্যাম এরপর আপনার কোনো অভিযোগ থাকবে না তনুকাকে নিয়ে। দিদিমনি বললেন কথা দিলে কিন্তু! মনে রেখো। যাও এখন যেখানে যাচ্ছিলে। আপনিও চলুন না দিদিমনি আমাদের সাথে। না না তোমরা যাও,তনুকাকে ভালবাসি বলে বললাম কথাগুলো। আপনি বলেই এত ভালো করে বোঝালেন দিদিমনি। অন্য কেউ হলে বাড়ীতে কমপ্লেইন করে দিতো। চলুন না ম্যাম কাশ ফুলের বনে গিয়ে একটু বসি। জীবনে চলার পথে কোথাও ভুল হলে আপনি না হয় শুধরে দেবেন। সেই দিনের পর মাঝে মাঝেই ওরা দুজন দিদিমণির বাড়ীতে যেতো পড়াশোনাতে কোনো অসুবিধে হলে। স্কুল শেষ হবার পর উৎসব দা ভর্তি হয় ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউটে আর তনুকা ভর্তি হয় কেমিস্ট্রি অনার্স নিয়ে। ওদের বিয়েতেও দিদিমনি অনুঘটকের কাজ করেছিলেন। আজও দিদিমণির সাথে ওদের যোগাযোগ আছে। জমিয়ে সংসার করছে দুজনে। পুজোর প্রেম শুধু যে প্যান্ডেলে ঘোরা আর ঠাকুর দেখার জন্যে নয় সেটা ওরা প্রমাণ করে দিয়েছিলো। দিদিমণির খুব কাছের মানুষের মধ্যে আমাদের কয়েকজনের সাথে তনুকা এমনকি উৎসবদাও আছে আজ পর্যন্ত। দিদিমনি বলেন তোরা সত্যিই আমার গর্ব।স্কুলের সেই দিনগুলো নিঃসন্দেহে সোনায় মোড়া দিন ছিলো। ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ভাব সম্প্রসারণ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

স্কুলে যখন পড়তাম তখনকার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। ক্লাস তখন নাইন,বাংলা ক্লাস চলছে। ভাব সম্প্রসারণের জন্য একটি বিষয় দিয়েছেন দিদিমনি। নিজেদের মতন করে লিখছি। লিখে খাতা জমা দেওয়ার পালা,সবাই খাতা জমা দিলো। শুধু তনুকার মুখের দিকে একটু অন্যভাবে তাকালেন দিদিমনি। বললেন পরের দিন সবার খাতা ফেরত দেবেন। তো সেদিনের মতো ক্লাস শেষ করে সকলে বাড়ীর পথে পা বাড়ালাম। স্কুলের ছুটির সময় কিছু অন্য স্কুলের ছেলে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতো। বন্ধুরা সব মজা করতে কাউকে জাম্বো বা কাউকে দাদাভাই এসব বলতো মজা করে। আমাদের বন্ধু গ্রুপের মধ্যে ছিলো তনুকা, আর তার জন্য বাইরে অপেক্ষা করতো উৎসবদা। পুজো তখন আসবে আসবে আর ওদের প্রেম তখন সবে তিনমাসের,তাই দুজনের নানা প্ল্যান থাকতো। আমাদের সাথে কিছু কিছু শেয়ার করতো তনুকা। দুজনে মিলে সাইকেলে করে বাড়ী ফিরতো,প্রতিমা তৈরী দেখতে যেতো,প্যান্ডেলের প্রস্তুতি দেখতে যেতো এসব গল্প বলতো। এরকম বাড়ী ফেরার সময়ে বাংলা দিদিমণির সাথে দেখা,দিদিমনি তনুকাকে দেখে দাঁড় করালেন আর বললেন দেখো ক্লাস নাইনে পড়ছো,পড়াশোনাটা ঠিক করে করো একটু। উৎসবদা তো পালাতে যাচ্ছিলো,দিদিমনি ওনাকেও দাঁড়াতে বলেন। বললেন যেটা বলবো আশা করি দুজনেরই কাজে লাগবে। তনুকার পড়াশোনাতে মনোযোগ কমছে দিন দিন,দুজন দুজনের জন্য আছো এই ভরসাটুকু দিয়ে নিজেদের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে আলোচনাটা বাড়াও। নিজের পায়ে দাঁড়াতে গেলে পড়াশোনা খুব দরকার। তনুকা বললো বুঝেছি ম্যাম আমি ভাব সম্প্রসারণের খাতায় খুব ভালো লিখতে পারিনি। দিদিমনি বললেন ভালো লিখতে ঠিক পারবে তার জন্যই মনটা দিও পড়াশোনাতে। উৎসবদা মাঝে বলে উঠলো দিদিমনি পুজোটা চলে গেলে আমরা ভালো করে পড়বো। কথা দিলাম ম্যাম এরপর আপনার কোনো অভিযোগ থাকবে না তনুকাকে নিয়ে। দিদিমনি বললেন কথা দিলে কিন্তু! মনে রেখো। যাও এখন যেখানে যাচ্ছিলে। আপনিও চলুন না দিদিমনি আমাদের সাথে। না না তোমরা যাও,তনুকাকে ভালবাসি বলে বললাম কথাগুলো। আপনি বলেই এত ভালো করে বোঝালেন দিদিমনি। অন্য কেউ হলে বাড়ীতে কমপ্লেইন করে দিতো। চলুন না ম্যাম কাশ ফুলের বনে গিয়ে একটু বসি। জীবনে চলার পথে কোথাও ভুল হলে আপনি না হয় শুধরে দেবেন। সেই দিনের পর মাঝে মাঝেই ওরা দুজন দিদিমণির বাড়ীতে যেতো পড়াশোনাতে কোনো অসুবিধে হলে। স্কুল শেষ হবার পর উৎসব দা ভর্তি হয় ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউটে আর তনুকা ভর্তি হয় কেমিস্ট্রি অনার্স নিয়ে। ওদের বিয়েতেও দিদিমনি অনুঘটকের কাজ করেছিলেন। আজও দিদিমণির সাথে ওদের যোগাযোগ আছে। জমিয়ে সংসার করছে দুজনে। পুজোর প্রেম শুধু যে প্যান্ডেলে ঘোরা আর ঠাকুর দেখার জন্যে নয় সেটা ওরা প্রমাণ করে দিয়েছিলো। দিদিমণির খুব কাছের মানুষের মধ্যে আমাদের কয়েকজনের সাথে তনুকা এমনকি উৎসবদাও  আছে আজ পর্যন্ত। দিদিমনি বলেন তোরা সত্যিই আমার গর্ব।স্কুলের সেই দিনগুলো নিঃসন্দেহে সোনায় মোড়া দিন ছিলো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...